• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

করোনাভাইরাস আতঙ্কে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি-তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

পর্যবেক্ষণে ৫ চীনা কর্মী

সংবাদ :
  • চিত্ত ঘোষ, দিনাজপুর

| ঢাকা , রোববার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০

চীন থেকে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। সংক্রমণের ব্যাপকতা ও প্রাণহানির কারণে ভাইরাসটি নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে বিশ্ববাসী। সে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। সেখানে শতশত চীনা কর্মী কাজ করে তাই করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় পর্যাপ্ত সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে সম্প্রতি ছুটি শেষে চীন থেকে ফিরেন ৫ চীনা কর্মী। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের কাজে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি। গত ১২ দিন থেকে খনির অভ্যন্তরে আলাদাভাবে আইসোলেশনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে তাদের।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব আমজাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদনে নিয়োজিত চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়ামের অধীনে প্রায় ৫ শতাধিক চীনা নাগরিক বিভিন্ন পদে খনিতে কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে কিছু শ্রমিক ছুটি কাটাতে দেশে গিয়েছিল। গত ২০ জানুয়ারি চীনের জুসু সিটি থেকে ৫ জন কর্মী কয়লা খনিতে ফিরে আসে। সতর্কতা মুলুক পদক্ষেপ হিসেবে ওই ৫ কর্মীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আবদুল কুদ্দুস বলেন, ওই ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে খনির অভ্যন্তরীণ হাসপাতালে পর্যাবেক্ষণে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। খনির সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জানিয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে করোনাভাইরাসের কোনপ্রকার লক্ষণ দেখা দেয়নি। করোনাভাইরাস দু’সপ্তাহ পর লক্ষণ দেখা দেয় তাই তাদেরকে পর্যাবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোন প্রকার লক্ষণ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-মহাব্যবস্থাপক একেএম বদরুল আলম বলেন, চীনা কর্মকর্তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করেন। তাই যাবতীয় দেখাশুনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি’ই করেন। কেউ ছুটিতে গেলে বা ছুটি শেষে ফেরত আসলে তা খনি কর্তৃপক্ষেকে জানানো হয়না।

এদিকে বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, প্রায় ৭০-৮০জন চীনা শ্রমিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়োজিত আছেন। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে তাদের ছুটি বাতিল করে চীনে যাতায়াত বন্ধ করা হয়েছে। এবং যারা চীনে গেছেন তাদের বাংলাদেশে আসা বন্ধ করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে চীনা কর্মীদের মধ্যে এখনও কোন প্রকার করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়নি। তিনি আরো বলেন, কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে। চীনা শ্রমিকদের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কী ধরণের ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে সে বিষয় জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।