• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ মহররম ১৪৪২, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

রাজনীতির পথেপ্রান্তে

জন্মশতবার্ষিকী পালনেও করোনাভাইরাসের প্রভাব

ফকীর আবদুর রাজ্জাক

| ঢাকা , রোববার, ১৫ মার্চ ২০২০

image

১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মদিন দিন। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই সেই শুভদিনটি। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকীর বিরাট আয়োজন করেছে সরকার ও তার হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগ। অন্যান্য সমমনা দলসমূহও সেদিন তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে। দেশের অধিকাংশ প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ও স্বাধীনতাকামী সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জন্মশতবার্ষিকী পালনের উদ্দেশে। ধরেই নেয়া যায় এবার অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জন্মশতবার্ষিকী পালিত হবে। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাঙালির স্বাধীনতার মহানায়ক শেখ মুজিব। তার নামে, নির্দেশে, আদর্শে ও লক্ষ্যে ৯ মাস রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে শত্রুসেনা পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতা লাভ করে জাতি। এর জন্যে ৩০ লাখ মানুষকে বিসর্জন দিতে হয়েছে জীবন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চাইতেও নারকীয় গণহত্যা চালিয়েছিল পাকিস্তানি দখলদার সৈন্যরা। প্রায় ৩০ লক্ষাধিক মুক্তিযোদ্ধাকে প্রাণ দিতে হয়েছে যার মধ্যে মিত্রবাহিনীর ভারতীয় ১৬ হাজার সৈন্যও রয়েছে। এবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী তাই বিশাল তাৎপর্যপূর্ণ। পরের বছরই পালিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। যার আয়োজন চলছে সরকারি-বেসরকারিভাবে। আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ভারতের বিশাল অবদান বাঙালি জাতি মাত্রেই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে মুষ্টিমেয় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মহল ছাড়া। ’৭১-এ বাঙালির সেই মহা বিপদের দিনে সব ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছিল ভারত। তারা তাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সীমান্ত খুলে দিয়েছিল আক্রান্ত বাঙালিদের জন্য। প্রায় এক কোটি মানুষ ওই দুই রাজ্য ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে প্রাণরক্ষা করেছিল। ভারত সরকার সেদিন সেই এক কোটি শরণার্থীর থাকা-খাওয়ার চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করেছিল। বঙ্গবন্ধু ’৭১-এর ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানিদের হাতে গ্রেফতার হয়ে যাওয়ার আগেই ভারত সরকার বিশেষ করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন জাতীয় কংগ্রেস নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে সম্ভাব্য সব অবস্থা অবহিত করে গিয়েছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ করার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে গিয়েছিলেন। সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি মুক্তিবাহিনী গঠন, প্রবাসী সরকার গঠন, মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা তাদের হাতে প্রয়োজনীয় আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহসহ সব ব্যবস্থা করেছিলেন। সে কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বা স্বাধীনতার ‘সুবর্ণজয়ন্তী’ পালনের প্রশ্ন দেখা দিলেই ভারত সরকার ও শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি অকপট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই হয়। কারণ রক্তের ঋণ-বন্ধনে বাংলাদেশ ও ভারত আবদ্ধ। সে কারণেই ভারত সরকার বদল হলেও তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার সম্পর্ক ভিন্নতর হয় না। হওয়ার কথাও নয়।

’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের ভাড়াটে সশস্ত্র খুনিদের দিয়ে একটি ভাষা জাতি রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্য করে এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার মূলচেতনা ও আদর্শ ধ্বংস করার পরিকল্পনা করে। ওই খুনি চক্রই কখনও বেসামরিক মুখোশ পরে এবং কখনও সামরিক লেবাস পরে দেশের শাসনব্যবস্থা ২১ বছর দখল করে রাখে। এই সময়ই তারা ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক তৈরি করে অথচ মুখে বলে ভারতের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। ’৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের রক্তের উত্তরসূরি শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে এবং স্বৈরশাসকদের হাত থেকে গণতন্ত্র উদ্ধার করে দেশ শাসন করার পথেই বৃহৎ প্রতিবেশী এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত বন্ধু ভারতের সঙ্গে সত্যিকার বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই তিনি ভারতের সঙ্গে অনেকগুলো অমীমাংসিত বিষয়ের একে একে নিষ্পত্তি করেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো- দীর্ঘকাল ধরে ঝুলে থাকা গঙ্গার পানি বণ্টনের ন্যায্য সমাধান। তারপর ২০০১ সালে আবার ক্ষমতায় আসে জামায়াত-বিএনপি সাম্প্রদায়িক সরকার। ভারতের সঙ্গে আবার সম্পর্ক শীতল হয়ে যায়। এরপর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবধিান লঙ্ঘন করে দুই বছর ক্ষমতা আঁকড়ে থাকে। সর্বশেষ ২০০৮ সালে তত্ত্বাধায়ক সরকার দেশের জনগণ ও বিদেশের চাপের কাছে নতিস্বীকার করে দেশে সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শেখ হাসিনা বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসেন। সেই থেকে টানা, তিন মেয়াদ তিনিই ক্ষমতায় রয়েছেন। তার ক্ষমতার এই সময়ই জাতির সামনে এসেছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী। স্বাভাবিকভাবেই তিনি গভীর আন্তরিকতা ও মমতা নিয়ে দিবসগুলো পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন। নানা বৈরী পরিবেশ, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত মোকাবিলা করে তিনি দেশের উন্নয়ন ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করে চলেছেন। তার হাতেই দেশ এখন বিশ্ব মাপকাঠিতে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এরই মধ্যে ঘোষণা করে মুজিববর্ষে বাংলাদেশের কোন মানুষই গৃহহীন থাকবে না। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে- প্রভৃতি। একই সঙ্গে তিনি ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করেছেন। ভারতের নরেন্দ্র মৌদি সরকারের সঙ্গেও এখন বন্ধুত্বের সম্পর্ক অনেক বেশি আস্থায় পৌঁছেছে। যদিও মোদি সরকারের অনেক নীতি-আদর্শের সঙ্গে তার ও বাংলাদেশের নীতি-আদর্শের কোন মিল নেই। পারস্পরিক স্বার্থ-সম্পর্কিত সম্পর্ক অনেক বেশি উন্নত এখন।

১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু জন্ম দিবস ও জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের শুভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মৌদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করতে সম্মত হয়েছেন। তার সেই সম্মতি জানাতে ও পারস্পরিক কিছু বিষয় আলোচনা করতে ইতোমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব যিনি বাংলাদেশে কয়েক বছর রাষ্ট্রদূত ছিলেন-সফর করে গেছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন- ভারতের প্রধানমন্ত্রী ১৭ মার্চ আসবেন নিশ্চিত করেছেন। তাকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে সংবর্ধনা জানাবে সরকার ও বাংলাদেশ। কিছু দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনাও হবে। এটা রাষ্ট্রীয় বা সরকারি বিষয়। দেশবাসীর নিশ্চয়ই তাতে সম্মতি রয়েছে। তবু একটি ধর্মীয় আদর্শে বিশ্বাসী মহল নরেন্দ্র মোদির আগমন বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সারা দেশে প্রতিবাদ মিছিল করেছে। তারা দিল্লিতে চলা সম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও মুসলমান হত্যার ঘটনা বন্ধ করতে না পারা ও সরকারের অনাগ্রহকে নিন্দা জানিয়েছে। এ কথা সত্য দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বারবার কেন্দ্রীয় সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন সেনাবাহিনীকে নামিয়ে দাঙ্গা বন্ধ করার জন্য। কিন্তু মোদি সরকার সে কাজটি করেনি। দাঙ্গায় বহু নিরীহ মানুষ হতাহত হয়েছে। দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা সরকারকে দ্রুত জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বন্দের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তেমন ব্যবস্থা ভারত সরকার নেয়নি। নরেন্দ্র মোদির এই রহস্যজনক ভূমিকা পর্যালোচনা করে ভারতেরই অনেক বুদ্ধিজীবী গুজরাটের সেই ভয়াবহ দাঙ্গার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদিই। আইনের প্যাঁচে তিনি অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়ে গেলেও এবার দিল্লির সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা জরুরিভাবে দমন না করায় তার সাম্প্রদায়িকতার প্রতি আনুগত্যই প্রমাণ মিলেছে। অস্বীকার করবেন কীভাবে? সেই নরেন্দ্র মোদির ঢাকা আগমন রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিতে শুভ বলে মনে হলেও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, তার বিশ্বনন্দিত নেতা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে উপস্থিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তবু বাংলাদেশের জনগণ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তা দৃঢ় করতে চায়।

এসব বৈরী ও নীতিগত পার্থক্যের কথা ভেবেই গত সপ্তাহের নিয়মিত কলামে বলেছিলাম ’৭১-এ আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা ও অবদান রেখেছিল জাতীয় কংগ্রেস ও তার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। আজ তারা ক্ষমতার বাইরে শ্রীমতি গান্ধীও নিহত হয়েছেন। তবু সেই দলের অনেক সিনিয়র নেতা রয়েছেন যারা বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী ছিলেন। তাছাড়া ইন্দারা গান্ধীর দুই নাতি- নাতনি যারা কংগ্রেস রাজনীতিতে সক্রিয় এবং তাদের মা সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের শীর্ষ নেত্রীও বটে। তাদের বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাখার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল আমাদের ক্ষমতাসীন দলের। বাঙালি যে অকৃতজ্ঞ নয় এবং অতীত ইতিহাস ভুলে যায়নি- সেটা তাদের মনে রাখা দরকার ছিল। সরকারের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সর্বশেষ খবর হলো করোনাভাইরাসের আতঙ্কে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছেন। যদিও বাংলাদেশে এখন করনাভাইরাসে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি। বিদেশ থেকে আসা দুজন ব্যক্তি তাদের এক দেশীয় আত্মীয়ের শরীরে ওই ভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া গেছে যারা এখন কোয়ারেন্টাইনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা এখন আশঙ্কামুক্ত বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। তবুও বাংলাদেশ সরকার বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকীর যে বিশাল ও ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছিল তা করোনাভাইরাসের কথা ভেবে ব্যাপকভাবে কাটছাট করেছে। জনসভা-জনসমাগম বন্ধ করা হয়েছে সর্বত্র। এই কারণেই সংসদের আহূত বিশেষ অধিবেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই অধিবেশনে বক্তৃতা দেয়ার কথা ছিল ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও নেপালের প্রেসিডেন্টের। এভাবে করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভারের কথা চিন্তা করেই সরকারের আয়োজিত অনেক কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। এখন সাধারণ রুটিন মাফিক মুজিব শতবর্ষ পালিত হবে দেশব্যাপী। কোন জাঁকজমকের ব্যবস্থা থাকবে না। সব দিক বিবেচনা করে সরকারের এ সিদ্ধান্ত যথার্থই হয়েছে। এবার ওই ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার রাজনৈতিক দলসমূহ ও জনগণকে ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে।

জাঁকজমকের সঙ্গে দেশব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তাতে জল ঢেলে দিয়েছে করোনাভাইরাস। পৃথিবীর শতাধিক দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাস আক্রান্ত সব দেশেই তাদের চলমান কর্মসূচি হয় বাতিল, নয়তো সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। চীন থেকে করোনাভাইরাসের শুরু। চীনেই এ পর্যন্ত ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে চার হাজারের বেশি মানুষ। দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, ইরানে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এখন। অনেকদিন বাংলাদেশকে তা স্পর্শ করেনি, এখন এ দেশেও রোগ ধরা পড়েছে। একজন ইংল্যান্ডে প্রবাসী বাংলাদেশি মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় সরকার বাধ্য হয়েছে মুজিব জন্মশতবার্ষিকী পালনের গৃহীত কমসূচি কাটছাট করতে। বিদেশি অতিথি যাদের শতবর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল তারা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাতিল করেছেন। এরপরও আমরা জানি যত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানই হোক না কেন চাঁদাবাজি করা যাদের নেশা ও পেশা তারা বসে থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকসহ নেতারা যতই নিষেধ করুন না কেন চাঁদাবাজি তারা করবেই। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে এমন চাঁদাবাজ তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে। তাই সরকার ও তার প্রশাসনকে কঠোর মনোভাব নিয়ে চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

দেশের সরকার ও স্বাধীনতাকামী মানুষের একান্ত ইচ্ছা ছিল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী মহা আবেগ, মমতা শ্রদ্ধা নিয়ে ধূমধামের সঙ্গে পালন করবে। কিন্তু প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে তাতে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি করেছে। তবু সংক্ষিপ্ত, ছোট করেই ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসগুলো পালন করতে হবে। ’৭৫-এর পর সামরিক নিষেধাজ্ঞা অস্ত্রের মুখেই একদা আমরা জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতা দিবস পালন করেছি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই করোনাভাইরাসের মুখেও সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও দিবস দুটো আমাদের পালন করতে হবে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মাধ্যমে। সেটাই হবে জাতির প্রতি ও তার পিতার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানানোর নজির।

[লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট]