• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

জেলা পরিষদের উদ্যোগে দুই শহীদ মিনার

আশা মিটল ভাষা মতিন এর জন্মভিটার মানুষের

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, শাহজাদপুর ও চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)

| ঢাকা , শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

সিরাজগঞ্জ : ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের বাড়ি চৌহলীর শৈলজানায় নবনির্মিত শহীদ মিনার -সংবাদ

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পালা শেষে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে গড়া দুটি শহীদ মিনারে আশা মিটলো ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের জন্মভূমিসহ তার দুই গ্রামের মানুষের। ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের পুরোধা ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের জন্মভূমি জেলার চৌহালী উপজেলার যমুনার দুর্গম শৈলজানা চর এবং ভাঙ্গনের কারণে পরবর্তীতে বসতি গড়া নদীর পশ্চিম পাড় শাহজাদপুর উপজেলার গুদিবাড়িতে ছিল না দীর্ঘদিন ধরে শহীদ মিনার। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর দাবি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়। সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ২টি শহীদ মিনার তৈরি করে দিয়েছেন। এবার উৎসাহ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মহান ভাষা সৈনিকদের স্মরণ করবে এলাকাবাসী।

যার দৃঢ় নেতৃতে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ উর্দূকে প্রতিহত করা আন্দোলনে মায়ের ভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল, সেই সংগ্রামের আহ্বায়ক প্রয়াত ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন। তার জন্মভূমি সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালীতে-এনায়েতপুরের এই জনপদে রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেশে ভাষা প্রতিষ্ঠার গত ৫৫ বছরেও এখানে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার ছিল না। যে কারণে প্রতিবছর ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাঁশ ও কলাগাছের ক্ষণিকের শহীদ মিনার তৈরি করে শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করত। বিশেষ করে আজীবন সংগ্রামী ভাষা মতিনের জন্মভূমি চৌহালীর ধুবুলিয়া-শৈলজানা চরে শহীদ মিনার ছিল না বলে সবাই ব্যাথিত ছিল। এ নিয়ে ব্যাপক দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে প্রশিক্ষার চেয়ারম্যান কাজী ফারুকের সহযোগিতায় শৈলজানা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্ব¡রে জাতীয় নকশাকৃত শহীদ মিনার এবং লাইব্রেরি নির্মাণ করে ভাষা মতিনকে দিয়েই ২১ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করানো হয়। এরপর থেকে চরাঞ্চলের মানুষ এই শহীদ মিনারে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনক গত ২০১৫ সালের ১ জুন ভাষা মতিনের গ্রামের সেই শহীদ মিনারটি যমুনায় বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে এখানে ভাষা দিবস উদযাপনে আবারও কলা গাছের ক্ষণিকের শহীদ মিনারই ভরসা হয়। এদিকে জন্মভূমির ঘর-বাড়ি যমুনায় বিলীনে ১৯৬৯ সালের দিকে পাশের শাহজাদপুর উপজেলার গুদিবাড়িতে তিনি পরিবার নিয়ে বসতি গড়েন। সেখানেও শহীদ মিনার না থাকায় ক্ষণিকর শহীদ মিনার তৈরি ছাড়া শহীদদের স্মরণে উপায় ছিল না এলাকাবাসীর। ভাষা প্রতিষ্ঠাতার এ দুই গ্রামে শহীদ মিনার না থাকায় এলাকাবাসীর বুক ভাটা দাবি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের কারণে নজরে আসে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের। পরে গনমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ ক্রমে জেলা পরিষদ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে গুদিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে এবং শৈলজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয় শহীদ মিনার। গতবছর খানেক আগে তৈরি করা এই শহীদ মিনার পেয়ে এলাকাবাসীর বহু প্রতিক্ষিত স্বপ্নপূরণ হয়েছে বলে জানালেন চৌহালীর শৈলজানা গ্রামের শিক্ষক মাসুদুর রহমান এবং শাহজাদপুরের গুদিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক ও স্বাস্থ্য সহাকারী আসাদুজ্জামান আসাদ। তারা জানান, বড়-বড় নেতা এমপিরা এখানে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য কথা দিয়েছিল। কিন্তু রাখেনি। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় ভাষা মতিনের গ্রামবাসী হিসেবে উন্নয়ন দরদী লতিফ বিশ্বাসের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। গতবছর ২১ ফেব্রুয়ারির কয়েকদিন আগে তৈরি হওয়ায় শহীদ মিনারের বেদি কাচা ছিল। এজন্য কিছুটা সমস্যা ছিল। এবার তা নেই। অনেক উৎসাহ নিয়ে এলাকার প্রতিজন নতুন শহীদ মিনারে বিনম্র্র শ্রদ্ধা জানাবে।

এ বিষয়ে প্রয়াত কিংবদন্তি ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের স্ত্রী গুলবদন নেছা মনিকা, ছোট ভাই গোলাম কিবরিয়া হান্নান জানান, শহীদ মিনার ২টি ছিল বহু প্রতিক্ষার। লতিফ বিশ্বাস প্রকৃতই দেশাত্ববোধ বুকে লালন করে। তাই তিনিই একমাত্র সকলের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রী ও সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস জানান, ভাষা মতিন ভাইকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। তার জন্মভূমি ও গ্রামে শহীদ মিনার নেই জেনে আমিও ব্যথিত ছিলাম। তাই সেখানে ২টি শহীদ মিনার তৈরি করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। তবে তা পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে এলাকাবাসীর।