• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ

মামলার জটিলতায় নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ : ব্যাহত কার্যক্রম

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, কচুয়া (চাঁদপুর)

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

কচুয়া উপজেলার পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজে ১বছরের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দিলেও পেরিয়ে যাচ্ছে ৫ বছর। এ নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে কলেজের শিক্ষার্থী ও সচেতন অভিভাবকদের মাঝে।

জানা গেছে, পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে ডিগ্রি ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. চৌধুরী হাবিবুর রহমান অবসরে যাওয়ার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ ৫টি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। ৩ অক্টোবর ২০১৪ সালের জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক কলেজ কর্তৃপক্ষ উল্লেখিত পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহনের জন্য ১২ই ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। এ সময় কলেজের সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে পরীক্ষার স্থগিতের দাবিতে বিজ্ঞ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। পরবর্তীতে পঞ্চমে থাকা কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. বিল্লাল হোসেন মোল্লাকে জৈষ্ঠ্যতা ভঙ্গ করে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি ১ জানুয়ারি ২০১৫ সালে ১ বছরের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু এক বছরের দায়িত্ব পালনে প্রায় ৫ বছর অতিক্রম করলেও অধ্যক্ষ নিয়োগে কোনো সুরাহা হয়নি। একই সময়ে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভাইস প্রিন্সিপাল পদটি শূন্য রয়েছে। এক দিকে ভাইস প্রিন্সিপাল না থাকায় ও অপরদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনায় করায় বর্তমানে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নষ্ট হওয়ার পথে রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক শিক্ষকরা বলছেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন মোল্লা কলেজের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানে নিজ নামের পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ না লিখে সরাসরি অধ্যক্ষ লিখে থাকেন।

তাছাড়া অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়, বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল বিবরণী ও পরীক্ষার খাতা যাচাই-বাছাইকরণ ফি, উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি ভর্তির অতিরিক্ত ফি, উপবৃত্তি ফি আদায়, রেজিস্ট্রেশন এবং চলতি বছরে নবীন বরন না করেও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. বিল্লাল হোসেন মোল্লা মুঠফোনে বলেন, আমি নিজেকে কোথায় অধ্যক্ষ পরিচয় দেইনি। তবে আমি প্রিন্সিপাল ইনচার্জ হিসেবে এখানে দায়িত্বে রয়েছি। শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে বলেন, ওইসব কলেজ পরিচালনা পর্ষদ দেখবে। আমি কিছু বলতে পারবো না। কলেজ গভর্নিংবডির সভাপতি মো. আইয়ুব আলী পাটওয়ারী বলেন, আদালতে মামলা থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া মামলা জটিলতায় বন্ধ রয়েছে। আমরা মামলাটি দ্রুত শেষ করে শূন্য পদে বিধিমোতাবেক নিয়োগ সম্পন্ন করতে চেষ্টা করছি। কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ণ দাস শুভ বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হয়ে অধ্যক্ষ পরিচয় দেয়া ঠিক না। আমরা বিষয়টি দেখছি।