• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জৈষ্ঠ্য ১৪২৫, ১৪ রমজান ১৪৪০

জন্ম শতবর্ষ

মধুর ক্যান্টিনের মধু দা

গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল

| ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০১৯

image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন। বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিকদের কাছে একটি অতি পরিচিত নাম। মধুর ক্যান্টিনের নাম হয় মধুদার নামানুসারে। মধুর ক্যান্টিনের যাত্রার সূত্রপাত ১৯২১ সাল থেকে। প্রথমে আদিত্য ক্যান্টিন হিসেবে। সে সময় মধুদার বাবা আদিত্য চন্দ্র দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ হতে অনুমতি নিয়ে এ ক্যান্টিনটি পরিচালনা শুরু করেন। পরে অবশ্য আদিত্য ক্যান্টিন মধুর ক্যান্টিন নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের নিকট ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

১৯১৯ সালে মধুদার জন্ম হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন, মুনতাসীর মামুন তার গ্রন্থ ‘ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’। ২য় খ-ের ১৬৯ পৃষ্ঠায়। এর অর্থ দাঁড়ায় মধুদার সঠিক জন্ম তারিখ ও সাল আমাদের জানা নেই। আমরা মধুদার জন্ম সাল ১৯১৯ কেই মেনে নিলাম। সে হিসেবে ২০১৯ সালে এসে তার বয়স হলো শত বছর। ২০১৯ সালটি তার জন্মশত বছর। আগেই বলেছি তার বাবা আদিত্য চন্দ্র দে। আর মায়ের নাম মিরোদা সুন্দরী দেবী। মধুদার পৈতৃক বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার বাবুর দীঘিরপাড় গ্রামে।

১৯২১ সাল থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যত আন্দোলন হয়েছিল তার সূত্রপাত হতো মধুর ক্যান্টিন হতেই। বাংলাদেশের বিখ্যাত সব রাজনীতিনীতি, সাংস্কৃতিক নেতা ও সাহিত্যিকদের আড্ডা স্থল ছিল এই মধুর ক্যান্টিনকে কেন্দ্র করে। ১৯৩৯ সালের দিকে অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ডাকসুর ক্যান্টিনের নাম হয় মধুর ক্যান্টিন। আবার ১৯৪৮ থেকে ৭১ পর্যন্ত আমাদের সব আন্দোলনের সম্পৃক্ততা রয়ে গেছে মধুর ক্যান্টিনের সঙ্গে। ১৯৫০-এর দাঙ্গাবিরোধী আলোচনা, ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ ও ১৯৭০-এর নির্বাচন সব কিছুর সঙ্গেই কম বেশি জড়িত মধুদা ও মধুর ক্যান্টিন।

১৯৪৯ সালে মধুর ক্যান্টিনে আসতেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দিন আহমদ, জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসান, মুনীর চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার, আখলাকুর রহমান। তখন রেডিও অফিস হতে মধুর ক্যান্টিনে আসতেন আবদুল আহাদ, নাজির আহ্মেদ, ফতেহ লোহানী, সিকান্দার আবুজাফর, শামসুদ্দীন আবুল কালাম। সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ ও এসেছেন দু’চারবার। বুদ্ধুদেব বসু খেয়েছেন আড্ডা দিতেন। শামসুর রাহমান মধু স্মৃতি নামে একটি কবিতাও লিখেছিলেন। কবিতাটি এই রকম-‘আপনাকে মনে হতো বৃক্ষের মতন, উদার নিরুপদ্রব ডালে যার কাটায় সময়, নানান পাখির ঝাঁক, তারপর সহসা উধাও কত যে বিচিত্র দিকে ফেরে না কখনও।’ ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে গভীর রাতে পাক বাহিনীর হাতে স্ত্রী, পুত্রদের সঙ্গে শহীদ হন হন প্রিয় মধুদা।

[লেখক : সাংবাদিক ও প্রতœ গবেষক]