• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ আশ্বিন ১৪২৬, ২৪ মহররম ১৪৪১

নদীবিধৌত বরিশালের কয়েকটি মৃতপ্রায় নদীর কথা

আবদুল লতিফ সিকদার

| ঢাকা , বুধবার, ২২ মে ২০১৯

রবীন্দ্রনাথ তার প্রিয় জ্যোতিদাদার (জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর) ‘ফ্লোটিলা’ নামক স্টিমার কোম্পানির কোন একটি জাহাজযোগে কাজী নজরুল ইসলাম যে স্থানকে ‘বাংলার ভেনিস’ আখ্যা দিয়েছিলেন সেই ‘ধান নদী খালÑ এই তিনে বরিশাল’ শহরে এসে তার কনিষ্ঠা কন্যা মীরা ওরফে অতসীলতার পতি নগেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলীদের হসপিটাল রোডের দোতলা বাড়ি ‘গাঙ্গুলী লজে’ আতিথেয়তা গ্রহণ ও কালীবাড়ি রোডে অবস্থিত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্বদেশী যুগের নেতা ও বরিশাল বিএম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের ‘অশ্বিনী ভবনে’ আগমন করেছিলেন সে কথা জানা গেলেও তিনি তার ‘বৌ ঠাকুরানীর হাট’ উপন্যাসের চরিত্র চন্দ্রদ্বীপের রাজা রামচন্দ্র রায়ের রাজধানী মাধবপাশা এসেছিলেন কিনা সেটা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে তিনি যে সেখানকার পরিবেশের অপরূপ সৌন্দর্য সম্পর্কে সম্যক অবহিত ছিলেন সেটা এই উপন্যাসের একটা বর্ণনা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। বাংলার বারো ভুঁইয়ার অন্যতম চন্দ্রদ্বীপের রাজা কন্দর্প নারায়ণের পুত্র রাজা রামচন্দ্র রায়ের পত্নী বিভা (আসল নাম বিমলা) তার পিতৃগৃহ রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী যশোর থেকে ভৈরব ও রূপসা হয়ে সুদীর্ঘ নদীপথে পতিগৃহ মাধবপাশা আগমনের সময় ৬৪ দাঁড়ের কোষ নৌকাখানি চন্দ্রদ্বীপ এলাকায় প্রবেশ করলে এখানকার পরিবেশ সম্পর্কে এক অপূর্ব বর্ণনা পাওয়া যায় :

‘রামচন্দ্রের রাজ্যের মধ্যে নৌকা প্রবেশ করিল। চারিদিক দেখিয়া বিভার মনে এক অভূতপূর্ব আনন্দের উদয় হইল। কী সুন্দর শোভা। কুটিরগুলো দেখিয়া বিভার মনে হইল সকলে কী সুখেই আছে। বিভার ইচ্ছে হইতে লাগিল, প্রজাদিগকে কাছে ডাকিয়া তাহাদের রাজার কথা একবার জিজ্ঞাসা করে। প্রজাদিগকে দেখিয়া তাহার মনে কেমন এক প্রকার স্নেহের উদয় হইল। যাহাকে দেখিল সকলকেই তাহার ভালো লাগিল।’

এখানে যে অঞ্চলটির সুন্দর শোভা ও সুখী লোকজন দেখে বিভার আনন্দের উদয় হয়েছিল সেটিকে বাসন্ডা নদী ও কালিজিরা নদীর সঙ্গমস্থল বলা যায়। কেননা, সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর সঙ্গমস্থলে উৎপন্ন ঝালকাঠি শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বাসন্ডা নামক নদীটি উত্তরমুখী প্রবাহিত হয়ে পূবদিকে মোড় নিয়ে যেখানটায় পূবদিক থেকে বয়ে আসা একদা প্রমত্তা কালিজিরা নামক নদীটিতে মিশেছে সেখান থেকে উৎপন্ন হয়ে রাজার বেড় (উচ্চারণ ব্যার) নামক যে নদীটি চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী মাধবপাশা হয়ে উত্তরের রহমতপুরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা আড়িয়াল খাঁ নদীতে মিলেছে সেই উৎপত্তিস্থলেই ‘বৌ ঠাকুরানীর হাট’ এর স্থানটির অবস্থান চিহ্নিত করা যায়।

