• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ মহররম ১৪৪২, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭

গণমানুষের স্মৃতিতে একাত্তর

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০

image

শিল্পী : সঞ্জয় দে রিপন

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক কিছু ইতিমধ্যেই লেখা হয়েছে, আরো লেখা হবে, লেখার দরকার পড়বে। এই রকমের ঘটনা আমাদের জীবনে আর দ্বিতীয়টি ঘটেনি, হয় তো আর ঘটবেও না। এর ইতিহাস লেখা দরকার, নিজেদেরকে জানবার ও বুঝবার জন্য, এবং অগ্রগতির পথে পাথেয় সংগ্রহের জন্যও। শঙ্করী দাস সম্পাদিত গণমানুষের স্মৃতিতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বইটিতে ওই ইতিহাসের বেশ কিছু মূল্যবান উপাদান ও উপাত্ত রয়েছে।

যুদ্ধের দিনগুলোতে মেয়েরাই ছিল সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে। তাদের দুর্ভোগই ছিল সর্বাধিক। একে তারা বাঙালি, তদুপরি নারী। পুরুষদের অনেকে পালিয়ে যেতে পেরেছে

এখানে কথক কোনো একজন নন, অনেক ক’জন। তাঁরা অসাধারণ কেউ নন, সাধারণ মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে তাঁদের যে অভিজ্ঞতা তা ছিল মর্মান্তিক। এ নিয়ে তাঁরা বড়াই করেননি। করুণা আকর্ষণের চেষ্টা করেননি, বেদনার সঙ্গে সেই অতিদুঃসহ দিনগুলোকে স্মরণ করেছেন, যেগুলো তাঁরা ভুলতে পারলে খুশি হতেন, কিন্তু সেগুলো এমনই গভীরভাবে স্মৃতিতে প্রোথিত যে ভুলবার কোনো উপায় নেই। তাঁরা দেখেছেন, জেনেছেন, বুঝেছেন এবং সহ্য করেছেন। তাঁদের স্মৃতিকথনে অনাড়ম্বর নেই, অতিকথন নেই, আভরণ নেই, বক্তব্য একেবারে সাদামাটা, এবং সে জন্যই সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য।

পাকিস্তানী হানাদারেরা যা করেছে তা অবিশ্বাস্য। কিন্তু সেটা ঘটেছে। বাস্তবতা ছাড়িয়ে গেছে কল্পনার ধারণক্ষমতাকে। হানাদারদের বংশধরেরাও কল্পনা করতে পারবে না

তাদের পরমাত্মীয় নরাধমেরা কি করেছে। তারা বিস্মিত হবে কেবল বর্বরতা দেখে নয়, মূর্খতা দেখেও। ওই মূর্খরা কী করে ভাবলো যে হাজার মাইলের ব্যবধান থেকে উড়ে গিয়ে একটি জনগোষ্ঠীকে তারা অধীনে রাখবে, যাদের সংখ্যা তাদের তুলনায় বেশি, এবং দুই অঞ্চলের মাঝখানে শত্রুভাবাপন্ন একটি বিশাল রাষ্ট্র বিদ্যমান। বংশধরেদের লজ্জা পাবার কথা। মূর্খ বর্বরেরা ছিল কাণ্ডজ্ঞানহীন ও হতাশাগ্রস্ত। তারা কেবল মারবেই ভেবেছিল, কিন্তু যখন দেখলো মার খাচ্ছে তখন হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে বদ্ধ উন্মাদের মতো আচরণ করেছে। হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, সম্ভব অসম্ভব সবকিছু করেছে। সর্বাধিক বর্বরতা ঘটেছে নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে। অন্য কিছুর বিবরণ না দিয়ে কেবল যদি ধর্ষণের কাহিনীগুলো স্মরণ করানো যায় তাহলেই বোঝা যাবে কেমন অধঃপতিত ছিল এই দুর্বৃত্তরা। মার খাওয়া হানাদারেরা ধর্ষণকে তাদের বিনোদন ও প্রতিহিংসা চরিতার্থকরণের সবচেয়ে সহজ উপায় হিসাবে বেছে নিয়েছিল। জবাবদিহিতার দায় ছিল না। পালের গোদা শার্দুলবেশী মেষ জেনারেল নিয়াজী থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি হানাদারই ছিল একেকটি ধর্ষণলোলুপ নারকীয় কীট। জবাব দেওয়া দূরের কথা, তারা পরস্পরকে উৎসাহিত করেছে ওই কাজে।

