• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

মেহেরপুরে ফের মরিচা ব্লাস্টে আক্রান্ত গমক্ষেত

সংবাদ :
  • রফিকুল আলম, মেহেরপুর

| ঢাকা , রোববার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

মেহেরপুর : হুইট ব্লাস্টে আক্রান্ত গম ক্ষেত -সংবাদ

মেহেরপুরের গমক্ষেতে আবারো দেখা দিয়েছে হুইট ব্লাস্ট রোগ। সাথে পুরনো মরিচা রোগে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে অধিকাংশ গম ক্ষেত। এক সাথে দুটি রোগের আক্রমণে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন জেলার গম চাষিরা। তবে চলতি মৌসুমে অসময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় নানা প্রতিকূল আবহাওয়ায় রোগবালাই বেশি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে সংশ্লিষ্টরা। তবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে মরিচা রোগ পুরাতন এটাতে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। ছত্রাকনাশক ছিটানোর মাধ্যমে সমাধান পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএমডাব্লিউআরআই) গবেষকরা মেহেরপুরের বিভিন্ন গমক্ষেত পরিদর্শন করেছেন।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলার তিন উপজেলা গাংনী, মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলায় ১১ হাজার ৪শত ৩৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৫শত ৬৫ হেক্টর বেশি। আর গত বছরের চেয়ে এবার ৩ হাজার ৩শত ৯৫ হেক্টর বেশি জমিতে গম আবাদ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ আরো জানিয়েছে ধানের লাগাতার দরপতেনর ফলে কৃষকরা ঝুঁকেছে লাভজনক গম চাষে। কৃষকের কথা চিন্তা করে আমরাও ব্লাস্ট প্রতিরোধী বারি-৩০ ও ৩৩ জাতের গম চাষে চাষিদের উৎসাহ দিয়েছি। কিন্তু অনেক চাষি ভালো চাহিদার কারণে বারি গম-২৩, ২৪, ও ২৫ (প্রদীপ) ও বারি-২৬ (শতাব্দি) জাতের চাষ করে। যার ফলে আবারো ব্লাস্ট ও নতুন করে মরিচা রোগের দেখা দেয়। এটাও হয়েছে মূলত অসময়ে বৃষ্টি ও রাতে তীব্র শীত এবং দিনে অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া হওয়ায়।

জেলার তিন উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিসেম্বর মাসে অসময়ে দু’দফা বৃষ্টির পর আগাম আবাদকৃত গমের পাতার গোড়া থেকে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। কৃষি অফিস এ রোগকে গমের পাতা মরিচা রোগ বলে চিহ্নিত করেছে। অপরদিকে কিছু কিছু ক্ষেতে হেড ব্লাইট দেখা দিয়েছে। হেড ব্লাইট আক্রান্ত ক্ষেতে ফলন কমে যাবে। এছাড়াও যারা আগাম গমের বীজ বপন করেছিলেন এমন কিছু ক্ষেতেও হুইট ব্লাস্ট দেখা দিয়েছে।

গাংনী উপজেলার মহাম্মদপুর গ্রামের গমচাষি আবুল হাসেম জানান কৃষি বিভাগ আমাদের ৩০ নভেম্বরের পরে গমের বীজ বপন করার কথা জানালেও আমরা জমি পড়ে আছে বলে আগেই গম বপনের কাজ সেরে ফেলি। এখন হুইট ব্লাস্ট ও মরিচা রোগের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত। গমের শীষ বের হওয়ার আগেই গোড়া ও পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছিল। অন্যদিকে শীষ বের হতেই দেখি হুইট ব্লাষ্টের আক্রমণ। সব মিলিয়ে আমরা এবারও লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছি।

কৃষি বিভাগ ছত্রাকনাশক ছিটাতে বলছে কিন্তু খুব একটা কাজ করছেনা ছত্রাক নাশক।

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমুঝপি গ্রামের গম চাষি বাশার মোল্লা জানান, চলতি মৌসুমে আমার তিন বিঘা গম রয়েছে। এরমধ্যে এক বিঘা বারি-৩৩ ও দুই বিঘা বারি-৩০ গমের চাষ করি। ৩৩ গম ক্ষেতে কোন রোগ বালাই না দেখা দিলেও বারি-৩০ এ মরিচা পড়া রোগের দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বিভিন্ন ছত্রাকনাশক স্প্রে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা প্রতিনিধি দল গত সপ্তাহে আক্রান্ত ক্ষেত পরিদর্শণ করে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। গবেষণা দলের সদস্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রেজাউল কবির জানান, মরিচা ও হেড ব্লাইট রোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেতে হুইট ব্লাস্টও পাওয়া গেছে। এসব রোগ প্রতিরোধে চাষিদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

গাংনী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কেএম সাহাব উদ্দীন জানান আগাম গমের বীজ বপন, অসময়ে বৃষ্টি হওয়ায় ব্লাষ্ট ও মরিচা রোগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বারি গম-২৩, ২৪, ও ২৫ (প্রদীপ) ও বারি-২৬ (শতাব্দি) জাতের গমে এ রোগ গুলো বেশি দেখা দিয়েছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. আখতারুজ্জামান জানান, গম ক্ষেতে যেসব রোগ চিহ্নিত করা হয়েছে তা প্রতিকারে চাষিদেরকে দ্রুত নাটিভোসহ বিভিন্ন ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে গত ২০১৫-১৬ সালের দিকে মেহেরপুর জেলাসহ দক্ষিণের সাতটি জেলা হয়ে বাংলাদেশের প্রথম হুইট ব্লাস্ট আক্রমণ দেখা দেয় ভোলা জেলা পর্যন্ত। পরের বছর থেকে গম আবাদে ভাটা পড়ে। তবে গত বছর থেকে ব্লাস্ট প্রতিরোধী ও রোগ বালাই সহিষ্ণু জাত আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে চাষিরা আবারো গম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। গত বছর থেকে মেহেরপুর জেলায় গমের ব্লাস্ট ও অন্যান্য রোগ নিয়ে বিভিন্ন জাতের গম নিয়ে গবেষণা চলছে।