• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ২৩ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

পর্যটন খাতের সম্ভাবনা ও সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণ

আবু আফজাল সালেহ

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের কর্মসংস্থানের ১ দশমিক ৪১ শতাংশ বা প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে পর্যটন খাতে। এই শিল্পের মাধ্যমে দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ বা মূল্য সংযোজন হচ্ছে ১৬ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। বিভিন্ন পরিসংখ্যানের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে জানা গেছে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত হোটেল ব্যবসা, রেস্তারাঁ ব্যবসা, পরিবহনসহ বিনোদন খাত থেকে এ আয় হচ্ছে। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রাক্কলন অনুযায়ী সমগ্র বিশ্বে ২০২০ সাল নাগাদ পর্যটন থেকে প্রতিবছর ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হবে। ২০৫০ সাল নাগাদ ৫১টি দেশের পর্যটক বাংলাদেশে আসবে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থার বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ দরকার।

এ শিল্পের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অনেক শিল্প নির্ভর করে। পর্যটন একটি বহুমাত্রিক ও শ্রমঘন শিল্প। সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণশীল ও বৃহৎ বাণিজ্যিক কর্মকা- হিসেবে এ শিল্প বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করেছে। প্রচুর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় পর্যটন খাত থেকে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সেক্টর যেমন- পরিবহন, হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট, এয়ারলাইন্স ও অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যম থেকে পৃথিবীর অনেক দেশ প্রতি বছর প্রচুর রাজস্ব আয় করে, যা অন্য যে কোনো বড় শিল্প থেকে পাওয়া আয়ের চেয়ে বেশি। আমাদের সম্ভাবনাও প্রচুর রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। বিদেশি পর্যটক যে দেশে যত বেশি, সে দেশের পর্যটন থেকে আয় ততই বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ফ্রান্স বা ইউরোপে বিদেশিদের আনাগোনা অনেক বেশি। তাই এসব দেশে পর্যটন থেকে আয়ের পরিমাণও বেশি। এশিয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডে পর্যটন খাত থেকে আয়ের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণও কিন্তু বিদেশি পর্যটক। ভারত বা শ্রীলংকায় আমাদের অঞ্চলে পর্যটন আয় বেশি। কারণ তাদের পরিকল্পিত চিন্তাভাবনা। ছোট রাষ্ট্রগুলো যেমন- হংকং, সিঙ্গাপুর, ম্যাকাও, মালদ্বীপ, ফিজি কিন্তু পর্যটন খাত থেকে প্রচুর আয় করে শুধু বিদেশিদের আনাগোনার জন্যই। চীন, জাপান, মালয়েশিয়া পর্যটন খাত থেকে প্রচুর আয় করে দেশি পর্যটকের চেয়ে বিদেশি পর্যটকের জন্য।

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্পটে ভরপুর বাংলাদেশ। বাংলাদেশে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রাহরিণ; রয়েছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়। প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, হিমছড়ির ঝর্ণা, ইনানী সমুদ্র সৈকত, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ, হাকালুকি-টাঙ্গুয়ার হাওর, টেকনাফ সহজেই পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড়ি অঞ্চল, সুজলা-সুফলা চিরসবুজ মাঠ-প্রান্তর তো থাকলই। আমাদের দেশে অনেক ঐতিহাসিক এবং প্রতœতাত্ত্বিক স্থানও রয়েছে। মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, কান্তজীর মন্দির, রামুর বৌদ্ধমন্দির, ঢাকার লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, ষাটগম্বুজ মসজিদ, খানজাহান আলীর মাজার, রাজশাহীর বরেন্দ্র জাদুঘর, কুষ্টিয়ার লালন শাহের মাজার, রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি দেশি-বিদেশি পর্যটক ও দর্শণার্থীদের কাছেও সমান জনপ্রিয় এবং সমাদৃত। তারপরেও পর্যটন খাতে আমরা পিছিয়ে রয়েছি।

পর্যটন হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম আয়ের খাত। অনেক উন্নয়নশীল দেশের অন্যতম আয়ের খাত হচ্ছে পর্যটন। পর্যটন শিল্প অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য ‘Life Blood’ হিসেবে কাজ করে ওইসব দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। অধিকন্তু, পর্যটন কর্মকা- মানুষের জন্য আনন্দের জোগান দেয়, দৈনন্দিন জীবনে কিছু সময়ের জন্য হলেও স্বস্তি আনয়ন করে এবং অবকাশযাপনের সুযোগ সৃষ্টি করে। পর্যটনের মাধ্যমে মানুষ একে অপরকে জানতে পারে, দর্শনীয় স্থান স¤পর্কে পর্যটকরা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে এবং অন্যান্য মানুষের সাথে বন্ধুত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে রাজনৈতিক-সামাজিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করতে পারে। ফলে প্রতিটি পর্যটন-গন্তব্যের সরকার এবং পর্যটন ব্যবসায়ীরা এ শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দান করে তার উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৯০ কোটি, ধরা হচ্ছে ২০২০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬০ কোটি। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে এই বিপুল সংখ্যক পর্যটকের প্রায় ৭৩ শতাংশ ভ্রমণ করবেন এশিয়ার দেশগুলোতে। বাংলাদেশ যদি এ বিশাল বাজার ধরতে পারে তাহলে পর্যটনের হাত ধরেই বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি। পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশের রয়েছে অপার সম্ভাবনা।

আমাদের পর্যটন শিল্প বিকাশের যথেষ্ঠ সম্ভাবনা থকলেও পার্শ¦বর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমরা ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছি। আমাদের পার্শ্ববর্তী অনেক দেশ যেখানে এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে অর্থনীতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমরা স্থবির হয়ে আছি। সিঙ্গাপুরের জাতীয় আয়ের ৭৫ শতাংশ, তাইওয়ানের ৬৫ শতাংশ, হংকংয়ের ৫৫ শতাংশ, ফিলিপাইনের ৫০ শতাংশ, থাইল্যান্ডের ৩০ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। মালদ্বীপের অর্থনীতির বেশির ভাগই আসে পর্যটন খাত থেকে। এছাড়া মালয়েশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৭ শতাংশই আসে পর্যটন খাত থেকে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড অ্যান্ড টুরিজম কর্পোরেশনের তথ্যমতে, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ছিল মাত্র ৩.৯ ভাগ। ২০২০ সাল নাগাদ এর পরিমাণ বেড়ে ৪.১ ভাগ হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আবার বাংলাদেশ বর্তমানে এই খাত থেকে যেখানে প্রায় ৭৬.১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বার্ষিক আয় করে সেখানে সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশগুলোর পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ভারতে পর্যটন খাত থেকে আয়ের পরিমাণ ১০,৭২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, মালদ্বীপে ৬০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, শ্রীলংকায় ৩৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, পাকিস্তানে ২৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং নেপালে এর পরিমাণ ১৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সুতরাং সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। পর্যটন শিল্পের সবটুকু সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আদর্শ হতে পারে।

আশার খবর হচ্ছে, দেশ ঘুরে দেখার আগ্রহ বাড়ছে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে। পড়াশোনা ও কাজের ফাঁকে এখন গ্রুপভিত্তিক তারা দেশের বিভিন্ন পর্যটন ¯পটে ঘুরে বেড়াচ্ছে।পর্যটনে বাড়ছে নারীদের আগ্রহ। বাংলাদেশে নারীরা এখন একাই বেরিয়ে পড়ছে। বিগত ১০ বছরে ঈদকে কেন্দ্র করে নাগরিকদের মধ্যে ভ্রমণপ্রবণতা নতুন আশাবাদ জাগাচ্ছে। ঈদ-ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বা কয়েক দিনের ছুটিতে পর্যটনে বাংলাদেশের সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলেছে। ব্যস্ত কর্মজীবনে ঈদের ছুটিকে মানুষ এখন গ্রামের বাড়ি বেড়ানোর পাশাপাশি নিজ এলাকা ও অন্যান্য স্থানেও ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে। বিশ্বের বড় মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে ঈদ পর্যটনকে কেন্দ্র করে। তাই আমাদের দেশেও ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পও জড়িত হতে পারে। পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রতি ঈদে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করে কক্সবাজার, যেখানে সারা বছর কক্সবাজার ভ্রমণে যায় ১৫ থেকে ২০ লাখ পর্যটক। ঈদকে কেন্দ্র করে বিশেষ পর্যটন স্থানগুলো ছাড়াও জেলা পর্যায়ে ভ্রমণে বিশেষ প্যাকেজ থাকলে ঈদ পর্যটনের আয় ও জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে। দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন ঘটছে পর্যটন শিল্প বিকাশের ফলে। বর্তমানে এ শিল্পে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে।

পর্যটন শিল্পের প্রচারের জন্য ট্রেন-বাস-স্টিমার-লঞ্চ প্রভৃতির যাত্রী টিকিটে সংশ্লিষ্ট এলাকার টুরিস্ট-ঐতিহ্যের ছবি সংযুক্ত করা যায়। সংশ্লিষ্ট ট্রেন স্টেশন থেকে টিকিটে সে এলাকার পর্যটন এলাকার ছবি ও একেবারেই সংক্ষিপ্ত শিরোনাম দিতে হবে। এতে মনের অজান্তেই যাত্রীরা সংশ্লিষ্ট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবেন। জেলাভিত্তিক করা না গেলেও রেলের টিকিট অঞ্চলভিত্তিক করা যায়। তবে বাস বা নৌযাত্রীদের টিকিটে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রাধান্য দিতে হবে। বাস মালিকদের ক্ষেত্রে সরকার এ ধরনের আদেশ জারি করতে পারে। আর একটি সুপারিশ খুব কার্যকর হতে পারে। সেটি হলো ট্রেন স্টেশনগুলোতে বা বাস টার্মিনালে বা নৌবন্দরে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভ্রমণের চিত্র দেওয়ালে তুলে ধরা যায় এবং ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করলে খুব ভালো হবে। অনেকে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকার সময়ে কাছের ¯পট ঘুরে আসতে অনুপ্রাণিত হবে বলে মনে করি। পাঠ্যপুস্তকে আরও বেশি করে টুরিস্ট স্পট নিয়ে লেখা-ছবি অন্তর্ভুক্ত করা যায়। অনেক উন্নত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন কালচার সম্পর্কে বাস্তব অবস্থা জানতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় সহযোগী হতে পারে।

ভ্রমণ ফিচার বা টুরিস্ট স্পট নিয়ে যেসব ব্যক্তি বা সংস্থা লেখালেখি করে, তাদের অনুপ্রাণিত করার জন্য বিভিন্ন পুরস্কারের ব্যবস্থা করা যায়। প্রায় সব দৈনিকে ভ্রমণ ফিচার ছাপা হয়। অনেক পত্রিকায় ভ্রমণ ফিচারের জন্য আলাদা পাতা রয়েছে। এসব বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে। ভালো পাতার পত্রিকারও মূল্যায়িত করার ব্যবস্থা করতে পারে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থা। বিভিন্ন দূতাবাসে লিফলেট বা তথ্যসংবলিত বই পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এতে বিদেশি বা প্রবাসীদের আকর্ষণ করা যাবে। ভারতের ভ্রমণ¯পট প্রচারের জন্য বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এর জন্য বিভিন্ন সাইটও খুলেছে অনলাইনে। এগুলো তথ্যে খুবই সমৃদ্ধ। যেমন- একটা সাইট ‘ইনক্রিডেবল ইন্ডিয়া’। ভিডিও, ছবি এবং তথ্যে সমৃদ্ধ একটি পর্যটন সাইট। ভারতের মতো আমরাও এ ধরনের বিভিন্ন সাইট খুলতে পারি। আর যেসব সাইট বিদ্যমান, সেগুলো আরও তথ্যসমৃদ্ধ করতে পারি।

বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। ইতোমধ্যে পর্যটন বিশ্বের বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশসমূহের এক-তৃতীয়াংশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস পর্যটন শিল্প। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রাক্কলন অনুযায়ী সারাবিশ্বে প্রায় ১০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ তাদের জীবন-জীবিকার জন্য এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। সমগ্র বিশ্বে ২০২০ সাল নাগাদ পর্যটন থেকে প্রতি বছর দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হবে। এ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে পর্যটন শিল্প বড় নিয়ামক হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বহুমাত্রিক পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে শুধু কক্সবাজারে। বহুমাত্রিক পর্যটনে সাংস্কৃতিক, ইকো, স্পোর্টস, কমিউনিটি ও ভিলেজ টুরিজম ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ ধীরে ধীরে বাড়ছে। পর্যটকদের আবাসন সুবিধা বৃদ্ধির অভিপ্রায়ে কক্সবাজারে রাজধানী নগরী ঢাকা থেকেও বেশি হোটেল-মোটেল গড়ে উঠেছে। সব পর্যটন কেন্দ্রেই বেসরকারি উদ্যোগের কারণে অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের আকর্ষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে।

তবে কক্সবাজার বাদে অন্যান্য টুরিস্ট স্পটে তেমন আধুনিকায়ন হয়নি। তবে ধীরে ধীরে হচ্ছে অনেক স্পটে। পাহাড়পুর, মহাস্থানগড়ে উন্নয়ন যথেষ্ট চোখে পড়ার মতো। তবে বিনোদনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। পর্যটন খাতে বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে হবে। বিদেশিদের জন্য আলাদা আবাসিক জোন-ব্যবস্থা বা বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্বে চীনা পর্যটকরা বেশি ব্যয় করে। চীনের নাগরিকের বেশির ভাগ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাই তাদের আকৃষ্ট করতে বৌদ্ধ স্থাপনাগুলোতে যোগাযোগ ও অন্যান্য সুবিধা বাড়াতে হবে। চীনা পর্যটকদের আনতে পারলে অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার হবে। থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ায় পর্যটন খাতে অনেক এগিয়ে। দেখা যায়, চীনা পর্যটকের হার অনেক বেশি এ দুই দেশে। ভারতেও পর্যটন থেকে আয় অনেক হয়। কিন্তু শুধুমাত্র চীনা-জাপানিদের উল্লেখিত দুই দেশের সমান হতে পারেনি। তাই, উল্লেখিত দুই দেশ থেকে ভারত পিছিয়ে। বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে জাতীয় পরিকল্পনায় পর্যটন শিল্পকে আগ্রাধিকার প্রদান, জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পর্যটন পুলিশ গড়ে তোলা, পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো, দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা এবং পরিকল্পিত বিনিয়োগ প্রয়োজন। পর্যটন স্থানগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো আবশ্যক। নিরাপত্তার অভাব, চুরি বা ছিনতাই, রাস্তা বা টুরিস্ট স্পটের নোংরা পরিবেশ ইত্যাদি বিদেশিদের কাছে চিন্তার কারণ। অনেক স্পটে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নয়। ট্রেন যোগাযোগ বিদেশিরা পছন্দ করে। এটি আরামদায়ক। তাই রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন ও লাইন সম্প্রসারণ করতে হবে। তবে বর্তমান সরকারের আমলে রেলের অনেক উন্নয়ন সাধন হয়েছে।

দক্ষ গাইডের অভাব বাংলাদেশে। ইংরেজি বা বিদেশি ভাষায় দক্ষ গাইড বিদেশিদের সন্তুষ্ট করতে পারবে। এগুলো দূর করতে পারলে বিদেশিদের আকৃষ্ট করা যাবে। ইন্টারনেট-গণমাধ্যম বা দূতাবাসের মাধ্যমে আমাদের পর্যটন এলাকা নিয়ে লিফলেট, প্রামাণ্যচিত্র, ভিডিও ইত্যাদি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে পারি। আগামী ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে এ শিল্পকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা জরুরি।

[লেখক : কলামিস্ট, চুয়াডাঙ্গা]

  • ভূ-রাজনীতিতে দক্ষিণ চীন সাগর

    আফসানা রিজোয়ানা সুলতানা

    প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব দিকে অবস্থিত দক্ষিণ চীন সাগরের আয়তন প্রায় ৩৫০০০০০ বর্গকিলোমিটার। এটি সিঙ্গাপুর ও মালাক্কা প্রণালি থেকে তাইওয়ান