• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ৩ মাঘ ১৪২৭, ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মুজিব শতবর্ষ

মুজিব শাসন আমল : ১৯৭২

| ঢাকা , সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

১১ ফেব্রুয়ারি

ন্যায়বিচার ছাড়া কাউকে শাস্তি দেয়া উচিত

হবে না -মওলানা ভাসানী

ঢাকা। আজ মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সরকারকে এই উপদেশ দেন ন্যায়বিচার ছাড়া কাহাকেও শাস্তি দেয়া অথবা কোনভাবে কারও ক্ষতি করা উচিত হবে না। আজ বিকেলে স্নাতকোত্তর চিকিৎসা বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অশীতিবর্ষ বয়স্ক অসুস্থ মওলানাকে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী দেখতে গেলে তিনি তাকে এই কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি তাকে নিশ্চিত করেন যে, সরকার এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছেন। মওলানা সাহেব সামাজিক অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের ভিত্তিস্বরূপ দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি অনুভব করেন যে, মুক্তি সংগ্রামে মুক্তিবাহিনী এবং অপরাপর মুক্তি সেনারা যাদের বিরাট অবদান রয়েছে তাদের এখন জাতির স্বার্থে সুশৃঙ্খলার সঙ্গে নিয়োগ করা দরকার। রাষ্ট্রপতি অসুস্থ মওলানার সঙ্গে এক ঘণ্টা আলাপ-আলোচনা করেন।

৩৮টি শহরে টাউন কমিটি গঠন

ঢাকা। বাংলাদেশ সরকার ১০ হাজার ঊর্ধ্বের জনসংখ্যাসম্পন্ন ৩৮টি শহরে টাউন কমিটি গঠন করেছেন। ১৯৭২ সালের লোকাল কাউন্সিল ও পৌর কমিটি (বিলোপ ও প্রশাসন) আদেশ বলে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই আদেশ গণপরিষদের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয় এম সি এ’রা এলাকার অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে শহর কমিটিগুলোর সদস্য মনোনীত করবেন। স্থানীয় এম সি এ’রা শহর কমিটির সদস্যদের থেকে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত করবেন। বিলুপ্ত কমিটির পূর্বতন চাকুরেরা তাদের পদে বহাল থাকছেন এবং কমিটির কাজও আগের মতো চলবে।

বাংলাদেশের জন্য বিরাট অঙ্কের বৃটিশ ঋণ প্রস্তাব

ঢাকা। বৃটেন সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ করা বহু লক্ষ পাউন্ডের ঋণ বাংলাদেশকে দেয়ার জন্য নতুন করে প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তান সরকার এই ঋণের ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। জানা গেছে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সঙ্গে যে বৃটিশ প্রতিনিধি দলটি দেখা করেন, তারাই ঋণের প্রস্তাবটি তুলেছেন। এ সম্পর্কে জনৈক সরকারি মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সরকার এটা বিবেচনা করে দেখবে।’ এই ঋণ প্রস্তাবের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়নি। এদিকে বৃটিশ বৈদেশিক উন্নয়ন দফতরের ২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগামী সোমবার ঢাকায় এসে পৌঁছবেন। তারা এখানে বৃটিশ কারিগরি সাহায্য ও দু’ দেশের মধ্যে আর্থিক সমঝোতা সম্পর্কে আলোচনা করবেন।

চীন থেকে আড়াই লাখ বুদ্ধিজীবী পালিয়ে গেছেন

মস্কো। সম্প্রতি কয়েক বছরে চীন থেকে আড়াই লাখ বুদ্ধিজীবী পালিয়ে গেছেন। প্রাভদার সিঙ্গাপুরস্থ প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে, তারা চীনের হংকং এবং মাকাও সীমান্ত এলাকা দিয়ে পালিয়ে গেছেন। সোভিয়েত সাংবাদিক সম্প্রতি যারা চীন থেকে পালিয়ে গেছেন তাদের কারো কারো সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। ক্যান্টনের একজন ছাত্র এবং তার বোন জানিয়েছেন যে, তাদেরকে আরো অপরাপর হাজার হাজার লোকের ন্যায়ই কোয়াংটান প্রদেশের বহু শিবিরের একটিতে পাঠানো হয়েছিল শুদ্ধি করার জন্য। ‘আমি ভাবতেই পারি না এ ধরনের কিছু আমাদের দেশে ঘটতে পারে’- ছাত্র ল্যাং বলেন। একজন বিশিষ্ট ডাক্তারকে শিবিরে এনে তাকে নিজ হাতে দেয়াল মেরামতের কাজ করতে বলা হয়েছিল। শিবিরে চিকিৎসার কাজে নিয়োগের জন্য আবেদন করলে, তাকে বলা হয়, আপনার চিকিৎসাবিদ্যা ছাড়াও আমাদের দেশ চলতে পারে। যে কোনো কৃষক, যে মাও-এর বিধি বিধান পড়েছে সে যে কোনো রোগ সাড়াতে পারে। ডাক্তারটিকে ভালো করে কাজ না করার জন্যে এবং মাওএর উদ্ধৃত রচনাবলী পড়তে অস্বীকার করায় মারধর করা হয়। এর কিছু পর ডাক্তার উধাও হন। সাহিত্যের ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তর-এর প্রাক্তণ ছাত্র তিং সেং সিং একটি শ্রম শিবির সম্পর্কে বলেন, ভোররাত ৪টায় আমাদের উঠতে হতো। প্রহরীরা আমাদের মাঠের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যেত এবং সেখানে আমাদের প্রতিদিন ১৫-১৬ ঘণ্টা করে কাজ করতে হতো। স্কুলের ছাত্র এমনকি কিন্ডারগার্টেনের ছেলেপেলেদেরকেও মাঠে নিয়ে যাওয়া হতো। তাদের পথপ্রদর্শকরা আমাদের দেখে বলত, এরা মাও-এর শত্রু। তোমরা এক একজন এক একটি মাটির টুকরো নাও এবং এই খারাপ মানুষগুলোর দিকে ছুড়ে মারো। ছেলেরা তখন আমাদের ওপর কাদা ছুড়ে মারতো।

সমাজ বিরোধীদের শক্ত হাতে দমন করতে হবে

দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর সারাদেশে সাধারণ মানুষ আজ শান্তি, স্বস্তি ও জানমালের নিরাপত্তা চায়। প্রচণ্ড ঝড়ে বিধ্বস্ত সংসার ও বিপন্ন জীবনকে সুন্দর ভাবে গড়ে তুলতে চায় এ দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা। সবারই চোখে আজ অনাগত সুখী ভবিষ্যতের ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষ যেন আরেকটা ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন না হয়, সে জন্য সরকারও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সচেষ্ট রয়েছে। জনপ্রিয় সরকার চাইছে নিরুদ্বেগ ও ভাবনাহীন চিত্ত নিয়ে সারাদেশের মানুষ জাতীয় অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে এগিয়ে আসুক। এমনি অবস্থার পরিপেক্ষিতে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো মুক্তবাহিনী নামধারী দুর্বৃত্তরা সারা দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ ও বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে চলেছে। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা উল্টাইলেই দেখা যাবে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এরা সক্রিয় রয়েছে। রাজধানী ঢাকা শহরেও মুক্তিবাহিনী নামধারী দুবৃত্তরা অবাধে ঘন ঘন চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি ও গাড়ি ছিনিয়ে নেয়া প্রভৃতি অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য ইতোমধ্যেই বেশকিছু সংখ্যক দুর্বৃত্ত পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছে। এসব দুর্বৃত্তদের কাছ থেকে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রচুর পরিমাণ বেআইনি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। দুবৃত্তদের সমাজ বিরোধী অশুভ তৎপরতায় বাধা দিতে গিয়ে পুলিশবাহিনীকে কয়েকটি স্থানে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে। মুজিববাহিনী নামধারী দুবৃত্তরা যে বর্তমানে শুধুমাত্র রাহাজানি, ডাকাতি প্রভৃতি অপরাধমুলক কাজে ব্যস্ত তা নয়- বিভিন্ন কলকারখানাতেও এরা বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে। এদের সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। এদের যদি সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করা না যায় তবে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হবে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। আহ্বানে মুজিববাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা গত ৩১ জানুয়ারির মধ্যে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ কর্তৃপক্ষের নিকটে জমা দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্রশস্ত্র জমা দেবে না, তাদেরকে বাঙালি বিরোধী বলে বিবেচনা করা হবে। মুজিববাহিনী সেজে জনগণকে হয়রানি করার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ৪ জন ছাত্র নেতাও কঠোর হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন। মুজিববাহিনী নামধারী দুর্বৃত্তরা যে আজ অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। দুর্বৃত্তরা জানে জল্লাদ পাকিস্তানবাহিনীর ঘৃণ্য হামলার ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি আমাদের পুলিশবাহিনী। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে মুক্তিবাহিনী সদস্যরাও অস্ত্রশস্ত্র কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। সুতরাং অবাধে অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালিয়ে যাবার এটাই হলো প্রকৃষ্ট সময়। দুবৃত্তরা যাই ভাবুক না কেন দেশের শত্রু এই মুক্তিবাহিনী নামধারী দুবৃত্তদের আজ রুখতে হবে। নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী পুলিশবাহিনী দুর্বৃত্তদের দমনের জন্য সক্রিয় রয়েছে। ইতোমধ্যেই তারা সর্বত্র উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার ও গোলাবারুদ উদ্ধার করতেও সক্ষম হয়েছে। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় একা পুলিশের পক্ষে দুর্বৃত্তদের যথোপযুক্তভাবে দমন করা সম্ভব নয়। তাই আজ দেশের সাধারণ মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এ দেশের মানুষ যদি খালি হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে লড়তে পারে তাহলে কতিপয় মুজিববাহিনী নামধারী দুর্বৃত্তদেরও এদেশের মাটি থেকে সমূলে উচ্ছেদ করতে পারবে। দুর্বৃত্ত দমনের দায়িত্ব আজ তাই আমার আপনার সকলের।

সূত্র : দিনলিপি, বঙ্গবন্ধুর শাসন সময়, ১৯৭২

  • প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিতকরণে

    মো. আখতার হোসেন আজাদ

    মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী একার পক্ষে উৎপাদন সম্ভব নয়। কোন কিছুর

  • বই পড়া ভারি মজা

    জাকির হোসেন তপন

    কোন ক্লাসে পড়ি ঠিক মনে নেই, হয়তো ফোর বা ফাইভ। ছোট খালা

  • গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু

    অদ্য শেখ মুজিবরের ঢাকা প্রত্যাবর্তন বিমান বন্দরে সংবর্ধনা জ্ঞাপনের আয়োজন (নিজস্ব বার্তা পরিবেশক) পূর্ব পাকিস্তান