• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

শবেকদরে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বরকতময় আদেশ : ‘ইকরা’

এসএম খায়রুল বাসার

| ঢাকা , বুধবার, ২০ মে ২০২০

মুসলমানদের জীবনে সর্বশ্রেষ্ঠ মহিমান্বিত রজনী হচ্ছে লাইলাতুল কদর বা শবেকদর। অতি পবিত্র এ রজনী সম্পর্কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মহাপবিত্র আল-কোরআনে বলেছেন, ‘লাইলাতুল কদরি খয়রুম মিন আল ফি শাহরিন।’ অর্থাৎ লাইলাতুল কদরের রজনী হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এখানে কত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তারপরও যদি একে কমপক্ষে এক হাজার মাস ধরা হয়, তাহলে হিসাব করলে দেখা যায় (১০০০স্ট ১২) = ৮৩.৩৩ অর্থাৎ ৮৩ বছর ৩ মাস থেকেও উত্তম এ বরকতময় রজনী। অথচ ৮৩-৮৪ বছরের হায়াত অনেকের ভাগ্যেই জোটে না। হিসাব করলে দেখা যাবে, সৌভাগ্যক্রমে ৮৪ বছরও যদি বাঁচি এবং আমরা যারা সাধারণ মুসলমান নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, তারা প্রতি ওয়াক্ত নামাজের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট সময় মাত্র ব্যয় করি (অবশ্য অধিক তাকওয়াবান, পরহেজগার আল্লাহ প্রেমিকদের ইবাদতের সময়ের ব্যাপ্তির কথা আলাদা)। সাধারণ মুসলমানেরা ১৫ মিনিট হিসাবে দৈনিক মাত্র ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় ইবাদতে কাটান। এ হিসাবে সার্বসাকুল্যে দেখা যাবে ৮৪ বছরের জীবদ্দশায় একজন সাধারণ মুসলমান মাত্র ৪ থেকে সাড়ে ৪ বছর ইবাদতে কাটান। অথচ শুধু শবেকদরের এক রাতে ইবাদতের মাধ্যমে একাধারে ৮৩ বছর ৩ মাসের চেয়ে বেশি ইবাদতের ফজিলত পাওয়া যায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বনবী (সা.)-এর উম্মতের প্রতি আল্লাহর যত করুণা ও অনুগ্রহ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত হচ্ছে বান্দাদের জন্য এমন একটি মহা রজনী বরাদ্দ দেয়া।

শবেকদর এত মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার বহুবিধ কারণ আছে। তারমধ্যে একটি হচ্ছে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টার নিতান্তই ইচ্ছা। ‘কুন ফা ইয়াকুন’ অর্থাৎ মহাপরাক্রমশালী বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই হয়। যেমন, তিনি ইচ্ছা করেছেন তাই ‘তিনি (আল্লাহ) পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছানা এবং আকাশকে ছাদস্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেন তোমাদের খাদ্য।’ (সূরা বাকারা : ২২) ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ বীজ ও আঁটি থেকে আঙ্গুর সৃষ্টিকারী, তিনি জীবিতকে মৃত করে বের করেন এবং মৃতকে জীবিত করে বের করেন।‘ (সূরা আনয়াম-৯৫) ‘তিনিই সমুদ্রকে অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা তা হতে আহরণ করতে পার তাজা মৎস্য। এবং আহরণ করতে পার রত্নাবলী যা তোমরা ভূষণরূপে পরিধান কর। এবং তোমরা দেখতে পাও এর বুক চিরে নৌ চলাচল করে এবং তা এজন্য যে তোমরা যেন তার অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পার।’ (সূরা নাহল : ১৪) ‘এবং তিনি (আল্লাহ) পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয়।’ (সূরা নাহল : ১৫)

এছাড়া মানুষের অঙ্গসৌষ্ঠব, আলো, বাতাস, পানি, তাপ, পশু-পাখি, ফুল-ফল, ঋতু বৈচিত্র্য, গাছপালা, বন-জঙ্গল, খনিজ সম্পদ ইত্যাদি সব কিছুই আল্লাহ নিজের ইচ্ছানুযায়ী সৃষ্টি করেছেন নিজ গুণের মাধুরী মিশিয়ে-বান্দার কল্যাণের জন্য। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তবে ভিন্নভাবেও এসব সৃষ্টি করতে পারতেন, যেমন অন্য গ্রহ-উপগ্রহের পরিবেশ-প্রকৃতি সৃষ্টি করেছেন। এভাবে পাপে জর্জরিত মানব জাতির পাপ মোচনের জন্য আল্লাহ তার ইচ্ছার বহির্প্রকাশ ঘটিয়েছেন শবেকদরের রজনীর মাধ্যমে। তবে আল্লাহ শবেকদরের রাত সুনির্দিষ্ট করে দেননি। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের শেষ ১০ দিনের যে কোন বিজোড় রাত্রিতে শবেকদর তালাশ কর।’ কারণ একটি বিষয় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে করতে পারলেও তিনি তা করেন না। আল্লাহ একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় সব কাজ করেন। যেমন তিনি ইচ্ছা করলেই একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু মায়ের গর্ভ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিষ্ঠ করাতে পারেন, কিন্তু তিনি তা করান না। তিনি একটি যৌক্তিক ক্রমবিকাশের মাধ্যমে ১০ মাস ১০ দিন মায়ের জঠরে রেখে মানব শিশুকে পৃথিবীতে আনেন। এটা করেন মানবজাতির জ্ঞান অর্জনের সুযোগ দেয়ার জন্য। তেমনি শবেকদরকে নির্দিষ্ট করে না দেয়ার কারণ, প্রত্যেক মূল্যবান বস্তু হাসিল করা যেমন কষ্টসাধ্য ব্যাপার, তেমনি আল্লাহর উদ্দেশ্য হলো এ মহামূল্যবান রাতের অনুসন্ধানে বান্দাগণ সাধনা করুক, কষ্ট স্বীকার করুক। কথাটি বলার উদ্দেশ্য- আল্লাহ মহাজ্ঞানী নামের প্রমাণ বৈজ্ঞানিকভাবেই একটি নির্দিষ্ট পন্থায় প্রকাশ করতে পছন্দ করেন। তিনি যে কোন কাজ শুধু বান্দার দোয়া কবুলের মাধ্যমে করতে পারেন। কিন্তু করেন না। যদি করতেনই তাহলে তার পিয়ারা দোস্ত মহানবী (সা.) কে দিয়ে জীবনব্যাপী অমানুষিক কষ্ট-সাধনা-ক্রন্দন করাতেন না। তাই আমরা যদি মহানবী (সা.) প্রদর্শিত পথে জ্ঞানার্জন থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজ করি তাহলেই আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করবেন এবং সব কাজে সফলতা দেবেন।

জ্ঞানের অভাবে সঠিক পন্থা অবলম্বন না করার কারণে দেখা যায় আমরা মুসলমানেরা প্রতি বছর কদরের রাতে ইবাদত বন্দেগি করি, আল্লাহর কাছে গোনাহ থেকে মুক্তি চাই। নিজেদের কল্যাণ, বরকত ও মুসলিম জাতিকে হেফাজতের জন্য ক্রন্দন করি। কিন্তু এ রাত থেকে যে কল্যাণ পাওয়ার কথা তা পাই না। ফিলিস্তিনি, রোহিঙ্গা, উইঘুরসহ বিশ্বের অন্যান্য এলাকার নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করি, অথচ তাদের দুঃখের দিন ফুরায় না। কারণ একটাই- জ্ঞানের অভাব, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার অভাব, গবেষণার অভাব, মেধার অভাব ফলশ্রুতিতে সৃষ্টিশীলতার অভাব, হেকমতের অভাব এবং দক্ষ নেতৃত্বের অভাব। তাইতো কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যাকে হিকমত দেয়া হয়েছে, তাকে দেয়া হয়েছে বিপুল কল্যাণ ও সমৃদ্ধি’ (আল-বাকারাহ : ২৬)। মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ কোরআনের জ্ঞান-গবেষণা এবং ব্যক্তি, সমাজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার বাস্তব-সফল প্রয়োগ ছাড়া ছাড়া শুধু দোয়া করলেই আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে না, নির্যাতিত মুসলিম জাতির নিষ্কৃতি মিলবে না।

তাই শবেকদর বরকতময় হওয়ার আর একটি বিশেয় কারণ হলো- এই রাতে মহান আল্লাহ বিশ্ব মানবতার মুক্তির পথ বাতলে দেয়ার জন্য বিশ্ব জগতের শ্রেষ্ঠ কিতাব, কালামে পাক কোরআনুল কারিম নাজিল করেছেন। পবিত্র কোরআন যদি কদরের রাত ব্যতীত অন্য কোন রাতে নাজিল হতো, তাহলে ওই রাতেরই গুরুত্ব ও ফজিলত বেশি হতো। এ কোরআন সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেছেন, ‘জলিকাল কিতাবু লারইবা ফিহ্।’ অর্থাৎ এই সেই কিতাব যাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই। পৃথিবীর কোন গ্রন্থ রচয়িতা আজও এমন ঘোষণা দিতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। আর এ কোরআনের প্রথম বাণী ছিল ‘ইকরা’ অর্থাৎ ‘পড়’। কোরআনের ব্যাখ্যাকারী ও বাস্তবে প্রয়োগকারী বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক নর-নারীর ওপর বিদ্যার্জন করা ফরজ।’ রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত ও প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে বিদ্যার্জনে ব্যাপৃত থাকে এবং সে অবস্থায় তার মৃত্যু সমাগত হয়, জান্নাতে তার এবং নবীদের মধ্যে শুধু একটি ধাপই ব্যবধান থাকবে’ (দারিমি)। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ইমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞানদান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের উচ্চমর্যাদা দেবেন। আর যা কিছু তোমরা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে পূর্ণ অবহিত’ (মুজাদালাহ : ১১)। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এরূপ অসংখ্য আয়াত ও হাদিস বিদ্যমান, যা নিরন্তর শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার প্রতি দিকনির্দেশ করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমরা মুসলমান জাতি কোরআনের প্রথম নির্দেশ থেকে আজ যোজন-যোজন দূরে। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, গবেষণায় আমরা পৃথিবীর অন্যান্য জাতির তুলনায় ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছি। ফলে বিশ্বে নেতৃত্ব দেবার পরিবর্তে আমরা শোষিত হচ্ছি। নিত্য নাম লেখাচ্ছি নিপিড়ীত-বঞ্চিতের তালিকায়। অথচ এমন হওয়ার কথা ছিল না। এর একমাত্র কারণ হলো যে মহাগ্রন্থ কোরআন নাজিলের কারণে শবেকদর এত মহিমান্বিত হলো, সেই কোরআনের নির্দেশানুযায়ী কর্মসম্পাদনে মুসলিম জাতি পুরোপুরি ব্যর্থ।

প্রতি বছর নিজেদের পাপ মোচনের জন্য এ রাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করি। ক্ষমা ভিক্ষা করা অবশ্যই জরুরি এবং আল্লার কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয়। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে বলা হয়, ‘যে ব্যক্তি মহিমান্বিত শবেকদরে ইমান সহকারে ও সওয়াবের নিয়্যতে ইবাদত করার জন্য দণ্ডায়মান হয় তার বিগত জীবনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ কিন্তু জ্ঞানার্জন না করলে কোরআনের মাধ্যমে আল্লাহর প্রথম আদেশ অমান্য করার জন্য যে পাপ হয় সে বিষয়ে আমরা মোটেই ওয়াকিবহাল নয়। ফলে জ্ঞানার্জন না করার পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা কখনো দোয়া করি না। দোয়া তো তখনই কবুল হয় যখন আল্লাহর কাছে পূর্বেকৃত গোনাহর জন্য তওবা পূর্বক ভবিষ্যতে ওই গুনাহ্ না করার অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়া যায়। আমরা দুর্ভাগা, জ্ঞানের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া মুসলমান জাতি প্রতি কদরে রাত্রি জাগরণ করে গুনাহ মাফ চাই অথচ জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় ব্রতী হই না। সারা বিশ্বে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য বিশ্বমানের জ্ঞান-বিজ্ঞান-হেকমত প্রাপ্তির জন্য দোয়া করি না। ‘রাব্বি জিদনি ইলমা’ বলে ভিক্ষা মাগিনা প্রভুর দরবারে। এজন্য দেখা যায় বিশ্বের ১৯০ কোটি মুসলিম জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশই কিছু পড়তে ও লিখতে পারে না। এ ব্যাপক সংখ্যক নিরক্ষর জনগণ থাকা সত্ত্বেও মুসলিম প্রধান দেশগুলো তাদের জাতীয় উৎপাদনের ৪ শতাংশেরও কম খরচ করে শিক্ষা-দীক্ষার পেছনে।

তাই এ রাতের অন্যতম শিক্ষণীয় বিষয় হওয়া উচিত কোরআনের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বেশি বেশি আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণা করা, নিজেদেরকে বিশ্ব নেতৃত্বের উপযোগী করা।

শবেকদরের রাতে ‘ইকরা’ শব্দের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারলে চাঁদে আমেরিকার পতাকা না উড়ে উড়ত মুসলমান জাতির বিজয়ের পতাকা। করোনা মহামারীর এই মহাসংকটকালে বিশ্বের সাড়ে সাতশ’ মানুষ চেয়ে থাকত মুসলিম বিজ্ঞানীদের গবেষণার ওপর, প্রতিরোধক- প্রতিষেধক আবিষ্কারের উপর। যদিও করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টারত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থায় কিছু মুসলিম বিজ্ঞানীও কাজ করছেন। বিভিন্ন মুসলিম দেশ এ খাতে অর্থ বরাদ্দও দিয়েছেন। অনেক কাজ সমালোচনার যোগ্য সৌদি সরকার টিকা ও প্রতিষেধক উদ্ভাবন জোটকে ১৫ কোটি, মহামারী প্রতিরোধে প্রস্তুতি ও উদ্ভাবন জোটকে ১৫ কোটি, বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং কর্মসূচিকে ২০ কোটি ডলার অর্থাৎ মোট ৫০ কোটি ডলার দান করেছে।

মোটকথা পবিত্র গ্রন্থ আল-কোরআনে আল্লাহর প্রথম আদেশ ‘ইকরা’ অর্থাৎ ‘পড়’- এর ওপর যদি মুসলিম জাতি আমল করত, তাহলে মুসলিম জাতি শির উঁচু করে, গর্বে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত বিশ্বে। বিশ্ব হতো আরও উপকৃত। মুসলিম জাতি নিষ্পেষিত না হয়ে পৃথিবীর ভুখা-নাঙ্গা মজলুম জনতার মুক্তির কাণ্ডারি হতে পারত। যে কোরআন অর্থ না বুঝেও অবলীলায় মুখস্ত রাখা যায়, সেই আধ্যাত্মময়, মাহাত্ম্যপূর্ণ, বরকতময় কোরাআনের শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় আত্মনিয়োগ করে ধরার শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষের মুক্তির চেষ্টাই হোক কদর রজনীর অঙ্গীকার।

[লেখক : অধ্যক্ষ ]

kbasher74@gmail.com