• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ৬ ফল্গুন ১৪২৬, ২৪ জমাদিউল সানি ১৪৪১

রাজনীতির পথে প্রান্তে

বাঙালির মূল রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গেই জড়িত ছিল ভাষা আন্দোলন

ফকীর আবদুর রাজ্জাক

| ঢাকা , শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। জাতিসংঘের কৃপায় ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষাদের দিবসও। সেদিক থেকে ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর সব ভাষার প্রতি মর্যাদা প্রদানের মাহাত্মও স্বীকৃত। মাসটি তাই সবার কাছেই স্মরণীয়। কিন্তু ভাষা, যা শহীদ দিবস হিসেবে আমাদের পরিচিত ও মাথানত না করার মহান দিন হিসেবে ৬৮ বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে। তা একান্তই বাঙালির। পূর্ববঙ্গের বাঙালির। জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেয়ার পর তা সব ভাষাভাষি মানুষের। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী এক মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করার পর বাংলা ভাষা পূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়। সেই থেকে এই দিবসটি সরকারিভাবে পালিত হয়ে থাকে নানা অনুভবে। তাতে ভাষার মর্যাদা বেড়েছে, কিন্তু শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে এমন কথা অনেকেই ভাবেন না। বরং যতই দিন যাচ্ছে ততই শহীদ দিবস আনুষ্ঠানিকতায় আবদ্ধ হয়ে বোধ হয় শ্বাসকষ্টেই ভুগছে। কথা ছিল বাংলা ভাষা কেবল রাষ্ট্রীয় সরকারি ভাষাই হবে না, জীবনের প্রতিটি ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ভাষার প্রয়োগ নিশ্চিত হবে। সেটা হয়নি। বরং আমরা এখন অধিকমাত্রায় বিদেশি ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছি। ২১ ফেব্রুয়ারি বা ভাষার মাস সমাগত হলেই প্রতি বছর তা পালন করা হয় নানা আনুষ্ঠানিকতায়। যেমন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, মাসব্যাপী বইমেলা, একুশে পদক প্রদান এবং নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে গোটা মাস হইচই আর হুইহুল্লোড়ে কেটে যায়। মাসটি বিদায় নিলেই আবার যা তাই। সেই হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজিতে বাৎচিত। কাজকর্ম, ইংরেজি ভালো না জানা যেন একজন শিক্ষিত মানুষের অপরাধ। চাকরি-বাকরি অন্যান্য ক্ষেত্রে তার অযোগ্যতা বলেই গণ্য করা হয়। বিষয়টি শিক্ষিত অসংখ্য বাঙালিকেও আজ ভাবিয়ে তুলেছে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে এই একুশ শতকের জাতির গন্তব্য কোথায়?

