• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ মহররম ১৪৪২, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭

নাগরিকদের মৌল লিবার্টি

বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০

image

প্রচ্ছদ : শাহাবুদ্দিন আহমেদ

আমরা নানা সমস্যার মধ্যে জীবনযাপন করেও গণতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছি; অন্যদিকে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে অথেনটিক কোয়ালিটি তৈরি করতে পারছে না। যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি, কিন্তু থেকে থেকে সামরিক ক্যু হওয়ার দরুন আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌম হয়নি ও গণতন্ত্র আমাদের অধিকার সর্বজনীন করেনি। এই বৈপরীত্যের দরুন গণতন্ত্র বহুবাদী রাজনৈতিক ডকট্রিনে পর্যবসিত হয়নি। অন্যদিকে সামরিক টিরেনি গণতন্ত্রের রাজনৈতিক ডকট্রিনে ফের নির্যাতনের সিস্টেম তৈরি করেছে। আমাদের রাজনীতি : ইতিহাস, সাহিত্য, শিল্পকলা এবং সমাজজীবন সম্বন্ধে কোন ঔৎসুক্য তৈরি করেনি; রাজনীতির মধ্যে মানুষী অস্তিত্ব ও আচরণের প্রকাশ ঘটেনি। আমরা অভিজ্ঞতাশ্রয়ী ও যুক্তিবিশ্বাসী ব্যক্তি ও সমষ্টিতে পরিণত হয়নি।

নাগরিকদের মৌল লিবার্টি হচ্ছে : রাজনৈতিক লিবার্টি, তার সঙ্গে যুক্ত কথা বলার ও সভা-সমিতি করার অধিকার, বিবেকের অধিকার ও চিন্তার স্বাধীনতা, আইনের শাসনের কনসেপ্ট যেভাবে সংবিধানে বর্ণিত সেই মোতাবেক জবরদস্তি এ্যারেস্ট থেকে ফ্রিডম লাভ করা

টিরেনি সম্বন্ধে আমাদের ধারণা বেড়েছে; কিন্তু লিবার্টি সম্বন্ধে ধারণা বাড়েনি। আমাদের কাছে দেশটা ও রাষ্ট্রটা আধুনিক পৃথিবীর অংশ হিসেবে দেখা দিয়েছে তিন দিক থেকে। প্রথম দিক হচ্ছে : পপুলিজম, যার অর্থ হচ্ছে এই বিশ্বাস যে, মানুষ নিজেদের একটা সংস্কৃতির সভ্য হিসেবে বুঝতে ও বোঝাতে সক্ষম যখন তার শিকড় ভাষা, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের মধ্যে প্রোথিত থাকে। দ্বিতীয় দিক হচ্ছে : এক্সপ্রেশনিজম, যার ধারণা হচ্ছে; যখন মানুষ বিভিন্ন কণ্ঠে নিজেদের প্রকাশ করতে সক্ষম, যে প্রকাশে জীবনের একটি সমগ্র ভিশন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তৃতীয় দিক হচ্ছে : প্লুরালিজম, তার অর্থ হচ্ছে: সংস্কৃতির অনিঃশেষ বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন মূল্যবোধ আছে। সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও মূল্যবোধের বিভিন্নতা চূড়ান্তে সমতাসম্পন্ন।

আমরা যে-রাজনীতি তৈরি করেছি, সেখানে পপুলিজম, এক্সপ্রেশনিজম এবং প্লুরালিজম কার্যকর নয়, সেখানে তাদের কোন জায়গা নেই। জায়গা না থাকাটা ভয়ের, অথচ মানুষ হিসেবে আমরা নিরাপদ অবলম্বন খুঁজি। আইসায়া বের্লিন এই পরিস্থিতিতে লিবার্টির একটি ডকট্রিন তৈরি করেছেন, যে ডকট্রিন একই সঙ্গে গভীর ও মৌলিক। ব্যক্তিক লিবার্টির যে-গৎবাঁধা লিবারেল যুক্তি আছে, যে-যুক্তি আমাদের রাজনীতিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্মুখে অগ্রসর হতে দিচ্ছে না (বিভিন্ন টেলিভিশনের টক-শোগুলো তার প্রমাণ), সেক্ষেত্রে বের্লিন নেগেটিভ লিবার্টির ওপর জোর দিয়েছেন। নেগেটিভ লিবার্টি হচ্ছে বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া জীবনযাপন করার ফ্রিডম। আমাদের রাজনীতিতে ফ্রিডম হচ্ছে হস্তক্ষেপ করার অধিকার, যে-অধিকার ধর্মমনস্ক রাজনৈতিক দলগুলো (হেফাজতে ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপি) চূড়ান্তে নিয়ে গেছে।

বিভিন্ন ধর্মের সংঘাতের মধ্যে জীবনযাপন কিংবা বিভিন্ন বিশ্বাসের সংঘাতের মধ্যে জীবনযাপন এবং জীবনযাপনে বিভিন্ন বিশ্বাসের ফ্রিডম এক নয়। জীবনে বহুবিধ প্রশ্ন আছে, ধর্মের দিক থেকে সঠিক জবাব একটাই: বাদবাকি ভুল। সত্য জবাব আবিষ্কারের একটাই ধর্মের দিক থেকে নির্ভরশীল পথ, সে পথ থেকে সরে যাওয়া সম্ভব না। ধর্মে বিশ্বাস কিংবা ধর্মজ রাজনীতিতে বিশ্বাস ব্যক্তির ফ্রিডম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা (হেফাজতে ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপি এই দায়িত্ব নিয়ে মানুষকে উদভ্রান্ত করা শুরু করেছে।) সেজন্য ধর্মান্ধ রাজনীতি-উত্থিত বিশ্বাস মানুষকে নোংরা করে তুলেছে, যুক্তিবর্জিত করেছে: অন্ধ করেছে, সেই সঙ্গে বিরাট বিশ্ব সম্বন্ধে ধারণা: হিন্দু ভারত কিংবা নাস্তিক পশ্চিম কিংবা সমাজতান্ত্রিক চীন সম্বন্ধে বিদ্বেষ এবং বৈরিতার জন্ম দিয়েছে। ধর্ম কিংবা ধর্মজ রাজনীতি এক ধরনের অটোক্রেসির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং বিরাট বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কেবলই হেরে যাচ্ছে।

অটোক্রেসির সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং একই সঙ্গে বিরাট বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়ার দরুন জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেছে (অর্থাৎ নারীদের নিয়ন্ত্রণ করা, পুরুষ ও নারীদের বিশেষ ধরনের লেখাপড়ার ওপর জোর দেয়া, বিশেষ ধরনের পোশাক পরিচ্ছদ ব্যবহার করা)। নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে যেমন ব্যক্তিক লিবার্টি থাকে না, তেমনি গণতান্ত্রিক শাসন থাকে না।

হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা কিংবা জামায়াতের ইসলামীর ধর্ম সংশোধন করা অথবা বিএনপির ধর্মমনস্ক ক্ষমতার মডেলের অর্থ হচ্ছে: অভিজ্ঞতার একটি ক্ষেত্রকে জীবনযাপনের সর্বক্ষেত্রে অন্ধভাবে ব্যবহার ও প্রয়োগ করা। ফলে রাজনীতি থেকে মানুষী ফ্রিডলের পরিসর বাড়ছে না। রাজনীতি ভাবনার ইতিহাসের একটি অংশ: এই বোধ আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হেফাজতে ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির মডেল থেকে মানুষের জীবনযাপনের কোন স্থিতিশীল ভিশন তৈরি হচ্ছে না। জন রাউলফের চিন্তার সূত্র ধরে বলতে হয়, তাহলে রাষ্ট্র ক্ষেত্রে সমতাসম্পন্ন লিবার্টির অধিকারী নাগরিক থাকে না।

নাগরিকদের মৌল লিবার্টি হচ্ছে : রাজনৈতিক লিবার্টি, তার সঙ্গে যুক্ত কথা বলার ও সভা-সমিতি করার অধিকার, বিবেকের অধিকার ও চিন্তার স্বাধীনতা, আইনের শাসনের কনসেপ্ট যেভাবে সংবিধানে বর্ণিত সেই মোতাবেক জবরদস্তি এ্যারেস্ট থেকে ফ্রিডম লাভ করা। তাহলেই জাস্ট সোসাইটি তৈরি করা সম্ভব। মৌল অধিকারসম্পন্ন নাগরিকদের শাসন সম্ভব। তাহলেই নৈরাজ্য প্রতিরোধ করা সম্ভব।

  • গণমানুষের স্মৃতিতে একাত্তর

    সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

    newsimage

    একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক কিছু ইতিমধ্যেই লেখা হয়েছে, আরো লেখা হবে, লেখার

  • বাঙালি সংস্কৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশের সৃষ্টি

    শামসুজ্জামান খান

    বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন ও আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন ঘটেছে ঐতিহাসিক-অবিস্মরণীয় ১৯৭১ সালে। ইতিহাসে

  • মানবতার জয়

    মুহম্মদ সবুর

    newsimage

    বহু ত্যাগ তিতিক্ষা এবং নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় বাঙালির

  • ছায়াহীন কায়া

    আবুল কাসেম

    newsimage

    ফরাসি সাহিত্যে দু’জনই উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন। হিথরো বিমানবন্দর লাউঞ্জে পরিচয়। ফরাসি ভাষায়

  • একাত্তরের আত্মকথন

    দেবাহুতি চক্রবর্তী

    newsimage

    ব্যক্তি-বিশেষের জীবনে পাঁচ দশক এক দীর্ঘ সময়। সুখ দুঃখের সাথে জড়িত অনেক

  • স্বাধীনতা দিবস কবিতা

    সেদিন আপনার হাত ছুঁয়ে প্রথম ছুঁয়েছি বাংলাদেশ তুমুল ভিড়ের মধ্যে অজস্র হাতের ছায়া ভেঙে- কী যে বিপুল উচ্ছ্বাসের

  • স্মৃতির ফসিল

    শামসুজ্জামান হীরা

    newsimage

    চুয়াল্লিশ বছর- মহাকালের বিবেচনায় সময়ের অতিক্ষুদ্র তরঙ্গমাত্র, সন্দেহ নেই- কিন্তু মহাবিশ্বের আণুবীক্ষণিক