• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবন ১৪২৮ ১৮ জিলহজ ১৪৪২

সাময়িকী কবিতা

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২০

image

ন্যানো দানবের মুখোশ

সাইফুল্লাহ আল মামুন

মৃত্যুর সাথে নিত্য বাস

দেহে ন্যানো দানবের আবাস

বদলে গেছে পৃথিবীর রীতি

হাজার বছরের পুরনো অভ্যাস।

প্রিয় জনের অচেনা চেহারা

সন্তান ও ভুলে গেলো মা,

অযত্নে হারিয়ে গেলো

মায়ের মুখের পূর্ণিমা।

অংকিত অলংকারের সজ্জিত মোহে

পারদের প্রলেপ ছিলো না সম্মুখের

আয়নার পিছনে,

প্রতিচ্ছবি চোখে আসেনি, পঙ্কিল রাস্তা

মৃত্যু, মা-বাবার মৃত্যু, খুব সস্তা!

আপন জনের

লাশ রেখে প্রিয়জন উদাও

স্বজনের চেহারায়

স্বার্থপরের গন্ধ কি পাও?

এ কেমন যুগের প্রতিধ্বনি

সময় হাকে নিষ্ঠুর বোধ

ইচ্ছে করলেই বেঁচে যাবে?

ইচ্ছে-শক্তির হচ্ছে গতি রোধ

প্রকৃতি ভীষণ ক্ষেপে

নিচ্ছে প্রতিশোধ।

যুগে যুগে পৃথিবী

কিছু মানুষের কাছে ঋণী

এই দুঃসময়ে কোথায়

মহামানব কোথায় মহা জ্ঞানী,

মৃত্যুর সস্তা মিছিলে

আমরা কি মূল্যহীন প্রাণি!

সভ্যতার শরীরে ভীষণ অসুখ

শোকের কালো কাপড়ে

বাঁধা জ্ঞানীর চোখ

হে মহাপ্রাণ!

মগজে কাগজে সহজে লিখো

উত্তরণের কালজয়ী সমাধান।

দোকানদার

খোকন মাহমুদ

রাতজাগা দোকানদার

কাগজের পেটিবাক্স থেকে-

কয়েকটা আপেল গড়িয়ে গড়িয়ে নেমে এলো...

পৃথিবী একদম গোলাকার নয় কেন!

এ ধারণা থেকে- কে যেন একটু এগিয়ে গেলেন

নিভন্ত গ্রাম থেকে ক্লান্ত ট্রাক্টর এসে থামলো

অদূরে চূড়ির ঘ্রাণ, ধানের চাতাল

অজস্র ঘুম থেকে কেন যে উড়ে আসছে সাদা সাদা এ্যাপ্রোন

চোখে যদি

দিলীপ কির্ত্তুনিয়া

কোনো কপট বৃষ্টি নেবো না তোমার চোখের

তোমার চোখ থেকে শুধু সাদা চোখের

তুলো তুলে নেবো।

গরম চুলার মেজাজ নেবো না কোনো

ভালবাসার উষ্ণতা চেয়ে নেবো।

গাছের পাতার মতো সবুজ চোখ হলে- তাকিয়ো।

চোখে যদি বসন্তের জায়গা থেকে- তবে ডাকিয়ো।

যুবক

শাহীন রেজা

(মুজতবা আহমেদ মুরশেদ, করোনার সাথে লড়াইরত বন্ধুকে)

মেঘের মতো মেললে তোমার ডানা

বাতাস থেকে কুড়ালে বেগ ঝড়ের

এক নিমিষে উড়িয়ে বালুর চর

লণ্ডভণ্ড বিকাল দুপুর এবং সে শৈশব

যুবক তুমি দাঁড়িয়ে গেলে একা

সামনে বিশাল সপ্তঋষির দেহ

পাহাড় সমান সর্বনাশের ঢেউ

সাহস নিয়ে খুললে দেহের তালা

তোমার চোখে সুরমা আঁকে দিন

খোলস ভেঙে বেরোয় ফেরেশতারা

সূর্যদিনের হিসেব কষে কষে

তুমিই লড়ো বিপন্নতার ভিড়ে।

ভাঙা কাঁচের নৃত্য

মিলটন রহমান

কোথায় যাওয়ার জন্য পথে নেমেছিলাম

এখন মনে নেই

যেসব ধুলো দীর্ঘ পথে উঠে বসেছে পায়ে

তারাও কোন সাক্ষী দেয় না-

মাঝে মাঝে পথে যেসব গর্তে দেখেছি

জমে থাকা জল

ওরা বৃষ্টির ফোঁটা নাকি অশ্রুজল

এ প্রশ্নও ঢেকে চলে যাচ্ছে অশ্বারোহী মেঘ

আমি যেতে যেতে উপকূলে দাঁড়িয়ে

রমণীর কালো বেণীর মতো মোচড় দেয়া

সমুদ্র জলের কাছে সন্তর্পণে জিজ্ঞেস করি

আমি কোথায় যাচ্ছি জানো?

খিলখিল

কলকল

ঘোঙানীর মতো

আমাকে ভিজিয়ে রমণী চলে যায় দূরে

আমি বহুদিন দিন আর রাতের তফাৎ বুঝি না

আমার পথ যায় রাতের সাথে, নাকি

আমার পথ যায় দিনের সাথে, জানি

পথইতো যায়, কার সাথে?

ঝনঝন

কনকন

নূপুরের মতো

ঠোঁটের কোণে জেগে ওঠা তিলের মায়ায়

যাবার জন্যই তো পথে নেমেছি

কখনো কখনো গন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ নয়

অনিমেষ পথের মাঝে মাঝে চোখ তুলে

তাকিয়েছে যেসব সরে নড়ে যাওয়া মুখ

তাতেই তো জেগে উঠেছে একবিংশের শোক ও সন্তাপ

কিংবা অপ্রাপ্তির জলশূন্য চোখ তুলে তাকিয়েছে

যে পথের পা-ুলিপি তাতে লাফিয়ে উঠেছে

সহস্র বছরের ইতিহাস, কিন্তু কিছুতেই

টিপটিপ

ঢিপঢিপ

সাংকেতিক চোখ

আমাকে বলে দিলো না কোথায় যেতে পথে নেমেছিলাম!

তোমার অপেক্ষায় কতোদিন কতোদিন

নেহাল আহমেদ

তোমার বারান্দায় বিকেলের রোদগুলো

ভীষণ মন খারাপ করে পড়ে আছে।

তুমি কলেজ থেকে ফিরে আসবে

হাতে চায়ের পেয়ালাটায় ঠোঁট

ছোঁয়াতেই তোমার মনে পড়বে

জরুরি একটা কাজ এখনো

তোমার করে ওঠা হলোনা।

কিংবা চিঠিটা পড়ে আছে বইয়ের ভাঁজে

উত্তরটা দেয়া হলোনা। কিংবা বারান্দায় টপে লাগানো নতুন গাছটায়

পানি দেয়া হয়নি এখনো; সব কত কি

কিংবা আমার মত অপ্রয়োজনীয় যা

বিকেলের রোদ্রের মতো একা একা

তোমার অপেক্ষায় কতোদিন কতোদিন।

জ্বরের পূর্বাভাস

সোনালী ঘোষ

কেমন করে দিন কেটে যায় কাইচি কাটে ফিতের মাপ

পুড়ছে মনের চিলেকোঠা, থার্মোমিটার নিচ্ছে তাপ

একটুখানি যেই সরেছ বাঁধ ভেঙে মন ছলাৎছল

তিনতলাতে ঝড়টি এলেই স্লাইড ভেঙে আসবে জল।

দোষ দিয়েছি নিম্নচাপের তুমুল মেঘের আশকারা

খোঁজ নিয়েছ নদীর কাছে, বইছে কেন খাপছাড়া

একলা সাজা ভীষণ সোজা, কী জানি কার কোন ইঙ্গিত

জ্বর গায়েতে বৃষ্টি এলে শরীর জুড়ে নামবে শীত।