• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

উচ্ছেদ না করেই ৩ কোটি টাকার বাঁশের বাঁধ! সাফল্য নিয়ে উদ্বেগ

সংবাদ :
  • শুভ্র শচীন, খুলনা

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

খুলনা : রাস্তা-নদীভাঙন রোধে চলছে বাঁশের বাঁধের কাজ-সংবাদ

অবৈধ দখলদারদের বহাল রেখেই সরকারি রাস্তা ও নদীভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে ‘ব্যাম্বু বাইন্ডিং’ কাজ। অথচ নদীর বুক দখলকারীদের উচ্ছেদ করে নদীর জোয়ার-ভাটা স্বাভাবিক থাকলেই নদীতে ভাঙন হতোই না। আর সড়কও নষ্ট হতো না।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, মাত্র কয়েকবছর আগের শোভনা ও আটলিয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ভদ্রা নদীটিতে প্রবল স্র্রোত ছিল। নদীটির খর্নিয়া বাজারের পশ্চিমপাড়ে আটলিয়া ইউনিয়নের অংশে জনৈক ভাটামালিক প্রতিবছর নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে দখল করেছেন। বর্তমানে ভদ্রা নদীর প্রায় তিন ভাগ চর পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। পশ্চিমপাড় দখল করায় পূর্ব পাড়ে প্রায় ৫০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

শুধু ভদ্রা নদী নয়, জেলার বেশ কয়েকটি নদী দখলদারদের কারণে নির্দিষ্ট গতিপথ হারিয়েছে। ফলে এক প্রান্ত দখলদারদের কবলে, আর অপর প্রান্ত ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীর ভাঙন রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে জেলার ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলার মধ্যবর্তী ভদ্রা নদীর চাঁদগড় ও খর্নিয়া, রূপসা উপজেলার রূপসা নদীর শোলপুর, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী আত্রাই নদীর আমবাড়িয়া এলাকায় প্রায় ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ব্যাম্বু বাইন্ডিং’ পদ্ধতিতে ভাঙনরোধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় নদী গবেষণা ইনস্টিটটিউট ‘ব্যাম্বু বাইন্ডিং’র মাধ্যমে বিভিন্ন নদী তীরের ভাঙনরোধ, নদীর নাব্যতা এবং ভূমি পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্পের আওতায় এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। খুলনার ভদ্রা নদীর চাঁদগড় এলাকায় ৭৫ লাখ টাকা, খর্নিয়া এলাকায় ৭৫ লাখ টাকা, রূপসা উপজেলার রূপসা নদীর শোলপুরে ৮৯ লাখ টাকা এবং আত্রাই নদীর আমবাড়িয়া এলাকায় ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় করে ভাঙন রোধ করতে বাঁশের বেড়া দেয়া হচ্ছে।

এদিকে ভদ্রা নদীর খর্নিয়া অংশে এলজিইডি তাদের নির্মিত কার্পেটিং সড়ক রক্ষায় ৪১ লাখ টাকায় সেøøাব প্রটেকশন নামে কংক্রিটের পাঁচিল নির্মাণ করছে। একইস্থানে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাশ বলেন, কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে খর্নিয়া থেকে শোভনা পর্যন্ত কার্পেটিংয়ের সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু ভদ্রার পাড়ে ভাঙনে রাস্তাটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তাই এটি সেøøাব প্রটেকশনের জন্য কংক্রিটের প্রাচীর দেয়া হচ্ছে। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪১ লাখ টাকা।

এই পাইলট প্রকল্পের খুলনার তদারককারি উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মতিয়ার রহমান বলেন, বাঁশ দিয়ে স্র্রোতের প্রটেকশন দেয়ায় সংশ্লিষ্ট স্থানে পলি পড়ে ভরাট হবে। প্রকল্পের পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাজী রেজাউল করিম বলেন, ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে সারাদেশের নদী রক্ষায় প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে খুলনায় ৪টি স্থানে ব্যয় হচ্ছে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এটি নদী রক্ষার পরীক্ষামূলক পদ্ধতি। এর মাধ্যমে যদি সুফল আসে, তবে বৃহৎ আকারে এ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হবে।