• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭, ৭ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

বিদ্বেষের রাজনীতি যে ভাবে পোক্ত হয়েছে

আব্দুল খালেক মন্টু

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই ২০১৮

১৯৭৬ সালের ৭ মার্চ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইসলামী জলসায় স্নোগান উঠে, ‘তাওয়াব ভাই, তাওয়াব ভাই চাঁদ-তারা পতাকা চাই’। (ইত্তেফাক ৮ মার্চ ১৯৭৬)। সে দিনের উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এমজি তাওয়াবের বদান্যতায় ওই জলসায় জামায়াত-আলবদর-রাজাকারদের ছিল স্বাধীনতার পর প্রথম আত্মপ্রকাশ। ওই মজলিসে জামায়াতে ইসলামী ৬ দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলোÑ দেশের পতাকা বদলাতে হবে, নতুন জাতীয় সংগীত চাই, দেশকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করতে হবে, ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের শহীদ মিনার ভেঙে দিতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের সময় নিহত রাজাকারদের স্মরণে মিনার নির্মাণ করতে হবে। এখন বুঝুন ’৭৫ -এর ১৫ আগস্ট এক ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে একটি বৈধ সরকারকে হটিয়ে কারা ক্ষমতায় আসে। আর তাদের সঙ্গে কারা ছিল!

১৯৭১ সালে দেশে যে একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, এটা মনে হয় কারও অস্বীকার করার উপায় নেই। সে যুদ্ধের যে পক্ষ-বিপক্ষ ছিল এটাও স্বীকার করতেই হবে। একটি পক্ষ ওই যুদ্ধকে মুক্তিযুদ্ধ বললেও অপর পক্ষ তা বলেনি। তারা পাকিস্তান ভাঙার গাদ্দারি বলেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের তারা ভারতের চর, দুষ্কৃতকারী ও জারজ সন্তান বলেছে। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম পাকিস্তানিদের তুলনায় তাদের এদেশীয় দোসরদের ভয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয়েছে। দিনের বেলায় চলাফেরা করা একরকম দুষ্করই ছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য তারা ওতপেতে থাকত। মুক্তিযুদ্ধকে নস্যাৎ করার জন্য তারা এতই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল যে, নামাজ পড়ার সময় পর্র্যন্ত পেত না। অথচ পাকিস্তান রক্ষাকে তারা ইসলাম রক্ষা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। তারা বলে বেড়াত জেহাদকালে নামাজ মাফ। অথচ আমরা যারা মুসলমান মুক্তিযোদ্ধা, মাথায় স্বাধীন বাংলার পতাকা মাথায় বেঁধে নিয়মিত নামাজ আদায় করতাম। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তখন আমি যেটা গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি, তা হলো ওইসব বজ্জাত দালালরা না থাকলে পাকিস্তানিদের পক্ষে এ দেশের পথঘাট চেনা ও খুন, হত্যা, ধর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সম্ভব ছিল না। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িঘর চেনাও অসম্ভব ছিল। সুতরাং পাকিস্তানিদের তুলনায় তাদের এদেশীয় দালালদোসর, রাজাকার-আলবদর-আলশামস, শার্ন্তি কমিটি ও তাদের লোকজন যে বেশি ভয়ঙ্কর ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ত্রিশ লাখ বাঙালি নিধনে, এক কোটির ওপর দেশ ছাড়া, আরও কয়েক কোটিকে ঘরবাড়ি ছাড়া, তিন লাখেরও অধিক মা-বোনের ইজ্জত হরণ, কোটি কোটি টাকার সম্পদ লুণ্ঠন ও হাজার হাজার বাড়িঘর জ্বালানো-পোড়ানে পাকিস্তানিদের চেয়েও তারা বেশি ভয়ঙ্কর ছিল। গত ৫ অক্টোবর ২০১১ পাকিস্তানের ইংরেজি জাতীয় দৈনিক ‘ডেইলি টাইমস’-এর সম্পাদকীয় মন্তব্যে উল্লিখিত বিষয়গুলো কবুল করে নিয়ে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী যতটা না হিংস্র ছিল ওই উগ্রগোষ্ঠীটি গণহত্যায় তাদের চেয়েও বেশি হিংস্র ছিল।

