• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮, ১ আষাঢ় জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৯ রমজান ১৪৩৯

শুভ জন্মদিন ‘মাদার অফ লেকচারাল’ সেলিনা হোসেন

রহিমা আক্তার মৌ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন ২০১৮

image

শুভ জন্মদিন ‘মাদার অফ লেকচারাল’ সেলিনা হোসেন। আজ ১৪ জুন সেলিনা হোসেনের ৭১তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এ দিনে রাজশাহীত জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে। বাবা একে মোশাররফ হোসেন ও মা মরিয়মুন্নেসা বকুল। সাত ভাই- বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। একে মোশাররফ হোসেনের আদি বাড়ি নোয়াখালী হলেও চাকরিসূত্রে বগুড়া ও পরে রাজশাহী থেকেছেন দীর্ঘকাল। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে করতোয়া ও পদ্মাবিধৌত নদী-অববাহিকা রাজশাহী শহরে। দুই নদীর মাতোয়ারা স্রোত তাকে উদার বানিয়েছে, জীবনকে চিনতে বুঝতে শিখিয়েছে।

‘শাওন, পুরো পত্রিকাটা পড়লাম। আগেও বলেছি তোমাকে ধন্যবাদ দিব না। তবে সংখ্যাটা অনেক চমৎকার করেছ। এধরনের কোনো সংখ্যা এত সুন্দর আর পরিপূর্ণ হয় কিনা তা আমার জানা নেই। গেটাফ-মেকআপ থেকে শুরু করে মূল পরিকল্পনা এবং তরুণদের লেখা নিয়ে যে সংখ্যাটা করেছ তার জন্য অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার তুমি। আর তরুণরা আমাকে নিয়ে যে এত চমৎকার লিখবে তা অকল্পনীয় ছিল, তাদেরকে ধন্যবাদটুকু পৌঁছে দিও।‘ -সেলিনা হোসেন।

গত ৯ মে বুধবার বিকেল ৫টায় বাংলামটরে অবস্থিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ২য় তলার ইসফেনদিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় নন্দিত কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের ৭১ বছরে পদার্পণ এবং স্বাধীনতা পদক ২০১৮ অর্জন উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠান। যার শিরোনাম করা হয়, ‘৭১ বিজয়ী সেলিনা হোসেন’। অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয় ‘পরিবার পাবলিকেশন্স’র পক্ষ থেকে। যার কর্ণধার সোহানুর রহিম শাওন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মেহের আফরোজ চুমকি (প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার)। অতিথি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান (মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমি) ড. বেগম আকতার কামাল (অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)। সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকেন হায়াৎ মামুদ (অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নাহিদা আশরাফী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্য অঙ্গনের সব শ্রেণীর ব্যক্তিরা। সর্বপ্রথম সেলিনা হোসেনের ওপর একটি বায়োগ্রাফি দেখানো হয়। মোড়ক উন্মোচন করা হয় পরিবার পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যা ‘৭১ বিজয়ী সেলিনা হোসেন’। সংখ্যাটির সম্পাদকীয় লিখেছেন, হায়াত মাহমুদ (পরিবার ম্যাগাজিনের বিশেষ সংখ্যার অতিথি সম্পাদক)।

সেলিনা হোসেনকে নিয়ে অমৃতলোকের কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন শ্রদ্ধাচরণেষু লিখেছেন-মনি হায়দার। শৈশব ও প্রকৃতির সংসারে, সেলিনা হোসেন : একজন স্বনির্মিত মানুষ- ইয়াদী মাহমুদ। সেলিনা হোসেন : জীবন ও সাহিত্য-মোমিন রহমান। জয়তু সেলিনা হোসেন-সুব্রত বড়ুয়া। সেলিনা হোসেন এবং বাংলা সাহিত্যকোষ ও ধানশালিকের দেশ-খালেক বিন জয়েনউদদীন। আমাদের সেলিনা হোসেন-ফারুক নওয়াজ। নিরন্তর সেলিনা হোসেন-সুজন বড়ুয়া। সেলিনা হোসেনের সাহিত্যচিন্তা-বেগম আকতার কামাল। ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ সত্যের অধিক বাস্তবতার চিত্র-আহমেদ মাওলা। নতুনতার সন্ধানী সেলিনা হোসেন-পিয়াস মজিদ। কথাসাহিত্যের দিগন্ত বিস্তৃত ক্যানভাস ও বহুমাত্রিক প্রতিভার নাম সেলিনা হোসেন-সৈর শাইন। সেলিনা হোসেনের ছোটগল্প-বিম্বিত সমাজ-ম্যারিনা নাসরীন। সেলিনা হোসেনের লেখালেখি : মানবিক আলোর সৌরভ-মাসউদ আহমেদ। সেলিনা হোসেনের ‘স্বদেশে পরবাসী’-হাসান অরিন্দম। ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ যে মা হয়ে উঠে সবার-ইলিয়াস বাবর। গণমানুষের চিত্র উঠে আসে যার লিখনিতে-রহিমা আক্তার মৌ। মুক্তিযুদ্ধ ও কাকাতুয়া প্রসঙ্গ-রুবী শামসুন নাহার। সাহিত্যের ভুবনে নিষ্ঠাবান পথিক-তাহমিনা কোরাইশী। আমি, শব্দাবলী ও সেলিনা হোসেন-সৈয়দ দুলাল।

আরও লিখেছেন-সালেহা চৌধুরী, পাপড়ি রহমান, নাসরীন মুস্তফা, নাহিদা আশরাফী, সেহাঙ্গল বিপ্লব, সন্তোষ কুমার শীল, আশান উজ জামান, নাসরীন জেবিন, সাহানা খানম শিমু, আইভি রহমান সেহেলি সুলতানা, বাবু খান, মিশকাত রাসেল। সেলিনা হোসেনকে নিবেদিত কবিতা লিখেছেন-হাফিজ রহমান, মিলন সব্যসাচী, বাদল মেহেদী, সোহাগ সিদ্দিকী, শাহনাজ পারভীন, নীহার মোশারফ, আনিসুর রহমান জুয়েল, তাহমিনা শিল্পী, চন্দ্রশীলা ছন্দা, আলমগীর কবির। ‘শিল্পে নারী-পুরুষ বিভেদ মানি না’ শিরোনামে সেলিনা হোসেনের সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন ওবায়েদ আকাশ। সেলিনা হোসেনের সৃষ্টিকর্ম, সেলিনা হোসেনের বই নিয়ে লিখেছেন কাজী জাহিদুল হক। নিজেদের লেখায় সবাই তুলে ধরেন সেলিনা হোসেনের সাহিত্যের বিভিন্ন দিকগুলো।

‘আমরা বাংলা সাহিত্যের পথে, সাধ্যমতো প্রয়াস অব্যাহত রেখে চলেছি। এই পথ সহজ নয়, এ এক কঠোর তপস্যার। সেই তপস্যা সাধনে যিনি বাঙালি ও বাংলা ভাষীর পথিকৃতরূপে সমকালে অগ্রসর হয়ে সকলকে পথ দেখাচ্ছেন, তিনিই সেলিনা হোসেন। Mother of Literature, এই অনুভব কোথা থেকে কেমন করে হৃদয়মন্দিরে এসে জানিয়ে দিল। আমাদের পরম সৌভাগ্য এমন মহীয়সীর ছায়াতলে আমরা আমাদের সাধন প্রয়াস অব্যাহত রেখেছি। নারী লেখক সোসাইটি, এই মহীয়সীর স্নেহ ছায়াতলে যে পথ দেখেছে, সেই পথের পথচলায় তারা সমাজ সংসারে আলোকিত করুক। অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতায় আমাদের ভেতর যেন অযথা অহম প্রবেশ না করে, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। এ পথচলা সাধনার, আনন্দময় ধ্যানস্থ শক্তির উদ্বোধন হোক আমার ভগিনীদের ভেতর। প্রতিদিনের সাধনাই জীবনের মুক্তিলাভকে বিকশিত করে। এই পথ মননশীলতার ও জ্ঞান সাধনার।’— ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে নিয়ে এই ভাবেই লিখেছেন, কামরুল ইসলাম (সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গীয় সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ)। শুধু কি বাংলা সাহিত্যে, আমাদের প্রিয় কথাশিল্পী সেলিনা হোসেনের লেখা পড়ে কত অল্প সময়ে এত প্রিয় হয়ে উঠেন। তিনিও অন্যদের কত আপন ভেবে নেন তা না বললেই নয়।

দুপুর গড়িয়ে বিকাল হচ্ছে, এখনো সূর্যের আলোয় খই ফুটছে। বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ হলরুমটি কানায় কানায় পূর্ণ। চলছে চন্দ্রাবতী সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা একাডেমির প্রধান প্রবেশ ফটক থেকে হলরুম পর্র্যন্ত লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, প্রকাশকের উপচে পড়া ভিড়। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি, সবার চোখ একই দিকে। নিশ্চয়ই কেউ আসছেন! মাথা উঁচু করে দেখি, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। এই প্রথম সামনে থেকে দেখা, অন্যরকম এক আনন্দ, সবাই প্রিয় লেখিকার সঙ্গে ছবি তোলার জন্যে একটু সুযোগ খুঁজছেন। আমিও খুঁজছিলাম। সেলিনা আপা ঠিক বুঝতে পারেন। রৌদ্রের হাতে মোবাইলটা দিয়ে বলি-

-মা! আমি যাচ্ছি আপার পাশে, তুমি একটা ছবি তুলে দাও।

বলেই আপার পাশে গিয়ে দাঁড়াই। আমার ছবিটা যেই তোলা হলো, আপা বললেন-

-’অ্যাই মেয়ে! তুমিও আসো। মা মেয়ে দুই লম্বুর মাঝে আমাকে দাও। ছবিটা দেখবে আর হাসবে।’

সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সবাই হেসে ওঠেন, সবার সঙ্গে হাসেন আপাও। আজও ভুলিনি সেই হাসিমাখা মুখ।

সাহিত্যাঙ্গনে সেলিনা হোসেনের বিচরণের ব্যাপ্তি প্রায় ছয় দশকের মতো। তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘উৎস থেকে নিরন্তর’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন নিজের লেখালেখি সম্পর্কে র্মন্তব্য করেন-

‘লেখক যখন একটি মাত্রা পায় তার শৈশব থেকে, শৈশবের আগেও জন্মের পর থেকে, যেখানে তার অনুভব কাজ করে না, চিন্তার জগৎও থাকে না- সেই জায়গা থেকে আমি আমাকে চিন্তা করি, তখনই যখন আমি নিজের দিকে তাকাই। এক অসাধারণ শৈশব ছিল আমার। আমার শৈশবের মধ্যে দুটো জিনিস দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল, একটি প্রকৃতি আর অন্যটি ছিল মানুষ। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক এবং প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্ক, প্রকৃতিকে নিজে স্থাপন করে নেয়ার মধ্যে নিজেকে বুঝে ওঠার সম্পর্ক। এ রকম সম্পর্কের বিশ্লেষণ এবং অভিজ্ঞতা বিচিত্র প্রভাব রেখেছে আমার লেখাজোকায়, আর এসব সম্পর্ক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন নতুন গল্প লিখেছি আমি।’

সেলিনা হোসেনের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমির গবেষণা সহকারী হিসেবে। এ সময় তিনি তিনি বাংলা একাডেমির ‘অভিধান প্রকল্প’, ‘বিজ্ঞান বিশ্বকোষ প্রকল্প’, ‘বিখ্যাত লেখকদের রচনাবলি প্রকাশ’, ‘লেখক অভিধান’, ‘চরিতাভিধান’ এবং ‘একশত এক সিরিজের’ গ্রন্থগুলো প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০ বছরেরও বেশি সময় ‘ধান শালিকের দেশ’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা পরিচালক নিযুক্ত হন। এতগুলো বছর বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে বাংলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে ২০০৪ সালে চাকরি জীবন থেকে অবসর নেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রকৃতি সেলিনা হোসেনের লেখনিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। গণমানুষের কথা বলার উদ্দেশে সেলিনা হোসেন লিখতে শুরু করেছিলেন। সমাজে যারা নিজেরা নিজেদের সুখ-দুঃখের কথা বঞ্চনার কথা বলতে পারে না তাদের কথাগুলো তুলে ধরতেই তিনি লিখতে শুরু করেন। সেই জায়গায় তিনি একজন সফল সাহিত্যিক। সংগ্রামী আলেখ্য তার উপন্যাসের মৌলিক উপাদান। তার সৃষ্ট বেশির ভাগ চরিত্র সংগ্রামী ও সংবেদনশীল। তিনি যেমন চারপাশের বাস্তবতার কথা লিখেছেন, তেমনি লিখেছেন ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও আন্দোলন নিয়ে। অনেক আগেই লেখনির বিষয়বস্তু, বিপুল সৃষ্টি ও শক্তি দিয়েই সেলিনা হোসেন সাহিত্যিক স্থান পাকাপাকি করে নিয়েছেন। একাধারে তিনি কথা সাহিত্যিক, লেখক ও ঔপন্যাসিক।

বিভিন্ন প্রতিকূলতার মাঝে নারীদের সামনে এগুতে হয়। লেখার জগতে এই প্রতিকূলতা ব্যপক, তাদের অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয় শুধু ‘নারী লেখক’ বলেই। সেলিনা হোসেন তাদের জন্যে বলেন- বাধা অতীতেও ছিল এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে, তবুও মেয়েদের লিখতে হবে, নিজের কথা অন্যের না বলা কথাগুলো ও তুলে ধরতে হবে।

তার উপন্যাস যে শুধু ইতিহাস এবং রাজনীতিনির্ভর তা কিন্তু নয়, তার উপন্যাসে জীবন ও সমাজ বাস্তদবতার চমৎকার যোগসূত্র দেখতে পাই। স্বাধীন ভূখন্ড, স্বায়ত্তশাসিত-বৈষম্যহীন সমাজ ও জাতীয় আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়গুলো উন্মোচিত হয় সাবলীল সংগ্রামমুখর আকাক্সক্ষায়। তিনি তার নিজস্ব ভাবনায় ইতিহাসকে সমকালীন ভাবনার সঙ্গে একত্রিত করে ইতিহাসের কঙ্কালেই নির্মাণ করেছেন সমকালের জীবনালেখ্য।

