• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ মহররম ১৪৪২, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সংকট

মোস্তাফা জব্বার

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯

চলমান সময়ে সামাজিক যোগযোগ মাদ্যমের সর্বাধিক আলোচিত গুজবটির বিষয় হচ্ছে পদ্মা সেতু নির্মাণে লক্ষ লক্ষ মানুষের কল্লা-রক্ত লাগবে। জুলাই মাসের শুরু থেকে এই গুজব এতো ব্যাপকভাবে ছড়ানো শুরু হয় যে, গুজব রটনাকারীদের তালিকা তৈরি করা বা তাদের অপকর্ম অপসারণ করার প্রক্রিয়াকে চলমান রাখাই কঠিন হয়ে পড়ে। ফেসবুকের আইডি-পেজে, ম্যাসেঞ্জারে-হুয়াটস অ্যাপে স্ট্যাটাসে-ম্যাসেজে যা খুশি লিখে, ধর্মের নামে, পবিত্র গ্রন্থের দোহাই দিয়ে এইসব অপপ্রচার চলছে। নাম গোত্র-পরিচয়হীন লোকেরা ভূয়া পরিচয় দিয়ে ফেসবুকে আইডি-পেজ খুলে এই মাধ্যমটির এমন জঘন্য অপব্যবহার করতে শুরু করেছে যে এটি আমাদের জন্য রীতিমতো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। যদিও এরই মাঝে আইনশৃংক্ষলাবাহিনী সারা দেশে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে বিপুল সংখ্যক গুজব রটনাকারীকে আটক করেছে তথাপি এরই মাঝে বেশ কিছু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে ছেলেধরা বানিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এমনকি নারিকেল গাছ পরিষ্কার করে এমন লোকজনের হাতে দা আর বস্তা থাকার জন্য পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এই অবস্থাটি এবারই প্রথম নয়। বগুড়ায় সাইদীকে চাদে দেখতে পাওয়া, রামুর সাম্প্রদায়িকতা, নাসিরনগরের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, প্রশ্ন ফাস, জিগাতলার গুজব এমন অনেক ঘটনা চলমানই আছে। ফেসবুককে ভর করে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে আমাদের আইনশৃংক্ষলারক্ষাকারী বাহিনীকে প্রচন্ডভাবে চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে। যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের ভূখন্ডে তাদের কোন যোগাযোগ রাখেনি, আমাদেরকে ভারত-সিঙ্গাপুর হয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হয় এবং তাদের মর্জির ওপর নির্ভর করে যে আমাদের জন্য ক্ষতিকর উপাত্তগুলো তারা সরাবে কিনা। গুগল-ইউটিউবেও একই ধরনের চ্যােেরঞ্জ রয়েছে। ইুউটিউবে পর্ণোর সম্প্রচার ছাড়াও, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও মানহানির অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্লাটফরম-র্পোটাল-ওয়েবসাইটে অন্যের চরিত্র হরণ, গুজব, মিথ্যা খবর প্রকাশ; লেখায়, কথায় বা ভিডিওতে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা নারী ও শিশুদেরকে হয়রাণি করা এক মহাব্যধিতে পরিণত হয়েছে। এর বাইরে আছে পর্ণো সাইট, জুয়ার সাইট বা ফেসবুক ইউটিউবকে ব্যবহার করে যৌন ব্যবসা ও যৌনতা এবং নোংরামীর ব্যবসা করা।

বিষয়টি আমাদের কেবল দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি-এই ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টিকে আমরা ব্যাপকভাবে গুরুত্ব দিয়েছি বলেই ১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হয়েছে। সেই আইন বলবৎ করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি গঠিত হয়েছে। এর আওতায় প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো তৈরি করে ফরেনসিক ল্যাবসহ অন্যান্য সক্ষমতা র্অজন করা হচ্ছে। সরকারের আইনশৃঙ্কষলা রক্ষাকারী বাহিনীও ফরেনসিক ল্যাক গেড়ো তোলার পাশাপাশি মোবাইল ট্র্যাকিংসহ অন্যান্য প্রযুক্তি অর্জন করছে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তায় কাজ করার জন্য মানবসম্পদ তৈরি করছে। টেলিকম বিভাগে ডিজিটাল নিরাপত্তা বহাল রাখার জন্য একটি প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে যার বাস্তবায়ন এখন শেষের দিকে। সেই সূত্র ধরেই গত ২৯ জুন ১৯ ঢাকার শিল্পকলা একাডেমীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০ বছর পূর্তিতে তারুণ্যের ভাবনা শীর্ষক এক আলোচনা সভায় আমি মন্তব্য করেছিলাম যে, সামনের সেপ্টেম্বর নাগাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরাজ করা খারাপ উপাত্ত নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা সরকার অর্জন করবে। এরপর দেশের একাধিক টিভি চ্যানেলে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও করেছি। দেশের সাধারণ মানুষ তাতে দারুণভাবে খুশি হয়েছে। তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করার সময় না বুঝে যেমন কেউ কেউ এর অপব্যাখ্যা করে বাক স্বাধনিতা হরণের জুজুর ভয়ের কথা বলেছে তেমনি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতাও কারও কারও জন্য আলোচনার বিষয় হয়েছে। অথচ তারা উপলব্ধি করছেনা যে, সোসাল মিডিয়াকে ব্যক্তি-পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যতো নোংরাভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তা আমাদের জন্যতো আতঙ্কের বিষয় বটেই এমনকি বিশ্বের উন্নত বা পশ্চিমা গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী দেশগুলোর জন্যও আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এখন তারা আইন করছে-শাস্তি দিচ্ছে। ফেসবুক মুখোমুখী হচ্ছে জরিমানার ও তীব্র সমালোচনার।

