• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭ ১২ রজব ১৪৪২

করোনা কালের এডিপি ২০২০-২১

ড. আনু মাহ্মুদ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২০

আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য সরকারের উন্নয়ন বাজেট বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) খসড়া পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন পেয়েছে। এবারের এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) সংশোধিত এডিপির তুলনায় সাড়ে ৬ শতাংশ বেশি। এ বরাদ্দের প্রায় ৮৬ শতাংশই রাখা হয়েছে মাত্র ১০টি খাতে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি বরাদ্দ নিয়ে খাতিভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে পরিবহন খাত।

খসড়া পরিকল্পনায় আগামী অর্থবছরের মোট এডিপি বরাদ্দের মধ্যে বৈদেশিক অর্থায়ন থাকছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। টাকার অংকে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৭০ হাজার ৫০১ কোটি ৭২ লাখ। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে জোগানের পরিমাণ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা বা প্রায় ৬৬ শতাংশ। অন্যদিকে অর্থবছরের মূল এডিপিতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে জোগানের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। এছাড়া বরাদ্দ বাবদ বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা (স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বাদ দিয়ে)। পরে সংশোধনের পর এর আকার দাঁড়ায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। সে হিসেবে সংশোধিত এডিপির তুলনায় আগামী অর্থবছরের এডিপি বাড়ছে প্রায় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে আগামী অর্থবছরের একটি খসড়া বরাদ্দ আমরা চূড়ান্ত করেছি। সবার মতামতের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং খাতভিত্তিক এসব বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এটি মোটেও চূড়ান্ত নয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ খসড়া আমরা এনইসি মিটিংয়ে উপস্থাপন করব। আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের উন্নয়ন বাজেটে কোথায় কী ধরনের বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, তা তখনই চূড়ান্ত হবে। তবে এটুকু বলতে পারি, আগামী অর্থবছরের জন্য যে সর্বোচ্চ সিলিং নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে এডিপি বাড়ছে প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ।

চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবার সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগে। এর পরই রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সেতু বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ইত্যাদি। সব মিলিয়ে ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি।

খাতভিত্তিক বরাদ্দ :

খাতভিত্তিক বরাদ্দের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে পরিবহন খাত। এর পরই রয়েছে ভৌত অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, বিজ্ঞানা ও প্রযুক্তি, পল্লী উন্নয়ন স্বাস্থ্য কৃষি পানি ও জনপ্রশাসন খাত। এই ১০ খাতে মোট বরাদ্দ প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট এডিপির প্রায় ৮৬ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেট

প্রস্তাবিত খাতওয়ারি বরাদ্দ (কোটি টাকা)

খাত বরাদ্দ

পরিবহন ৫২,১৮৩

ভৌত অবকাঠামো ২৫,৭৯৫

বিদ্যুৎ ২৪,৮০৪

শিক্ষা ২৩,৩৯০

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ১৮,৪৪৮

পল্লী উন্নয়ন ১৫,৫৫৬

স্বাস্থ্য ১৩,০৩৩

কৃষি ৮,৩৮২

পানি ৫,৫২৭

জনপ্রশাসন ৪,০৪৯

সূত্র : খসড়া এডিপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

খসড়ায় যোগাযোগ-ব্যবস্থার উন্নয়ন, পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫২ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ভৌত অবকাঠামো খাতে যার পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে বিদ্যুৎ খাতে, প্রায় ২৪ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা। শিক্ষা খাতে চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার ৩৯০ কাটি টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ তথ্য ও প্রযুক্তি প্রসারের লক্ষ্যে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে যার পরিমাণ ১৮ হাজার ৪৪৮ কোটি।

বরাদ্দের পরিমাণ বিবেচনায় এর পরই রয়েছে পল্লী উন্নয়ন খাত। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য খাতটিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা। করোনার কারণে খসড়া এডিপিতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সার্বিক স্বাস্থ্য খাতে ১৩ হাজার ৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে খসড়ায়। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে কৃষি খাতে ৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া নদীভাঙন রোধ ও নদী ব্যবস্থাপনার জন্য পানি সম্পদ খাতে ৫ হাজার ৫২৭ কোটি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ দক্ষতা বৃদ্ধিতে গতিশীলতা আনয়নের জন্য জনপ্রশাসন খাতে ৪ হাজার ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। (সূত্র-বণিক বার্তা)

অবকাঠামোতে নতুন প্রকল্প নেয়া যাবে না

করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় একদিকে ৯৩ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা, অন্যদিকে রাজস্ব আদয়ে ধস-এই দুই কারণে আগামী অর্থবছরের বাজেটে অবকাঠামো খাতে নতুন করে কোন প্রকল্প অনুমোদন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। অবশ্য অবকাঠামোতে যেসব প্রকল্প নেয়া যাবে না। ফলে আসছে বছর এডিপিতে অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কমে যাবে জানান অর্থসচিব আব্দুর রউফ।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় চলতি অর্থবছরের জুন নাগাদ যে ৩১৭টি প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল, সেসব প্রকল্পের সময় আরো ছয় মাস বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি বছরের জুন নাগাদ এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এসব প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রকল্পগুলোর কাজ নির্ধারিত সময় শেষ হবে না। তাই আরো ছয় মাস সময় বাড়িয়ে ডিসেম্বর নাগাদ করার বিষয়ে সবাই একমত হন। আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাব করেছে পরিকল্পনা কমিশন। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা পাওয়ার লক্ষ্যমাত্র ঠিক করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরের এডিপিতে স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে। তবে প্রকল্পের সংখ্যা কমছে। সরকারের মেঘা প্রকল্পগুলোতে আগামী অর্থবছরের এডিপিতে ৩৭ হাজার ১১৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় (এনইসি) এসব প্রস্তাব উত্থাপনের কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নুরুল আমিন বলেন, করোনার প্রভাবে রাজস্ব আদায় কম হবে। অন্যদিকে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজও বাস্তবায়ন করতে হবে। ফলে সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে আগামী বাজেটে প্রকল্পের সংখ্যা কমে যাবে। স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়বে। এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রী চাইলে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে আরও বরাদ্দ বাড়াতে পারেন।

পরিকল্পনা কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, সরকারের মেঘা সাতটি প্রকল্প ৩৭ হাজার ১১৬ কোটি টাকা রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ থাকছে ৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে থাকছে ১৫ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তিন হাজার ৩৭০ কোটি টাকা, মেট্রো রেল প্রকল্পে চার হাজার ৩৭০ কোটি টাকা, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পে তিন হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা এবং দোহাজারী থেকে কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমার সীমান্ত ঘুনধুম পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্পে আগামী বাজেটে বরাদ্দ থাকছে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এসব মেঘা প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো। কিন্তু করোনার প্রভাবে রাজস্ব আদায় কম হওয়ার কারণে আসছে বাজেটে চারটি মেঘা প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে। অবশ্য তিনটিতে বাড়ছে।

এদিকে বর্ধিত সভায় জানানো হয়, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে এপ্রিল এই সময়ে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৯ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। করোনার প্রভাবে গত প্রায় এক মাস সাধারণ ছুটি চলছে। সব উন্নয়ন কর্মকা- স্থবির। যার প্রভাব পড়েছে এডিপি বাস্তবায়নেও। অর্থবছরের ১০ মাসে টাকার অঙ্কে খরচ হয়েছে ৯৮ হাজার কোটি টাকার মতো। এই বছর সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ আছে এক লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। ফলে অর্থবছরের বাকি দুই মাসে খরচ করতে হবে আরো ৯৫ হাজার কোটি টাকা। যেটি প্রায় অসম্ভব।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে থোক বরাদ্দ বাবদ এক হাজার কোটি টাকা রাখা হচ্ছে। এই টাকায় জরুরি কোন প্রকল্প অনুমোদনের দরকার হলে খরচ করা হবে। সেটা স্বাস্থ্য কিংবা কৃষিসংক্রান্ত প্রকল্পে। জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের এডিপিতে প্রকল্পের সংখ্যা কমছে ১৫৫টি। করোনার কারণে প্রকল্পের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে প্রকল্প ছিল এক হাজার ৭৪২টি। আগামী বছর তা কমে দাঁড়াচ্ছে এক হাজার ৫৮৭টি। ফলে প্রকল্পের সংখ্যা কমছে ১৫৫টি।

নতুন এডিপিতে অবশ্য সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে পরিবহন খাত। এ খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েরছ ৫২ হাজার ১০০ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ খাত ২৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা খাত ২৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। তবে করোনার কারণে বিগত বছরগুলোর তুলনায় আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ছে। আগামী বছরের এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ১৩ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে এ খাতের জন্য বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ১০৯ কোটি টাকা। এছাড়া কৃষি খাতের জন্য আগামী এডিপিতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৮ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। চলতিঅর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে এখাতে বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা।

অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ : শিল্প ও সেবা খাত চাঙ্গা হবে

বিষয়টি একেবারে নতুন তা নয়, এর আগেও এমনটি ঘটেছে। যে কোন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের আগে বিষয়টি আলোচনায় আসে। আর বিষয়টি হচ্ছে কালোটাকা সাদা করা। অবশ্য অর্থনীতিবিদদের অনেকেই এই টাকাকে অপ্রদর্শিত অর্থ বলে থাকেন। এবারও নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের সময় এগিয়ে এসেছে। আর এই সময়ে আবারও অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যখন বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে তখন বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাজেটে অর্থ সংকুলানের প্রশ্নে সরকারকে এবার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এ অবস্থায় উদ্যোক্তা, অর্থনীতিবিদ ও রাজস্ব খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের অর্থের চাহিদা পূরণে পাচারকৃত ও কালোটাকা অর্থনীতিতে নিয়ে আসার এখনই উপযুক্ত সময়। তাদের মতে, রাজস্ব আয়ের নাজুক অবস্থাসহ বিভিন্ন উৎস থেকে সরকারের ধার দেনার প্রেক্ষাপটে বিনা প্রশ্নে কালোটাকা, অপ্রদর্শিত অর্থ এবং বিদেশে পাচার করা টাকা মূলধারায় বিনিয়োগের সুযোগ দিলে বিপুল অঙ্কের টাকা অর্থনীতিতে যোগ হবে। সরকারকে ধারকর্যের জন্য বিদেশে হাত পাততে হবে না আবার শিল্প ও সেবা খাতও চাঙ্গা হবে। তবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ নিয়ে বিতর্কও আছে।

অর্থনীতিবিদদের অনেকে যুক্তি দেখান, কালোটাকা মূলধারার অর্থনীতিতে নিয়ে আসতে হলে সাদা করার সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেগবান হয়। নতুন অর্থবছরের বাজেটে ঘোষণা দিয়ে কালোটাকা সাদা করার বিশেষ সুযোগ রাখা যেতে পারে বলেও মনে করেন তারা। তাদের মতে, সে ক্ষেত্রে বাজেটে যে আয় দেখাবে মানুষ সেখানে এর উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞেস না করার পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে যারা মূলধারায় টাকা আনবেন তাদের টাকার উৎস সম্পর্কে ভবিষ্যতেও কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা হবে না মর্মে নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ এর আগেও দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও কালোটাকাকে অর্থনীতির মুলধারায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টিগ্রিটি বা জিএফআইয়ের একসময়ের হিসাব মুদ্রাপাচারের দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষ ৩০ দেশের তালিকায় স্থান ছিল বাংলাদেশের। অন্যদিকে জাতিসংঘ বিনিয়োগ সংস্থা আংকটাডের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে যত টাকা কর আদায় হয়, তার অন্তত ৩৬ শতাংশের সমান টাকা বিদেশে পাচার হয়।

আমরা আশা করব, অর্থনীতির গতি সচল রাখতে এবারের বাজেটেও পাচার করা ও কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হবে।

[লেখক : প্রাবন্ধিক, অর্থনীতির বিশ্লেষক, কলামিস্ট]

anumahmud@yahoo.com