• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মহররম ১৪৪১

বাংলার শিশুরাও হচ্ছে প্রোগ্রামার

মোস্তাফা জব্বার

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কয়েক দিন আগে প্রোগ্রামিং বিষয়ে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুকের একটি মন্তব্য আমাদের দেশের পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। মন্তব্যটি এরকমÑ স্কুলেই কোডিং শিখানো উচিত। স্কুলেই কোডিং শেখা গেলে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে চার বছরের ডিগ্রি নেয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

খবর অনুসারে সম্প্রতি ১৬ বছর বয়সী লিয়াম রোজেন ফেল্ড অ্যাপলের কাছ থেকে বৃত্তি পেয়েছেন। বৃত্তি পাওয়ার ফলে অ্যাপলের আসন্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ডেভেলপার সম্মেলনে (ডাবলুডাবলুডিসি) অংশ নেয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন তিনি।

বৃত্তি পাওয়া সেই লিয়ামের উদাহরণ দিয়ে টিম কুক বলেন, ছোট বয়সে শেখা কোডিং চার বছরের ডিগ্রির চেয়ে ভালো ফল দিতে পারে। কোডিংয়ে পারদর্শী হতে চার বছরের ডিগ্রির প্রয়োজন নেই।

তিনি মনে করেন স্নাতক করাটা প্রচলিত চিন্তা। হাই স্কুলেই কোডিং শিখালে লিয়ামের মতো শিক্ষার্থীদের তৈরি করা অ্যাপ আমরা অ্যাপ স্টোরেই পাব।

খবরটির সঙ্গে যুক্ত তথ্য হলো অ্যাপল ছোটদের প্রোগ্রামিং শেখার জন্য সুইফট নামের একটি প্রোগ্রামিং ভাষাও প্রকাশ করেছে। সুইফট ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়। এটি ওপেনসোর্স প্রোগ্রামিং ভাষা এবং এখন পর্যন্ত অ্যাপল ও লিনাক্স এ এটি কাজ করে। অ্যাপল এর প্রধান নির্বাহি টিম কুক ১৯ সালে এ কথা বললেও বিশেষত উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থাই গড়ে ওঠেছে শিশুদের প্রোগ্রামার বানানোর লক্ষ্যকে চিন্তায় রেখে। ব্যতিক্রম কেবল আমরা। শিশুদের প্রোগ্রামার বানানোতো দূরের কথা সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাতেও পরিবর্তন আনতে চাই না আমরা। অতি কষ্টে আমরা ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তি নামক একটি বিষয় পাঠ্য করলেও তার সংকট নিরসন করা এখনও হয়ে ওঠেনি। এমনকি শিশুদের জন্য যেটি চেয়েছিলাম সেটির পূর্ণরূপ এখনও দেখতে পাইনি। তবে সান্ত¡না হলো যাত্রাটা শুরু করা গেছে। আমাদের শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি কতো অনুভব করেন সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হলেও দেশের সনাতন শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছুটা হলেও পরিবর্তন যে এসেছে সেটি বলার রাখেনা। দেশের প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর সম্প্রসারিত হচ্ছে। ডিজিটাল ক্লাসরুমের পাশাপাশি শৈশব থেকে কম্পিউটার, প্রোগ্রামিং শেখার আয়োজন চলছে। দেশে দুটি শিশু কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন শেষ হয়েছে। স্টেমন নামের একটি জাপানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। ওরা শিশুদের প্রোগ্রামিং ও রোবোটিক্স শেখায়।

টানেলের শেষপ্রান্তে আলো : সেই ৯৯ সাল থেকে আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল স্থাপন করে শিশুদেরকে কম্পিউটারের সঙ্গে, প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে পরিচিত করার চেষ্টা করে আসছিলাম। কিন্তু পারছিলাম না। নিজে ৩২টি আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল গড়ে তোলে তাতে শিশুদেরকে কম্পিউটার ব্যবহার করানো শেখাতে পারলেও ২০১১ সালের আগে সেই স্কুলগুলোর ক্লাশরুম ডিজিটাল করা যায়নি। প্রোগ্রামিং শেখানো তো কল্পনারও বাইরে ছিল। অবশেষে ২০১৮ সালে একটি অসাধারণ কাজের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করা গেলো। সেবারই আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুদের প্রোগ্রামার বানানোর জাতীয় পর্যায়ের মহৎ কর্মযজ্ঞের সূচনা হতে পারল। গত ৩০ অক্টোবর ১৮ তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বিসিসি মিলনায়তনে প্রথম জাতীয় শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সিআরআইর সহযোগিতায় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত শিশু কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটিতে আমি ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক, সচিব (সাবেক) জুয়েনা আজিজ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতীম দে, শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার স্পন্সরদের প্রতিনিধি, সিআরআইর প্রতিনিধি, পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশু-কিশোর, তাদের বাবা-মা ও শিক্ষক শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন। দেশব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা বস্তুত আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, গাছের গোড়ায় পানি ঢালাটাই সঠিক পন্থা। প্রোগ্রামার বানানোর প্রচলিত ধারনায় বিশ্ববিদ্যালয় বা স্নাতক স্তরে প্রোগ্রামিং শেখানোর চাইতে শৈশব থেকে প্রোগ্রামিং শেখানোটাই শ্রেষ্ঠতম উপায়। আমি আনন্দিত যে ১৮ সালেই বরফ গলানোর কাজটা আমরা করতে পেরেছি।

জাতীয় শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০১৯ : ২০১৯ সালেও আয়োজিত হতে যাচ্ছে জাতীয় শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। সারা দেশে ৬৪ জেলায় ২০০টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে জেলাপর্যায়ে জুনিয়র স্ক্র্যাচ, স্ক্র্যাচ ও পাইথন সিনিয়র-জুনিয়র এই চার বিভাগে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে জেলা পর্যায়ের ২০০টি ল্যাবে অনুষ্ঠিত হয় শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ। প্রত্যেকটি ল্যাবে ওই অঞ্চলের সব স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ নিতে পেরেছে। প্রতিটি ল্যাবে গড়ে ৭৫ জন করে দেশব্যাপী প্রায় ১৫০০০ শিক্ষার্থীকে এই প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়াও কিছু প্রশিক্ষক তাদের নিজেদের উদ্যোগে প্রতিযোগীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে আইসিটি শিক্ষক এবং ল্যাব প্রশিক্ষক তার ল্যাবের সেরা প্রতিযোগীদের বাছাই করেন। প্রতি ল্যাব থেকে স্ক্র্যাচ জুনিয়রের ৩ জনের টিম, স্ক্র্যাচের জন্য ৩ জন করে টিম গঠন করা হয়, ৬টি টিমে মোট ১৮ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। পাইথনের জন্য প্রতিটি ল্যাব থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী একক ভাবে অংশ নেয়। প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত শিক্ষার্থীদের নিয়ে জেলা পর্যায়ে ক্যাম্প ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি জেলা থেকে বিজয়ী স্ক্র্যাচ টিম এবং বিজয়ী পাইথন প্রতিযোগীরা জাতীয় ক্যাম্পে যোগ দিয়ে ফাইনাল প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। ৯-১১ স্ক্র্যাচ ও ১২-১৪ পাইথনের জাতীয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ : ২২ ও ২৩ মে ১৯ রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে দুই দিনব্যাপী পাইথন, স্ক্র্যাচ জুনিয়র ও স্ক্র্যাচের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছে নির্বাচিত ল্যাবসমূহের আইসিটি শিক্ষক, ইয়ং বাংলা থেকে নির্বাচিত ল্যাব কোর্ডিনেটর, জেলা কোর্ডিনেটর, অন্যান্য স্কুল থেকে আগত শিক্ষকগণ। ২২ তারিখে আমি নিজে এই প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলাম। অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি-তাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি এবং এতো বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষণার্থী দেখে মুগ্ধ হয়েছি। বিশেষ করে নির্ধারিত ল্যাবগুলোর বাইরে থেকেও যে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে এসেছিল সেটি অসাধারণ ও মুগ্ধ করার মতো।

জেলা ক্যাম্প : স্ক্র্যাচ প্রতিযোগিতা হচ্ছে দলভিত্তিক, প্রতি দলে ৩ জন করে ছাত্রছাত্রী থাকছে। প্রতি ল্যাব থেকে ৬টি দলে মোট ১৮ জন অংশ নিয়েছে। প্রথম দ্বিতীয় এবং ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ শেষে এরা জেলা ক্যাম্পের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী জুনিয়র এবং ৯ম থেকে ১০ শ্রেণী সিনিয়র হিসেবে প্রত্যেকে আলাদাভাবে অংশগ্রহণ করেছে। এ ক্যাম্পটি হয়েছে তিন দিনের।

জাতীয় ক্যাম্প : শিক্ষার্থীদের জেলাপর্যায়ে স্ক্র্যাচ জুনিয়র, স্ক্র্যাচ ও পাইথন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জেলাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নিয়ে পরবর্তীতে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী ‘পাইথনভিত্তিক জাতীয় ক্যাম্প’ এবং দুই দিনের ‘স্ক্র্যাচ জুনিয়র, স্ক্র্যাচভিত্তিক জাতীয় ক্যাম্প’ আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতি জেলার স্ক্র্যাচ জুনিয়র, স্ক্র্যাচ ও পাইথন বিজয়ীদের ঢাকার জাতীয় ক্যাম্পে একদিন উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। দ্বিতীয় দিন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী নির্বাচিত করা হবে।

সমাপনী এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান : আমরা আশা করছি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকৃত সকল প্রতিযোগীর (স্ক্র্যাচ জুনিয়র, স্ক্র্যাচ ও পাইথন) উপস্থিতিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে জাতীয় শিশু কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘোষণা করবেন। এটিও আশা করছি যে, প্রতিযোগিতাটি প্রতি বছরই আয়োজিত হবে।

স্বপ্ন ও সূচনা : কম্পিউটারের সঙ্গে শিশুদের সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য প্রথম সাফল্যজনক কর্মসূচি আমি নিয়েছিলাম ১৯৯৯ সালে। সেই বছরের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার গাজীপুরের ছায়াবিথীতে আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুলের উদ্বোধন করেছিলেন ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী ও তার স্ত্রী বেগম সেলিনা মল্লিক। ২০০০ সালের প্রথমদিন থেকে সেই স্কুলটি চালু হয়। এরপর ২০০১ থেকে ক্রমান্বয়ে ৩২টি আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুলের মাধ্যমে আমি শিশুদের সঙ্গে কম্পিউটারের সম্পর্ক গড়ে তোলার লড়াই করে আসছি। আমার স্কুলের ধারণা নিয়ে আরও অনেকে শিশুদের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। স্কুলের নামের সঙ্গে মাল্টিমিডিয়া শব্দটি যুক্ত হতে থাকে বেশ ব্যাপকভাবে। তখন থেকেই ভাবছিলাম শিশুরা কি কেবল কম্পিউটার ব্যবহার করতেই শিখবে? তারা কি শৈশবেই প্রোগ্রামার হতে পারে না? সেই ভাবনা থেকে বের হতে পারি যখন আমার নিজের ঘরে শিশু প্রোগ্রামার গড়ে ওঠে। আমি দেখলাম আমার ছেলে বিজয় জব্বার স্ক্র্যাচ শিখছে এবং দারুণভাবে আনন্দিত মনে হচ্ছে ওকে। ২০০৮ সালে নিজের ঘরে বসে বিজয়কে দেখেছি শৈশবেই অতি চমৎকারভাবে স্ক্র্যাচ দিয়ে প্রোগ্রামিং করতে। আমার এই সন্তানকে দিয়েই আমি অনুভব করতে পেরেছি যে শৈশবের আগ্রহ থেকেই সে এখনকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয়ে পারদর্শী হতে পেরেছে। যদি সেদিন তাকে প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে না পারতাম বা সমস্যা সমাধানের চ্যালেঞ্জ ও সৃজনশীলতার দিকে আকৃষ্ট করতে না পারতাম তবে আজকে আমার নিজের সন্তানটির দক্ষতা আমি গর্ব করে বলার মতো পেতাম না। আমার মনে আছে বিজয় যখন মালয়েশিয়ার মনাস বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা শুরু করে তখন তাকে স্ক্র্যাচের ধারণা এবং পাইথন দিয়ে প্রোগ্রামিং শেখানো শুরু হয়।

কিন্তু আমাদের নীতি নির্ধারক বা পন্ডিতরা এটি মানতেই চান না। তারা এখনও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর বা তার ওপরে প্রোগ্রামিং শেখানোর কথা ভাবেন। শিশুরা যে অনেক বেশি সৃজনশীল, ওরা যে ভাবতে পারে-গড়তে পারে সেটিও তারা অনুভব করেন না। আমাদের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা এই পশ্চাৎপদ ভাবনার শিকার। যতদিন এই বদ্ধ ধারণা থেকে আমরা বের হতে পারব না, ততদিন আমরা ডিজিটাল বিপ্লবের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করতে সক্ষম হব না। বস্তুত বিজয় এর স্ক্র্যাচ শেখার আগ্রহ দেখার পর থেকেই নানাভাবে শিশুদের স্ক্র্যাচ শেখানোর উদ্যোগ নেবার চেষ্টা করি। তবে সফলতা আসে অনেক দেরিতে। মনে আছে ২০১৩ সালে দৈনিক গার্ডিয়ান পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে পড়েছিলাম, সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভলপমেন্ট এর সিনিয়র ফেলো চার্লস ক্যানি বলেন, তরুণরা সহজে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে। নতুন প্রযুক্তিগুলো উদ্ভাবন ও শিক্ষার বড় বাহক হতে পারে এবং সারা দুনিয়া সেটি এখন উপলব্ধি করতে শুরু করেছে। এসব ভাবনা থেকে খুঁজতে থাকলাম শিশুদের সঙ্গে প্রোগ্রামিংয়ের সেতুবন্ধনটা গড়ে তোলার জন্য। ২০১৫ সালে আমার আনন্দ কম্পিউটার্স এর থ্রিডি অ্যানিমেসন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্ক্র্যাচ শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করি। ২০-৩০ জনের একটি স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামার দলও তৈরি করা হয়। ওদের উদ্যোগে একটি স্ক্র্যাচ দিবসও পালিত হয়। তবে স্ক্র্যাচ প্রশিক্ষক মাসুম সাহেবের অনাগ্রহ ও ব্যক্তিগত উচ্চাভিলাসের জন্য সেই উদ্যোগটি মাঝপথে হারিয়ে যায়। সেই ব্যর্থতার পর আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করতে হয়।

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর ১৯ ॥ লেখক তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাসের চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক।

ই-মেইল : mustafajabbar@gmail.com, ওয়েবপেজ : www.bijoyekushe.net.bd, www.bijoydigital.com