• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ৯ কার্তিক ১৪২৫, ১৩ সফর ১৪৪০

বাহাদুর শাহ জাফর

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮

image

জন্ম : ২৪ অক্টোবর, ১৭৭৫, দিল্লি

মৃত্যু : ৭ নভেম্বর, ১৮৬২, রেঙ্গুন, মিয়ানমার

বাহাদুর শাহা জাফর বা দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ মোগল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট। পিতার মৃত্যুর পর তিনি ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। প্রকৃতপক্ষে পিতামহ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম (১৭৫৯-১৮০৬ খ্রি.) এবং পিতা সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ উভয়ের মতো দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পেনশনভোগী ছিলেন। তিনি বার্ষিক ১ লাখ টাকা ভাতা পেতেন।

তিনি কবিতা লিখতেন। জীবনের কষ্ট ও বিষাদ তার কবিতার মূল বিষয়। তার কবিতার ছত্রে ছত্রে দুঃখ ও বিষাদের সঙ্গে দেশ ও জাতির পরাধীনতার কথা বিধৃত। একটি কবিতায় লিখেছেন- ‘উমর দরাজ মাঙ্গকে লায়েথে চার দিন, দো আরজুমে কাট গয়ে, দো ইন্তেজার মে।’

বাহাদুর শাহ সিংহাসনে আরোহণের ২০ বছর পর সূত্রপাত হয় ঐতিহাসিক সিপাহি বিদ্রোহ। ১৮৫৭ সালের ১১ মে সিপাহিরা দিল্লি অধিকার করে বাহাদুর শাহ জাফরকে ভারতের স্বাধীন সম্রাট বলে ঘোষণা করে। তারা সম্রাটের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে শপথ নেন। ঐ দিন গভীর রাতে লালকেল্লায় একুশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে ৮২ বছরের বৃদ্ধ সম্রাটকে সম্মান জানানো হয়।

সম্রাট সিপাহিদের বিপ্লবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন- এ সংবাদে কানপুর, লক্ষ্ণৌ, বিহার, ঝাঁশি, বেরিলি থেকে শুরু করে পশ্চিম ও পূর্ববাংলার সর্বত্র সিপাহিরা আওয়াজ তোলে ‘খালক-ই খুদা, মুলক-ই বাদশাহ, হুকুম-ই সিপাহি।’ অর্থাৎ আল্লাহর দুনিয়া, বাদশার রাজ্য, সিপাহির হুকুম। ব্রিটিশরা সিপাহী বিদ্রোহ নির্মমভাবে দমন করে সম্রাটকে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠায়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

ইংরেজরা সম্রাটকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে দাফন করে। তার কবরের চিহ্ন মুছে ফেলতে চেয়েছিল। পরে তার কবর আবিষ্কৃত ও সমাধিসৌধ নির্মিত হয়। স্বদেশের মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ কিংবা সমাহিত হওয়ার সাধ কোনোটাই পূরণ হবে না ভেবে তিনি লিখেছেন- ‘মরনেকে বাদ ইশ্ক মেরা বা আসর হুয়া উড়নে লাগি হ্যায় খাক মেরি ক্যোয়ি ইয়ার মে; কিৎনা বদনসিব জাফর, দাফনকে লিয়ে দো গজ জামিন ভি মিলানা চুকি ক্যোয়ি ইয়ার মে।’

ইন্টারনেট