• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ জিলকদ ১৪৪১

শুভ জন্মদিন

মোহাম্মদ শাহজাহান

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ৭২ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। বর্তমান সময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। ছোট্ট দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বের একজন প্রথম কাতারের নেতা। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আন্তর্জাতিক স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের অন্যতম প্রধান হোতা আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হেনরী কিসিঞ্জার সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে তলাহীন ঝুড়ির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। কিসিঞ্জার বলেছিলেন, এ বাংলাদেশ হবে- ‘চিরায়িত দুর্ভিক্ষের দেশ’। আজ কিসিঞ্জারের ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। মুজিবকন্যার টানা ১১ বছরের শাসনে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ আজকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হচ্ছে।

গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক সরকার আছে বলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ মানুষের জীবনমান বদলে গেছে। গ্রামে কোনো মিসকিন খুঁজে পাওয়া যায় না। শেখ হাসিনার ১১ বছরে পুরো সমাজই যেন বদলে গেছে। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ এখন ‘উন্নয়নের রোল মডেল’। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১৯০৯ ডলার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১.৮৯ বিলিয়ন ডলার এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮.১৩ শতাংশ। বিএনপি আমলে (২০০৫-২০০৬) মাথাপিছু আয় ছিল ৪৭৩ ডলার। আর শেখ হাসিনার বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ১৯০৯ ডলার। অর্থনীতির আকারের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ৪৩, আর ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় বিশ্বের ৩৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রাইসওয়াটার কুপার হাউস (পিডাব্লিউসি) বলছে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৮তম অর্থনীতির দেশ, ২০৫০ সালের মধ্যে ৫ ধাপ এগিয়ে আসবে ২৩ নম্বরে। বাংলাদেশকে ‘ইমার্জিং টাইগার’ উল্লেখ করে গত বছর বিশ্বখ্যাত সংবাদ মাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার বলেছে, ‘এশিয়ার টাইগার বলতে এতদিন সবাই হংকং, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানকে বুঝতো। এর বাইরেও এশিয়ায় একটি ইমার্জিং টাইগার রয়েছে, সেটি হলো বাংলাদেশ।’ আমরা এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে আমরা উন্নত দেশে পরিণত হবো ইনশাল্লাহ। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বের নামিদামি মানুষ ও পত্রপত্রিকা গুণকীর্তন করছে। বাংলাদেশ যত তাড়াতাড়ি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়েছে, দুনিয়ার আর কোনো দেশ তা পারেনি। ২০১২ সালের ৩ নভেম্বর বিখ্যাত ইকোনমিস্ট পত্রিকা ‘আউট অব দ্য বাস্কেট’ শীর্ষক এক নিবন্ধে বলেছে, ‘কী করা যায়, সেটা দেখিয়ে দেয়ার মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। কী করে উন্নয়নের মডেলে পরিণত হওয়া যায়, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।’

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা ৩৮ বছর ধরে সংগ্রাম করে জিয়া, এরশাদ ও খালেদার বানানো পূর্ব পাকিস্তানকে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। স্বীকার করতেই হবে, বঙ্গবন্ধুকন্যা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কঠিন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাজনীতি করছেন। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকে ঘাতকচক্র নেত্রীকে হত্যার জন্য বিরামহীনভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে দিনের বেলা তাঁকে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়। ঐদিন এক মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার সময় পুলিশ ও সরকারি দলের ঘাতক বাহিনী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে অসংখ্য গুলিবর্ষণ করে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নেত্রীকে চারদিকে ঘিরে রাখেন। ৪০ জন নেতাকর্মীর জীবনের বিনিময়ে নেত্রী সেদিন প্রাণে বেঁচে যান। তেমনিভাবে ২১ আগস্ট (২০০৪) গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সব শীর্ষ নেতাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়। আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী সেদিন নিহত হন। গত ৩১ বছরেও চট্টগ্রামের বর্বর গণহত্যার বিচার হয়নি।

২১ আগস্ট এবং ২৪ জানুয়ারির বর্বরতা ছাড়াও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে ’৮১ সালের ১০ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সচিবালয়ের সামনে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। ১৯৮৮ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যাকারীদের দল ফ্রিডম পার্টির অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ৩২ নম্বরের বাসভবনে গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তাছাড়া ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের সময় গ্রিন রোডে ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনকালে, ১৯৯৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ট্রেনমার্চ করার সময় ঈশ্বরদীতে, ১৯৯৫ সালের মার্চে পান্থপথে, ১৯৯৬ সালে কার্জন হলে, ২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে এবং ২০০১ সালের ২৯ মে রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধনের প্রাক্কালে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। পিলখানা হত্যা-ষড়যন্ত্রের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বিদেশী মিডিয়াকে বলেছিলেন, ‘আমি থামব না। আমাকে ভয় পেলে চলবে না। আমাকে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। ’

