• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ জিলকদ ১৪৪১

শিশুরা প্রোগ্রামার কেন হবে

মোস্তাফা জব্বার

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এর আগে আমরা দেশে শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার উদ্যোগ, আয়োজন এবং ১৯ সালেও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রশ্ন হচ্ছে কেন শিশুদের প্রোগ্রামার বানাতে হবে। আমরা স্মরণ করতে পারি যে, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীন হবার পর শেখ হাসিনার সরকার তথ্যপ্রযুক্তিতে যে নতুন জোয়ার আনেন তার অন্যতম একটি লক্ষ্য ছিল দেশে প্রোগ্রামারের সংখ্যা বাড়ানো। শেখ হাসিনা নিজে এক সময়ে বছরে ১০ হাজার প্রোগ্রামার বানানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনাচক্রে ২০০১ সালের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া জয়ী হয়ে শেখ হাসিনার সেই স্বপ্নকে আতুড় ঘরেই মেরে ফেলেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণার পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরে কম্পিউটার শিক্ষা তথা প্রোগ্রামিং শেখানোর আয়োজন করার ঘোষণা ছিল। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় আসার পর দেশে কম্পিউটার শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। কিন্তু একটি বড় ধরনের গলদ এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। আমি বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের মহাসচিব জনাব মুনির হাসানের উদ্ধৃতি থেকে এই বিষয়টি জানাতে পারি যে, আমাদের দেশে যারা কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করে তাদের মাঝে প্রোগ্রামার হবার প্রবণতা নেই বললেই চলে। জানা মতে, শতকরা মাত্র ৭ জন কম্পিউটার গ্র্যাজুয়েট ছেলে কম্পিউটার প্রোগ্রামার হয়। মেয়েদের অবস্থা আরও নাজুক। শতকরা মাত্র একজন মেয়ে প্রোগ্রামার হতে চায়। এ ভয়ঙ্কর অবস্থার একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে যে, প্রোগ্রামিং শেখাটিকে ওই বয়সে কঠিনতম মনে হয়। আমরা আরও লক্ষ্য করেছি যে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার এ দুর্বলতার জন্য কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ে ছেলেমেয়েরা তাদের নিজেদের ক্ষেত্রে চাকরি খুঁজে পায় না। কোন উদ্যোক্তা বিক্রয় বা বাজারজাতকরণের জন্য কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী খোঁজে না। আমাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে কম্পিউটার বিজ্ঞানের স্নাতকরা প্রোগ্রামিংয়ের বদলে অন্য দক্ষতাকে প্রাধান্য দেয়। ১৭ সালের আগস্ট মাসে ঢাকার ইউনাইটেড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে যা জানতে পারি তা ভয়াবহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা জানালেন যে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের ড্রপ আউটের হার শতকরা ৫৮ ভাগ। এ ড্রপ আউটটাও হয় মাত্র দুই সেমিস্টারের মাঝে। এসব ছাত্রছাত্রীরা ১/২ সেমিস্টার শেষ করেই বিবিএ বা এমন অন্য কোন বিষয়ে অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যায়। যারা কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে থেকে যায় তারাও যেভাবেই হোক প্রোগ্রামিং থেকে দূরে সরতে চায়। আজকের দুনিয়ার দিকে তাকিয়ে বা সামনের দুনিয়াটিকে কল্পনা করতে গিয়ে আমরা ভয়ঙ্করভাবে শঙ্কিত না হয়ে পারি না যে আমরা যোগ্যতাহীন মানবসম্পদ তৈরি করছি। দুনিয়ার তাবৎ মানুষ এটি অনুভব করে যে আগামী দিনের প্রযুক্তিতে বিদ্যমান কম্পিউটার জ্ঞানও কাজে লাগবে না। অথচ আমরা আমাদের পরের প্রজন্মকে সেই যোগ্যতা অর্জনে উৎসাহিতও করতে পারি না।

সবচেয়ে বড় যে কারণটি শিশুদের প্রোগ্রামার বানানোর উদ্যোগের পেছনে কাজ করে সেটি তাদের সবাইকে প্রোগ্রামার বানানোর জন্য নয়। আমি এটি মনে করি না যে তারা সবাই বড় হয়ে প্রোগ্রামার হবে। কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ব্যবসায়ী হবে, কেউ অংকন শিল্পী হবে বা এমন অনেক পেশায় প্রবেশ করতে তারা। খুব সহজেই এটা বলা যায় যে এখন থেকে যারা লেখাপড়া করছে তাদের ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবসহার করতে জানতেই হবে। তবে সে জন্যও প্রোগ্রামার হতে হবে না। কিন্তু শৈশব থেকে যে প্রোগ্রামিং জগতে আমরা তাদের প্রবেশ করাতে চাই সেটির ফলে তারা সৃজনশীল হবে, সমস্যা সমাধান করতে শিখবে, যৌক্তিক চিন্তা করতে শিখবে এবং সর্বোপরি প্রোগ্রামিংকে পেশা হিসেবে নিতে চাইলে এই জ্ঞানটুকু তার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

প্রোগ্রামিং ও কর্মসংস্থান : সাধারণভাবে দেশের শিক্ষিত মানুষদের বেকারত্বের চিত্রটিও সুখকর নয়। জানুয়ারি ১৬ সময়কালে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে দেশের বেকারত্বের যে চিত্র দেখানো হয়েছে সেটি এরকম:

“দেশে কর্মক্ষম ২৬ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বেকার। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ, নারী ১২ লাখ ৩০ হাজার। যা মোট শ্রমশক্তির সাড়ে ৪ শতাংশ। তিন বছর আগে বেকারের সংখ্যা ছিল ২৫ লাখ ৯০ হাজার। এক দশক আগে ছিল ২০ লাখ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী এ তথ্য পাওয়া গেছে।”

এই খবরেই বলা হয়েছে যে ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের দেয়া তথ্য সঠিক নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা শতকরা ১৪.২ ভাগ। শুধু তাই নয় প্রতি বছর নতুন করে ১৩ লাখ বেকার যোগ হচ্ছে।

অন্যদিকে একই খবরে বলা হয়, “আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের (আইএলও)-এর ‘বিশ্ব কর্মসংস্থান ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি-২০১৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে বেকারত্ব বৃদ্ধির হার ৪৩৩ শতাংশ। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৬ সাল শেষে মোট বেকার দ্বিগুণ হবে। সংস্থাটির মতে, বেকারত্ব বাড়ছে এমন ২০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান ১২তম। আবার লন্ডনের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) তথ্যমতে, বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের হার সবচেয়ে বেশি। প্রতি ১০০ জন স্নাতক ডিগ্রিধারীর মধ্যে ৪৭ জনই বেকার।”

প্রকৃত অবস্থা হলো এ হিসাব দিনে দিনে আরও জটিল হচ্ছে। ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে বিদ্যমান পেশাগুলো বিলুপ্ত হলে বেকারত্ব খুব স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের বড় উপায় হচ্ছে চতুর্থ বা পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের উপযোগী শিক্ষা প্রদান। বাস্তবতা হলো, শিক্ষিত বেকারদের দুর্ভাগ্য যে তারা একটি অচল শিক্ষাব্যবস্থার বলী। এই ব্যবস্থায় এমন সব বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে দেশে তো দূরের কথা দুনিয়াতেই যার কোন কর্মসংস্থান নেই। বস্তুত পক্ষে এই অবস্থা দিনে দিনে ভয়াবহ হচ্ছে। প্রচলিত শিক্ষা যে ধরনের দক্ষতা দিচ্ছে সেটি দিয়ে আগামী দিনে কোন ধরনের কাজের যোগ্য হওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে দুনিয়াজুড়ে রয়েছে প্রোগ্রামারদের বিপুল চাহিদা। পৃথিবীর সব উন্নত দেশ প্রোগ্রামার খুঁজে বেড়ায়। বাংলাদেশেও প্রোগ্রামারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা আমাদের সফটওয়্যারের কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামার পাই না।

আমরা খুব সংযত ভাবেই জানাতে চাই যে বিশ্বে প্রোগ্রামাররা কেবল চাহিদার শীর্ষে নয়, তারাই পায় সর্বোচ্চ বেতন।

আমি সেজন্য মনে করি ডিজিটাল দুনিয়াতে সেরা পেশাটির নাম প্রোগ্রামার। আমাদের কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়–য়ার সংখ্যা বাড়লেও প্রোগ্রামারের সংখ্যা একদমই নগণ্য। এক হিসেবে জানা গেছে যে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ে এমন ছাত্রদের শতকরা ৭ জন মাত্র প্রোগ্রামার হতে পারে। মেয়েদের অবস্থা আরও খারাপ। ওদের শতকরা মাত্র একজন প্রোগ্রামার হতে পারে। এ অবস্থার পরিবর্তন করার জন্য স্নাতক বা কলেজ স্তরে প্রোগ্রামিং শেখানোর উদ্যোগ নিলে হবে না। ওরা যদিও কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়তে চায়, তথাপি প্রোগ্রামিং এর প্রতি তাদের আগ্রহ জন্মে না।

শিশুদের প্রোগ্রামিং শেখানোর বিষয়টাকে আমরা একটি ডিজিটাল যুগের শিক্ষা বা তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলন হিসেবে নিয়েছি। এতে কোন অস্পষ্টতাও রাখতে চাই না আমরা। বরং আমরা চাই শৈশব থেকেই শিশুদের প্রোগ্রামিং সম্পর্কে ধারণা দেয়া হোক। তবে আমরা বড়দের প্রোগ্রামিং ভাষা নিয়ে শিশুদের মাথা ভারী করতে চাই না। স্ক্র্যাচ এমন একটি প্রোগ্রামিং ভাষা যা দিয়ে কোন কোড লিখতে হয় না এবং কেউ একে খেলা হিসেবেই নিতে পারে।

আমি মনে করি শিশুদের হাতে ছোট আকারের ল্যাপটপ/ট্যাব প্রদান করে ওদের সাধারণ লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রোগ্রামিং শেখার কাজটাও যুক্ত করা যেতে পারে।

এবার ভাবুনতো দুই কোটি বিদ্যমান শিশু এবং প্রতি বছরে ২৫ লাখ নতুন শিশু, তাদের সবার হাতে ডিজিটাল যন্ত্র, তাদের শিক্ষার ডিজিটাল কনটেন্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য ডিজিটাল ক্লাসরুম, শিক্ষার ব্যবস্থাপনার জন্য হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার মিলিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির বাজারটা কত বড়?

এর ফলাফলটাও ভাবুন-১০ বছর পরে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি এবং প্রোগ্রামিং জানা কত বিশাল একটি তরুণ প্রজন্ম আমরা পাবো। আসুন সেই স্বপ্ন পূরণে শিশুদেরতে প্রোগ্রামার বানাই।

কাজটিকে কেবল আলাপ-আলোচনার মাঝেই সীমিত রাখা সঠিক হবে না বলে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছি যাতে শিশুরা প্রোগ্রামার হিসেবে গড়ে ওঠতে পারে। বেসিসের সভাপতি হিসেবে আমি শুরুতেই বেসিসকে শিশুদের প্রোগ্রামার বানানোর জন্য কাজে লাগানো শুরু করলাম। ২৫ আগস্ট ১৭ শিশুদের প্রোগ্রামার বানানোর প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টার প্রথম সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বেসিস। তাতেই বলা হয় যে ২০১৮ সালের প্রথমার্ধে শিশু কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আয়োজিত হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি দেয়া হয়েছিল এ জন্য যে আমি সেদিন বেসিস কর্তৃক স্ক্যাচ প্রোগ্রামিং শেখানোর প্রথম প্রশিক্ষণ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেছিলাম আমি। বেসিস তার অঙ্গ সংগঠন বেসিস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (বিআইটিএম) সহায়তায় গত বছরের ২৫ আগস্ট ২০১৭, শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ বিআইটিএমের ৩০২ নাম্বার ল্যাবে শুধুমাত্র স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ‘স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং পরিচিতি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল। দিনব্যাপি সেই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিল, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে পরিচিত করা এবং তারা যাতে তাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে এই জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ চলে। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

এই প্রশিক্ষণের প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বিআইটিএম এর প্রশিক্ষক সিরাজুল মামুন। সহযোগী হিসেবে ছিলেন মেহনাজ শারমিন মোহনা, মায়া শারমিন ও ফৌজিয়া আকতার নিহা। এ আয়োজনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন ডিক্যাস্টালিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাবিলা ইনুন। প্রথম ব্যাচে বাংলাদেশ ডিজিটাল স্কুল সোসাইটির ৩০ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

বেসিসের এই উদ্যোগের বাইরেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্ক্র্যাচ শেখার আন্দোলন গড়ে তোলা হচ্ছে। অনেকেই শিশুদের নানা বিষয় নিয়ে কাজ করেন। তাদের গান শেখানো থেকে কারাতে শেখানো পর্যন্ত নানাবিধ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। আমি মনে করি প্রোগ্রামিং শেখানোর জন্যও প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠতে পারে। নিজে নিজে স্ক্র্যাচ শেখা মোটেই কঠিন নয়। ইন্টারনেটে এমআইটি ল্যাবের https://scratch.mit.edu/ ঠিকানায় গিয়ে স্ক্র্যাচ শেখার সব উপাত্তই পাওয়া যেতে পারে। আমি ২৯ আগস্ট ১৭ এই সাইটে গিয়ে ২ কোটি ৪২ লাখ ৭৫ হাজার ৭০৪টি স্ক্র্যাচ প্রকল্পের হিসাব পেয়েছিলাম। ৩০ অক্টোবর ১৮ সেখানে গিয়ে দেখলাম মোট ৪ কোটি ৪২ হাজার ৭৮৩ টি প্রকল্প সেখানে জমা হয়েছে। ১৬ নভেম্বর ১৮ সেখানে দেখলাম ৪ কোটি ৭ লাখ, ১৬ হাজার ৫১৮টি প্রকল্প রয়েছে। দুনিয়া জোড়া মানুষ এসব প্রকল্প শেয়ার করেছে। প্রতি মুহূর্তে এর পরিমাণ বাড়ছে। ফলে এমন জনপ্রিয়, সহজ ও সর্বজনগ্রাহ্য একটি প্রোগ্রামিং ভাষা শেখার জন্য প্রকৃতপক্ষে একটু উদ্যোগই দরকার।

তখনই মিরপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশন স্কুলকে কেন্দ্র করে আশেপাশের কয়েকটি স্কুলের শিশুদের স্ক্র্যাচ শেখা শুরু করা হয়। তবে এটি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয় সিআরআইয়ের মাধ্যমে।

গত ৩ জানুয়ারি ১৮ আমি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবার পর স্ক্র্যাচ শেখানোর জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ সিআরআইয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় সিআরআই দেশের ৬৪টি জেলার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে হাজার হাজার ছেলেমেয়েকে স্ক্র্যাচ শেখায়। এরপর জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরের স্তরে বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর ১৯

[লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাসের চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কিবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক

mustafajabbar@gmail.com