• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১

আসুন প্রোগ্রামার বানাই

মোস্তাফা জব্বার

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ০১ অক্টোবর ২০১৯

image

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী মানবসম্পদ : ‘মাননীয় স্পিকার, বিশ্ব এখন তৃতীয় শিল্প বিপ্লব থেকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে উত্তরণের পথে। বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদেরকেও তৈরি হতে হবে। না হলে সামনে অগ্রসর হওয়া আমাদের জন্য দুরূহ হবে। তাই আমাদের ক্লাশরুমগুলো বিষয় উপযোগী করে তুলতে হবে যেখানে শেখানো হবে ন্যানো টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, রেবোটিক্স, আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স, ম্যাটেরিয়াল সাইন্স, ইন্টারনেট অব থিংস, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ব্লকচেইন টেকনোলজি ইত্যাদি। এই সকল বিষয়ে শিক্ষাগ্রহণ এখন সময়ের দাবি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের ছাত্রের অভাব নাই। অভাব হচ্ছে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের। এই সকল বিষয়ে শিক্ষা প্রদানের জন্য জাপানের স¤্রাট মেইজির মতো আমাদেরকেও আজকের প্রয়োজন মেটাতে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে শিক্ষক নিয়ে আসতে হবে। এ সব কার্যক্রম আমরা এ বাজেট কাল থেকেই শুরু করতে চাই। এবং সেজন্য আমরা ২০১৯-২০ অর্থবছর হতে আমরা শিক্ষাখাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ রাখছি।’ মাননীয় অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার ২১ পৃষ্ঠা থেকে এই অনুচ্ছেদটি আমরা উদ্ধৃত করলাম। ১৩ জুন ১৯ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী জনাব আ.হ.ম, মোস্তাফা কামাল তার বাজেট বক্তৃতায় এই কথাগুলো বলেন। যে দেশ বিশ্বে প্রথম ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে রূপান্তরিত হবার ঘোষণা দিয়েছে সেই দেশের অর্থমন্ত্রী এমন কথা বলবেন সেটাই স্বাভাবিক। ধন্যবাদ মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে। ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার পর ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে সরকার গঠন করার পর প্রথম বাজেট পেশকালে ডিজিটাল বাংলাদেশ আলোচিত হয়ে আসছে- সেই ২০০৯-১০ সাল থেকে। ২০০৮ সালের দিন বদলের সনদ নামীয় নির্বাচনী ইশতেহার প্রণেতাদের নেতা তৎকালীন অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রথম ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়টি দেশের বাজেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন। “২০০৯-১০ অর্থ বছরের বাজেট বক্তৃতায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় একটি আর্থসামাজিক রূপান্তরকে বুঝিয়েছেন। একই বছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ বোঝাতে ৪টি অগ্রাধিকার খাতকে চিহ্নিত করেছেন।” (অর্থমন্ত্রীর বাজেট বই-ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্র হালচিত্র ২০১৯, পৃষ্ঠা ৯) সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর মতোই বাজেট বক্তৃতার সঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশবিষয়ক একটি হালচিত্র প্রকাশ করে এসেছেন। প্রথম বছরেই তিনি বাজেটে ১০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দও রেখেছিলেন। এবার নতুন অর্থমন্ত্রী আবারও প্রমাণ করলেন যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ নিছক কথার কথা বা একটি রাজনৈতিক সেøাগান নয়-আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বদ্ধ পরিকর এবং আমরা একই সঙ্গে এটিও অনুভব করছি যে, বিশ্বটা শিল্প বিপ্লবের চতুর্থ স্তর অতিক্রম করছে। বাজেট যেহেতু রাষ্ট্রীয় অগ্রযাত্রার পরিকল্পনার দলিল সেহেতু এ দলিলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও তার দক্ষতার বিষয়টি আলোচিত হওয়াটা আমাদের জন্য পরম গৌরবের। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতার ২৩ পাতায় উল্লেখ করেছেন যে “মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ৫ বছর মেয়াদে মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় ছাত্র ছাত্রীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষায় অগ্রাধিকার দেয়া হবে।” ১৪ জুন ১৯ বিকালে বাজেটোত্তর সাংবাদিক সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গৃহিত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।

এটা অবশ্যই অসাধারণ যে আমাদের রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার সর্বোচ্চ স্তরে আমাদের ভবনাটা কৃষি ও শিল্পযুগকে অতিক্রম করেছে। আমাদের ২০০৯ পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সব কর্মকান্ডে তার সর্বোচ্চ প্রতিফলনও ঘটেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বা চতুর্থ/পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের মানবসম্পদ তৈরির জন্যও আমাদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। ২০০০ সাল থেকে দেশে কম্পিউটারভিত্তিক আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল চালু হয়। শিশু শ্রেণী থেকে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয় সেসব স্কুলে। তারও আগে মাধ্যমিক স্তরে পাঠ্য করার জন্য ৯২ সালে কম্পিউটারের পাঠক্রম প্রণয়নের চেষ্টা করে ৯৬ সালে সেটি করতে সক্ষম হই এবং আমার লেখা বই দিয়েই ৯৮ সাল থেকে নবম দশম শ্রেণীতে কম্পিউটার শিক্ষা অন্যতম অপশনাল বিষয় হিসেবে পাঠ্য হয়। অন্যদিকে ২০০৯ সাল থেকে সর্ব পর্যায়ের প্রচেষ্টার সুফল হিসেবে ২০১১ সালে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়টি ষষ্ট শ্রেণীতে পাঠ্য হবার পর থেকে ১৫ সালের মাঝে একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীতেও বাধ্যতামূলকভাবে পাঠ্য করা হয়।

অর্থমন্ত্রী যখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মানবসম্পদের কথা বলেন তখন আমাদেরকে কেবল মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক বা উচ্চ শিক্ষার স্তরের কথা ভাবলে হবেনা। সারা দুনিয়া সেটিকে শিশু স্তরে নিয়ে গেছে। আমরাও সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি খুব দৃঢ়তার সঙ্গে মনে করি যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মানবসম্পদ তৈরির কাজটা শিশুদের দিয়েই শুরু করতে হবে। নিজের ছেলে বিজয়কে দিয়ে সেটি আমি শুরু করি। আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল আমাকে কম্পিউটারদক্ষ শিশু গড়ে তোলার সুযোগ দেয়। এরপর আমি তাদের শিক্ষাকে ডিজিটাল করতে চেষ্টা করি এবং এখন অবধি চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত এনসিটিবির পাঠ্য বই ডিজিটাল করতে পেরেছি। ৫ম শ্রেণীর কাজ করছি। ১৯ সালে সেটিও হয়তো হয়ে যাবে। এরপর ১৫ সালে জাতীয়ভাবে স্ক্র্যাচ নামক একটি প্রোগ্রামিং ভাষাকে শিশুদের কাছে পৌঁছানোর জন্য আনন্দ মাল্টিমিডিয়া নামক আমার নিজের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষক প্রশিক্ষণ শুরু করি। ১৭ সালে বেসিসের সভাপতি হিসেবে সেই কাজটি বিআইটিএম থেকে করার চেষ্টা করি। তবে এর প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক সফলতা আসে ১৮ সালে-যখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে জাতীয় শিশু কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারি। খুব সংক্ষেপে প্রথম জাতীয় শিশু কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার কথা স্মরণ করতে পারি।

শিশু কিশোরদের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা : দুনিয়ার অন্যসব দেশের মতোই বাংলার শিশু কিশোররা যেন প্রোগ্রামিং এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে তার জন্য অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া বাঞ্ছনীয়। এর মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হতে পারে বাধ্যতামূলক কম্পিউটার শিক্ষা যার অংশ হতে পারে প্রোগ্রামিং শেখাও। ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও সেই পদক্ষেপটি এখনও গ্রহণ করা হয়নি। সেই কাজটি শুরু করার আগেই আমি ভাবলাম কেমন হয় যদি জাতীয় পর্যায়ে শিশু কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেই ভাবনা থেকেই উদ্যোগ নিই জাতয়ি শিশু কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ। বস্তুত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের চেতনা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তথ্য প্রযুক্তিতে আরো দক্ষ করে গড়ে তুলতে ১৮ সালে প্রথমে জেলা পর্যায়ে জাতীয় শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়। সারাদেশে ৬৪ জেলায় ১৮০টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে জেলা পর্যায়ের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা সিআরআই, ইয়ং বাংলা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল যৌথভাবে আয়োজন করে।

দুদিনব্যাপী জেলা পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় ৬৪ জেলা হতে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার ৪০০ জন অংশগ্রহণ করে। স্ক্র্যাচ ও পাইথন দুই বিভাগে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা।

জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক বাছাই শেষে স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় ২ হাজার ৭০০ জন এবং পাইথনে ২ হাজার ৭০০ জন অংশগ্রহণ করে। স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাটিতে প্রতি তিনজন শিক্ষার্থী একটি টিম হিসেবে এবং পাইথনে প্রতিজন শিক্ষার্থী এককভাবে অংশগ্রহণ করে।

সারা দেশে ১৮০টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে পাইথন ও স্ক্র্যাচের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় গত ১২ মে থেকে ৩০ মে ১৮ পর্যন্ত। তার আগে গত ১৬ ও ১৭ এপ্রিল ১৮ বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষকদের জন্য দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সেখানে ৩৬০ জন আইসিটি শিক্ষক এবং শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের কো-অর্ডিনেটরেরা প্রশিক্ষণে অংশ নেন।

শিক্ষার্থীদের ল্যাব প্রশিক্ষণ শেষে ২ জুন এবং ৩ জুন জেলা পর্যায়ে স্ক্র্যাচ ও পাইথন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়। জেলা ভিত্তিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নিয়ে পরবর্তীতে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী ‘পাইথনভিত্তিক জাতীয় ক্যাম্প’ এবং দুই দিনের ‘স্ক্র্যাচ ভিত্তিক জাতীয় ক্যাম্প’ আয়োজন করা হবে।

এই জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে সেরা প্রকল্পগুলোকে সমাপনী এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা হয় এবং বিজয়ীদেরকে পুরস্কৃত করা হয়।

এরই মাঝে ২০১৯ সালের শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজনও সমাপ্ত হয়েছে। গত জুন মাসেই প্রতিযোগিতার কাজ শেষ হয়ে গেছে। আশা করি ২০ সালেও প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। ১৮ সালে আমরা তৃতীয় শ্রেণী থেকে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম। ১৯ সালে সেটি প্রথম শ্রেণী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এর প্রধানতম কারণ হলো ১৯ সালে আমরা ৫-৮ বছরের শিশুদের জন্য স্ক্র্যাচ জুনিয়ার নামক প্রোগ্রামিং ভাষাটি পেয়েছি।

তত্ত্বীয়ভাবে শিশুদের প্রোগ্রামিং করতে পারার বিষয়ে আমাদের আশাবাদ থাকলেও বস্তুত এ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই আমরা প্রমাণ পেলাম যে শিশুরা প্রোগ্রামিংকে ভয় পায়না। এই প্রতিযোগিতার বড় একটি সফলতা হলো যে এতে যারা বিজয়ী হয়েছে তাদের কেউই প্রায় রাজধানীর নয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল যেমন লালমনির হাট থেকে এসে ওরা বড় বড় শহরের স্কুলগুলোকে হারিয়ে দিয়েছে। এমনকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছেলে মেয়েরা রাজধানীর নামিদামি কিন্ডারগার্ডেন বা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোকে পরাস্ত করেছে। একই সঙ্গে আমরা শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক-অভিভাবিকাদের মাঝে বিপুল আগ্রহ দেখেছি। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিশু কিশোরদের সৃজনশীলতাকে বিকশিত করার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। আমরা যদি প্রথম জাতীয় শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাকে আরও তৃণমূলে পৌঁছাতে পারি তবে সেটি ডিজিটাল যুগের বা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী আমাদের মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি সহায়ক হবে।

বাধ্যতামূলক প্রোগ্রামিং শেখা : এরই মাঝে ডাক টেলি যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গত ২৫ অক্টোবর ১৮ প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীকে সামনের শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরে প্রোগ্রামিংসহ তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়টি পাঠ্য করার জন্য অনুরোধ করে পত্র পাঠানো হয়েছে। ১৮ সালে জাতীয় বালিকা প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাতেও শিশুদের স্ক্র্যাচ দিয়ে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করানো হয়। ২২ অক্টোবর ১৮ ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এইসব প্রতিযোগিতা আগামীতে অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়।

বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য এসব প্রতিযোগিতা মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলেই আমি মনে করি।

কেমন করে শুরু করবেন : এবার অর্থমন্ত্রী চতুর্থ শিল্পযুগের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরির পদক্ষেপ নেবার ঘোষণা দেবার ফলে আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। উচ্চশিক্ষায় ডিজিটাল প্রযুক্তিগুলো পাঠ্য করার আগে বস্তুত শিশুশিক্ষায় রূপান্তরটা ঘটাতে হবে। এ জন্য প্রাথমিক স্তরে প্রোগ্রামিং বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমরা যখন শিশুদের জন্য প্রোগ্রামিং শেখা বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবছি তখন অভিভাবক-অভিভাবিকা, বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিজেদের প্রস্তুতি নেয়া দরকার। বাংলাদেশের একটি গৌরবের বিষয় যে আমাদের সন্তান বিজয় জব্বার স্ক্র্যাচ শেখার জন্য সহায়তা করতে প্রোগ্রামিং উইথ স্ক্র্যাচ নামে একটি বই লিখেছেন। বইটি তাম্রলিপি নামক একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রকাশও করেছে। বইটির প্রথম প্রকাশিত সংস্করণটি ইংরেজিতে। তবে এর বাংলা সংস্করণও প্রস্তুত হয়েছে। সহসাই বইটির বাংলা সংস্করণও প্রকাশিত হবে। অন্যদিকে স্ক্র্যাচ শেখার জন্য প্রায় সব উপকরণ রয়েছে এমআইটির সাইটে। https://scratch.mit.edu/ ঠিকানায় গিয়ে নিজে যেভাবে যেখান থেকে শুরু করতে চান তাই করতে পারেন। সাইটটিতে শিশুদের জন্য যেমন শিক্ষা উপকরণ আছে তেমনি আছে পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের জন্য যাবতীয় নির্দেশনা। এ সাইটটিতে চার কোটির বেশি প্রকল্প দেখার সুযোগের বাইরে ভিডিও টিউটরিয়ালের সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে। বস্তুত এমআইটির ওয়বসাইটটি খুবই সমৃদ্ধ একটি ওয়েব সাইট। সাইটটিতে গেলে অনুভব করবেন যে, শিশুদের প্রোগ্রামার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনের কেন্দ্র হচ্ছে এই সাইটটি। বিশ্বের কোটি কোটি শিশুর আগামী দিনের ঠিকানা এ সাইট। বিশ্বজুড়ে স্ক্র্যাচ দিবসও পালিত হয়। সচরাচর সেটি মে মাসে হয়। তবে অন্য সময়েও হতে পারে। ২০ সালে আমাদের একটি বড় প্রচেষ্টা হতে পারে একটি স্ক্র্যাচ দিবস পালন করা। স্ক্যাচের জন্য একটি ফোরামও গড়ে তোলা যায়। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগতো জাতীয় শিশু কিশোর প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। দেশজুড়ে স্ক্র্যাচ শেখানোর আয়োজনও থাকবে। আমি আমাদের কয়েকটি স্কুলে স্ক্র্যাচ শেখানো বাধ্যতামূলক করেছি। এটি সকলের জন্য বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা চলছে। আমরা বাংলাদেশেও শিশুদের প্রোগ্রামার বানানোর সকল প্রচেষ্টা গ্রহণ করছি। আসুন সবাই আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য নিজেদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে সমর্পণ করি।

স্ক্র্যাচ দিয়ে শিশুরা প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করলে তাদের পরের ধাপেও নিয়ে যেতে পারেন। আমরা মনে করি মাধ্যমিক স্তরে পাইথন বা জুলিয়াও প্রোগ্রামিং শেখার ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

আমাদের জন্য সুখবর যে প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা, সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং সরকারের অন্য নীতি নির্ধারকরাও অনুভব করেন যে শিশুদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী দক্ষতা দিয়ে গড়ে তুলতে হবে। দিন শেষে আমরা অনুভব করলাম যে আমাদের যাত্রাটা সঠিক পথেই রয়েছে।

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯

[লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাসের চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কিবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক] mustafajabbar@gmail.com, ওয়েবপেজ: www.bijoyekushe.net.bd, www.bijoydigital.com