এরই মাঝে আমরা ২২ হাজার পর্নো সাইট ও কয়েক হাজার জুয়ার সাইটসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের খারাপ উপাত্ত সরাতে সক্ষম হই তখনও সাধারণ মানুষ সরকারকে অভিনন্দিত করেছে। এই প্রচেষ্টাটি আমাদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় কেননা আমরা ছোট শিশুসহ দেশের সকল নাগরিককে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে আহ্বান জানাই এবং ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌছানোর আন্দোলন করছি। মেক্সিকো যেমন করে ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছে তেমন করে সম্ভব হলে আমরা একে ষষ্ঠ মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চাই। আর সেজন্যই আমাদেরকে অবশ্যই ইন্টারনেটকে নিরাপদ করতে হবে। আমার অভিজ্ঞতা বলে ওয়েবসাইটগুলো কোন দেশ তার নিজের দেশে নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা সহজেই ইন্টারনেটে গেটওয়ে ব্যবহার করে করতে পারে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত মন্তব্য, ভিডি, অডিও এবং অন্যান্য উপাত্ত সুনির্দিষ্টভাবে সরানো কঠিনতম কাজ। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব পুরাটা বন্ধ করা বিরুপ প্রতিক্রিয়া ফেলে এবং প্লাটফরমগুলো ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় বিধায় এসব সাইট উন্মুক্ত রেখে নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জিং। অথচ এটি যে কতো জরুরি সেটি কেবল আমরা নই পশ্চিমা গণতন্ত্রের দেশগুলোও এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। আমরা যখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি করি তখন একদল পন্ডিত আইনটি নিয়ে নানা কথা বলেছেন। ওরা ইঙ্গিত করেছে যে সেই আইনের ফলে বাক-ব্যক্তি ও গণ মাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হবে। কিন্তু তাদের সেই আশঙ্কা সত্যে পরিণত হয়নি। নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের একটি দৃষ্টান্তও নেই। অন্যদিকে এখন তাদের উচিত পশ্চিমা দেশগুলো সোসাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে তার দিকে তাকানো। বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে বিশ্বের খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু দেশের ব্যবস্থাগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিবিসির প্রথম মন্তব্য, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এখন চেষ্টা চলছে কিভাবে বড় বড় সোশ্যাল মিডিযা কোম্পানিগুলোকে নিযন্ত্রণে আনা যায়, তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বেপরোযা কাজকর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যায়।” আমরা যখন এসব কথা বলেছি তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা আমেরিকার রাষ্ট্রদূতরা আমাদেরকে জ্ঞান দিতে এসেছিলেন। বিবিসির খবরটির সূত্র: https://www.bbc.com/bengali/news-47868637

বিবিসির খবরে শুরুতে বলা হয় যে, ফেসবুক-ইউটিউব নাকি নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে তাদের প্লাটফরমে প্রকাশিত উপাত্ত। “ফেসবুক বা ইউটিউবের মতো সোশ্যাল নেটওযার্কিং প্ল্যাটফর্মগুলো এতদিন ধরে দাবি করে এসেছে যে, তাদের প্রতিষ্ঠানে এক ধরণের ব্যবস্থা চালু আছে, যেখানে তারা নিজেরাই আপত্তিকর বিষযবস্তু সরিয়ে নেন।

ইউটিউব দাবি করে, তাদের সাইটে যখন কোন আপত্তিকর কনটেন্ট দেয়া হয, তারা সেটি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।২০১৮ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইউটিউব প্রায় ৭৮ লাখ ভিডিও তাদের সাইট থেকে অপসারণ করেছে। এর মধ্যে ৮১ শতাংশই সরানো হযেেছ যন্ত্রের মাধ্যমে স্বযংক্রিয়ভাবে। এই ভিডিওগুলোর তিন চতুর্থাংশই কেউ দেখার আগেই সরিয়ে ফেলা হয়।

শুধুমাত্র আপত্তিকর ভিডিও সরিয়ে নেয়ার জন্য সারা বিশ্বে ইউটিউব দশ হাজার লোক নিয়োগ করেছে। তাদের কাজ মনিটরিং করা এবং আপত্তিকর ভিডিও সরিয়ে নেয়া।

কিন্তু ফেসবুক নিয়ে আমাদের সংকটগুলো তাদের মাথাব্যথার কারণই হয়না। ফেসবুক, ইউিিটউব বা গুগলে ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়না। ফলে বেনামীতে ইচ্ছামতো যতো খুশি আইডি পেজ খোলা যায় এবং যথেচ্ছাচারভাবে তা ব্যহার করা যায়। ফেসবুক ব্যবহারকারী এতোই স্বাধীন যে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ছাড়া আর কেউ তার উপাত্ত বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনা। যেহেতু তাদের স্থানীয় মনিটিরং নাই, যেহেতু তাদের বাংলা মনিটির নাই এবং রোমান হরফে বাংলা লেখারও কোন মনিটরিং নাই সেহেতু সেগুলোর বিষয়ে ফেসবুককে রির্পোট করেই কোন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়না। তাদের একটা ঘোড়া রোগ আছে যার মাধ্যমে যে কোন বক্তব্যকে তারা বাক স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলে গন্য করে। ফলে আমাদের দেশের নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন দিব্যি ফেসবুক ব্যবহার করে লাইভ ভিডিও প্রচার করতে পারে। কদিন আগে আমরা হিজবুত তাহরীরকে এমন একটা সম্মেলন করতে দেখলাম। গত ১৮ সাল থেকে আমি নানাভাবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে এসবের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করেছি। একাধিক সভা করেছি। এমনকি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথেও বৈঠক করেছি-অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বটে-কিন্তু চিন্তাহীন থাকার কোন পথই এখনো নিশ্চিত হয়নি। খুব সঙ্গত কারণেই আমাদেরকে ভাবতে হচ্ছে যে ফেসবুকের পেছনে পেছনে ঘুরে কতোদিন আমরা অসহায়ের মতো হাতজোড় করে চলবো। বরং তার চাইতে আমাদের নিজেদেরকে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করতে হবে যাবে ফেসবুক যাই করুক বা যাই ভাবুব বাংলাদেশ ভূখ-কে নোংরামী, অপকর্ম এবং অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করতেই হবে। টেলিকম বিভাগ বিসয়টি ১৮ সালে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছিলো বলেই আজকে ইন্টারনেটের উপাত্তের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বর্পূণ পদক্ষেপ নিতে পেরেছে।

আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম যে পশ্চিমা দুনিয়া বোধহয় ফেসবুকের সাথে তাল মিলিয়ে চলবে এবং তারা যা করবে তাতেই সম্মতি দেবে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে অবস্থাটি আমূল বদলে গেছে। পশ্চিমা দেশগুলো কঠোর থেকে কঠোরতম আইন প্রনয়ন করছে। তাদেরকে সতর্ক করার পাশাপাশি জরিমানাও আরোপ করেছে। এমনকি তাদের ওপর করও বসানো হয়েছে। বাংলাদেশ ১৯ সালে ভ্যাট আইন বলবৎ করার ফলে তার জন্যও ফেসবুকে-ইউটিউবে প্রচারিত বিজ্ঞাপিত বিষয়গুলোকে ভ্যাটের আওতায় আনার আইনী বাধ্যবাধকতা দেখা দিয়েছে। ফলে ইচ্ছা করলেই বাংলাদেশ এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে সরকার চুপ করে বসে থাকতে পারেনা। আমি আশা করবো এরপর পশ্চিমা গণতন্ত্রের ধারকরাও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে ত্রাহি ত্রাহি চিৎকার করতে চাইবেনা। তাদের সবাইকেই বুঝতে হবে ডিজিটাল দুনিয়া যতো সম্প্রসারিত হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়গুলোও তো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। এখন সারা বিশ্বকে এক প্লাটফরমে দাড়িয়ে বিশ্ববাসীর জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা, ১২ জুলাই ১৯ ॥ লেখক তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক ॥

ই-মেইল : mustafajabbar@gmail.com,

ওয়েবপেজ : www.bijoyekushe.net, www.bijoydigital.com