চন্দ্রদ্বীপের রাজাদের নামে নামকরণ করা রাজার বেড় (এ অঞ্চলের ছোট খালকে বেড় বলা হয়) নদীটি নিয়ে একটি চমকপ্রদ জনশ্রুতি রয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ‘বৌ ঠাকুরানীর হাট’ উপন্যাসের ঘটনা থেকে জানা যায় যে, যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের কন্যা বিভার (আসল নাম বিমলা) পিতৃগৃহ যশোরে অনুষ্ঠিত রাজা রামচন্দ্র রায়ের বিবাহ অনুষ্ঠানে রামচন্দ্রের রাজসভার ভাঁড় রামাই টুঙ্গি মহিলার বেশ ধারণ করে রাজা প্রতাপাদিত্যের অন্দরমহলে ঢুকে রাজরানী শরৎকুমারীসহ মহিলাদের সঙ্গে ভাঁড়ামী করতে গিয়ে ধরা পড়েন এবং রাজপ্রহরীদের ধাওয়া খেয়ে রাজা রামচন্দ্রসহ বরযাত্রী সকলকে নিয়ে নদী পথে ৬৪ দাঁড়ের কোষ নৌকাযোগে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। পেছনে ছুটে আসা রাজা প্রতাপাদিত্যের নৌবাহিনীর হাত থেকে রাজা রামচন্দ্রকে বাঁচাতে তার দেহরক্ষী মল্লযোদ্ধা রামমোহন মাল রাজার কোষ নৌকাখানি রাজার বেড়ের ছোট খালের মধ্য দিয়ে মাধবপাশা পর্যন্ত টেনে নিতে সক্ষম হন। এর ফলে খালটির স্র্রোতধারা ক্রমশ বিস্তৃতি লাভ করে কালক্রমে রাজার বেড় নদীতে পরিণত হয় এবং অদূরে অবস্থিত রহমতপুরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা আড়িয়াল খাঁ নদীর স্রোতধারায় মিলিত হয়।

অন্যদিকে কীর্তনখোলা ও সুগন্ধা নদীর সঙ্গমস্থল থেকে উৎপন্ন কালিজিরা নদীটি বরিশাল সদরের জাগুয়া ইউনিয়নের কালিজিরা বাজার ও নলছিটির সুজাবাদ গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আমিরাবাদ, সুগন্ধিয়া, কড়াপুর ও চন্দ্রদ্বীপের ‘বৌ ঠাকুরানীর হাট’ এলাকায় প্রবেশ করে বিনয়কাঠি ইউনিয়নের ‘গগন’ নামক গ্রামটির যেখানে পার্শ্ববর্তী বাসন্ডা ও রাজার বেড় নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে সেখানে একটি ত্রিবেণী সঙ্গম (confluence of three rivers) সৃষ্টি হয়েছে। এই ‘গগন’ গ্রামটিই আমার প্রিয় জন্মস্থান, যার পার্শ্ববর্তী বহরমপুর গ্রামটিতেই রবীন্দ্রজামাতা নগেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলীদের গাঙ্গুলী বাড়িটি অবস্থিত। তাই ‘বৌ ঠাকুরানীর হাট’ খ্যাত স্থান জন্মস্থান হওয়ায় কবিগুরুর ভাষায় বলতেই পারি ‘সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।’

কালিজিরা নদীটির উৎপত্তি স্থলের পশ্চিমপাড়ে অবস্থিত সুজাবাদ গ্রামটির সঙ্গে দিল্লীর মোগল সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র শাহ সুজার নামটি জড়িত রয়েছে। কথিত আছে সম্রাট শাহজাহান ১৬৫৪ সালে বাংলার সুবেদার শাহ সুজাকে বরিশাল অঞ্চলে আরাকানী মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের দমনের জন্য প্রেরণ করলে তিনি এ অঞ্চলে এসে সুজাবাদ গ্রামটির পত্তন করে সেখানে দু’টি বুরুজ (দুর্গ) নির্মাণ করেন, যার একটির ধ্বংসাবশেষ এখনও বিদ্যমান। সেখানে থেকে তিনি জলদস্যুদের অত্যাচার, নির্যাতন ও লুন্ঠনের কবল থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। পরবর্তীকালে তিনি সম্রাট শাহজাহানের মৃত্যুর পর তার তৃতীয় পুত্র সম্রাট আওরঙ্গজেবের নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতা থেকে রক্ষা পেতে বরিশাল অঞ্চলে পালিয়ে এসে সুজাবাদ দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করেন। শাহ সুজার মারাঠি সেনাপতি আসমান সিংকে নিয়ে সুজাবাদের পার্শ্ববর্তী আমিরাবাদ গ্রামের রূপসী কণ্যা দুর্গার সঙ্গে প্রেম-বিবাহ ও সে গ্রামের বাসিন্দা খোদা নেওয়াজ খানের ষড়যন্ত্র, বিরহ ও বিচ্ছেদের হৃদয়স্পর্শী কাহিনী নিয়ে রচিত ‘আসমান সিং’ নামক পালাগানের কয়েকটি যাত্রাদলের অনুষ্ঠান এক সময় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, যাদের অভিনয় স্কুলজীবনে আমি নিজেও রাত জেগে প্রত্যক্ষ করেছি।

বাসন্ডা নদীটির খ্যাতিও উপেক্ষিত নয়। যে নদীটি সুগন্ধা ও বিষখালীর সংযোগস্থল থেকে উৎপন্ন হয়ে ঝালকাঠির শহর পার হয়ে অদূরেই অবস্থিত বাসন্ডা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বলেই হয়তো সেই নদীটির নাম বাসন্ডা নদী। বাসন্ডা গ্রামটি বিখ্যাত এই কারণে যে এখানেই যে কবি ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ এর মতো কবিতা কিংবা ‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পরে/সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’ এর মতো অবিস্মরণীয় সমবায়ী চেতনার পঙ্ক্তি রচনা করেছেন সেই আলো ও ছায়ার কবি কামিনী রায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অধুনা এখানেই আবার ‘কায়েতশাহ হুজুর’ খ্যাত এক কামেল পীর সাহেবের নেছারাবাদ গ্রামটির অবস্থান। বাসন্ডা নদীটি এরপর বাউকাঠি হাটের মধ্য দিয়ে কিছুদূর অগ্রসর হলে বেত্রাবতী নামে তার একটি নির্মল স্রোতধারা পশ্চিমে বানারিপাড়ার দিকে চলে গেছে এবং মূলধারাটি আরো খানিকটা পথ পার হয়ে নবগ্রাম নামে যে গ্রামটির পাশ দিয়ে চলে এসেছে সেই গ্রামটির গুনাই বিবি ও তোতা মিয়ার প্রেম উপাখ্যান নিয়ে রচিত ‘গুনাই বিবি’ নামক যাত্রাপালাটি এক সময় এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, গত শতকের ষাট ও আশির দশকে এই উপাখ্যান নিয়ে অন্তত গোটা তিনেক ব্যবসাসফল ছায়াছবি নির্মিত হয়েছিল। নবগ্রামের পর পঞ্চগ্রাম নামক এলাকা হয়ে বাসন্ডা নদীটির প্রবাহ অনতিদূরের গগন গ্রামে এসে কালিজিরা ও রাজার বেড় এর ত্রিবেনী সঙ্গমে সংযুক্ত হয়ে উত্তরদিকে প্রবাহিত হয়ে শিকারপুরের কাছে সন্ধ্যা নদীতে মিলিত হয়েছে।

এসব ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত স্রোতধারা বরিশাল ও ঝালকাঠির একদা প্রমত্তা কালিজিরা নদীটিকে বিগত কয়েক বছর ধরে ক্ষীণস্রোতা মৃতপ্রায় খালে পরিণত হতে দেখে গভীর বেদনাবোধে জর্জরিত হই এবং হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। আর বাসন্ডা ও রাজার বেড় নদী দুটির দুর্বল স্রোতধারা সচল থাকলেও তাদের দখল ও দূষণের কবলে অনেক দিন থেকে ক্রমশ স্রোতহীন খালে পরিণত হওয়ার পথে অগ্রসর হতে দেখে আসছি। মাছ ধরার নামে দখলদার দুর্বৃত্তরা নদী দুটির দুই পারের অর্ধেকের বেশি জায়গা বাঁশের ঘের (স্থানীয় ভাষায় ঝাউ) দিেেয় মাঝে গাছের ডালপালা ফেলে ও কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দিয়ে স্রোতহীন অবস্থা তৈরি করে ‘সিলটেসনে’ সহায়তা করে আসছে। ভেবে হতবাক হতে হয় যে এসব অবৈধ দখলদার দুর্বৃত্তদের কবল থেকে নদী দুটিকে রক্ষা করার কেউ নেই। নদী তীরের এলাকাবাসী নির্বিকার। জনগণের মালিকানাধীন রাষ্ট্রের অমূল্য সম্পদ নদী রক্ষায় বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের ওপর অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে তাদের অক্ষমতা ও নীরব ভূমিকা দেখে বিস্ময়াহত না হয়ে পারা যায় না।

তাই আলেচিত এই নদী তিনটি বাঁচাতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বরিশালের কৃতীসন্তান জাহিদ ফারুক এমপি সাহেবের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তাছাড়া এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জাতীয় নদী কমিশন ও বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এসব নদী দখলমুক্ত করে খনন করতে না পারলে কোন এক সময়ে এগুলো স্রোতহীন হলে প্রবল বৃষ্টিপাতের এই এলাকার জলনিষ্কাষণ ব্যবস্থা অচল হয়ে যশোরের ভবদহের মতো স্থায়ী জলবদ্ধ এলাকায় পরিণত হতে পারে ভেবে আতঙ্কিত হই।

পাদটীকা : প্রসঙ্গক্রমে ঝালকাঠির আর একটি সাহিত্য খ্যাত নদীর কথা না বলে পারা যায় না। বাসন্ডা নদীর উৎপত্তিস্থলের অদূরে বিষখালি নদী ও গাবখান চ্যানেলের মোহনার কাছে উৎপত্তি লাভ করে যে নদীটি রাজাপুর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাঘরি হাটের দিকে চলে গেছে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের প্রিয় সেই ধানসিঁড়ি নদীটিও কালের স্রোতে এখন মৃতপ্রায় ম্রিয়মাণ একটি খালে রূপান্তরিত হয়েছে। এই নদীটির উৎপত্তিস্থলের কাছে রূপাসিয়া খাল (কবির ভাষায় ‘রূপসার ঘোলাজল’) নামে যে স্রোতস্বিনীটি মিলিত হয়েছে সেটি এখন মরা নালা। সেখান থেকে নয় কিলোমিটার পার হয়ে বাঘরিহাটের কাছে এসে ধানসিঁড়ি নদীটি দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে পূবদিকে প্রবাহিত জাঙ্গালিয়া স্রোত ধারাটি (কবির ভাষায় ‘জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা’) প্রবহমান থাকলেও পশ্চিমদিকে কাউখালির সন্ধ্যা নদীতে সংযুক্ত বালার জোর নামক স্রোতধারাটির বিলুপ্তি ঘটেছে। এরই মধ্যে একটি সুসংবাদ এই যে ধানসিঁড়ি নদীটিতে ডেল্টা প্লানের আওতায় পুনর্খননের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে নব্বই দশকে পরিচালিত বাংলাদেশ জরিপে প্রণীত উপজেলা মানচিত্রে ব্রিটিশ আমলে ধানসিদ্ধ (Dhansiddha) নামে পরিচিত নদীটির যে সীমানা চিহ্নিত ছিল সেই সীমানাভুক্ত ধানসিঁড়ি নদীটির প্রবাহ পুর্নবহাল করে পুর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিতে না পারলে প্রকল্পটির উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।

[লেখক : বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য]