• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০, ৯ জিলহজ ১৪৪১, ৩১ জুলাই ২০২০

মুক্তির দিনলিপি

সাদেকুর রহমান

| ঢাকা , রোববার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর বুধবার থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় আজ রোববার। ৪৮ বছর আগেকার এই দিনে একদিকে স্বজন হারানোর বেদনা ঘনীভূত হচ্ছে, অন্যদিকে বিজয়ের চূড়ান্ত ক্ষণ নিকটবর্তী হচ্ছে। স্থানে স্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চতুর্মুখী আক্রমণে পরাস্ত পাকিস্তানি বাহিনী। হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঘটনা বেড়ে চলেছে। মুক্ত স্বাধীন জনপদে পত পত করে উড়ছে বাংলাদেশের পতাকা। এদিন পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে ভারতীয় মিত্রবাহিনী প্রধানের ঘোষণা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হতে থাকে। এরপরই মূলত পাকিস্তানি বাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়।

এদিন পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সম্পূর্ণ ভাবে বিছিন্ন ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ঢাকার দিকে পালাবার কোন পথই হানাদার বাহিনীর সামনে খোলা ছিল না। একের সঙ্গে অন্যের যোগ দেওয়ারও কোন উপায় ছিল না। এই সুযোগে মিত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা তিনটি ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুরো পাকবাহিনীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। জেনারেল জগজিৎ সিংকে অন্তত তিনটি কলাম নিয়ে ঢাকার দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার জন্য বলা হয় এবং একটি ব্রিগেডকে হালুয়াঘাটের দিক থেকে ময়মনসিংহের দিকে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আর্কাইভ থেকে জানা যায়।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আর্কাইভ থেকে আরও জানা যায়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান বাংলাদেশের দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে এই আশ্বাস দেন যে, আত্মসমর্পণ করলে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রতি জেনেভা কনভেনশনের রীতি অনুযায়ী সম্মানজনক ব্যবহার করা হবে। জেনারেল মানেকশ’র এই আহ্বান আকাশবাণী থেকে নানা ভাষায় বারবার প্রচার করা হয়।

পূর্বসীমান্ত থেকে জেনারেল সগৎ সিংয়ের প্রায় সবকটা বাহিনীই এখন দ্রুত গতিতে পশ্চিমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একটি দল এগোচ্ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত করে ঢাকার দিকে। অপর একটি বাহিনী আশুগঞ্জের সেতুর দিকে এগোচ্ছিল।

এদিন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অবিলম্বে যুদ্ধ বিরতি পালন এবং সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করে।

সাধারণ পরিষদে ভারতীয় প্রতিনিধি শ্রী সমর সেন বলেন, পাকিস্তানের অবশ্যই বাংলাদেশকে স্বীকার করে নিতে হবে। উপমহাদেশে শান্তি পুনঃস্থাপনের জন্য আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে জাতিসংঘের কোন প্রস্তাবই বাস্তবায়ন করা যাবে না।

৫৭তম ভারতীয় মাউন্টেন ডিভিশন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌঁছায়। পাকবাহিনী এর আগেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছেড়ে চলে যায়। যুগপৎভাবে ‘এস’ ফোর্সও বিনা বাধায় সরাইলে পৌঁছায়।

সন্ধ্যার মধ্যে ১১শ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট আশুগঞ্জের পূর্ব পাশে আজমপুর এবং দুর্গাপুরে সমাবেশ করে। সরাইল এবং শাহবাজপুরের মধ্যে দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল এবং সেক্টরভুক্ত এক ব্যাটালিয়ন সৈন্য পেছন দিক থেকে অগ্রসর হতে থাকে। ভারতীয় ৩১১তম মাউন্টেন ব্রিগেডের দশম বিহার রেজিমেন্ট দুর্গাপুরের দক্ষিণে সমবেত হয়। যৌথবাহিনীর এই অগ্রগতির ফলে পাকিস্তান সরকার ও তাদের মিত্র দেশগুলোর বুঝতে বাকি থাকে না যে, যুদ্ধে তাদের হার নিশ্চিত।

এদিকে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনী ৮ ডিসেম্বর পাকিস্তানের অর্থনৈতিক রাজধানী করাচীর নৌবন্দর আক্রমণ করে, যা ‘অপারেশন পাইথন’ নামে পরিচিত। যখন ভারতীয় সৈন্য বাহিনী এবং বিমান বাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্থল সীমা অবরুদ্ধ করে রাখে তখন ভারতীয় নৌবাহিনী জলসীমা থেকে চাপ প্রয়োগ করার জন্য নৌযুদ্ধ শুরু করে। যেহেতু যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের নৌ বন্দর অরক্ষিত তাই পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সেনারা নৌবাহিনী ছাড়াই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যা ছিল অপ্রতিরোধ্য ভারতীয় বাহিনীকে প্রতিরোধের একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। যখন যুদ্ধ শুরু হয় তখন নৌবাহিনী বন্দরে থাকার পরিকল্পনা করে।

প্রসঙ্গত, এর দিন চারেক আগে ভারতীয় নৌবাহিনী ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’ পরিচালনা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেইবার প্রথম কোন নৌযুদ্ধে এন্টি শিফ মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছিল। ভারতীয় নৌবাহিনী আতর্কিত আক্রমন চালিয়ে করাচির নৌবন্দর ধ্বংস করে দিয়েছিল। সেই বিজয়ের কথা মনে রেখে আজও ৪ ডিসেম্বর ভারতীয় নৌবাহিনী ‘নেভী ডে’ উদযাপন করে থাকে। এই অপারেশনের সাফল্যতার পিছনে ভারতীয় নৌবাহিনী ছাড়াও সদ্য প্রতিষ্ঠিত গুপ্তচর সংস্থা ‘রিসার্চ এন্ড এনালিসস উইং’ বা ‘র’ অবদান অনস্বীকার্য। ভারতীয় মিসাইলের আঘাতে করাচি বন্দরের তেলের ট্যাঙ্কে ব্যাপক অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে যাতে শতাধিক পাকিস্তানি নাবিক নিহত হয় এবং ৫০০ জন আহত হয়। সেই আক্রমনে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর কোমর ভেঙে দিয়েছিল ভারতীয় নৌবাহিনী।

এদিকে, এদিন (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সর্বশেষ সামরিক ও আনমশর্জাতিক পরিস্থিতির আলোকে ভারতের সরকারি মুখপাত্র ঘোষণা করেন, “পাকিস্তান যদি পূর্ব বাংলায় তাদের পরাজয় স্বীকার করে নেয়, তবে অন্যান্য সকল অঞ্চলেই ভারত যুদ্ধ বন্ধ করবে; বাংলাদেশ ও পশ্চিম পাকিস্তানের কোনো অঞ্চলেই কোনো ভূখ- দখল করার অভিপ্রায় ভারতের নেই।”

বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত কবি আসাদ চৌধুরীর ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ গ্রন্থে এ দিনের ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা করেন এভাবে- “ভারতের চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল এসএইচএফ মানেকশ’ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অবস্থা লক্ষ্য করে মনস্তাত্বিক যুদ্ধের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। তার ভাষণ বেতারে ঘন ঘন প্রচারিত হতে থাকে। তার বাণী প্রচারপত্রের মাধ্যমে বিমানের সহায়তায় পাকিস্তানি অবস্থানের ওপর বিলি করা হয়। ’ মানেক্শ’ বলেন, ‘অস্ত্র সংরক্ষণ করো, নইলে মৃত্যু অবধারিত। যৌথবাহিনী তোমাদের চারদিকে ঘিরে ফেলেছে। তোমাদের বিমানবাহিনী সম্পূর্ণ ধ্বংস, ও দিয়ে আর কোনো সাহায্য পাবে না। বন্দরগুলোও এখন অবরুদ্ধ, তাই বাইরে থেকেও কোনো সাহায্য পাওয়ার আশা বৃথা। মুক্তিবাহিনী এবং জনগণ এখন প্রতিশোধ নিতে উদ্যত। তোমাদের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। সময় থাকতে অস্ত্র সংবরণ করলে তোমাদের সৈনিকদের যোগ্য মর্যাদা দেওয়া হবে।”

বর্ণিত গ্রন্থে তিনি আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “ওদিকে কুমিল্লার পতন ঘটেছে। সব পাক সৈন্য ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নিয়েছে। আরেকটি কলাম দাউদকান্দির দিকে। অপর একটি কলাম চাঁদপুরের দিকে। জামালপুর হালুয়াঘাটের দিকে আর একটি কলাম এগোলো। এদিকে বিমানবাহিনীর বিরামহীন আক্রমণ অব্যাহত রইলো। পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ সেনাবাহিনী আর পাচ্ছে না। আর এ আক্রমণে তাদের মনোবলও ক্রমশ নিঃশেষিত হচ্ছে। আবার সাগর পাড়ি দিতে হয়। এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সৈন্য প্রত্যাহারের প্রস্তাব পাস হলো। প্রস্তাবের উদ্যোক্তা মার্কিন সরকার। বৃহৎ শক্তিবর্গের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানকে বাঁচানোর জন্য যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিয়ে যাচ্ছিল। এবারো ফ্রান্স এবং বৃটেনসহ আটটি দেশ নীরব দর্শক। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য নয়। কাজেই এ ব্যাপারে ওদের কোনো মাথা ব্যথাও ছিলো না। জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের পূর্বেই বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করতে হবে।”

এদিন মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথভাবে পাক সেনাদের প্রতিহত করে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত করে। ‘পূর্ব পাকিস্তান’ রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পাক সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের জিওসি লেফট্যানেন্ট জেনারেল একে নিয়াজীর সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ডা. এম এ মালিক বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তার জবাব এসেছিল ৮ ডিসেম্বর। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এক টেলেক্স বার্তায় যুদ্ধ অব্যাহত রাখার জন্য গভর্নরকে নির্দেশ দেন। এরপর কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসে পাকিস্তানি সেনারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পাকবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিভিশন অকেজো হয়ে পড়ে। দেশের দক্ষিণে খুলনাতেও আটকে পড়ে পাকসেনারা। উত্তরে ব্রহ্মপুত্র ও পদ্মার মধ্যবর্তী বেশ কয়েকটি এলাকায় তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। জামালপুর, ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রামেও পাকিস্তানি সেনারা শোচনীয় পরাজয় বরণ করে।

যুক্তরাজ্যের ডেইলি টেলিগ্রাফের সংবাদদাতা ক্লেয়ার হোলিংওয়ার্থ ৮ ডিসেম্বরের ঢাকার বর্ণনায় লিখেছেন, “সামনে এগিয়ে চলা ভারতীয় বাহিনীর কামানের গোলাবর্ষণের আওয়াজ এখন ঢাকা থেকে শোনা যাচ্ছে, সারা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ঢাকা। শুধু কয়েকটি টেলিফোন কাজ করছে এবং টেলিগ্রাফ মাঝে মধ্যে সচল হয়। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, যেখানে আমি রয়েছি, সেখানকার বাগানে একদল লোক ট্রেঞ্চ খুঁড়ছে।”

পত্রিকাটির অপর এক খবরে বলা হয়, “রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের এক সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, পাকিস্তানি বাহিনী চমৎকারভাবে লড়ে চলেছে এবং যশোর ও সিলেটের পতনের খবর হচ্ছে ‘অবিশ্বাস্য রকম নির্লজ্জ মিথ্যাচার’।”

এদিনের কিছু ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছেন নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য কাজী ফজলুর রহমান। তিনি তার ‘দিনলিপি একাত্তর’ শীর্ষক গ্রন্থে মেদহীন বর্ণনা করেছেন এভাবে, “ভারতীয় বেতার আর বিবিসি’র খবর-যশোর বিমান ঘাঁটি আর ক্যান্টনমেন্ট দুই-ই মিত্র বাহিনী দখল করে নিয়েছে। পাকিস্তানি সেনাদের হটিয়ে দেওয়া হয়েছে সীমান্তের কাছাকাছি প্রায় সব জেলা ও মহকুমা শহর থেকে, তার মাঝে ফেনীও আছে। এক কথায় ‘পৃথিবীর সেরা সৈন্যবাহিনী’ মার খেয়ে কুকুরের মতো লেজ গুটিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে পালাচ্ছে ঢাকার দিকে। এর মাঝে প্রায় প্রতিদিনই চট্টগ্রামে ভারতীয় বিমান হামলা হয়েছে। রেডিওতে শুনলাম, কলকাতা বা আগরতলা থেকে নয়, এই হামলা হচ্ছে ভারতীয় বিমান বাহিনীর রণতরী ‘ভীক্রান্ত’ থেকে। আজ পাকিস্তানি এন্টি-এয়ারক্র্যাফটের আওয়াজও তেমন শোনা যায়নি। —— জাতিসংঘে ডিবেট চলছে। চীন তর্জন-গর্জন করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও পাকিস্তানের অখন্ডতার দোহাই দিচ্ছে, নানা প্যাঁচালো প্রস্তাব আনছে যুদ্ধ বিরতির জন্য। সোভিয়েতের একনিষ্ঠ ও দৃঢ় সমর্থন না হলে ভারত একা চীনা-মার্কিন উদ্যোগ ঠেকিয়ে রাখতে পারতো না। নানা বেতারের খবর শুনে তাই বোঝা যায়।”

এদিকে, অপ্রতিরোধ্য মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রযাত্রায় এদিন আরও মুক্ত হয় মৌলভীবাজার, বরিশাল, ঝালকাঠি, চাঁদপুর, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকা। মুক্ত জনপদবাসী বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠে। অন্যদিকে, অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এদিন এক বেতার ভাষণে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে ভারত ও ভুটানের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে বিশ্বের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর কাছে আবেদন জানান।

অদম্য মুক্তিসংগ্রামের আগুন ঝড়া দিনগুলোর এই দিনে হানাদার মুক্ত হয় ময়মনসিংহের গৌরীপুর। মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৩ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গৌরীপুরে পৌঁছে। হানাদার বাহিনী ভৈরব রেলপথ দিয়ে গৌরীপুরে পৌঁছে তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকারদের সহায়তায় শুরু করে হত্যা, লুটপাঁ, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ। পাকিস্তানি বাহিনী নিয়মিত ধ্বংসলীলা চালাতে থাকলে শহরের বাসিন্দারা তাদের ব্যবসা, বসতবাড়ি ফেলে জান বাঁচাতে অন্যত্র চলে যায়।

পাকিস্তান বাহিনীর এই নির্মম অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে, নিজ মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করার প্রত্যয়ে গৌরীপুরের মুক্তিকামী মানুষ দলে দলে সংগঠিত হতে থাকে। মুক্তিকামী মানুষেরা গৌরীপুর ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে হানাদার বাহিনীর উপর একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। গেরিলা হামলার মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধারা গ্রেনেড মেরে ধ্বংস করে গৌরীপুরের রেলপথ, সেতু ও টেলিফোন একচেঞ্জ। এতে পাক বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম বাধাগ্রস্ত হয়।

১৯৭১ সালের এই দিনে শত্রুমুক্ত হয় চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার মীরসরাই। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণের মুখে পাক হানাদার বাহিনী মীরসরাই ছেড়ে পালিয়ে যায়। মীরসরাইয়ের বিজয় উল্লাসে সে দিন মাতোয়ারা হয়েছিল সর্বস্তরের মানুষ। মুক্তিযোদ্ধারা মীরসরাই পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মীরসরাইয়ের বিজয় উদযাপন করেন সে দিন।

মীরসরাই উপজেলার তালবাড়িয়া রেলস্টেশন রোডের লোহার ব্রিজ নামক স্থানে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান বাহিনী তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর, আশ-শামস বাহিনীর সহায়তায় অগনিত মুক্তিযোদ্ধা, নারী, শিশু ও পুরুষদের ধরে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে লোহার ব্রিজের নিচে ফেলে দেয়।

[লেখক : সংবাদকর্মী ও মুক্ত গবেষক]

Srahman5271@gmail.com