• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের কর্মময় জীবন অনুপ্রেরণার উৎস

মো. মুজিবুর রহমান

| ঢাকা , শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

১৫ বছর আগে ২০০৪ সালের ৭ মে মাটি ও মেহনতি মানুষের সংগ্রাম-আন্দোলনের পুরোধা আহসান উল্লাহ মাস্টার ঘাতকচক্রের ব্রাশফায়ারে শহীদ হন। তার জন্ম গাজীপুরের সাবেক পূবাইল ইউনিয়নের (বর্তমানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অধীনে) হায়দরাবাদ গ্রামে। জন্ম তারিখ ৯ নভেম্বর ১৯৫০ সাল। আজ ৯ নভেম্বর ২০১৯, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ৭০তম জন্মদিন। বেঁচে থাকলে তিনি আজ ৭০ বছরে পা রাখতেন।

দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি ছিল শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের অকৃত্রিম ভালোবাসা। এ মানুষটি কিংবদন্তির মতো সব মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় প্রজ্বলিত মশাল হয়ে জ্বলছে। তার পুঁজি ছিল এ দেশের মাটি ও মেহনতি মানুষ। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার আন্দোলন-সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, সমাজ ও জনগণের ইতিহাসের মধ্য থেকে উঠে আসা একজন সংগ্রামী মানুষ। তার সংগ্রাম ছিল খেটে খাওয়া মানুষের জন্য। শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি জনতার জন্য তিনি রাজনীতি করেছেন। সাধারণ মানুষকে আপন করে নেয়ার এক দুর্লভ গুণ তার মধ্যে ছিল। তিনি যেমন সাধারণ মানুষকে সহজে আপন করে নিতে পারতেন, তেমনি সাধারণ মানুষও তাকে আপন করে নিয়েছিল। সাধারণ মানুষের অন্তরের মণিকোঠায় তিনি আপন আসন করে নিতে পেরেছিলেন। সে জন্য তার প্রতি মানুষের তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ছিল অপরিমেয়। তার এ ভালোবাসা, সারাটা জীবন সৎ থাকা এবং অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চিন্তাভাবনার পেছনে তা রাজনৈতিক দর্শন পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আদর্শও কাজ করেছে। বিনম্র চরিত্রের এই অসামান্য রাজনীতিক কোন অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। অন্যদিকে ছাত্রজীবন থেকে তিনি সোচ্চার ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায়, সত্য প্রতিষ্ঠায় এবং সব প্রগতিশীল আন্দোলনে। এদিকে শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলনের পক্ষে তার অসাধারণ ভূমিকার জন্য শহীদ আহসান উল্লাহ সকলের অন্তর ছুঁয়ে আছে।

শহীদ আহসান উল্লাহ একজন শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতা জীবনের প্রথম দিকে তরুণ আহসান উল্লাহ মাস্টার শুধু যে শ্রমবিষয়ক ও শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তা নয় তাকে আমজনতার দরদী নেতার ভূমিকা পালন করতেও দেখা গেছে। সত্য সন্ধানের কঠিন সাধনা উপলব্ধি থেকে বলতে পারি শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ব্যক্তি-সত্তার মধ্যে একজন সমাজদরদী মহান মানুষের চরিত্র খুঁজে পাওয়া যায়। শ্রমিকদের অভাব অভিযোগ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেনদরবার করা এবং তাদের স্বার্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টায় কোনদিনই তাকে পিছ পা হতে দেখা যায়নি। ধীরে ধীরে মেহনতি মানুষ তাদের এই দরদী নেতার এমন অন্ধ-অনুসারী হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল যে, তার আহ্বানে দু’তিন ঘণ্টার মধ্যে হাজার হাজার লোকের সমাবেশ হওয়ার বিচিত্র দৃশ্য অবাক-বিস্ময়ে ঢাকা-টঙ্গী-গাজীপুরের সবাই বারবার প্রত্যক্ষ করেছে। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার তার অন্তরের দরদ দিয়ে আমজনতার ভালো-মন্দ খোঁজখবর নিতেন ও তাদের নিয়ে ভাবতেন বলেই তার কথায় মানুষ সাড়া না দিয়ে পারতেন না। আর এভাবেই তিনি শ্রমিক ও জনতার দরদী নেতা রূপে স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন।

সমাজের সব স্তরের মানুষের সঙ্গেই সমভাবে তিনি মিশতে পারতেন। গরিব-দুঃখীদেরই একজন হয়ে সাধারণ মানুষের সমাজেও তিনি অকৃত্রিমভাবে মেলামেশা করতে পারতেন। তাকে সবাই ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতেন। বিপন্ন অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য তার অন্তরে সঞ্চিত ছিল সীমাহীন সহানভূতি ও দরদ; এই জন্যই দেখা গেছে যে, গরিব-দুঃখীদের সহযোগিতার বেলায় তিনি অকৃত্রিম বন্ধু। শ্রম বিষয়ক আন্দোলনে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা হলে, সেই মামলার আইনী লড়াইয়ের জন্য আইনজীবী নিয়োগ ও মামলা পরিচালনার জন্য তহবিল গঠনসহ বহুবিধ কর্মযজ্ঞের সঙ্গে শহীদ আহসান উল্লাহমাস্টার পরিচিত হয়েছেন। ঢাকা-টঙ্গী-গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানের নির্যাতিত ও ভোগান্তির শিকার শ্রমিকদের জন্য মামলা বিষয়ক আইনি লড়াইয়ের জন্য ছুটে যেতেন তিনি নিজে। অসাধারণ বন্ধুপ্রীতি ও অনুগত জনের প্রতি গভীর সৌহার্দ্য ও অকৃত্রিম ভালোবাসা ছিল শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের অন্যতম গুণ। যাকে একবার তিনি বন্ধু বলে গ্রহণ করেছেন, তার জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে তিনি সর্বক্ষণ প্রস্তুত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য দেশের আপামর জনসাধারণের মধ্যে রাজনৈতিক চিন্তাধারার জীবন জোয়ার সৃষ্টি এবং সেই সঙ্গে তাকে সুসংহত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার পথে তিনি ছিলেন- একজন মাঠের দক্ষ কর্মী। তিনি ছিলেন একজন দেশভক্ত প্রেমিক এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা বিনির্মাণ ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচনে যতবার প্রার্থী হয়েছেন তিনি একটিবারের জন্য হারেননি। এটাই বাস্তবতা। জিতেছেন বিপুল ভোটে। জয় করে নিয়েছেন গণ-মানুষের হৃদয় ও অকৃত্রিম ভালোবাসা। তিনি ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত হন। ১৯৮৩ সালের পূবাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হবার পর থেকে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব শুরু করেন। ১৯৯২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার উপজেলা পদ্ধতি বিলোপ করে দেয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানদের নিয়ে আহসান উল্লাহ মাস্টার দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ জন্য তিনি জেল, জুলুম এবং নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি। উপজেলা বিলোপের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেন। তারই বিজয় আজ দেশে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের বাস্তব ফল হিসেবে বিরাজ করছে। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়ন, পেশাগত ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের হয়রানী বন্ধ করার দাবি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন প্রতিনিয়ত। দেশে যখন ত্রাস ও গ্রাসের রাজনীতির বলয় তৈরি হয়েছে তখনই শহীদ আহসান উল্লাহমাস্টারকে দেখা গিয়েছে টঙ্গীর রাজপথে এবং ঢাকার রাজপথে। তিনি ১৯৮৩ সাল, ১৯৮৪ সাল, ১৯৮৭ সাল, ১৯৮৮ সাল ও ১৯৯০ সাল, ১৯৯৫ সাল, ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পটভূমিতে শ্রমজীবী নেতা হিসেবে যে ভূমিকা রেখেছিলেন তা গর্ব করার মতো।

২০০১ সালে শ্রমিক-কর্মচারীদের নিকট রাষ্ট্রায়ত্ত ০৯টি বস্ত্র শিল্পের মালিকানা হস্তান্তরের মাধ্যমে মিলগুলো বেসরকারীকরণে যে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপনে যার অক্লান্ত পরিশ্রম বাস্তবে কাজে লেগেছে, তিনি হচ্ছেন শ্রমিকদের পরীক্ষিত নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার। শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের প্রশ্নে কোনদিন আপোষ করেননি। শ্রমিক অসন্তোষ যেখানে দেখা দিয়েছে, সেখানেই নিজে ছুটে গিয়েছেন। শ্রমিক অসন্তোষের সময় খেয়াল রেখেছেন শ্রমিক কেউ অসন্তোষকে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে নিজের ফয়দা হাসিল না করতে পারে। দর কষাকষির মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন করার নিরন্তর চেষ্টাকে তাকে সফল নেতায় পরিণত করেছে। প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে বন্ধ ও রুগ্ন কলকারাখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া, পাটসহ জাতীয শিল্প রক্ষা ও কৃষকদের স্বার্থে কাঁচা পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাসহ শ্রমিক-কৃষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করেছেন তিনি। তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা, নারী শ্রমিক স্বার্থ সম্বলিত দাবী বাস্তবায়ন ও বাস্তবতার সঙ্গে সংগতি রেখে মজুরি ও বেতন-ভাতা নির্ধারণ করার জন্য দেশের নীতিনির্ধারণী মহলের সচেতনতা বৃদ্ধি করার কাজে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গত শতকের আশির দশকে গঠিত শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার জন্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন। তিনি আই এল ও কনভেনশন ‘৮৭ ও ‘৯৮ এর ভিত্তিতে শ্রম আইন সংশোধনের দাবি করেছেন।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার যেমন ছিলেন শিক্ষক আবার ছিলেন শিক্ষকদের নেতা। শিক্ষকদের পেশাগত দাবির সমর্থনে রাজপথে ছিলেন তিনি। টঙ্গী-গাজীপুরে বেসরকারি অনেক শিক্ষকের মান্থলি পে অর্ডার (এমপিও) ভুক্ত করার ক্ষেত্রে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন।

শুধু মানুষের ভালোবাসা ছিল শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের সঞ্চয়। আবার ছিল না বৈভব-বিত্ত। এমনি অবস্থায় রুখে দাঁড়িয়েছেন সমাজের যত অন্যায়-অবিচারের বিপক্ষে তিনি সর্বদা। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে আপস করেননি যে ব্যক্তিটি, যিনি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো একজন মানুষ ও রাজনীতিবিদ। সেই ব্যক্তি প্রাণ হারালেন ঘাতকচক্রের হাতে। সেবার দ্বারা ও মহৎ কর্মের মাধ্যমে আলোর প্রদীপ হাতে নিয়ে যে মানুষটি অবদান রেখেছিলেন সংগ্রাম-আন্দোলনে, সে মানুষটি আজ চিরনিদ্রায় শায়িত। শহীদ আহসান উল্লাহমাস্টার প্রমাণ করেছেন মানুষকে ভালোবাসলে, তাদের জন্য কাজ করলে ও জীবন উৎসর্গ করলে মানুষ ভালোবাসায় তার প্রতিদান দেয়।

একজন মানুষ আহসান উল্লাহ মাস্টারের অনুপস্থিতি একটি পরিবারকে যতটা রিক্ত করেছে, তার চেয়ে আমাদের দৃষ্টিতে অনেক বেশি রিক্ত ও অসহায় করে ফেলেছে এ সম্ভাবনাময় সমাজকে। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারকে মানুষ ভক্তি করত, তিনিও মানুষকে ভক্তি করতেন। এ জন্যই শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার ছিলেন সবার আপনজন। স্বাতন্ত্র্যে ও বৈশিষ্ট্যে আর দশজন থেকে তাকে পৃথক করা যায় এবং তিনি দীপ্যমান হয়ে উঠেন জ্যোতির্ময় সূর্যের মতো। সবার প্রিয় শহীদ আহসান উল্লাহমাস্টার ছিলেন সবস্তরের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনগণমন অধিনায়ক। দেশ ও মানুষের জন্য তিনি কাজ করেছেন এবং জীবন উৎসর্গ করেছেন। শহীদ আহসান উল্লাহমাস্টার বহুমুখী প্রতিভা ও যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। এ রকম ব্যক্তিকে বাংলার মাটিতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ২০০৪ সালের ৭ মে, শুক্রবার। দেশ জাতি হারায় জনগণমননন্দিত অধিনায়ককে, যিনি ছিলেন সহস্র তরুণের আদর্শ, যিনি ছিলেন জনকল্যাণমুখী চিন্তাধারার একজন রাজনীতিবিদ ও একজন মানুষ গড়ার কারিগর। বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ মাস্টার একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় মরেননি; যুদ্ধ করেন দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে - সেই পাকিস্তানি বাহিনী তাকে হত্যা করতে পারেনি। তাকে হত্যা করে স্বাধীন এ দেশের মাটিতে ঘাতকচক্র।

সমাজকে বড় করে দেখতে হলে মানুষকে বড় করে দেখতে হবে আর সেই মানুষই বড় সম্মান করে আহসান উল্লাহকে তার নামের সঙ্গে একটি বিশেষণ জুড়ে দিয়েছিল ‘মাস্টার’। এমনকি এখন তা তার নামের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘আহসান উল্লাহ মাস্টার।’ তার পেশাপরিচয় ও শিক্ষকতার আদর্শই তার সমগ্র জীবনাচরণের অঙ্কুর ও শেকড়কে ধারণ করেছিল। তার সব মানবিক গুণ, ধ্যান-পবিত্রতা, কর্তব্য-পরায়ণতা, দৃষ্টিভঙ্গির উদারতা, সাহসিকতা ও ন্যায়ের পাশে দাঁড়ানোর সমুদয় সত্যনিষ্ঠায় যর্থাথই হয়ে উঠেছিল তার পরিচয় এবং সম্মানসূচক বিশেষণ। আজন্ম শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার লোভ ও লালসার ঊর্ধ্বে থেকে গণমানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। মেহনতি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। তার সংগ্রামী মনন ও আন্তরিক কর্মনিষ্ঠা ইতিহাসের উজ্জ্বলতায় বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের জীবন সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি বেঁচে থাকবেন তার কর্মে ও আদর্শে সমুজ্জ্বল হয়ে। আর সে কারণেই দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারণ করি তিনি ছিলেন একজন সংগ্রামী মানুষ। তার রেখে যাওয়া হাজার হাজার শিক্ষার্থীর অভিমতকে ধার করে বলতে চাই- যেমন ছিলেন তিনি আপন, তেমনি ছিলেন শ্রদ্ধেয়। আবার কর্মময় জীবন বিশ্লেষণে বলতে হচ্ছে যে তিনি হয়েছিলেন খেটে খাওয়া মানুষের অনিবার্য নেতা। আজকের জন্মদিনে সেই নন্দিত সংগ্রামী মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।