তার রচনার একটি অসম্পূর্ণ তালিকা এই বক্তব্যের পক্ষে উদ্ধৃত করছি। তার গল্পগ্রন্থ : উৎস থেকে নিরন্তর (প্রথম গ্রন্থ), জলবতী মেঘের বাতাস, খোল করতাল, পরজন্ম, মানুষটি, মতিজানের মেয়েরা, অনূঢ়া পূর্ণিমা, সখিনার চন্দ্রকলা, এ কালের পান্তাবুড়ি, অবেলার দিনক্ষণ, নারীর রূপকথা, নুনপান্তার গড়াগড়ি, মৃত্যুর নীলপদ্ম ইত্যাদি। উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো- জলোচ্ছ্বাস (প্রথম উপন্যাস), জ্যোৎস্নায় সূর্যজ্বালা, হাঙর নদী গ্রেনেড, মগ্ন চৈতন্যে শিস, যাপিত জীবন, নীল ময়ূরের যৌবন, পদশব্দ, চাঁদবেনে, পোকা মাকড়ের ঘরবসতি, নির্রন্তর ঘণ্টাধ্বনি, ক্ষরণ, কাঁটাতারে প্রজাপতি, খুন ও ভালোবাসা, কালকেতু ও ফুল্লরা, ভালোবাসা প্রীতিলতা, টানাপোড়েন, গায়ত্রী সন্ধ্যা-প্রথম খন্ড, গায়ত্রী সন্ধ্যা-দ্বিতীয় খন্ড, গায়ত্রী সন্ধ্যা-তৃতীয় খন্ড, দীপান্বিতা, যুদ্ধ, লারা, কাঠ কয়লার ছবি, মোহিনীর বিয়ে, আণবিক আঁধার, ঘুমকাতুরে ঈশ্বর, মর্গের নীল পাখি, অপেক্ষা, দিনের রশিতে গিটঠু, মাটি ও শস্যের বুনন, পূর্ণছবির মগ্নতা, ভূমি ও কুসুম, উত্তর সারথি, যমুনা নদীর মুশায়রা, আগস্টের একরাত, গেরিলা ও বীরাঙ্গনা, দিনকালের কাঠখড়, স্বপ্নের বাজপাখি, নিঃসঙ্গতার মুখর সময়, হেঁটে যাই জনমভর ইত্যাদি। তার শিশু-কিশোর গ্রন্থসমূহ : সাগর, বাংলা একাডেমি গল্পে বর্ণমালা, কাকতাড়ুয়া, বর্ণমালার গল্প, আকাশ পরী, অন্যরকম যাওয়া, যখন বৃষ্টি নামে, জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি, মেয়রের গাড়ি, মিহিরুনের বন্ধুরা, রংধনু (সম্পাদনা), এক রুপোলি নদী, গল্পটা শেষ হয় না, বায়ান্নো থেকে একাত্তর, চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ, মুক্তিযোদ্ধারা, সোনারতরীর ছোটমণিরা, পুটুসপুটুসের জন্মদিন, নীলটুনির বন্ধু, কুড়কুড়ির মুক্তিযুদ্ধ, ফুলকলি প্রধানমন্ত্রী হবে, হরতালের ভূতবাবা, রাসেলের জন্য অপেক্ষা, হোজ্জার পুতুল, নদীর ধারে মেয়েটি। তার প্রবন্ধগ্রন্থ : স্বদেশে পরবাসী, ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন, একাত্তরের ঢাকা, নির্ভয় করো হে, মুক্ত করো ভয়, ঘরগেরস্থির রাজনীতি, নিজেরে করো জয়, প্রিয় মুখের রেখা, শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ, পথ চলাতেই আনন্দ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ ইত্যাদি। এ ছাড়া রয়েছে তার প্রায় বেশ কিছু সম্পাদিত গ্রন্থনারীর ক্ষমতায়ন : রাজনীতি ও আন্দোলন (যৌথ), ইবসেনের নারী, ইবসেনের নাটক ও কবিতা, জেন্ডার বিশ্বকোষ (যৌথ), বাংলাদেশ নারী ও সমাজ (যৌথ), জেন্ডার ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন (যৌথ), সাহিত্যে নারীর জীবন ও পরিসর (যৌথ), জেন্ডার আলোকে সংস্কৃতি (যৌথ), পুরুষতন্ত্র নারী ও শিক্ষা (যৌথ), দক্ষিণ এশিয়ার নারীবাদী গল্প (যৌথ), জেন্ডার ও উন্নয়ন কোষ, ধান শালিকের দেশ (বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত শিশু-কিশোর পত্রিকা, ২২ বছর), ছোটদের অভিধান (বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত) (অন্যতম সম্পাদক)।

অনেক ক্ষেত্রে বাংলাসাহিত্যের অভিভাবকের দায়িত্বও পালন করেছেন সেলিনা হোসেন। নবীন সাহিত্যিকদের সাহিত্যের সঙ্গে এখানো তার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সাহিত্য সৃষ্টি ও স্বীকৃতির পর তিনি নিজেকে রাখেন নৈর্ব্যক্তিকের ভূমিকায়। সময়কেই তিনি সাহিত্যের বড় সমালোচক মনে করেন। বাংলাসাহিত্যের অভিভাবকের জন্যে আমাদের ভালোবাসা শ্রদ্ধা চিরন্তন।