যুদ্ধের দিনগুলোতে মেয়েরাই ছিল সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে। তাদের দুর্ভোগই ছিল সর্বাধিক। একে তারা বাঙালি, তদুপরি নারী। পুরুষদের অনেকে পালিয়ে যেতে পেরেছে। প্রাণভয়ে তারা মেয়েদেরকে ফেলে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। যারা যুদ্ধে গেছে তাদের বাড়ির মেয়েরা বিপদে পড়েছে, অন্তঃসত্ত্বারা সন্তান প্রসব করেছেন বনে জঙ্গলে। কারণ মেয়েদের পক্ষে পলায়ন ছিল দুঃসাধ্য। দেহের গঠন, জামাকাপড় ও নারীত্ব সবই ছিল তাদের বিপক্ষে। সর্বোপরি হানাদাররা ওঁৎ পেতে থাকতো তাদেরকে অপহরণের জন্য। পুরুষদেরকে তবু কখনো ছেড়ে দিয়েছে, মেয়েদেরকে ছাড় দিয়েছে এমন দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না। মেয়েরা কেউ কেউ ছিল অন্তঃসত্ত্বা, সে অবস্থাতেই তারা ধর্ষিত হয়েছে। ধর্ষণের পরে তাদের অনেককে হত্যা করা হয়েছে, অনেকে আত্মহত্যা করেছে, কেউ কেউ কোথায় হারিয়ে গেছে কেউ জানে না। লজ্জায় অনেকে স্বীকার করে নি যে তাদের সম্ভ্রমহানি ঘটেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মেয়েদের এই যন্ত্রণার কথা আসবেই। এ বইতেও এসেছে। বইয়ের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত কিন্তু সর্বাধিক মর্মন্তুদ কাহিনীটি পাওয়া যাবে বীরাঙ্গনা মমতাজ বেগমের জবানীতে। তাঁর ওপর যে নির্যাতন ঘটেছে সেটা আমাদের সকলের জন্য লজ্জা। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে আখ ক্ষেত থেকে উদ্ধার করে আনা হয়। তাঁর স্বামী জমিজিরাত বিক্রি করে তাঁর চিকিৎসা করেন। মমতাজ বেগমকে বীরাঙ্গনা উপাধি দেওয়া হয়েছিল। নির্যাতিত মেয়েদেরকে ওই উপাধি যাঁরা দিয়েছিলেন তাঁরা জানতেন না যে মুক্তিযুদ্ধের অর্জনগুলো মলিন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তাদের ওই পুরুষমন্য সম্মানপ্রদর্শন অসহায় মেয়েদের জন্য দুঃসহ বোঝায় পরিণত হবে। মমতাজ বেগম সে নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি, কারণ তাঁর যন্ত্রণাগুলো ছিল অসম্মানের চেয়েও কঠিন। তাঁর দু’টি মেয়ে। মেয়েদের তিনি ভালো বিয়ে দিতে পারেননি। বলছেন, ‘বীরাঙ্গনার মেয়েকে কে বিয়ে করতে চায়?’ তাঁর শারীরিক ক্ষত সারেনি। তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি স্বাভাবিক জীবনযাপন করা। বলছেন, ‘দীর্ঘ বিয়াল্লিশ বছর ধরে এই নির্মম কষ্ট ভোগ করে আসছি এবং বীরাঙ্গনা নাম নিয়ে জীবনের শেষ দিনটির প্রহর গুনছি।’ এটাই তো প্রাপ্তি; তাঁর, এবং তাঁদের মতো অসংখ্য নারীর যাঁরা তাদের কথা বলতে পারেন না লোক লজ্জায়।