একদা আমরা সামরিক শাসনের ছত্রচ্ছায়ায় ষাটের দশকের গোড়ায় যখন ২১ ফেব্রুয়ারি বা মাতৃভাষা দিবস পালন করতাম তখন স্কুলের ছাত্র। ৬২-৬৩ সালে। কলাগাছ কেটে তা দিয়েই স্কুলের আঙিনায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে শহীদ মিনার বানিয়ে ফুলের মালা দিতাম। তখন নবম-দশম শ্রেণীর ছাত্র। শিক্ষকরা বাধা দিতেন না, দিবস পালনের আয়োজনে অংশও নিতেন না। কিন্তু একজন ধর্ম শিক্ষক যিনি উর্দু পড়াতেন তিনি বললেন- এসব অনৈইসলামিক কাজ। বেদাত। অত কিছু না বুঝলেও ওই শিক্ষকের কথার জবাব দিয়ে বলেছি- আপনিও তো বাংলায়ই কথা বলেন। তাহলে সেই ভাষার দাবি পূরণের আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের স্মরণ করা, শ্রদ্ধা জানানো ধর্মবিরোধী কাজ হবে কেন? প্রকৃত সত্য এবং ধর্মব্যবসায়ীদের অভিসন্ধি বড় হয়ে বুঝেছি। আজকেও সেই অভিসন্ধি চলছেই। বস্তুত: সামরিক শাসন মাথার উপর জেঁকে বসার পরেই বাঙালি জাতি অধিক আবেগের সঙ্গে আঁকড়ে ধরেছিল মাতৃভাষা দিবস পালন ও তাকে দেশের গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়োজনের বিষয়। সে সঙ্গে শোষণ-বঞ্চনায় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ যখন নিঃস্ব-জর্জরিত এবং পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালিদের বাঙালিত্ব ভুলিয়ে দেয়ার নানা তৎপরতায় লিপ্ত তখনই আরও অধিক আবেগের সঙ্গে বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরেছিল। যেমন উর্দু-ফার্সি ভাষার মিশ্রণে এক ধরনের বাংলা ভাষা চালু করার সেই আইয়ুবি সামরিক শাসনের উদ্যোগ, রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া ও বেতারে প্রচার নিষিদ্ধ এমন কি মুর্খের শিরোমণি এক গভর্নর দেশের কয়েক সুপরিচিত বড় সাহিত্যিক-ভাষাবিদকে ডেকে বলেছিলেন ‘আপনারা রবীন্দ্র সংগীত লিখতে পারেন না। এখন থেকে সেটাই করুন। এসব ঘটনায় পাকিস্তানি শাসকদের অভিসন্ধি সম্পর্কে বাঙালি শিক্ষিত মানুষ ও ছাত্র সমাজ পরিষ্কার বুঝে গেলেন- আসল উদ্দেশ্য কি? মূলত বাঙালিত্ব ঢেকে দিয়ে উর্দু ভাষার প্রচলন ও পাকিস্তানি সংস্কৃতিকে বাঙালির জীবনে প্রতিষ্ঠিত করা। ফলে বাঙালি জাতি দ্রুত ঐক্যবদ্ধ হয় এবং নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে রক্ষায় আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরে। ৬ দফার আন্দোলন দানা বেঁধে উঠে এবং দেশব্যাপী তা প্রচারিত হতে থাকে ও দেশের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের বিশাল বৈষম্য ও বঞ্চনার চিত্র জনগণের সামনে যখন চলে আসে তখন স্বাভাবিকভাবেই বাংলা ভাষা ও ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব আরও বেশি বৃদ্ধি পায়। আর এর মাধ্যমেই সামরিক শাসনবিরোধী ঐক্য যেমন গড়ে উঠে তেমনি গণতন্ত্র ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী প্রেরণায়ও বাঙালি সমাজও উজ্জীবিত হতে থাকে।

এরপর ক্ষমতা দখলকারী সামরিক শাসকরা আরেকটা বড় ধরনের ভুল কাজ করে। ৬ দফা আন্দোলনের মূল নেতাকে আগেই বিশেষ নিরাপত্তা সামরিক আদেশে গ্রেফতার করে কারাগারে রাখা অবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখিয়ে সামরিক ছাউনিতে নিয়ে বন্দি করে রাখা হয়। তাতে গোটা দেশ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ছাত্রসমাজ দ্রুত ঐক্যবদ্ধ হয়ে আইয়ুব স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন ও সামরিক সরকারের পতনের দাবিতে গড়ে উঠে গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদী ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের মোর্চা- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। ফলে বাংলার ছাত্রসমাজের সঙ্গে সাধারণ জনতাও এগিয়ে আসে। শুরু হয় তুমুল আন্দোলন। যার মধ্যে মূল দাবি ছিল- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সামরিক শাসনের অবসান ঘটাতে হবে, শেখ মুজিবসহ কারাবন্দি সব নেতাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে সব কারাবন্দি রাজনৈতিক নেতাকে মুক্তি দিতে হবে- ইত্যাদি। এই সময়ই বাংলা মাতৃভাষার আন্দোলন জোরদার হয়। বাঙালি মাত্রেই তার আত্ম পরিচয়ের ঠিকানার সন্ধানে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে জড়ো হয়, একাকার হয়ে যায়, রাজনীতির সঙ্গে সব ভাষাপ্রেমী সাংস্কৃতিক সংগঠন।

এই ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ’৬৯-এর প্রথম পর্বে এসে রূপ নেয় ছাত্র জনতার ঐক্যজোটে। যার মাধ্যমে গোটা পূর্ব পাকিস্তানে তুমুল আন্দোলন গড়ে উঠে, যা আইয়ুব সামরিক শাসকদের পক্ষে আর সামাল দেয়া সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয় ছাত্র জনতার দাবি একে একে মেনে নিতে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করা হয় এবং শেখ মুজিবকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে রাওয়ালপিন্ডিতে গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিয়ে দাবি-দাওয়া পেশের জন্য। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা দাবি বা স্বায়ত্তশাসনের দাবি গোলটেবিল বৈঠকে প্রত্যাখ্যাত হলে ঢাকায় ফিরেই তিনি আন্দোলনে ডাক দেন। এ সময় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এক বিশাল ছাত্রজনতার সভা থেকে শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়। উপস্থিত লাখো জনতা এই ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি মেনে তুমুল স্লোগান শুরু করে দেয়। ঢাকাসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসমাজ ও জনতা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’ নামে তাকে সমুজ্জল করে তোলে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এবং পরবর্তীকালের শেখ মুজিবুর রহমান পরিচিত হবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হিসেবে। এটা আজ প্রতিষ্ঠিত সত্য এবং যথার্থ উপাধি বলে সমাদৃত, যা গোটা বাঙালি জাতি কর্তৃক স্বীকৃতি। বস্তুত: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন মুক্ত মানুষ হিসেবে বেরিয়ে জনগণের-সামনে দাঁড়ান, নেতৃত্ব দেন এবং প্রকৃত বাঙালির মুখপাত্র হয়ে উঠেন, তখন মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী সমৃক্ত হয়। তারাও হৃদয়ে সাহস ফিরে পায়। ভাষাকে শৃঙ্খল মুক্ত করার নানা কর্মসূচি আরও বিস্তৃত ও বেগবান হয়।

ষড়যন্ত্র মামলা থেকে জেলমুক্ত হয়েই বঙ্গবন্ধু সারা দেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করেন। গোটা দেশ তাতে জেগে উঠে। বাঙালি হতাশায় হারিয়ে ফেলা সেই প্রাণশক্তি ফিরে পায়। ইতোমধ্যে জেনারেল আইয়ুব খান প্রেসিডেন্টের পদ ও ক্ষমতা ছেড়ে তা তুলে দেন আরেক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে। এই ইয়াহিয়া ক্ষমতা হাতে পেয়েই ঘোষণা করেন দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবং আগামী বছর অর্থাৎ ’৭০ সালেই তা অনুষ্ঠিত দিনক্ষণ যথাসময়ে জানিয়ে দেয়া হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সাংগঠনিক সফর ছিল মূলত: নির্বাচনে জনজোয়ার তোলারই কৌশল। সারা দেশ যেন নতুন করে জীবন ফিরে পায়। এমন একটা সময়ই তৎকালীন বাংলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান অতিথি করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারলে বাংলাই হবে একমত্র রাষ্ট্রীয় ভাষা। উল্লেখ্য, ৫২-র মাতৃভাষা রক্তাক্ত আন্দোলন, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় কয়েকজন শহীদ ও হাজার হাজার ছাত্র জনতাকে গ্রেফতার করার পর তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষা আন্দোলনের দাবি মেনে তাকে উর্দুর সঙ্গে দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু সেই থেকে জেনারেলদের শাসনামল পর্যন্ত ‘বাংলায়’ বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে ষড়যন্ত্র চলছিলই। বঙ্গবন্ধু তার সবই জানতেন বিশেষ করে কারামুক্ত হবার পর তা তিনি বিস্তারিত জেনেই সে সময় বাংলা একাডেমির ওই সভা থেকে ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে বাংলার মর্যাদা ও যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেবে। তখনও তিনি বলেননি বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বাংলাই হবে একমাত্র রাষ্ট্রীয় ভাষা। এখন থেকে নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু করেন তিনি। শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিও জানান শাসকদের কাছে।

কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকাকালে শহীদ দিবস পালন করেছি মনপ্রাণ দিয়ে। কারও চোখ রাঙানি বা ভ্রুকুটি পরোয়া না করে কখনও শহীদ বেদি তেরি করে কখনও কোনমত বানানো শহীদ মিনারে গিয়ে খালি পায়ে ভোররাতে মিছিল করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি। ঢাকায় আজ যে শহীদ মিনার দেশ স্বাধীনের পরও তা ছিল না। সামরিক শাসকদের ক্ষমতার আমলে অযত্নে সংস্কারবিহীন আবর্জনাময় শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি আমরা। তারপর ধীরে ধীরে মূল নকশা অনুযায়ী শহীদ মিনারের রূপ বদল হয়েছে, সৌন্দর্য বেড়েছে এবং নিয়মশৃঙ্খলাও বলবত হয়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও ২১ ফেব্রুয়ারির পর সারা বছর অনেকটাই অবহেলায় দাঁড়িয়ে থাকে শহীদদের উদ্দেশে গড়া স্মৃতির মিনার। কেননা এখন তো আনুষ্ঠানিকতায় ছেয়ে রয়েছে ভাষা দিবস। স্বাধীনতার পর যখন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করে তখন থেকেই ধীরে ধীরে আমলাতন্ত্রের নির্দেশ-আদেশে এখন পালিত হয় ভাষা দিবস। আগের সেই প্রাণোচ্ছ্বাস নেই, এখন আছে বড় সমাবেশ, বড় মিছিল নিয়ে শহীদ দিবসে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। যখন বাঙালির ঐতিহাসিক মাতৃভাষা দিবসকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেয় সেই থেকে পৃথিবীর সব দেশ তাদের নিজ নিজ ভাষা দিবস পালন করে ২১ ফেব্রুয়ারি। বাঙালির এতে পরে অহঙ্কার বাড়লেও আনুষ্ঠানিকতার শৃঙ্খল মুক্ত হয়ে সেই প্রাণোচ্ছ্বাসের শহীদ দিবস জনগণের কাছে ফিরে আসতে পারেনি। দিন দিন সরকারি নিয়মকানুনে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে। আবার ব্যবহারিক জীবনের সর্বত্র বাংলা’র প্রচলন নিশ্চিত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিব যখন স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী, তখন তিনিই আমলাদের তৈরি করা ইংরেজি ভাষার নোট-ফাইল ছুড়ে ফেলে দিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন- সমস্ত অফিস-কাজ যেন বাংলায় করা হয়, শুধু বৈদেশিক যোগাযোগ ছাড়া। এছাড়া মৌলিক কাজও এগোয়নি তার নির্দেশ মতো। বলেছিলেন- সব বিদেশি ভাষার প্রয়োজনীয় বইপত্র বাংলায় অনুবাদ করতে হবে। হয়েছে কিছু, হয়নি বেশিরভাগ। ফলে রাষ্ট্রীয় একমাত্র ভাষার স্বীকৃতি পেয়েও বাংলা আজ দরিদ্র হালে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। সবার জন্য দরকার আরেকটি ভাষা আন্দোলন।

আমার এ লেখাটি রুটিন অনুযায়ী ছাপা হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি পরের সপ্তাহেরটা ২২ ফেব্রুয়ারি। তাই এ লেখাতেই আগোছালো কিছু কথা মাতৃভাষা সম্পর্কে লেখা। উদ্দেশ্য বাঙালির রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গেই মাতৃভাষা আন্দোলন ওতোপ্রতভাবে জড়িত। আমাদের প্রিয় গর্বের ও আত্মদানের মহান শহীদ দিবস। বাঙালির যা চেতনা সমৃদ্ধ করে- মাথানত না করতে শেখায়।

[লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট]