• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

রূপগঞ্জে মহাসড়কে তেল চোর সিন্ডিকেট সক্রিয়

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

| ঢাকা , সোমবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মহাসড়ক জুড়েই রয়েছে চোরাই তেল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। একটি খুপড়ি ঘরের সামনে কিছু তেলের ড্রাম আর পাইপ ঝুলানো দেখলেই চুরি করে তেল বিক্রি করে দেয় অসাধু চালক। এসব অবৈধ কাজে সহযোগীতা করে পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর নাম ভাঙ্গিয়ে একটি চাঁদাবাজ চক্র। জড়িত স্থানীয় প্রভাবশালী ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা কর্মীরাও ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার উপর দিয়ে যাওয়া ঢাকা সিলেট মহাসড়কের তারাবো পৌর এলাকায় হাটিপাড়া রোলিং মিলের সামনে কয়েকটি খুপড়ি ঘরে দেদারছে চালাছে চোরাই তেল বাণিজ্য। এখানকার হোসেন মিয়া ও তার ছেলে স্বপন, মাহফুজ ও তার ছেলে আরিফ অবৈধ তেল ব্যবসার পসরা বসিয়েছে। সেখানকার প্রভাবশালী ও থানাকে ম্যানেজ করে এ তেলের ব্যবসা চালাচ্ছে দীর্ঘদিন যাবৎ। মাঝে মধ্যে থানার মাসোয়ারা দিতে দেরি হলেই বন্ধ করে দেয়া হয় এসব দোকান। এমনটাই দাবি অবৈধ তেল ব্যবসায়ী হোসেনের। একই চিত্র এ রোডের রূপসী, বরপা, গোলাকান্দাইলসহ ঢাকা সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে। প্রতিটি স্পট চলে গোপন লেনদেনের অলিখিত অনুমোদনে এসব কারবার। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিবেশ পূর্বাচলে। রাজউকের নির্মানাধীন পূর্বাচল নতুন শহর সীমানায় রয়েছে ৩শ ফুট খ্যাত সড়ক এবং ঢাকা বাইপাস এশিয়ান মহাসড়ক। ঢাকা বাইপাস মহাসড়কের গোলাকান্দাইল মোড় থেকে কালীগঞ্জের উলুখোলা পর্যন্ত রয়েছে ২৪টি খুপড়ি ঘর। এছাড়াও ৩শ ফুট সড়কে রয়েছে আরো ১৭টি দোকান । এসব ঘরে একই কায়দায় বৃহৎ তেলবাহী গাড়ি থেকে নামানো হয় বিপুল পরিমাণ তেল। প্রতি রাতেই নামে লাখ টাকা মুল্যের ব্যারল ব্যারল তেল। এসব তেল যায় স্থানীয় বাজারে পাইকারী দরে। ভোজ্য ও জ্বালানী উভয় তেল নামানো হয় এ রোডে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বৈধ তেল ব্যবসায়ীরা। তবে রহস্যজনক কারনে বৈধ ব্যবসায়ীরা এসব অবৈধ দোকান বন্ধের দাবি তুলছেন না। যদিও ডিপো, ফিলিং স্টেশন কিংবা মিলের বহন করা তেল অবৈধভাবে একটি সিন্ডিকেট অবাধে চালাচ্ছে এমন অপকর্ম। ৩শ ফুট ও এশিয়ান রোডে এমন চোরাই তেল ব্যবসায়ীর মধ্যে রয়েছে,সুরিয়াবো এলাকার চোরা নাজমুল, হাবিবনগর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ফয়সাল, সুরিয়াবোর হুসেন, ওমর ফারুক, কাঞ্চনের সামসুলের মালিকানায় মায়ার বাড়িও পূর্বাচলের লালমাটি, হঠাৎ মার্কেটের খুকুমনি, লালমাটির সজীব, রাজীব, মাঝিপাড়ার সুমন, সোলাইমান, কালনী স্ট্যান্ড এলাকায় মুহম্মদ আলী, মফিজুল, নাজমুল, পলখানের শরীফ, সোলমান, রাকিব, নীলা মার্কেট এলাকায় রতন, কাশেম, হাতিম। এদের মধ্যে র‌্যাব ১ এর সিপিসি ৩ এর অফিসের ৫০ গজের মধ্যে হাবিবনগরের ফয়সাল, সুরিয়াবোর নাজমুল , বরিশালের সেলিম ও অজ্ঞাত এলাকার উজ্জলদের মালিকানায় রয়েছে অবৈধ চোরাই তেলের খুপড়ি। দিন দুপুর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চলে এসব দোকানে প্রকাশ্যে চোরাই তেল নামানোর কাজ। অন্যদিকে এসব দোকান থেকে স্থানীয় হাট বাজারে সরবরাহ দৃশ্যও চোখে পড়ে প্রকাশ্যেই। রহস্যজনককারনে প্রশাসনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় চোরাই তেলের রমরমা বাণিজ্য আরো প্রসারিত হচ্ছে। শক্তিশালী হচ্ছে তাদের সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ, কতিপয় ডিবি পুলিশের অসাদু সদস্য, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এসব স্পট থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলেন। আর এ কারনেই অবাধে চলে এমন চোরাই তেলের বাণিজ্য। এমনকি র‌্যাবের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা তুলতো একটি তেল চোরাই চাঁদাবাজ। যদিও সেই চাঁদাবাজদের ধরে মামলা দিয়েছিলেন র‌্যাব১ এর সিপিসি ৩ পূর্বাচল। তবে মামলা দিলেও জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসে ফের নেমে পড়ে এসব চোরাই কারবারে। এতে বন্ধ করা যাচ্ছে না এমন অপকর্ম।

সূত্র জানায়, মালামাল পরিবহনের মহাসড়ক হিসেবে পরিচিত ঢাকা বাইপাস মহাসড়কে চোরাই তেল ছাড়াও অন্যান্য পন্য চোরাই সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্র প্রশাসনের অসাদু সদস্যদের ম্যানেজ করেই এসব ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

অভিযুযক্ত চোরাই তেল ব্যবসায়ী নাজমুল বলেন, মালবাহী ট্রাকের চালক ও আমাদের উভয় পক্ষের সমজোতায় তেল টাকা দিয়ে ক্রয় করি।এতে চোরাই বলে কিছু নাই। তেল বিক্রির অনুমোদন আছে কি না জানতেই চাইলে তিনি বলেন, পূর্বাচলে ইয়াসিনের ছাড়া কারোই লাইসেন্স নাই। ডিপো লাইসেন্স একমাত্র ইয়াসিনের আছে। মাঝে মধ্যে আমরাও ইয়াসিনের মাধ্যমে বৈধ তেল দোকানে রাখি। তবে এসব দোকান চালাতে গিয়ে অনেককেই খুশি করতে হয়।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাব-১, সিপিসি ৩ এর কমান্ডার মেজর আব্দুল্লাহ আল মেহেদী বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পরপরই এসব চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের খুপড়ি ঘর উচ্ছেদে উদ্যোগ নিয়েছি। একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এদের কাছ থেকে ভোজ্য ও জ্বালানি তেল উদ্ধার,২২ চোরাই তেল ব্যবসায়ী গ্রেফতার, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে মামলা দিয়েছি। সেসব মামলা চলমান। তথাপিও কি কারনে আবার সক্রিয় হচ্ছে তা উর্ধ্বতন মহলকে জানিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, মহাসড়কের আশপাশে ও পূর্বাচলে কিছু অবৈধ চোরাই তেল ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পুনরায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময় তিনি আরো বলেন, চোরাই তেলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে থানা প্রশাসন কোন প্রকার অবৈধ লেনদেনে জড়িত নয় বলে দাবী করেন তিনি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, খুব শীঘ্রই এসব অবৈধ চোরাই তেল ব্যবসায়ী ও খুপড়ি ঘর উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।