দু’শিবিরে বিভক্ত জাতির মধ্যে ঘৃণা ও বিদ্বেষের রাজনীতি আজ পাকাপোক্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির দ্বিধাবিভক্তির কারণেই। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকে মূলধারা হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার করণেই তা হয়েছে। পাক-আমেরিকান ষড়যন্ত্রে এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মূলধারার শক্তিকে ঘায়েল করার চক্রান্ত করা হয়। ১৯৭০-এর নির্বাচনে দেখা যায়, মাত্র ১১ পার্সেন্ট অমানুষ পাকিস্তানিদের দালাল-দোসর। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ রাজাকার ও পাকিস্তানিদের দালাল-দোসরে পরিণত হয়। এভাবেই ‘৭৫-এর পটপরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি করা হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ যাতে পুনর্গঠন না হয় এবং স্বাধীনতা যুদ্ধটা যে একটা অন্যায় কাজ ছিল তা প্রমাণ করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। সুতরাং গভীর ষড়যন্ত্রের প্রসব করা ফল ‘৭৫-এর পটপরিবর্তন। পরিবারসহ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ঘোষণা মোতাবেক দেশ ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট স্বাধীন হয়। তাই ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সব চিহ্ন একে একে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের উপাদানগুলো ধ্বংস করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের অর্জনগুলোকে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী ‘জয় বাংলা’ সেøগান নিষিদ্ধ করে পাকিস্তানি আমলের জিন্দাবাদ আবারও চালু করা হয়। বাংলাদেশ বেতারের নাম পরিবর্তন করে রেডিও বাংলাদেশ করা হয়। বাঙালি জাতিকে খারিজ করে দিয়ে পাকিস্তানের অনুকরণে বাংলাদেশি নামক একটি সাম্প্রদায়িক নতুন জাতির জন্ম দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রধানতম উপাদান অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে তালাক এবং ঝেটিয়ে বিদায় করে ’৪৭-এর দ্বিজাতিতত্ত্বের সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা আবারও আমদানি করা হয়। এমন কি স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সব স্মৃতি উচ্ছেদ এবং নাম উচ্চারণ পর্র্যন্ত হারাম করা হয়। ‘৭৫-এ অবৈধভাবে যারা শাসন ক্ষমতায় আসে, তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার ও হত্যা করা শুরু করে। সুতরাং ওই অবৈধ সরকারের শাসনামলে যা কিছু করা হয়েছে সবকিছুই অবৈধ, মারাত্মক অপরাধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীন হওয়া দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠা নিঃসন্দেহে এক বিস্ময়কর ব্যাপার। অবৈধভাবে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থেকে নানা লোভ-লালসার প্রলোভন দেখিয়ে ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নবপ্রজন্মসহ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সুবিধাবাদী অনেক কুতুবকে তাদের দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়। এভাবেই তারা এক অশুভ-অপশক্তিতে পরিণত হয়। তাদের অপরাজনীতিকে আজ যেমন হজম করা যাচ্ছে না, তেমনি উগরে ফেলাও সম্ভব হচ্ছে না, আবার রেখেও গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব নয়। কারণ দেশে গত ৪৬ বছরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের উল্লেখযোগ্য কোনো রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেনি। তাই শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা এখনও আশা করেন, বিএনপির মধ্যে যেসব মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী লোক আছেন, তারা যেন দলটিকে শুধরানোর চেষ্টা করেন, রাজাকার-আলবদরসহ মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বিতাড়িত করেন, না পারলে নিজেরা বেরিয়ে আসেন। পাকিস্তানের পক্ষে রাজনীতি করতে গিয়ে বিএনপি বাঙালি জাতিসত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের মননেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে। বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বাঙালি জাতিসত্তা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। অন্ধ দলীয় রাজনীতির কারণে এতদিন প্রকাশ না পেলেও মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি সন্মুখে আসায় তা প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। খুন-ধর্ষণ-লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো যুদ্ধাপরাধীরা সাধারণ ক্ষমার আওতাবহির্ভূত ছিল। প্রায় ১১ হাজার পাপিষ্ঠ নরাধম এসব অপরাধের দায়ে কারাগারে আটক ছিল। সপরিবারে বঙ্গবন্ধু ও জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা ও ক্ষমতার পালাবদলের পর ১৯৭৫-এর ৩১ ডিসেম্বর, বিচারপতি সায়েম ও জে. জিয়ার সামরিক সরকার দালাল আইন বাতিল করে। ফলে অভিযুক্ত ও দন্ডিত অপরাধীরা জেল থেকে বেরিয়ে যায়।

নিজের গুণ না থাকলে পরের গুণে গুণান্বিত হওয়া যায় না। জামায়াত-বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নিজস্ব গুণ বা আদর্শ না থাকায় ইসলামের আদর্শ ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তা পুষিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা করছে। ইসলামে রাজনীতি আছে, কিন্তু প্রচলিত কোনো রাজনীতি নেই। ইসলামে প্রথমেই আছে আত্মশুদ্ধি ও পরিবার শুদ্ধির রাজনীতি, তারপর সমাজশুদ্ধি। এগুলো বাদ রেখে নিজেদের স্বার্থে ইসলামকে ব্যবহার যেমন বিপজ্জনক, তেমনি মহাপরাধ ও অধর্ম। ইসলামে গণতন্ত্র আছে তাও সত্য, কিন্তু প্রচলিত কোনো গণতন্ত্র নেই। ইসলামের গণতন্ত্র হলো দেশের জ্ঞানী-গুণী মহাজনরা আরও পরিশুদ্ধ জ্ঞানী-গুণীদের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া। আর সরকার হবে ধর্মনিরপেক্ষ। কারণ ব্যক্তি বা ধর্মসম্প্রদায়গত জীবনে ধর্মনিরপেক্ষতা যেমন ধর্মহীনতা, তেমনি দেশশাসনে বিশেষ ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব বা বৈষম্য প্রদর্শনও ধর্মহীনতা। তাই সরকার পরিচালনায় ধর্মের ব্যবহার দুঃখজনক। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক, ধর্মের জন্যও ক্ষতিকর। এতে গণতন্ত্র যেমন বাধাগ্রস্ত হয়, ধর্মও তেমনি বিশেষ দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গতিরুদ্ধ হয়। ধর্মসম্প্রদায়ের মধ্যে নানা ফেতনা ও বিভেদ-বিভ্রার্ন্তির জন্ম হয়।

দু’শিবিরে বিভক্ত রাজনীতির একপক্ষের নেতৃত্বে আছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। অপরপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জিয়াউর রহমানের পতœী খালেদা জিয়া, আর একাত্তরের ঘাতক দালালরা। সরাসরি দু’শিবিরে বিভক্ত রাজনীতির লোকেরা দুই নেত্রীকে পীরের মতো মান্য করে চলেছেন। দুই নেত্রীর আদেশ-নিষেধ, সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে অন্ধের মতো অনুসরণ করে চলেছেন। বিজ্ঞ মহলের অভিমত- ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী এ দেশের জন্য, জনগণের কল্যাণের জন্য কোন রাজনীতি সঠিক আর কোন রাজনীতি বেঠিক তা রাজনীতিকদের পক্ষে নির্ধারণ করা সম্ভব হলো না কেন? যে জাতি স্বাধীনতার জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, এক সাগর রক্ত দিতে পারে, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত একটি দুর্ধর্ষ বাহিনীকে পরাজিত করতে পারে, সে জাতির আদর্শ-উদ্দশ্য বা চলার পথ কোনটি তা নির্ধারিত হলো না কেন? তা নিয়ে এত বিতর্ক কেন? পক্ষ-বিপক্ষ এত হানাহানি-খুনাখুনি কেন? তাহলে কি ১৯৭১-এ বিষয়টির ফয়সালা হয়নি? আজ দেশের এমন কোনো সেক্টর নেই, এমন কোনো পেশা নেই যেখানে বিভক্তি নেই, ঘৃণা ও বিদ্বেষের বিস্তার ঘটেনি।

উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, কোন রাজনীতি সত্য আর কোন রাজনীতি মিথ্যা তা নির্ধারণে জাতির একটি অংশ সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। আজ আমরা কোন রাজনীতিকে সত্য বা সঠিক বলব, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, না সাম্প্রদায়িক হানাহানি? ’৪৭-এর চেতনা, না ’৭১-এর চেতনা? ’৭১-এর মুক্তিযোদ্ধা, না ’৭১-এর রাজাকার? আবহমানকালের বাঙালি জাতীয়তাবাদ, না ’৭৫-এর পরবর্তী জন্ম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ? বাংলাদেশের স্বাধীনতা, না পাকিস্তানের গোলামি। নিকটতম প্রতিবেশী বিশাল ভারতের সঙ্গে সৎ প্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্ক, না চিরশত্রুতা? সব অপরাধের ন্যায়বিচার, না কোনো কোনো মারাত্মক অপরাধের বিচারের পথ বন্ধ করে রাখা? আসলে বিএনপির জন্মই হয় মুক্তিযুদ্ধ ও ভারতবিরোধী আদর্শ নিয়ে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা চালানো যায় না। কিন্তু বিএনপি জোট ক্ষমতায় থাকলে আইএসআই বাংলাদেশ থেকে ভারতে তৎপরতা চালায়। ১০ ট্রাক অস্ত্র আমদানি তার প্রমাণ। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হওয়া জাতির ভাগ্যনিয়ন্তা হয় পরাজিত শক্তি। গণতন্ত্রের মৌলভিত্তি ধ্বংস করে একটি বৈধ সরকারকে উৎখাত ও খুনহত্যা করে যারা ক্ষমতায় আসে তারাই আজ গণতন্ত্রের জন্য হা-হুতাশ করছে। এর চেয়ে বড় বিস্ময় আর কি হতে পারে! দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত, সন্ত্রাস ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে অবৈধভাবে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থেকে আজ তারা ধনে-জনে বলীয়ান ও মোটাতাজা হয়ে উঠেছে। একাত্তরের পরাজিত শক্তি হয়েও তারা আজ একমাত্র বিরোধী দল। তাদের ছাড়া গণতন্ত্র-নির্বাচন এসব নাকি আর সম্ভব নয়। ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস ও ছলচাতুরী করে দীর্ঘকাল ক্ষমতা ভোগ করেও তারা কিন্তু বৈধতা পায়নি। পরিশুদ্ধ গণতান্ত্রিক পথে রাজনীতি করাও শেখেনি। তাই ভবিষ্যতে যে কোনো পথে যদি ক্ষমতায় চলে আসে, তা হবে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীন হওয়া জাতির জন্য আরও একটি মহাবিস্ময় এবং মহাবিপর্যয়। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে ভেবেচিন্তে গণতন্ত্র চর্চা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে বোকামি।

[লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট]