• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৭ জিলহজ ১৪৪১, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

রাজনীতির পথেপ্রান্তে

করোনাভাইরাসে মুজিববর্ষ

ফকীর আবদুর রাজ্জাক

| ঢাকা , শনিবার, ২১ মার্চ ২০২০

যখন লিখতে বসেছি তার দু’দিন পরেই ১৭ মার্চ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের শততম জন্মদিন। এরপর পরবর্তী বছরের ১৭ মার্চ পর্যন্ত পালনের আকাক্সক্ষা ছিল সরকার, সরকারি দল, মুজিবপ্রেমী প্রতিটি মানুষের। সেই লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচিও আয়োজন করেছিল সব মহল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সরকার ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ পালনের কর্মসূচি কাটছাঁট করেছে। কেননা ওই ভাইরাস থেকে বাংলাদেশও এখন নিরাপদ নয়, বিদেশফেরত কয়েকশ’ ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যাদের করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি তাদের বাড়ি পাঠানো হয়েছে তবে তাদেরও কমপক্ষে দুই সপ্তাহ হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার ব্যত্যয় ঘটলে কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সরকার। অর্থাৎ সরকার অনুমান করছে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। কারণ চীন ও ইউরোপের দেশগুলো থেকে যেসব বাঙালি দেশে ফিরছেন তাদের পরীক্ষা করে ওই সব দেশ থেকে পাঠিয়ে দেয়া হলেও সরকারের সন্দেহ দূর হচ্ছে না। চীনের বাইরে ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, ইরান প্রভৃতি দেশে করোনাভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তাতে এ পর্যন্ত ৮ হাজারের অধিক ব্যক্তি মারা গেছেন এবং আক্রান্ত হয়েছেন দুই লক্ষাধিক মানুষ। আমেরিকার মতো উন্নত দেশও ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এ পর্যন্ত ৫০ জনের মতো মানুষ। সেখানে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ইউরোপের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এশিয়ার দেশগুলোও আক্রান্ত, তবে ইরানের তুলনায় কম। তবে প্রায় অধিকাংশ এশিয়ান দেশেই কম-বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে সার্কভুক্ত সব দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করে পারস্পরিক মতবিনিময় করেছেন। কীভাবে সার্ক দেশে করোনা আক্রান্ত মানুষকে বাঁচানো যায়, মেডিকেল সাহায্য-সহযোগিতা করা যার তার উদ্দেশ্য। সম্মিলিত উদ্যোগ নিলে হয়তো পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব। এ কথা আজ বিশ্বনেতারা স্বীকার করেছেন করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করেছে। এটা মরণঘাতী ভাইরাস। তবে সব দেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেছেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে এবং জমায়েত ভিড় এড়িয়ে চললে ভাইরাসটির সংক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। বস্তুত এ কারণেই বঙ্গবন্ধু শতবর্ষ পালনের আকাক্সক্ষা থেকে দেশবাসীকে সরে আসতে হয়েছে। পৃথিবীর বহু দেশে এ কারণেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশেও বন্ধ করছে সরকার। করোনাভাইরাসের আতঙ্কই বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে আমাদের মতো দেশগুলোতে। তবে আগে থেকে সতর্ক ও মেডিকেল ব্যবস্থা ব্যাপক করতে পারলে অনেক বেশি সাফল্য আসবে। এখন সরকার সব ধরনের সভা-সমাবেশ এমনকি জুমার নামাজে অধিক সংখ্যক মুসল্লির সমাগমও নিয়ন্ত্রণ করেছে। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ তো বন্ধই।

যতই দিন যাচ্ছে ততই করোনাভাইরাসের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন ইউরোপ-আমেরিকার একশয়ের বেশি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত্যু ও আক্রান্তের হার দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সঙ্গে সম্প্রতি যে আলাপ-আলোচনা করেছেন তা বিরাট প্রভাব ফেলবে এই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর। তিনি পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, যৌথ গবেষণার যে প্রস্তাব দিয়েছেন এবং রোগ-প্রতিরোধে একটি ফান্ড গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন- তা অবশ্যই কার্যকর উদ্যোগ। বাংলাদেশসহ সব দেশ এসব প্রস্তাবে উৎসাহী। নরেন্দ্র মৌদি তার বক্তৃতাতে ঘোষণা করেছেন ফান্ডে ভারত সরকার ১০ বিলিয়ন ডলার দেবে। এ ঘোষণায় সবাই উজ্জীবিত। কার্যকর ফল পাওয়া যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ইতোমধ্যে সরকার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে। অবস্থার সম্ভাব্য ভয়াবহতা চিন্তা করেই সরকার এসব পদক্ষেপ নিয়েছে। তাহলে মুজিব শতবর্ষ পালনের কি হবে। সরকার এরই মধ্যে জানিয়েছে- বঙ্গবন্ধু শতবর্ষ পালনের যে বিরাট কর্মসূচি নিয়েছি তা কাটছাঁট করে সংক্ষিপ্ত আকারে পালন করা। এর একমাত্র কারণ হলো জনসমাগম বাড়িয়ে কোন অনুষ্ঠান করা যাবে না। বস্তুত ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের সেই ভয়াবহ ও মর্মান্তুদ ঘটনার পর আমরা মুষ্টিমেয় কিছু বঙ্গবন্ধু দরদি কর্মী বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস পালন করেছিলাম সামরিক ও স্বৈরাচারী সরকারের চোখ এড়িয়ে। সংক্ষিপ্ত হলেও সেসব অনুষ্ঠানে প্রাণাবেগ ছিল পরিপূর্ণ। তখন সব কিছুই ছিল সামরিক সরকারের বাধা নিষেধের মধ্যে। ’৭৫ সালের পর আমরা কয়েকজন ঠিক করলাম বঙ্গবন্ধুর নামে একটা মিলাদ দেব। সেই মোতাবেক একটা জায়গা ঠিক করা হলো মতিঝিলের একটা অফিস রুমে। একজন মৌলভী মিলাদে পড়বেন সেটাও ঠিক করা হলো। আমরা সর্বমোট ৮-১০ জন সদস্য। মৌলভী সাহেব যথারীতি মিলাদ শুরু করলেন। কিন্তু আগে থেকে বলে দেয়ার পরও মৌলভী সাহেব মোনাজাতের সময় বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনা করে কোন কথা বললেন না। তখন আমাদের তৎকালীন ঢাকা মহানগরের সম্পাদক কাজী ফিরোজ রশিদ ক্ষেপে গিয়ে মৌলভীকে মারতে উদ্যত হলেন। তাকে আমরা নিবৃত্ত করলাম। একজন মৌলভী বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মিলাদের মোনাজাতে বঙ্গবন্ধুর নামই উচ্চারণ করবে না সেটা মেনে নেয়া যায় না। এভাবে বহু কর্মসূচি আমরা পালন করেছি প্রাণের আবেগ ও ঝুঁকি নিয়ে।

তাই বলছিলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হৃদয়ের মণিকোঠা থেকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জানানোর জন্য জাঁকজমকের কোনই প্রয়োজন নেই। তাকে প্রকৃত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানানোর উত্তম পথ হলো প্রাণের সব আবেগ ও ভালোবাসা দিয়ে ডালি সাজিয়ে দেয়া। কোন রকম শান শওকতের প্রয়োজন নেই। করোনাভাইসের কারণে এই শিক্ষা আমরা পেয়েছি। মহা দুর্যোগের মধ্যেও বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা দিবসগুলো আমরা যখন ফুলের ডালি সাজিয়ে নিতাম বাধা-নিষেধের মধ্যে নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। তাতে আবেগ ও ভালোবাসা ছিল এমন কি নব্য নেতাকর্মীও মাকাল ফল জাতীয় নেতাকর্মীতে দলটি ভরপুর তাতে যত জৌলুস নিয়েই বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হোক না কেন তাতে আর যাই হোক জাতির পিতার প্রতি যথার্থ সম্মান দেখানো হবে না। তাই সংক্ষিপ্ত আকারে এবং ছোট আকারে যদি তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয় এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে দিবসটি পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা সম্ভব। তাতে করোনার প্রভাব ও বিস্তৃতি থেকে দেশবাসী অনেকখানি রেহাই পাবে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণই হবে এই মহামারীর সংক্রমক থেকে জাতি মুক্ত থাকতে পারবে।

যখন লিখতে বসেছি তখন ১৭ মার্চ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শততম জন্ম দিবস। এই দিন থেকেই ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী পালনের নানা কর্মসূচি। যদিও করোনাভাইরাসের কারণে শতবর্ষ পালনের কর্মসূচি, জাঁকজমক, ধুমধাম, সমাবেশ, মিছিল সবই সরকার কাটছাঁট করেছে। এখন সংক্ষিপ্ত আকারে সব কর্মসূচি পালিত হবে। দলের একশ্রেণীর নেতাকর্মী তাতে আহত হয়েছে তাদের ইচ্ছা ছিল ধুমধামের সঙ্গে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বড় আকারে ও ব্যাপকভাবে দিবসটি পালন যাতে প্রধানমন্ত্রীর নজর কাড়া যায়। এই আসল উদ্দেশ্য ভেস্তে গেছে। কিন্তু তারপরও আমাদের বিশ্বাস দলের ওইসব নেতাকর্মীরা বসে থাকবেন না। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণই তাদের মূল উদ্দেশ্য। দেশে যেহেতু ব্যাপক আকারে করোনাভাইরাস বিস্তার লাভ করেনি। এই সুযোগই তারা নেবে। তাছাড়া এই খাতে তারা চাঁদা তুলে চলেছেন বিপুল। তারও তো খানিকটা সদ্ব্যবহার দেখাতে হবে সবাইকে। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই এসব আঁচ অনুমান করেছেন। যে কারণে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ঘরোয়াভাবে ছোট আকারে করতে হবে। কিন্তু তারপর এক শ্রেণীর নেতাকর্মী বসে থাকবে না। তারা সভানেত্রীর চোখ এড়িয়েই বড় আকারে কর্মসূচি পালন করবে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকারও বড় সমাগম এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে। বড় সমাগম থেকেই ওই ভাইরাসটি বেশি ছড়ায় এবং সংক্রামিত হয়। তাই সতর্কতাই আসল প্রতিরোধের উপায়। আর বঙ্গবন্ধুকে প্রকৃত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানানোর উপায়ে আগেই উল্লেখ করেছি। তাকে প্রকৃত ভালোবাসার উপায় হলো- হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে। তার মধ্যে থাকবে না কোন জাঁকজমক, উচ্ছ্বাস দেখানোর বাহবা। এবং একটা মিলাদ মাহফিল, আত্মার মাগফিরাত জানিয়ে একটা দোয়া মাহফিল। এটাই হবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। যেহেতু করোনাভাইরাস থেকে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে রক্ষা করার জন্য এর চাইতে বড় উপায় নেই। ঢাকঢোল পিটিয়ে নাচগান, বা ব্যান্ড পার্টিকে জাঁকজমকের সঙ্গে নেতার জন্মশতবার্ষিকী পালন বস্তুত বঙ্গবন্ধুকেই ছোট করা হবে।

১৯৭০ সালে ১৭ মার্চ আমরা কয়েকজন বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে গেলাম। বঙ্গবন্ধু তার স্বভাব মতো পাইপ মুখে দিয়ে নিচে নেমে এলেন। এরই মধ্যে মহিলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন মহিলা এসে উপস্থিত। তাদের হাতে ফুলের মালা ও বেশকিছু ফুল ছিল। বঙ্গবন্ধু সঙ্গে সঙ্গে বুঝে ফেলে বললেন ‘আমার আবার জন্মদিন কিসের’ তবে তাদের নিরাশ করতে পারলেন না। আমরা কিছু ফুল নিয়ে বঙ্গবন্ধুর হাতে দিলাম। বললো ‘আমার আবার জন্মদিন-মৃত্যু দিন কি জন্য’ আমরা কি তখন বুঝেছি ’৭৫ সালেই তাকে সপরিবারে নিহত হতে হবে, যা তখন একবারও ভাবিনি। এটাই রাজনীতির খেলাই। তার মৃত্যুর পর অনেকেই কেঁদেছিলেন হাউ মাউ করে। মৃত্যুর পর আমরা যখন ৪ তারিখে নীরব শোক মিছিল করেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেই মিছিল ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী ছিল। সেখানেই প্রথম জানতে পারি কারাগারে আটক চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাকে প্রথম খবরটা দেন তৎকালীন যুবলীগের নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টু। তিনি বলেছিলেন ২ তারিখ দিবাগত রাতে জেলের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি। ওই মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন। মহিউদ্দীন আহমদ, বঙ্গবন্ধুর বাল্যবন্ধু। মিছিল যতই বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে যাচ্ছিল ততই মিছিলটি সহস্রাধিক লোকে ভিড় হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে পৌঁছানোর পর মহিউদ্দীন আহমদ হাউমাউ করে কান্না জুড়ে দেন। তাতে পরিবেশটি ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। সে দৃশ্য ভোলার মতো নয়। আরও অনেকেই চিৎকার করে কেঁদেছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় তাদের অনেককেই পরে আর প্রতিরোধ কর্মসূচিতে দেখা যায়নি।

১৫ আগস্টের পর আমরা কর্মী প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রস্তুতি নেই। আমরা সারা দেশে গোপনে সফর করি। দেশ ঘুরে অনেককেই সঙ্গে পেয়েছি, আবার অনেকেই সঙ্গে পায়নি। মূলত ভয়ের কারণে কেউ এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি। এমতাবস্থায় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য এবং মুখপত্র সাপ্তাহিক একতার সম্পাদক মতিউর রহমানের সঙ্গে যোগযোগ করি। তার কাছে অনুরোধ করি দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করব। পুরান ঢাকার একটি বাড়িতে ফরহাদ ভাই অনেক সাহায্য-পরামর্শ দেন। একটা লিফলেট ছাপানোর ব্যাপারে কিছু টাকাও দেন। ফরহাদ ভাইয়ের সেই সহমর্মিতার কথা ভুলতে পারব না। তার ঔদার্য্যরে কথা ভুলতে পারিনি। তার কারণে কমিউনিস্ট পার্টির অনেকেই এগিয়ে আসেন।