সবগুলো বাহিনীতেই একটি ধ্বনি আছে, সেটি আর্তনাদের। মুক্তিযুদ্ধকে আমরা নানা বিশেষণে ভূষিত করে থাকি। বলি এ যুদ্ধ ছিল মহান। তা ছিল বৈকি। অত্যন্ত বড় মাপের দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ, সাহস ও উদ্ভাবনশক্তির প্রকাশ ঘটেছে যুদ্ধে। সেসবের পরিচয় এ বইতেও রয়েছে। তবে আর্তনাদ ছিল মস্ত বড় সত্য। প্রাণভয়ে মানুষ পালিয়েছে। আত্মীয়স্বজন, আপনজন, বিষয়সম্পত্তি, সবকিছু ফেলে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তার খবরও এ বইতে পাবার কথা, পাবো বৈকি। তবে আর্তনাদের পাশাপাশি নীরব একটা ধিক্কার ধ্বনিও রয়েছে। ধিক্কার কেবল পাকিস্তানীদেরকে নয়, ধিক্কার আমাদের নিজেদেরকেও। ওরা ছিল অল্প কিছু দস্যু, লাখ খানেক হবে সব মিলিয়ে, আমরা ছিলাম সাড়ে সাত কোটি। আমরা কেন এভাবে মার খেলাম ওদের হাতে? হ্যাঁ, ওরা অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত ছিল। কিন্তু সুসজ্জিত হবার সুযোগ তো আমরাই করে দিয়েছি। ওদের হাতে বোমারু বিমান পর্যন্ত ছিল, কিন্তু বিমানগুলো তো ছিল আমাদের ভূমিতে, সেগুলোকে বিকল করে দেবার সুযোগ তো আমাদের ছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে আক্রমণ হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ আত্মরক্ষা; আমরা আক্রমণ করতে পারি নি। আমাদের দিক থেকে কোনো প্রকার প্রস্তুতি ছিল না। যোগাযোগ ছিল না পারস্পরিক। জনমত সৃষ্টি করা হয় নি আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে। যুদ্ধের প্রস্তুতি যুদ্ধে যাবার আগে নয়, পরে নেওয়া হয়েছে। পলিটিকাল মোটিভেশন তৈরির দায়িত্বে ছিলেন বলে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন, তাঁরা ওই দায়িত্ব আগে পাননি, পেয়েছেন যখন শত্রু তাঁদের গণহত্যা শুরু করে দিয়েছে তারপর। গণহত্যা যে শুরু হয়েছে সে খবরটি পর্যন্ত পাওয়া গেছে বিদেশী রেডিও থেকে, এবং তার প্রকোপ টের পাওয়া গেছে হানাদারেরা যখন একেবারে ঘাড়ের ওপর এসে পড়েছে তখন। এসব কথা প্রায় সবাই স্মরণ করেছেন। বস্তুত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মতো প্রস্তুতিহীন, অসংগঠিত এবং রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী আধুনিক ইতিহাসে কমই পাওয়া যাবে।

লজ্জা আমাদেরই। কিন্তু সে লজ্জা ব্যক্তির নয়, সমষ্টির; এবং সমষ্টি যেহেতু চলে নেতৃত্বের পরিচালনায়, লজ্জাটা তাই শেষ বিচারে নেতৃত্বের। একাত্তরে নীরব ধিক্কার ধ্বনিটি ছিল আসলে ওই নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই। প্রধান নেতাকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পাকিস্তানে, অন্য নেতারা চলে গেছেন ভারতে। অনেকেই যুদ্ধ করতে যাননি, গেছেন আশ্রয়ের খোঁজে। এবং সকলকেই নির্ভর করতে হয়েছে ভারতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। শুরুতে আন্দোলন ছিল স্বায়ত্তশাসনের জন্য, পরে দাবি উঠেছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের; তারপরে স্বাধীনতার। এই রূপান্তর নেতৃত্বের পরিকল্পনায় ঘটে নি, ঘটেছে ঘটনাপ্রবাহে। ওই প্রবাহে দুটি বিপরীত স্রোত ছিল। একটি হলো ক্ষমতা হস্তান্তরে পাঞ্জাবী সেনাপতিদের অসম্মতি, অপরটি হলো আপোসের বিরুদ্ধে পূর্ববঙ্গবাসীর অনড় অবস্থান। দুই স্রোতের সংঘাতে ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়েছিল। যার ভুক্তভোগী হয়েছে সাড়ে সাত কোটি মানুষের প্রত্যেকে- কোনো না কোনোভাবে। কেউই নিরাপদে ছিল না। মীর জাফরেরা ছিল, ভালোভাবেই ছিল; কিন্তু তারাও যে নিশ্চিত ছিল তা নয়।

ব্যর্থতা নেতৃত্বেরই। যদি কর্তব্য ও প্রস্তুতির নির্দেশ পাওয়া যেত তাহলে যুদ্ধের প্রকৃতিটা দাঁড়াত সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। শুরুতেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যেত। কারণ হানাদারেরা ক্যান্টনমেন্টগুলোতে আটকা পড়ে যেত। তারা ভাতে মরতো, পানিতে মরতো, মরতো অস্ত্রাঘাতেও। কেন্দ্রীয় নির্দেশ ছাড়াও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্রোহ ঘটেছে। ঘটেছে প্রত্যেকটি ক্যান্টনমেন্টে, এবং প্রস্তুতিহীন অবস্থাতেই প্রাথমিকভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাঙালি সৈন্যরা অবাঙালিদের কোণঠাসা করে ফেলেছিল। সংঘবদ্ধ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে সেটা ঘটলে হানাদারদের পরিকল্পনা বিনষ্ট হয়ে যেত।

এরকমটা যে ঘটতো তার আভাস দেওয়া আছে বইয়ের প্রথম লেখাটিতেই। এটি ওই বিশেষ সময়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত একজন গ্যারিসন ইঞ্জিনিয়ারের কাহিনী। এঁর নাম মোহাম্মদ দাউদ হোসেন। অসহযোগের সময় অন্য কয়েকজনের সাথে মিলে তিনি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজের নির্দেশ চেয়েছিলেন, কিন্তু তা পান নি। ২৫ মার্চ তিনি ক্যান্টনমেন্টের বাইরে ছিলেন। তিনি জানাচ্ছেন-

“আমার সহকর্মীদের যারা ক্যান্টনমেন্টের ভেতর প্রশেসন করেছিল এবং পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস বন্ধ করেছিল তারা আমার সঙ্গে দেখা করে কাজে যোগদানের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করল। তিনজন গোপনে আমার বাসায় এল। আমি তাদের যোগদান করতে নিষেধ করলাম। কারণ যোগদান করলে মৃত্যু অবধারিত।”

দাউদ হোসেন নিজে ওইভাবে চিহ্নিত ছিলেন না। তদুপরি আর্মির পক্ষ থেকে কাজে যোগদানের জন্য প্রচণ্ড চাপ আসছিল। বাধ্য হয়ে তিনি কাজে যোগ দেন। যোগ দেওয়ার পরে দেখেন অস্ত্রশস্ত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম দিয়ে দুটি ব্যারাক ভরে ফেলা হচ্ছে। এরই মধ্যে যা ঘটলো তা হলো :

“মাঝরাতে বাঙালী সেপাইরা ব্যারাক দুটোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তে সেই সময়ের দুই হাজার কোটি অস্ত্রশস্ত্র সাকল্যে ভস্মীভূত হয়ে যায়। এটি সম্ভবত ক্যান্টনমেন্টের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ। আর্মি আগুন নেভাতে পারে নি, আর্মি দিশেহারা হয়ে দিগি¦দিক ছুটোছুটি করছিল।

নির্দেশ পেলে এমন মুক্তিযুদ্ধ কেবল ঢাকায় নয়, সব ক্যান্টনমেন্টেই অবধারিত ছিল। তাতে আশেপাশের মানুষ যোগ দিত।

ঐতিহাসিক সত্যগুলো ক্রমাগত উন্মোচিত হচ্ছে। সে-উন্মোচনে এ ধরনের বই গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসের জন্য তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন হয়। কিন্তু ইতিহাস তো কেবল ঘটনা নয়, ঘটনা কেন ঘটলো, ঘটনার কী তাৎপর্য এসবও ইতিহাস খোঁজ করে। ওই ব্যাখ্যা ছাড়া ইতিহাস নেই। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রেও আমাদেরকেও ওই ব্যাখ্যার খোঁজ করতে হবে। এবং বইয়ের ভেতরকার মানুষগুলোর আর্তনাদ আমাদের সকলের আর্তনাদেরই অংশ, ধিক্কারও আমাদের সকলেরই। আর্তনাদ শোনাই কিন্তু যথেষ্ট নয়, সঙ্গে ধিক্কারও শোনা চাই।

সমষ্টিগতভাবে আমাদের বড় ব্যর্থতার একটি হলো পাকিস্তানী হানাদারদেরকে বিচারের কাঠগড়াতে দাঁড় করাতে না-পারা। তাদের স্থানীয় দোসরদের কয়েকজনের বিচার হয়েছে, কিন্তু হানাদার পাকিস্তানীদের বিচারও অত্যাবশ্যক। তাদের ভেতর যে ১৯৫ জনকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, তাদের কথা ভুলে গেলে চলবে না। এক্ষেত্রেও ব্যর্থতা সেই নেতৃত্বেরই। দুর্ভোগ যা পোহাতে হয়েছে সেটা জনগণকেই, নেতারা মোটামুটি নিরাপদেই ছিলেন। বিচারের দাবি ভুক্তভোগী জনগণের, কিন্তু ইতিহাস দাবি করছে যে পাকিস্তানী অপরাধীদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো চাই। সেই সঙ্গে যুদ্ধে কার কী ভূমিকা ছিল তারও মূল্যায়ন ইতিহাসই করে দেবে।

ইতিহাসের উপাদান সরবরাহের সকল উদ্যোগই তাই অভিনন্দনযোগ্য। অভিনন্দন বর্তমান উদ্যোগটিকেও।

  • নাগরিকদের মৌল লিবার্টি

    বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর

    newsimage

    আমরা নানা সমস্যার মধ্যে জীবনযাপন করেও গণতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছি; অন্যদিকে আমাদের

  • বাঙালি সংস্কৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশের সৃষ্টি

    শামসুজ্জামান খান

    বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন ও আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন ঘটেছে ঐতিহাসিক-অবিস্মরণীয় ১৯৭১ সালে। ইতিহাসে

  • মানবতার জয়

    মুহম্মদ সবুর

    newsimage

    বহু ত্যাগ তিতিক্ষা এবং নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় বাঙালির

  • ছায়াহীন কায়া

    আবুল কাসেম

    newsimage

    ফরাসি সাহিত্যে দু’জনই উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন। হিথরো বিমানবন্দর লাউঞ্জে পরিচয়। ফরাসি ভাষায়

  • একাত্তরের আত্মকথন

    দেবাহুতি চক্রবর্তী

    newsimage

    ব্যক্তি-বিশেষের জীবনে পাঁচ দশক এক দীর্ঘ সময়। সুখ দুঃখের সাথে জড়িত অনেক

  • স্বাধীনতা দিবস কবিতা

    সেদিন আপনার হাত ছুঁয়ে প্রথম ছুঁয়েছি বাংলাদেশ তুমুল ভিড়ের মধ্যে অজস্র হাতের ছায়া ভেঙে- কী যে বিপুল উচ্ছ্বাসের

  • স্মৃতির ফসিল

    শামসুজ্জামান হীরা

    newsimage

    চুয়াল্লিশ বছর- মহাকালের বিবেচনায় সময়ের অতিক্ষুদ্র তরঙ্গমাত্র, সন্দেহ নেই- কিন্তু মহাবিশ্বের আণুবীক্ষণিক