• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ১৯ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

বাংলাদেশ নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চের ডায়মন্ড জুবিলি

মিথুশিলাক মুরমু

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৯

১.

নভেম্বরের ২, ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে ‘বাংলাদেশ নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চ’ (বিএনইএলসি)-এর হীরকজয়ন্তী উৎসব উদ্যাপিত হয়েছে চার্চের সচিবালয়ে, আউলিয়াপুর মিশন, কসবা, দিনাজপুরে। বাংলাদেশ নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চ (বিএনইএলসি)-এর হীরকজয়ন্তী উৎসব আমাদের বাবা ঈশ^রের ভালোবাসা, দয়া ও অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দেয়। তারই অসীম কৃপায় ৬০ বছর অতিক্রান্ত করতে চলেছি। ধন্য হোক, প্রশংসিত হোক প্রভু যীশুর নাম। ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দের ৬-৭ ডিসেম্বর ইতিহাসের সূচনা হয়। এই দিনে ইস্ট পাকিস্তান সীমানায় অবস্থিত ম-লীগুলো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। মাননীয় সিনোড সদস্যগণ সর্বসম্মতিক্রমে ‘নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চ’ থেকে ‘ইস্ট পাকিস্তান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চ’ এবং পরবর্তীকালে ‘ইস্ট পাকিস্তান নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চ’ হিসেবে নামকরণের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ১৬ ডিসেম্বর শত্রুসেনাকে পরজাতি করে বিজয় অর্জিত হলে মুক্ত আলো-বাতাসে স্বাধীন চেতনার উন্মেষ ঘটে। সিনোড সদস্যগণও পাকিস্তান শব্দটিকে ছেঁটে ফেলে নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চ (বিএনইএলসি)। সাত সমুদ্র তের নদী পেরিয়ে ঈশ^রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তরুণ মিশনারি রেভা. এল. ও স্ক্রেপ্সরুড (নরওয়ে) এবং রেভা. এইচ.পি বোয়ার্সেন সাঁওতাল অধ্যুষিত দুমকার বেনাগাড়িয়াতে ‘এবেনেজার’ স্থাপন করেন। ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর ঝাড়খণ্ডের মাটিতে খ্রিস্টের পতাকা ওড়ানোর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ২৮ মার্চ, ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে তিনজন যুবক যিশু খ্রিস্টকে পরিত্রাণকর্তা হিসেবে গ্রহণ করেন; এরা হলেন-জগৎ, সিরাম ও রঘু। এই ত্রয়ীই পরবর্তীকালে প্রেরিত পৌলের সাদৃশ্য ভূমিকা পালন করেছেন। ইতোমধ্যেই আমরা সাঁওতাল চার্চ ও সার্ভিসের দেড়শ’ বছরপূর্তি উদ্যাপন করেছি।

২.

নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চ সম্পর্কে প্রতিবেদনে পাওয়া যায়, ‘the very beginning in 1857 of the Indian Home Mission to the Santals. The name was later changed to: The Santal Mission of the Northern Churches to indicate that the support which was entirely Indian to begin with, after a few years was being subsidized from groups of friends in the churches of Denmark, Norway and America. These “home bases” of the Santal Mission have steadily been growing and consist now of well organized Mission Societies directed by ... Home Boards in each of these countries. A area many groups and individuals together with a number of permanently appointed home workers are now responsible for the work of the Santal Mission in the homelands. At two sessions of the Maha Sabha the Church was formally established in 1950 under the name of Ebeneser Evangelical Lutheran Church which has since been changed to: Northern Evangelical Lutheran Church.

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ও ১৫ আগস্ট ভারত ও পাকিস্তান নামক দু’টি সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হলে রাজশাহী জেলা ও পূর্ব দিনাজপুরের খ্রিস্টভক্তরা পূর্ব পাকিস্তানের অংশে পড়ে যান। ‘১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত বিভাগের পরে এদেশের লুথারেন ম-লীর অধিকাংশ সাঁওতাল সদস্য দেশ ত্যাগ করিয়া ভারতে চলে যায়। রাষ্ট্রীয় সীমানায় বিভক্ত হলেও কয়েক বছর বেনাগাড়িয়া মিশন থেকেই সমস্ত কাজকর্মের তত্ত্বাবধান চলতো। বর্তমান বাংলাদেশ নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চ (বিএনইএলসি) ভারতে অবস্থিত নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চের একটি অংশ এবং মুদ্রিত সমস্ত প্রকার প্রকাশনা সেখান থেকেই নেওয়া হচ্ছিল। রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্ধারণের ফলস্বরূপ ২৪টি ম-লী পূর্ব পাকিস্তানের অংশে পড়ে যায়; এই ২৪টি ম-লীর বিশ^াসীর সংখ্যায় ৯০০ জন ছিল। দু’টি রাষ্ট্রের সীমারেখার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হতে থাকলে ধর্মীয় পুস্তকাদি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে বেশিদূর এগুনো সম্ভবপর হয়নি। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের এটি চরম আকার ধারণ করে। অবশেষে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা চার্চ কাউন্সিল গঠনের অনুমতি প্রদান করেন। এই চার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন পাস্টর রেভা. বুধরাই হাঁসদা (বাধাইড় মিশনের)। ট্রেজারার ও বিশেষ সদস্য হিসেবে জড়িত ছিলেন পারগানা মি. কে টুডু। এই দুজন পর্বত সমান সমস্যাকে মাথায় নিয়ে চার্চের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ক্রমশঃই ম-লীর অবনতি হতে থাকে। এ সময়েই ডেনমার্কের মিশনারি রেভা. এইচ. পি. কে কিপেনস্ (Rev. H.P.H. Kippnes) ইন্ডিয়া থেকে তাকে বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার তানোর থানার বাধাইড় মিশনে প্রেরণ করা হয়। ইন্ডিয়া থেকে অর্থ প্রেরণের জটিলতার কারণে অর্থনৈতিক দৈন্যদশার সম্মুখীন হন এবং চরম অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় তিনি প্রায় পাগল হয়ে যান। রেভা. কিপেনস বাধাইড় ছেড়ে আবার প্রত্যাবর্তন করেন। এর কিছুদিন পরেই ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে সান্তাল মিশন আমেরিকা থেকে রেভা. জন এন. অটেশন (Rev. John N. Ottesen) মিশনারি হিসেবে বাংলাদেশে আগমন করেন। তিনি এসে রাজশাহীর বাধাইড় মিশনে অবস্থান করেন এবং পালকীয় কাজের অগ্রগতি সাধন করেন। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের দিকে সাঁওতালদের মধ্যে নরওয়ে থেকে রেভা. এলসেও টাবিয়াস ইবলেন্ড (Rev. T. Ivelend), ১ ৯৬০ খ্রিস্টাব্দে খ্রিস্টেন এবং ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে হানস ওভারবাই (Rev. Hans Overby) পূর্ব পাকিস্তানে আগমন করেন ও অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তাদের পরিবার নিয়ে পরিচর্যা কাজ আরম্ভ করেন। ‘১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে লুথারেন ম-লীর সাঁওতাল সদস্য ছিলেন মাত্র ১৬০ জন কিন্তু ১৯৭৪ এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাইয়া ৬৫৮২ জন। সাঁওতালদের মধ্যে লুথারেন মিশনারিদের এই সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রেভারেন্ড পিটার ম্যাকনী লিখিয়াছেন : The missionaries are constantly in the villages with the people learning the language and the culture of the Santals. Their work is effective because it is specific, and because the churches they are planting and multiplying are santal churches that feel good to santals. ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে এ সময়ে বৃহত্তর রাজশাহী ও দিনাজপুরে ৩০টি ম-লী খ্রিস্টধর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। ‘The Lutheran church in Dinajpur has grown from a Baptized Community of 682 in 1969 to 1.463 in 1974 and all but 200 of them are Santals or of Santal subcastes. The Catholics in the some district have grown from 7.346 Baptized members in 1959 to 12.014 Baptized members in 1974. Most of this growth has taken place among Santals people. The total Santal Christian population is approximately 8,000; but the non-Christian Santals member about 40,000 four-fifties one yet to be evangelized yet at the point where growth in quite possible the Lutherans have been sidetracked other fields looks greener. This, if I night say so. Was a bad decision. Now in the time to evangelize the Santals until every last one is a Christian. It is a sin to have a people cut in half when a whole tribe could be reconciled to Christ. Americans, Norwegians and Danish should reconsider.

রাষ্ট্রীয় সীমানা ও দূরত্ব এবং কজের অসুবিধার কথা চিন্তা করে এদেশের চার্চের নেতৃবৃন্দ আলোচনার জন্য বসতে চাইলেন। দিনাজপুর জেলার রাজাপুর গ্রামে ইস্ট পাকিস্তান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চের প্রথম সিনোড (৬-৭ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে) অনুষ্ঠিত হয়। এ মিটিং-এ কমিটির সদস্য ছাড়াও বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণ করেন। কমিটির সদস্যবৃন্দ হলেনÑরেভা. জন এন. অটেশন (নরওয়ে), রেভা. বুধরাই হাঁসদা (বাধাইড় মিশন), মি. তিমতাস কিস্কু (পিপরা মিশন), মি. সেথ হেমব্রম (ঝলঝলিয়া), মি. যোসেফ সরেন (রাজাপুর), মি. মাথুরাম মুরমু (দোল্লা), মি. লাজারুস হাঁসদা (রাজাপুর)। এই মিটিং-এ জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে রেভা. জন এন. অটেশনকে মনোনীত করা হয় এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে রেভা. বুধরাই হাঁসদা মনোনীত হন। অনুষ্ঠিত সিনোড মিটিং-এ চার্চকে ইস্ট পাকিস্তান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চ (ইপিইএলসি) হিসেবে অভিহিত করে। পরবর্তীকালে নাম পরিবর্তন হয়ে পাকিস্তান নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চ (পিএনইএলসি) ধারণ করে। পরবর্তী বছর আমাদের মাতৃম-লীর নেতৃবৃন্দগণ আমাদেরকে পরিদর্শন ও উজ্জীবিত করেন। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে গৃহীত ১১তম বার্ষিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়-In September it was a great pleasure to visit our brethren now under East Pakistan- Evangelical Lutheran Chuch. The brethren expressed an uneffable joy for the visit which has become so rare since the partition of the two countries. They have been able to carry on the work. But a great need of trained personnel, training institutions, and educational institutions is so very much felt. The brethren expressed an earnest desire for a closer tie with Northern Evangelical Lutheran Church.

চার্চ পরিচালনার জন্য ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল তারিখে অনুষ্ঠিত সিনোডে গঠনতন্ত্র অনুমোদিত হয়। সেই সভাতেই ইস্ট পাকিস্তান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চের জেনারেল সুপারিনটেনডেন্ট (জিএস) হিসেবে Rev. J.N. Ottesen কে নির্বাচিত করা হয়। ‘Lutheran Church in the World’ বইয়ে বলা হয়েছে- ‘This Church was formally past of the Northern Evangelical Lutheran Church in India but was separately organized in 1959 a Constitution Called. The memorandum and articles of association was adopted in 1968. ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দের ২৬ এপ্রিল তারিখে অনুষ্ঠিত সিনোড মিটিং-এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে, ‘পাকিস্তান নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চ’কে সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন এ্যাক্ট (XXI) ১৮৬০ অধীনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক রেজিস্ট্রেশন করা হয়, যার নিবন্ধিত সংখ্যা রাজ-এস-৩৫৩৯ ইপ; তারিখ অক্টোবর ২০, ১৯৭০। পাকিস্তান নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চের প্রস্তাবনায় লেখা হয়: In the name of the Father and the Son and the Holy Ghost, Amen. Whereas in God’s infinite mercy the Evangel of our Lord Jesus Christ was brought to the Santal Parganas in India by the missionaries H.P. Boerresen and L.O. Skrefsrud, and whereas under the guidance and power of the Holy Ghost, and supported by prayers and loving gifts of the mother churches in Scandinavia and America, the daughter church has grown and spread among different language groups and into neighboring countries, we members of the thus established church situated in Bangladesh have felt that the time is ripe for the organization of the church for proper running and development. Wherefore, we members of the thus established church located in Bangladesh declare and make known.

[আগামীকাল সমাপ্য]

  • দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা

    দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এক অকুতোভয় সৈনিক

    শামসুল ইসলাম সহিদ

    newsimage

    আজ ৮ নভেম্বর শুক্রবার উত্থান একাদশী। তিথি অনুযায়ী এশিয়া খ্যাত কুমুদিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার ১২৩তম