• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১

চা শিল্পে নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনাচা শিল্পে নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা

সংবাদ :
  • সাহাদাৎ রানা

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯

‘চায়ের কাপে পরিচয় তোমার সঙ্গে, পথে দেখা হলো আবার’। বাংলা ব্যান্ড সোলসের চা নিয়ে বিখ্যাত গান। চা নিয়ে রয়েছে আরও অনেক বিখ্যাত গান। এছাড়া বাংলা সাহিত্যে গল্প কবিতায়ও বিশেষ স্থান পেয়েছে চায়ের বিষয়টি। এককাপ গরম চা মূলত একজন মানুষকে দ্রুত ফ্রেস করে তোলে। বিশেষ করে যখন একজন মানুষ নিজেকে কাজের মধ্যে অস্থির করে মানসিক চাপের ভেতর দিয়ে যায়, ঠিক তখন এককাপ গরম ধুয়া ওঠা চা পানে যেন প্রাণ ফিরে আসে। অনেক সময় এক কাপ গরম চা-ই চমৎকারভাবে সাহায্য করতে পারে সব শারীরিক ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তির জন্য। আর চা এমন একটি পানীয় যা হাত বাড়লেই যখন তখন যেখানে খুশি পাওয়া যায়। কি শহর, কি গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল সব জায়গায় রয়েছে চা। মজার বিষয় হলো মজাদার এই চায়ের চাহিদা দিন দিন বাড়ছেই। চা নিয়ে এতো আলোচনা করার কারণ সম্প্রতি চা উৎপাদনে বাংলাদেশ নতুন রেকর্ড গড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের চেয়ে এবার দেশে রেকর্ড পরিমাণ চায়ের উৎপাদন হয়েছে। যা ছাড়িয়ে গেছে অতীতের সব রেকর্ড। আনন্দের খবর হলে- এটা শুধু দেশে নয়, গত আগষ্ট মাস পর্যন্ত বিশ্বের চা উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে সবার উপরে।

এবার একটু পরিসংখ্যানে দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক। কিভাবে চা উৎপাদনে রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ। পূর্বে চা শ্রমিকরা তাদের প্রতিদিনের নিরিখ হাজরি ছিল ২৪ কেজি। কিন্তু উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় তারা পাতা তুলেছেন ৩৫ থেকে ৮০ কেজি পর্যন্ত। যা এর আগে এত সময় ধরে আর কখনও হয়নি। এটা সব দিক দিয়েই আমাদের জন্য স্বস্তির খবর। কেননা, এতে এর সঙ্গে জড়িত সবাই লাভবান হচ্ছেন। প্রথমত চা শ্রমিকরা লাভবান হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। এতে তারা অতিরিক্ত আয় করছেন। শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, অন্য বছরের তুলনায় এবছর চায়ের গুণগতমানও ভালো হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত দেশে চায়ের উৎপাদন হয়েছে ৫৩ মিলিয়ন কেজি। গত বছর এই সময়ে যা ছিল ৪২ মিলিয়ন কেজি। গত বছরের চেয়ে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৮ শতাংশের বেশি চা উৎপাদন হয়েছে। এমন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেবাংলাদেশের পরে রয়েছে ভারতের অবস্থান। তাদের বৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এমন তথ্য আমাদের জন্য সব দিক দিয়ে আলাদা তৎপর্য বহন করে। কেননা, এ উৎপাদনের ধারা অব্যাহত থাকলে এবছরের লক্ষ্যমাত্রা ৯০ মিলিয়ন কেজি ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

এবার ইতিহাসে ফিরে তাকানো যাক। চা বোর্ডের হিসেব অনুযায়ী আমাদের দেশে ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালিনীছড়া চা-বাগানের মাধ্যমে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষ শুরু হয়। সময়ের স্রোতে বর্তমানে বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক নিবদ্ধনকৃত ১৬৬টি চা বাগান রয়েছে। আমাদের দেশে মূলত কয়েকটি নির্দিষ্ট জেলায় চা চাষ হয়। এর মধ্যে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, পঞ্চগড় ও রাঙামাটি এলাকায় সবচেয়ে বেশি চা চাষ হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চা-বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। শুধু মৌলভীবাজারেই রয়েছে ৯২টি চা-বাগান। বাকিগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জে ২৪টি, সিলেটে ১৯টি, চট্টগ্রামে ২২টি, পঞ্চগড়ে ৭টি, রাঙ্গামাটিতে ২টি ও ঠাকুরগাঁওয়ে রয়েছে ১টি চা-বাগান। এসব বাগানে মোট জমির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৭৯ হাজার ৪৩৯ একর। তবে এখানে একটি তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার সময় দেশে চা-বাগানের সংখ্যা ছিল ১৫০টি। বর্তমানে চা-বাগানের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬৬টি। এই সময়ে ধারাবাহিকভাবে চায়ের উৎপাদন বাড়লেও সেই অর্থে চা-বাগানের সংখ্যা বাড়েনি। বাগানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবে উৎপাদনের পরিমাণও বাড়তো। সে ক্ষেত্রে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আমাদের চা-শিল্প রফতানি আরও ব্যাপক হতো।

