• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ৬ মাঘ ১৪২৭, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

করোনা যুদ্ধ : সরকার ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জয়ী হবে

সংবাদ :
  • মোহাম্মদ শাহজাহান

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০

লেখার শুরুতেই অন্তরের অন্তস্থল থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি করোনা-যুদ্ধে চিকিৎসকদের মধ্যে প্রথম শহীদ ডা. মো. মঈন উদ্দিনকে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন (৪৭) গত ১৫ এপ্রিল বুধবার ভোরে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এটা এখন নিশ্চিত যে, করোনা সংক্রমণ সারা দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সমগ্র বাংলাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করেছে সরকার। প্রতিদিন পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ১৬ এপ্রিল রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক ঘোষণায় বলা হয়, সমগ্র বাংলাদেশ এখন সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। জনগণকে একে অপরের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা ছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কেউ সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে থাকতে পারবে না। সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা নিজ ঘরে থাকতে পারলেই ভালো হয়। আইনি ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রয়োগ করে মানুষকে বিচ্ছিন্ন রাখার জন্যই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। করোনা বিস্তার রোধে শুরু থেকেই পরীক্ষার ওপর জোর দিয়ে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশ পরীক্ষার ওপর জোর দিয়ে ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছে। আবার অবহেলা করে বা তেমন কোনো গুরুত্ব না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেনসহ আরো অনেক দেশের লেজে-গোবরে দশা হয়েছে।

বাংলাদেশ শুরু থেকে কোভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষার কার্যক্রম আইইডিসিআর-এর নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেটা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে এখন (১৭ এপ্রিল ২০২০) ১৭টি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা হচ্ছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে আরো ১১টি প্রতিষ্ঠানে। তবে এখনো পরীক্ষার সংখ্যা মোটেই যথেষ্ট নয়।

বর্তমানে দেশে ১০ লাখ লোকের মধ্যে গড়ে ৮০ জনের পরীক্ষা হচ্ছে। ৪ এপ্রিল পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধির পর থেকে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। ১২ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যথাক্রমে- ১৩৯, ১৮২, ২০৯, ২১৯, ৩৪১, ২৬৬ ও ৩০৬ ও ৩১২। জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগে ২৮ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মারা গেছেন ১৮৭ জন।

এদিকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৪৫ জেলায় করোনার সংক্রমণ ছড়িয়েছে। প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে এবং ক্রমশ বাড়তেই যে থাকবে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, করোনা মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী। ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিলেটের ডা. মঈন উদ্দিন মারা গেছেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় একজন দন্ত চিকিৎসকও মারা গেছেন। বহু ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় প্রতিদিন এ সংখ্যা বাড়ছে। সমগ্র পৃথিবীতেই করোনা চিকিৎসা করতে গিয়ে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জীবন দিয়ে যাচ্ছেন। ৮ এপ্রিল প্রকাশিত একটি খবরে দেখা যায়, শুধুমাত্র ইতালিতে করোনায় সংক্রমিত হয়ে ২৩ জন নার্স মারা গেছেন এবং সমগ্র বিশ্বে মারা গিয়ে থাকতে পারেন ১০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী। ইতালিতে ৯ শতাংশ এবং স্পেনে ১৪ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। লন্ডনে বাংলাদেশি ডাক্তার আবদুল মাবুদ চৌধুরী কয়েক দিন আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কাজেই করোনা আক্রান্ত বর্তমান বিশ্বে স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, খুবই দ্রুততার সঙ্গে হাসপাতাল তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু এই সময়ে স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন দেশ নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। শোনা যায়, চীনে করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের পাঁচ তারকা হোটেলে রাখা হয়েছে। মহামারীর শুরু থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং বিজ্ঞজনদের মতে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখা ও সাহস ধরে রাখার সব ধরনের উদ্যোগ রাষ্ট্র ও সমাজের পক্ষ থেকে নিতে হবে। সব ধরনের সুরক্ষা সামগ্রী দেয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকসহ অন্য সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মান দিতে হবে। উল্লেখ্য যে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা স্বাস্থ্যকর্মীদের ১৬টি অধিকারের কথা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এসব অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

করোনা মোকাবিলায় যে স্বাস্থ্যকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফ্রন্টলাইনে থেকে দেশ ও জাতির পক্ষে অনন্য ভূমিকা পালন করছেন, সেই স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে ইদানিং আমাদের সমাজের কিছু লোক অনাকাক্সিক্ষত আচরণ করছেন। কিছু বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিক এবং তাদের পক্ষে আরো কিছু লোক স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। করোনা সংক্রমিত হতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকেই বাড়িওয়ালা এবং ওই বাড়ির বা ফ্ল্যাটের অন্য বাসিন্দারা স্বাস্থ্যকর্মীদের অবিলম্বে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করতে ফন্দি-ফিকির করছেন, তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন এমনকি কটূক্তি পর্যন্ত করছেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি যেখানে মানবিক ও সহানুভূতিশীল আচরণ করা উচিত, তা না করে এই অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। স্বাস্থ্যকর্মীরা তো এখানে নিজেদের স্বজন-পরিজনের জন্য নয়, মানবতার স্বার্থেই নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ও জাতির সেবা করছেন। যেখানে সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের পুরষ্কার প্রাপ্য, সেখানে সমাজের কিছু দুষ্টু প্রকৃতির লোক তাদের তিরস্কার করতে পারে না। এটা অন্যায় ও অমানবিক। বর্বর ও সভ্যতা-ভব্যতা বিবর্জিত লোকজনই এমন কুৎসিত আচরণ করতে পারেন। কোনো সভ্য সমাজে এমন বর্বরতা চলতে পারে না। আমরা তীব্র ভাষায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এমন অমানবিক আচরণের নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি এবং একশ্রেণির লোভী বাড়িওয়ালাদের শাস্তি দাবি করছি। সময়ের সাহসী পত্রিকা দৈনিক সংবাদ ১৮ এপ্রিল ‘চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি যারা অমানবিক আচরণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন’ শিরোনামে প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে যথার্থই লিখেছে : ‘নিয়ম হলো কাউকে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য বাধ্য করা যাবে না। কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত হন, তখন তিনি আইসোলেশনে থাকবেন। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীসহ কাউকে যদি চলে যেতে বলা হয়, রূঢ় আচরণ করা হয়, সেটা বেআইনি। ডাক্তার, নার্স, পুলিশসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা তো আর শখে বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। তারা মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য সরকারি নির্দেশনায় কাজ করছেন। এসব মানুষকে যারা হয়রানি করছেন, তারা সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ করছেন। সংক্রামক আইনে সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এই সময়ে যেসব ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন, তাদের বাসা থেকে চলে যাওয়ার যে চাপ দেয়া হচ্ছে, এটি প্রতিরোধের জন্য সরকার সংক্রামক আইন অনুযায়ী একটি নির্দেশনা জারি করতে পারে যে, এ ধরনের কাজ করা যাবে না। যারা করবেন, তারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করবেন। কোনো বাড়িওয়ালা বা অন্য কেউ যদি চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীর কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, তা জানানোর জন্য দ্রুত হটলাইন চালু করা দরকার। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’ দুদক এবং ঢাকার মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের পক্ষ থেকেও অসদাচরণকারী বাড়িওয়ালা ও ফ্ল্যাট মালিকদের প্রতি সাবধানবাণী উচ্চারিত হয়েছে। আমাদের দেশে অনেক আইনই আছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সময়ে প্রায়ই এর বাস্তবায়ন দেখা যায় না। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে ক্ষেত্রবিশেষে বাড়িওয়ালাদের উৎপাত ও বাড়াবাড়ির বিষয়টি সর্বজনবিদিত। প্রত্যাশা থাকবে, অভিযোগ পেলে গর্হিত কাজে লিপ্ত বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

করোনা বিস্তার রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্নমুখী সময়োপযোগী পদক্ষেপ সত্ত্বেও অনেক জায়গায় অনেক কিছু ভালোভাবে চলছে না। স্বাস্থ্য বিভাগ, আইইডিসিআর, স্বাস্থ্য পরিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব চরমভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এখানে ১৮ এপ্রিল দৈনিক সংবাদে সালাম জুবায়েরের লেখাটির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই। ‘করোনায় কী করা দরকার- কী করছি’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ নিবন্ধে লেখক করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভুল পদক্ষেপ, সমন্বয়হীনতা, অক্ষমতা, দায়িত্বহীনতা, সরকারকে সঠিক পরামর্শ দানে ব্যর্থতা, চিকিৎসকদের প্রতি অবহেলা ইত্যাদি বিষয়গুলো খুবই দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। করোনা মোকাবিলায় প্রথম ও প্রধান কাজ হলো পরীক্ষা করা। শুরু থেকেই ১৬/১৭ কোটি মানুষের দেশে পরীক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয় আইইডিসিআরকে। কোনো প্রকার পরীক্ষা না করে প্রতিদিন সংক্রমণ নেই, মৃত্যু নেই- এ সমস্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন তথ্য দিয়ে সরকার ও জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় একরকম বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে দেশের সর্বত্র হাজারো মানুষের চিকিৎসা না পাওয়ার হাহাকারের কথা। করোনা হয়নি বা করোনার উপসর্গ নেই, অন্য সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র সুমন চাকমা ক্যান্সারের রোগী হওয়া সত্ত্বেও ৫-৬টি হাসপাতালে গিয়ে কোনো চিকিৎসা না পেয়ে অকালে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। রোগ হওয়াটা কি কারো অপরাধ। আর করোনা হলেও সেই রোগীর কি চিকিৎসা পাওয়ার কোনো অধিকার নেই? সুমন চাকমাকে যারা চিকিৎসা না করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলো, তাদের কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলেও করোনা চিকিৎসায় দায়িত্বরত ৬ জন ডাক্তারকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এই স্বাস্থ্য বিভাগ ডাক্তারদের প্রয়োজনীয় পিপিই’র ব্যবস্থা করতে পারেনি। এখনো দেশে বহু হাসপাতাল বন্ধ, ডাক্তারদের চেম্বার বন্ধ। অন্য রোগে আক্রান্ত রোগীরাও মাসের পর মাস চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। সালাম জুবায়ের যথার্থভাবেই লিখেছেন- এসব ব্যর্থতা, অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার দায়ভার স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ বা আইইডিসিআর যাই বলুক, করোনা সারা দেশে মহামারী আকারে ছড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে কেউ করোন আক্রান্ত বলে পরিচিত হতে চান না। আক্রান্ত চিহ্নিত হলে বাড়িওয়ালা বাড়ি থেকে বের করে দেয়, আশপাশের মানুষ শুধু করুণার চোখে দেখে না- উপেক্ষা করে, এড়িয়ে চলে এমনকি কটূক্তি করে। মুমূর্ষু রোগীকে রাস্তায় ফেলে দেয় অ্যাম্বুলেন্সের চালক, করোনা আক্রান্ত বাবা-মাকে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে নিজের সন্তান, মৃত্যুর পর কবরস্থানে দাফন করতে দেয়া হচ্ছে না, সর্বোপরি ডাক্তার চিকিৎসা করছে না। দেশে কেন এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো? এমন অমানবিক, আদিম বর্বর অসভ্য যুগের বর্বর পরিবেশে মানুষ বাঁচতে পারে না। এমতাবস্থায় রোগীর সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে না। তবে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, দেশে বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হাজার হাজার মানুষ রয়েছেন। এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি।

মূল কাজ দুটি। প্রথমত, মানুষকে বাঁচাতে হবে; দ্বিতীয়ত, আক্রান্তদের চিকিৎসা প্রদান, সংক্রমণ রোধ এবং যাদের ঘরে খাবার নেই তাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক ভুল আমরা করে ফেলেছি। আক্রান্ত দেশ থেকে যে সাত লাখ লোক এসেছে, তাদের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিতে পারিনি। যথাসময়ে পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সংখ্যক কিট সংগ্রহ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিইসহ সত্যিকার সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কেন্দ্র নির্ধারণে অনেক বিলম্ব হয়ে গেছে। এখন দরকার সবক্ষেত্রে সমন্বয়। মাসের পর মাস লকডাউন রাখা যাবে না। মানুষকে কাজে ফেরাতে হবে। যে কোনোভাবে পরীক্ষা বাড়াতে হবে। আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে সংক্রমণ রেখাকে নিম্নগামী করতে হবে। আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা দিতে হবে। লকডাউন কঠোরভাবে কার্যকর করে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।

[লেখক : মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্র বিষয়ে গবেষক; সাপ্তাহিক বাংলাবার্তা সম্পাদক]

bandhu.ch77@yahoo.com