• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮ ২০ জিলহজ ১৪৪২

ডিএসইতে রেকর্ড লেনদেন সূচকও বেড়েছে

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ জুন ২০২১

image

গত রোববার ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের পরের কার্যদিবস শেয়ারবাজারে সাড়ে ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল। মাত্র তিন কার্যদিবসের ব্যবধানে অর্থাৎ গত রোববারের লেনদেনকেও ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল শেয়ারবাজারে ২৭ শত কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে যা ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর লেনদেন হয় দুই হাজার ৭১০ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

গতকাল ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন ২ হাজার ৭০০ কোটি ৫৫ টাকা টাকার লেনদেন হয়েছে যা ১০ বছর ৬ মাস ৩ দিন বা ২ হাজার ৪৯৩ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর গতকালের চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল। ওই দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৭১০ কোটি টাকার। গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩১.৮৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৫.০৫ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৫.৭০ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৬.৬৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ২৯৬.২৪ পয়েন্টে এবং ২ হাজার ২০২.৬২ পয়েন্টে।

ডিএসইতে গতকাল ৩৬৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ২০৮টির বা ৫৬.৩৭ শতাংশের, শেয়ার দর কমেছে ১২৪টির বা ৩৩.৬০ শতাংশের এবং ৩৭টির বা ১০.০৩ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৪.৩৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫১৫.৫৪ পয়েন্টে। সিএসইতে গতকাল ৩০৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮২টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৬টির আর ৩১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৭৬ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

গতকাল ডিএসই’র ব্লক মার্কেটে ৫৩টি কোম্পানির ১১১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর ১ কোটি ৯৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫০টি শেয়ার ১২৬ বার হাত বদল হয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর ১১১ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৫২ কোটি ৪৫ লাখ ৯১ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০ কোটি ৭১ লাখ ২৪ হাজার টাকার ফরচুন সুজের এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ৮ কোটি ৯৮ লাখ ৮০ হাজার টাকার আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে।

এছাড়া আমান কটনের ৪৩ লাখ টাকার, আমান ফিডের ২০ লাখ ৭০ হাজার টাকার, আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের ৫ লাখ ২ হাজার টাকার, অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকার, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকার, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোর ৩১ লাখ ৮০ হাজার টাকার, বে লিজিংয়ের ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকার, বিডি ফাইন্যান্সের ৩৬ লাখ ১২ হাজার টাকার, বিডি থাইয়ের ৮ লাখ ১৩ হাজার টাকার, বার্জার পেইন্টসের ৪২ লাখ ২০ হাজার টাকার, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার, বেক্সিমকো ফার্মার ৬৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকার, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের ১০ লাখ ১৫ হাজার টাকার, ঢাকা ডাইংয়ের ৫৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকার, ডিবিএইচের ১৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকার, ডাচ্্-বাংলা ব্যাংকের ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকার, ইজেনারেশনের ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার, এমারেল্ড অয়েলের ৩৮ লাখ টাকার, জিবিবি পাওয়ারের ২৯ লাখ ৯ হাজার টাকার, জেনেক্সের ৬ কোটি ৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকার, গ্রীণডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ৮৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকার, আইসিবির ২৭ লাখ টাকার, আইসিবি এএমসিএল তৃতীয় এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ডের ৬ লাখ ২০ হাজার টাকার, কাট্টালি টেক্সটাইলের ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার, লাফার্জহোলসিমের ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার, লুব-রেফের ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকার, ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের ৫২ লাখ ৪৮ হাজার টাকার, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি ৬২ লাখ ২২ হাজার টাকার, মোজাফফর হোসাইন স্পিনিংয়ের ৫ লাখ ৫১ হাজার টাকার, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৮ কোটি ৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকার, ন্যাশনাল ফিডের ২ কোটি ৬৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকার, এনআরবিসি ব্যাংকের ৪৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকার, অলিম্পিকের ৫১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের ৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকার, পিএফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার, ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের ৩৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ৩০ লাখ ৪৬ হাজার টাকার, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি ৮২ লাখ ৬৫ হাজার টাকার, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪১ লাখ ৮৯ হাজার টাকার, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকার, সাইফ পাওয়ারের ৫ লাখ টাকার, এস আলমের ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার, সালভো কেমিক্যালের ৫২ লাখ ৭২ হাজার টাকার, সন্ধানী ইন্স্যুরেন্সের ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকার, এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডের ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার, এসইএমএলে আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ডের ৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকার, এসকে ট্রিমসের ১ কোটি ৫১ লাখ ৬০ হাজার টাকার, সোনালী পেপারের ২৫ লাখ ২১ হাজার টাকার, স্কয়ার ফার্মার ১ কোটি ৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার এবং তাওফিকা ফুডের ১১ লাখ ৬৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

গতকাল ডিএসই’র লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২০৮টির বা ৫৬.৩৭ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। এদিন ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। গত মঙ্গলবার ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের শেয়ারের ক্লোজিং দর ছিল ২৬ টাকায়। গতকাল লেনদেন শেষে এর শেয়ারের ক্লোজিং দর দাঁড়ায় ২৮.৬০ টাকায়। অর্থাৎ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার দর ২.৬০ টাকা বা ১০ শতাংশ বেড়েছে। এর মাধ্যমে ভিএফএস থ্রেড ডাইং ডিএসইর টপটেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে।

ডিএসইতে টপটেন গেইনার তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৯.৯৭ শতাংশ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের ৯.৯৭ শতাংশ, ইনডেক্স এগ্রোর ৯.৯৭ শতাংশ, ইসলামিক ফাইন্যান্সের ৯.৯৫ শতাংশ, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের ৯.৯৪ শতাংশ, জেনেক্সের ৯.৯৪ শতাংশ, ন্যাশনাল পলিমারের ৯.৯২ শতাংশ, রানার অটোমোবাইলের ৯.৮৪ শতাংশ এবং এস্কয়ার নিট কম্পোজিটের শেয়ার দর ৯.৮২ শতাংশ বেড়েছে।

গতকাল ডিএসই’র লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২৪টির বা ৩৩.৬০ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। এদিন বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের শীর্ষে ছিল ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স। গত মঙ্গলবার ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের ক্লোজিং দর ছিল ৪৮.৭০ টাকায়। গতকাল লেনদেন শেষে এর শেয়ারের ক্লোজিং দর দাঁড়ায় ৪৫.১০ টাকায়। অর্থাৎ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩.৬০ টাকা বা ৭.৩৯ শতাংশ কমেছে। এর মাধ্যমে ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স ডিএসইর টপটেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে।

ডিএসইতে টপটেন লুজার তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের ৫.৬৮ শতাংশ, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের ৪.৯৪ শতাংশ, ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ৪.৭০ শতাংশ, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ৪.৩৫ শতাংশ, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ৪.৩৫ শতাংশ, জনতা ইন্স্যুরেন্সের ৪.০৮ শতাংশ, একটিভ ফাইনের ৪.০৬ শতাংশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৪.০৪ শতাংশ এবং ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের শেয়ার দর ৩.৯৩ শতাংশ কমেছে।