জিয়া, এরশাদ ও খালেদার ছিনতাই করা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে শেখ হাসিনা শুধু পুনরুজ্জীবিত করেননি- তিনি জনক হত্যার ৩৫ বছর পরে হলেও বিচারের মাধ্যমে ৫ খুনীর ফাঁসির রায় কার্যকর করেছেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী চার জাতীয় নেতার হত্যার বিচার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত স্বাধীনতাবিরোধী একাত্তরের ঘাতকদের বিচার এবং রায় কার্যকর করে সমগ্র জাতিকে দায়মুক্ত করেছেন।

অদম্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই জনক হত্যার ২১ বছর পর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতার শীর্ষে থেকে নিজেকে এবং কাছের স্বজনদের সৎ রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। ২০১৭ সালে সমগ্র বিশ্বের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে সততার জরিপে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় স্থান লাভ করেন। ‘পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্স’ নামের আন্তর্জাতিক সংস্থার ওই জরিপে পৃথিবীর ১৭৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের কর্মকান্ড গবেষণা ও বিশ্লেষণ করা হয়। জরিপের ফলাফলে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯০ নম্বর পেয়ে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল প্রথম, ৮৮ পেয়ে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং দ্বিতীয়, ৮৭ পেয়ে শেখ হাসিনা তৃতীয়, ৮৫ পেয়ে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবার্গ চতুর্থ এবং ৮১ নম্বর পেয়ে পঞ্চম হন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানী। একই জরিপে উঠে এসেছে ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দেশের বাইরে বিশ্বের কোথাও কোন ব্যাংক একাউন্ট নেই। বেতন ছাড়া এই নেতার সম্পদের স্থিতিতে কোন সংযুক্তি নেই। এমনকি কোথাও কোনো গোপন সম্পদও নেই। সর্বোপরি বাংলাদেশের ৭৮ ভাগ মানুষ মনে করে শেখ হাসিনা সৎ এবং ব্যক্তিগত লোভ লালসার ঊর্ধ্বে।’

বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির জনকও শেখ হাসিনা এবং এটাকে বিলুপ্তও করেছেন তিনি। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর বগুড়া-মাগুরা উপনির্বাচনে সীমাহীন কারচুপি করে বিএনপি। শেখ হাসিনা দাবি তোলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন করতে হবে। বিএনপির প্রবল বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি চালু হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার কারচুপির মাধ্যমে বিএনপি-জামাত জোট সরকারকে ক্ষমতায় বসায় বলে ব্যাপকভাবে অভিযোগ করা হয়। ২০০৭ সালে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল করে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকার চক্রান্তে লিপ্ত হয়। মাইনাস-টু এর নামে মূলত জননেত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে বাইরে রাখার চক্রান্ত চালায়। মিথ্যা মামলায় নেত্রীকে গ্রেফতার করে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে। আওয়ামী লীগ, কারাবন্দী শেখ হাসিনা এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের কৌশলী নেতৃত্বের কাছে পরাজিত হয়ে নির্বাচন দিয়ে ফখরুদ্দীন গং বিদায় নেয়। নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাতিল করে দেন।

বাংলাদেশের পাঁচ দশকের ইতিহাসে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কোন সরকারপ্রধান পুরো মেয়াদ শেষ করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারেননি। একমাত্র শেখ হাসিনাই অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ৫ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে ২০০১ সালে শান্তিপূর্ণভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনার অর্জনের কোন শেষ নেই। বিশ্বের প্রায় দুইশো দেশের মধ্যে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ যে ‘সবচেয়ে আশাবাদের দেশ’ একথাটা আমরা ক’জনে জানি। এটি একটি জরিপের ফল। আর এই জরিপটি কিন্তু বাংলাদেশের সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান করেনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উইন ও গ্যালাপ ইন্টারন্যাশনাল’ এবং জরিপের ফলাফল ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ওই জরিপে উঠে এসেছে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আশাবাদের দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। আশাবাদের প্রশ্নে বাংলাদেশের ‘স্কোর’ হচ্ছে ৭৪ শতাংশ। দশটি দেশের মধ্যে আশাবাদের নিরিখে দ্বিতীয় দেশটি হচ্ছে চীন। তাদের স্কোর হচ্ছে ৭০ শতাংশ। খুবই তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হচ্ছেÑ এই তালিকায় পাকিস্তান দশ নম্বরে আর ভারত নয় নম্বরে। তাদের স্কোর যথাক্রমে ৪২ ও ৪৭ শতাংশ। অন্য যারা এই তালিকায় স্থান পেয়েছে তারা হচ্ছে- নাইজেরিয়া, ফিজি, মরক্কো, সৌদি আরব, ভিয়েতনাম ও আর্জেন্টিনা। এদিকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ এই দশটি দেশের মধ্যে দ্বিতীয়। এখানে ‘স্কোর’ ৬০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা নাইজেরিয়ার। তাদের স্কোর ৬১ শতাংশ। মজার ফল হচ্ছে চীনের। তারা এই তালিকায় তৃতীয়, স্কোর ৫৪ শতাংশ। ভারতের স্কোর ৪৪ শতাংশ এবং তালিকায় স্থান ছয় নম্বরে।

বিখ্যাত ফোর্বস পত্রিকা ২০১৮ সালে বিশ্বে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ২৬তম স্থানে রেখেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। লেখার শুরুতেই বলা হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা এখন বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকারপ্রধান। দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন দৈনিক সংবাদ ১৮ সেপ্টেম্বর এক রিপোর্টে বলেছে, ‘শেখ হাসিনা এ পর্যন্ত ৩৭টি আন্তর্জাতিক পদকে ভূষিত হয়েছেন।’ সর্বশেষ প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এপিজে আবদুল কালামের স্মৃতির স্মরণে প্রবর্তিত ‘ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’ পদক লাভ করেছেন শেখ হাসিনা। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক সন্তোষজনক সম্পর্ক, নিজ দেশের জনগণের কল্যাণ, বিশেষ করে নারী ও শিশু এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতায় তার অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে এ পদক দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ‘লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত করা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও দক্ষিণ এশিয়ার অনন্য নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে নেত্রীকে এ পদক দেয়া হয়। সংবাদের রিপোর্টে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক পদক প্রাপ্তির বিস্তারিত উল্লেখ করে বলা হয়Ñ ‘এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্সটিটিউট শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র সমুন্নত ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পর্যায়ের পদক প্রদান করে। শেখ হাসিনা সমাজসেবা, শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অসাধারণ ভূমিকার জন্যও পদক অর্জনের মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছে।’ বিশ্ববাসী বঙ্গবন্ধু কন্যাকে দিয়েছে নানা উপাধি। কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী মেরি ক্লড বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা নারী অধিকারের স্তম্ভ।’ অক্সফোর্ড নেটওয়ার্ক অব পিস নামের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা শেখ হাসিনাকে বলেছেÑ ‘মানবিক বিশ্বের প্রধান নেতা’। শ্রীলঙ্কার গার্ডিয়ান তাকে তুলনা করেছে ‘জোয়ান অব আর্ক’ এর সঙ্গে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভূত সাফল্যের পাশাপাশি আরেকটি কথা বলতে চাই। মানুষ দোষে-গুণে সৃষ্টি। ফেরেশতা এবং শয়তান ভুল করে না। মানুষ ভুল করবে- এটাই স্বাভাবিক। বঙ্গবন্ধুকন্যা তার ১৬ বছরের শাসনামলে এবং চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে কিছু ভুল-ত্রুটি হয়তো নিশ্চয়ই করেছেন। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আবারও স্বমহিমায় ফিরিয়ে নিতে হবে। ক্রসফায়ারে মানুষ হত্যা, গুম বন্ধ এবং দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করতে হবে। সাগর-রুনি হত্যা ও তনু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনসহ বড় বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারিগুলোর বিচার করতে হবে। তিনি জানেন, যার শেষ ভালো তার সব ভালো। এবার নেত্রী ৭৩ বছরে পা দিচ্ছেন। আমরা দোয়া করি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন তাকে সুস্থভাবে আরও অনেকদিন দেশের সেবা করার তৌফিক দান করেন।

দেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব এটাই প্রমাণ করে, তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা প্রতিরোধ দূরের কথা, মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। এদেশের গণতন্ত্রকে বারবার তিনি পুনরুদ্ধার করেছেন। নিজস্ব অর্থয়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা, নারীর ক্ষমতায়ন, সমুদ্র বিজয়, তথ্য প্রযুক্তিতে বিপ্লব, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে রফতানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ তার নেতৃত্বকে সমগ্র বিশ্বে শুধু উদ্ভাসিতই করেনি, তিনি প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়কদের একজন হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সারা বিশ্বে তিনি একজন স্টেটসম্যান (রাষ্ট্র পরিচালনায় সুযোগ্য ও দক্ষ) হিসেবে স্বীকৃত। জনক কন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের সশ্রদ্ধ অভিবাদন। জয় বাংলা।

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

[লেখক : সাপ্তাহিক বাংলাবার্তা সম্পাদক]

bandhu.ch77@yahoo.com