• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

হরিজন সম্প্রদায় : বাংলাদেশের ‘অচ্ছুৎ’ মানুষদের অভিশপ্ত জীবনের গল্প

ফারজানা তাসনিম পিংকী

| ঢাকা , সোমবার, ০৮ এপ্রিল ২০১৯

image

‘আমাদের কোন ভবিষ্যৎ নেই’, রাগতস্বরে বলছিলেন রতন বাশফুর। বাশফুররা এখানে অচ্ছুৎ, বাংলাদেশের একদম নিচু জাতের মানুষ তারা। রতন বাশফুরের পদবিই বলে দিচ্ছে সমাজে তার অবস্থান কোথায়। বাশফুররা ‘মেথর জাতে’র অন্তর্ভুক্ত, তারা থাকে হরিজন পল্লীতে। নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বড়সড় বস্তিপল্লী গড়ে তুলে মানবেতর জীবনযাপন করে যাওয়া এক সম্প্রদায় তারা। ময়মনসিংহের হরিজন পল্লীতে ১,২০০ বস্তিতে বসবাসরত বাশফুররা একেকটি ঘরে কম করে হলেও পাঁচজন লোক থাকে। ঠিক একই অবস্থা অন্য পল্লীগুলোরও। স্বদেশে থেকেও হরিজনরা যেন পরদেশি। নিজ সমাজের কাছেই অস্পৃশ্য তারা। তাদের এ করুণ জীবনের গল্প শোনার মতো সময়ও নেই কারও। অথচ তারাই আমাদের দেশের খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজে নিয়োজিত থেকে সহজ-স্বাভাবিক করে তুলছেন আমাদের জীবন।

হরিজন পল্লীতে বসবাস করা মানেই স্যানিটেশনের যাচ্ছেতাই অবস্থা, কাজের অপ্রতুল সুযোগ, সময়ে-অসময়ে বন্যায় ভেসে যাওয়া, পচা-বাসি খাবার খাওয়া- সভ্য জগতের কাছে একেবারেই অকল্পনীয় একটি জীবনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়া। তাদের বস্তিগুলো সাধারণ বস্তির মতো নয়। সেখানে বিল্ডিং তৈরি করা আছে, তবে সেই বিল্ডিংয়ের চারপাশে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করার গাড়ির কোন নামগন্ধও পাওয়া যায় না। ব্যাপারটা যেন এমন- মেথরদের আবার স্যানিটেশন কী?

সমাজে প্রচলিত জাতিভেদ প্রথার কারণেই দেশের সাধারণ মানুষদের থেকে আলাদা হয়ে গেছে হরিজন সম্প্রদায়। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জাতিভেদ প্রথাটির বিষবৃক্ষ রোপণ করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল আর্যরা। তারপর বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠী ক্রমাগত সেই জাত-পাতের বিভাজন করেই গেছেন। এ বিভাজন সামাজিকভাবে এমন নির্যাতনে রূপ নিয়েছিল যে, সমাজে নিম্নবর্ণের মানুষের টেকাই দায় হয়ে উঠেছিল। তাদের অস্তিত্ব সংকট শুরু হয়ে যায় রীতিমতো। ভারতবর্ষে এ বিভাজনের মধ্য দিয়ে বিস্তৃতি ঘটে বিভিন্ন ধর্মের। কিন্তু জাতিভেদের সংকট পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত কিংবা বাংলাদেশ থেকে আজও যায়নি। ইতিহাসে সোনার অক্ষরে নয়, কান্নার নীল হরফে লেখা রয়েছে দলিত সম্প্রদায়ের কথা।

হরিজন কথাটির উৎপত্তির সঙ্গেও মিশে আছে প্রহসনের গল্প। সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মহাত্মা গান্ধী দলিতদের মেথর, সুইপার না বলে ‘হরিজন’ বলার অমোঘ বাণী দিয়ে গেছেন। কিন্তু তাদের সমাজ ও সামাজিকতার স্বীকৃতি দেননি, মূল সমাজের সঙ্গে যুক্ত করেননি। ক্ষমতা যখন যার হাতে থাকে, তখন সেই শাসক জাত-পাতের ভেদাভেদ ভুলিয়ে দেয়ার মন্ত্র মুখে উচ্চারণ করলেও, বিভাজন টিকিয়ে রাখার জন্য একটি শাসক শ্রেণী ঠিকই তৈরি করে দিয়ে গেছেন। মহাত্মা গান্ধীর ‘হরিজন’ তার একটি প্রকাশ মাত্র। দেবদাসী প্রথা দক্ষিণ ভারতে এখনও টিকে আছে। এসব দেবদাসীরা অধিকাংশই হরিজন সম্প্রদায়ের থেকে আসা। ব্রাহ্মণরা তাদের দিনের পর দিন ভোগ করে। তাতে অবশ্য ব্রাহ্মণদের জাত যায় না, জাত যায় হরিজনদের হাতের জলপান করলে, অন্ন গ্রহণ করলে।

বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায়, যারা মূলত হরিজন নামে পরিচিত, এখনও সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে মিশতে পারেনি। ফলে তারা কলোনিভিত্তিক জীবনযাপন করে যাচ্ছেন ব্যাপক অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে। ঢাকা শহরের একটু বাইরে গেলেই দেখা যাবে দলিত-হরিজনরা যেন অস্পৃশ্য। তারা পানি খেতে দোকানে গেলেও আলাদা করে গ্লাস নিয়ে যেতে হয়। দক্ষিণবঙ্গে হরিজনরা কোন বাড়িতে খেতে গেলে তাদের কলাপাতায় খাবার পরিবেশন করা হয়। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্রীয় অবদানকে অস্বীকার করা হবে। তাই তাদের সমাজের মূলধারায় সংযোজিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা খুব জরুরি। নাহলে তারা শিক্ষিত হলেও এখনও যে অচ্ছুৎ হয়ে রয়েছে, সেই অচ্ছুৎই রয়ে যাবে।

জন্ম ও পেশাগত কারণে বৈষম্য এবং বঞ্চনার শিকার মানুষরা আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশেষ করে ঐতিহাসিক বা পন্ডিতদের কাছে ‘দলিত’ নামে পরিচিতি পায়। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে দুই ধরনের দলিত জনগোষ্ঠীর দেখা মেলে। একটি বাঙালি দলিত শ্রেণী, অন্যটি অবাঙালি দলিত শ্রেণী। ২০১৩ সালে মাযহারুল ইসলাম এবং আলতাফ পারভেজের গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বসবাসরত দলিতদের সংখ্যা বর্তমানে সাড়ে পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় মিলিয়নের মতো। বাঙালি দলিত বলতে সমাজে যারা অস্পৃশ্য তাদের বোঝায়, যেমন- চর্মকার, মালাকার, কামার, কুমার, জেলে, পাটনী, কায়পুত্র, কৈবর্ত, কলু, কোল, কাহার, ক্ষৌরকার, নিকারী, পাত্র, বাউলিয়া, ভগবানীয়া, মানতা, মালো, মৌয়াল, মাহাতো, রজদাস, রাজবংশী, কর্মকার, রায়, শব্দকর, শবর, সন্ন্যাসী, কর্তাভজা, হাজরা প্রভৃতি সম্প্রদায় সমাজে অস্পৃশ্যতার শিকার। এসব সম্প্রদায় আবার বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত। ইসলাম ধর্ম জাতিভেদকে অস্বীকার করলেও এ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে অনেকে পেশার কারণে সমাজে পদদলিত হয়ে রয়েছে, যেমন- জোলা, হাজাম, বেদে, বাওয়ালি।

অবাঙালি দলিত বলতে আমরা বুঝি ব্রিটিশ শাসনামলের মাঝামাঝি (১৮৩৮-১৮৫০) বিভিন্ন সময়ে পূর্ববঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মী, চা-বাগানের শ্রমিক (১৮৫৩-৫৪), জঙ্গল কাটা, পয়ঃনিষ্কাশন প্রভৃতি কাজের জন্য ভারতের উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান, বিহার, উড়িষ্যা, কুচবিহার, রাচি, মাদ্রাজ ও আসাম থেকে হিন্দি, উড়িষ্যা, দেশওয়ালি ও তেলেগু ভাষাভাষী মানুষের পূর্ব পুরুষদের নিয়ে এসেছিল। দরিদ্র এ অভিবাসীরা দেশের সর্বত্র পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং সিলেটে চা-শ্রমিক হিসেবে কাজ করে।

ভূমিহীন ও নিজস্ব বসতভিটেহীন এসব সম্প্রদায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সরকার কর্তৃক প্রদত্ত জমি, রেলস্টেশনসহ সরকারি খাস জমিতে বসবাস করছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ হেলা, মুচি, ডোম, বাল্মিকী, রবিদাস, ডোমার, ডালু, মালা, মাদিগা, চাকালি, সাচ্চারি, কাপুলু, নায়েক, নুনিয়া, পরাধন, পাহান, বাউরি, বীন, বোনাজ, বাঁশফোর, ভূঁইয়া, ভূমিজ, লালবেগী জনগোষ্ঠী। এসব জনগোষ্ঠী তেলেগু, ভোজপুরী, জোবালপুরী, হিন্দি, সাচ্চারী ও দেশওয়ালি ভাষায় কথা বলে। এ সম্প্রদায়গুলোই মূলত অবাঙালি দলিত শ্রেণী। কলোনি বা বস্তিতে বসবাসরত বাশফুরদের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে প্রতিবেশীরাও কখনও তাদের বাড়িতে পা রাখে না, তাদের বাচ্চাদের সঙ্গে নিজেদের বাচ্চাদের মিশতে দেয়া না, খেলতে দেয় না, নিজেরা কথা পর্যন্ত বলে না। তাদের ছোঁয়া তো বহু দূরের কথা, তাদের সঙ্গে পানিও বিনিময় করে না। কাজেই এলাকায় কখনও পানি বা বিদ্যুৎ না থাকলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি জনগণের জন্য যেখানে একই নিয়ম থাকার কথা, সেখানে হরিজনদের কোন মানুষের পর্যায়েই ফেলা হয় না।

হরিজন কলোনিতে বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা খুবই নাজুক। পানি সরবরাহের নলকূপগুলো প্রায় অকেজো হয়ে থাকে। ফলে পানীয় ও গোসলের পানিসহ সব ধরনের কাজে বাধ্য হয়ে দূষিত পুকুরের পানি ব্যবহার করতে হয়। এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে কলোনির শতকরা ৯০ ভাগ শিশু সব সময়ই পুষ্টিহীনতায় ভোগে। হরিজন কলোনিতে শিশু মৃত্যুর হারও অন্য এলাকার চেয়ে বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে সুইপারের কাজই এদের প্রধান পেশা। হরিজন সম্প্রদায়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের আবাসন সমস্যাও প্রকট হচ্ছে। শুরুতে যে রতন বাশফুরের কথা বলা হয়েছিল, তিনি নোয়াখালীূর এক সুইপার কলোনির সর্দার। তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের কলোনিগুলো বানিয়েছে শ্মশানের পাশে, লাশ কাটা ঘরের পাশে, আবর্জনার স্তূপের মধ্যে। আমাদের দিয়ে তারা সারা শহর পরিষ্কার করিয়ে নেয়, আর আমাদেরই রেখে দিয়েছে নোংরা জায়গায়।’

দুঃখকষ্ট যে মানুষের মন থেকে খুশির আমেজ কেড়ে নিতে পারে না তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হরিজনরা। খুবই উৎসবপ্রবণ একটি সম্প্রদায় এরা। বারো মাসে তেরো পার্বণ তো আছেই, তাছাড়াও দোল উৎসব, কালীপূজা, দুর্গাপূজা, হুলকা পূজা, সূর্য পুপায়া প্রভৃতি অনুষ্ঠানে খুবই আনন্দ করে তারা। সাংস্কৃতিকভাবেও তারা এগিয়ে রয়েছে অনেকখানি। কিন্তু সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে কোন ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকায় তাদের উৎসব বা লোকাচার সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই আমাদের। হরিজনদের মধ্যে রয়েছে মানসম্পন্ন কণ্ঠশিল্পী ও যন্ত্রশিল্পী। এসব শিল্পী জাতীয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে দেশের সংস্কৃতির জন্যও সেটা হতো ফলপ্রসূ। মোজাইক আর টাইলসে মোড়া ঘরে থেকে, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনে এ লেখাটি পড়তে পড়তে আমরা হয়তো কল্পনাও করতে পারব না, রাস্তার পাশে ময়লা ফেলা কিংবা মর্গে লাশকাটা ডোমের জীবনে কী কী ঘটে চলেছে।

সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত দলিত কথাটির মানে হচ্ছে সমাজের উচ্চবর্গীয় জনগণ দ্বারা নিপীড়িত ও নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। সে কথাটিকে আরও একটু পোক্ত করতে তাদের বাশফুর জাতীয় পদবিই যথেষ্ট। নাম শুনেই মানুষ বুঝে ফেলে এদের সঙ্গে যা ইচ্ছে তা-ই করা সম্ভব। ২০১১ সালের দক্ষিণ এশীয় মানবাধিকার সংস্থার একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিম্ন বর্ণের এ মানুষদের মধ্যে সহিংসতার পরিমাণ দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে। খুন, ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, নারীদের ওপর অত্যাচার, অবৈধভাবে ভূমি দখল, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি প্রভৃতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে হরিজনদের মধ্যে। আন্তর্জাতিক দলিত সংহতি নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক রিকি নহরিল্যান্ড বলেন, ‘সারা জীবন অবহেলিত হতে হতে তাদের মানসিকতা এখন এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, কেউ একবার আঘাত করলে তারা পাল্টা তিনবার আঘাত করার জন্য প্রস্তুত থাকে।’

হরিজনদের মধ্যে সবচেয়ে প্রান্তিক পর্যায়ে রয়েছেন নারীরা। তাদের গোটা কলোনিতে হয়তো একটি বা দুটি টয়লেট থাকে। সেখানেও গোসল করার কোন ব্যবস্থা না থাকায় কলের পানিতেই গোসল করতে হয় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে। টয়লেট স্বল্পতার কারণে বাচ্চাদের তাই অনেক সময় ড্রেনের পাশেই বসিয়ে দেয়া হয়। গোটা পরিবেশ কতটা অস্বাস্থ্যকর হতে পারে ভাবুন একবার! মুন্নী বাশফুর তিন জায়গায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ করেন। ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে রাস্তা ঝাড়ু দেন, সিটি করপোরেশনের হয়ে কাজ করেন তিনি। এরপর একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে গিয়ে ২ ঘণ্টা আবর্জনা পরিষ্কার করে আরেকটি স্টোরে আধা ঘণ্টার শিফটে একই কাজ করেন। তারপরও বাচ্চাদের নিয়ে তার চিন্তার কোন শেষ নেই। অচ্ছুৎ বলে যদি তার বাচ্চাদের কেউ এড়িয়ে যায়, সেই ভয়ে বাচ্চার নাম পরিবর্তন করে, বাবা-মার পরিচয় গোপন রেখে তাদের ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন স্কুলে। চার বাচ্চার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে সকাল-সন্ধ্যা খেটে মরছেন মুন্নী। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কেউ ফোন নম্বর জানতে চাইলে আমি বলতে পারি না। আমি চাই আমার বাচ্চারা যেন এমন কোন অবস্থায় না পড়ে। ওরা পড়ালেখা শিখে ভালো থাকুক, এই অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি পাক।’

হরিজন পল্লী বাংলাদেশের বাইরের কোন এলাকা নয়। হরিজনরাও আমাদের দেশের, সংস্কৃতিরই একটি অংশ। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় জানা গেছে, হরিজনদের অনেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও তারা পাননি মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট, তাদের দেয়া হয়নি কোন ভাতা। বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রায় ছয় মিলিয়ন হরিজনদের এভাবে দূরে ঠেলে রেখে আমরা কি সত্যিই পারব দেশের সামগ্রিক উন্নতি ঘটাতে?