কেননা, বিশ্ব বাজারেআমাদের চায়ের চাহিদা রয়েছে অনেক। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ডের মতো উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশের চায়ের ব্যাপক সুনাম। এছাড়া আমাদের নিকটবর্তী দেশ কুয়েত, ওমান, সুদান, পাকিস্তান, ইরান ও আফগানিস্তানে চায়ের বাজার আশানুরূপ। আমাদের দেশে সাধারণ কালো চায়ের উৎপাদন বেশি হয়। তবে এখন সাধারণ কালো চায়ের পাশাপাশি আমরা সুগন্ধি চা, মসলাযুক্ত চা ও ঔষধি চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হচ্ছি। এর চাহিদাও দেশে বিদেশে ব্যাপক। বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যদি সুগন্ধি চা, মসলাযুক্ত চা ও ঔষধি চায়ের ক্রেতা বাড়ানো যেতে পারে তবে আমাদের চা রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়বে। অতীত ইতিহাস বলেনব্বইয়ের দশকে বিশ্বে চা রপ্তানির তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল পঞ্চম। সেই সময় সবচেয়ে বেশি পরিমাণ চা রপ্তানি হতো। কিন্তু এখন আর সেই সুদিন নেই। এখন চা রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক পেছনে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে চা উৎপাদনে এমন ব্যাপক সাফল্য আমাদের চা উৎপাদনের অতীত ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেয়। পাশাপাশি আবার সেই সোনালি দিনে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। এমন একটা সময় ছিল যখন আমরা চা রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করতাম। একটা সময় চা ছিল আমাদের এক নম্বর রফতানি পণ্যও। সে সময় প্রধান অর্থকরী ফসল বলতেও চা-কে বোঝানো হতো। কিন্তু এখন সেই স্মৃতি অনেকটা পুরনো। তবে সম্প্রতি চা উৎপাদনে এমন সাফল্য আমাদের রফতানি ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেয়। পাশাপাশি আমাদের আশানিত্বও করে। তবে এর জন্য এখন থেকে নিতে হবে কার্যকরী উদ্যোগ। বিশেষ করে মান ঠিক রেখে চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। তাহলে চা উৎপাদনের ক্ষেত্রে আরও সাফল্য আসবে। এতে সব দিক দিয়ে লাভবান হবো আমরা।

তবে সরকার ইতোমধ্যে চায়ের উৎপাদন বাড়িয়ে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে ১৫ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এই পরিকল্পনায় ২০২৫ সালে ১৪০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা অর্জনে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে পরিকল্পনা। বিশেষ করে চা উৎপাদনে যেসব বাধা রয়েছে তা দূর করতে হবে। এছাড়া প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটগুলোতে প্রশিক্ষণ, চা বাগানের অনেক পরিত্যক্ত জমিকে চা চাষের আওতায় আনা, সারা দেশে চা-বাগানের সংখ্যা বৃদ্ধি, চায়ের রোগবালাই দমনে সঠিক পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি চা চাষে উৎসাহিত করা। কেননা এসব বিষয়গুলো চা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এখন এসব বিষয়গুলোযদি চা বাগানের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয় তবেই বিশ্ববাজারে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে আমাদের চা শিল্প। ফিরিয়ে আসবে হারানো ঐতিহ্য। অধিক লাভজনক রফতানি পণ্য হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে আমাদের চা শিল্প।

[লেখক : সাংবাদিক]

  • চিরদিন তোমার আকাশ

    উদ্যম বাবুদের সমাজ পাঠ

    আমাদের বাসায় একটা পিচ্চি আছে। উদ্যম বাবু। দুরন্ত-দুর্বার। আমার ভাইপো। বয়স পাঁচ বছর কয়েক মাস। খুব বুদ্ধি। পাকা। সমাজ সংসারে যেসব ভালো দিক,

  • আইন করে বন্ধ করে দিন ভিন্নমতের পথ

    নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য সারা দেশে টালমাটাল উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুটি সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠন। ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজিসহ অবৈধ