• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

রূপগঞ্জে বার্ড ফ্লু আতঙ্ক

অজ্ঞাত রোগে মারা যাচ্ছে ব্রয়লার মুরগি

সংবাদ :
  • আশিকুর রহমান হান্নান, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : খামারে এভাবেই মারা যাচ্ছে মুরগি -সংবাদ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অজ্ঞাত রোগে হাজার হাজার মুরগি মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ রোগ সনাক্তে ব্যর্থ হয়ে রানীক্ষেত হিসেবে সান্তনা দিচ্ছেন। চিকিৎসায় মিলছে না প্রতিকার। এদিকে বার্ড ফ্লু ধারনায় লোকসানের ভয়ে খামারিরা রোগ গোপন করে কম মূল্যে মুরগি বিক্রি করছে। খামারিদের লোকসানের পাশাপাশি ক্রেতারাও রয়েছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

উপজেলার তারাব পৌরসভার হাটিপাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত খামারি দেলোয়ার হোসেন জানান, তার মালিকানায় ৪ হাজার ব্রয়লার মুরগি রয়েছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে ঘুম থেকে দেখতে পান তার খামারে একই স্থানে ৭শ’ মুরগি মরে পড়ে আছে। এর আগে মুরগির কোন রোগ ধরা পড়েনি। পরে তিনি ৬টি মরা মুরগি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে রোগ শনাক্তের জন্য নিয়ে যান। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার জাহাঙ্গীর রতন ময়নাতদন্ত করে ৩টি মুরগির আমাশয় রোগ শনাক্ত করেন। কিন্তু বাকি মুরগিগুলো কেন মরল তা বলতে পারেনি। এ সময় খামারি দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, কেউ শত্রুতাবশত বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেছে। কিন্তু বিষ খাইয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেই উপজেলা প্রাণী কার্যালয়ে। তারা এ মুরগিগুলোকে নিয়ে ঢাকায় যেতে বলেন। এভাবে কাঞ্চন পৌরসভার বিরাবো এলাকার খামারি রাকিবুল, তানভীরসহ ২০ জনের খামারে বিগত ১ সপ্তাহে ২ হাজারের অধিক মুরগি মারা গেছে। এসব মুরগিরও প্রাথমিকভাবে কোন রোগ শনাক্ত করতে পারেননি । খামারিদের অভিযোগ, ব্রয়লার বা লেয়ার মুরগির বাচ্চা সরবরাহকারী ডিলারদের অনিয়মের কারণে ভেকসিন না দেওয়া, কিংবা এন্টিবায়োটিকের অতিমাত্রায় প্রয়োগে নতুন রোগের দেখা দিয়েছে। যার কারণে উপজেলার ২০৪টি বাণিজ্যিক ব্রয়লার এবং ১২৯টি লেয়ার খামারি পুরোপুরি ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন। রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সাইদ আল মামুন বলেন, ব্রয়লার মুরগি রোগাক্রান্ত হলে তা খাওয়া মোটেই উচিত নয়। এসব মুরগি থেকে যে কোন ভয়াবহ রোগ ছড়িয়ে যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার জাহাঙ্গীর রতন বলেন, বার্ড ফ্লু আতঙ্কের খবরে কয়েকটি খামার ঘুরে দেখেছি। তবে বার্ড ফ্লু আক্রান্ত পাওয়া যায়নি। তাই এটা নিছক গুজব। শীতের সময় মুরগি কেবল সাধারণত রাণীক্ষেত রোগে আক্রান্ত হয়। তবে অন্য রোগও থাকতে পারে। কিছু যন্ত্রাংশের অভাব থাকায় সব রোগ শনাক্ত করা উপজেলা বিভাগের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই উপযুক্তস্থানে সেবা গ্রাহকদের পাঠিয়ে থাকি। এ সময় তিনি বলেন, রানীক্ষেত আক্রান্ত জবাইকৃত মুরগি মানুষ খেলেও কোন ক্ষতি হয় না। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। তিনি আরও বলেন, খামারিদের খামারের চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে। একই ভ্যান মুরগি পরিবহনের সময় ভ্যান গাড়ি ও কর্মীদের জীবানুনাশক স্প্রে গ্রহণ করতে হবে । অন্যথায় অজ্ঞাত রোগ বা মুরগি মরা রোধ করা সম্ভব নয়।