• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু

| ঢাকা , শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২০

লীগ শাহীর স্বরূপ উদ্ঘাটন

নড়াইলের বিরাট জনসভায় শেখ মুজিবের বক্তৃতা

নিজস্ব সংবাদদাতার তার

যশোর, ৯ আগস্ট : জনাব আবদুল খালেক, জনাব মসিহুর রহমান, জনাব জিল্লুর রহমান ও জনাব কামরুজ্জামান সমভিব্যাহারে প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি শেখ মুজিবুর রহমান বেলা প্রায় ১২টার সময় নড়াইলে আসিয়া পৌঁছেন। জনতা পুষ্পমালা ও বিভিন্ন ধ্বনিসহকারে আওয়ামী নেতৃবৃন্দকে বিপুল সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন। অপরাহ্ণে নড়াইল ময়দানে এক বিরাট জনসভায় আওয়ামী নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন।

বক্তৃতা দানকালে শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ১৯৪৭ সাল হইতে শুরু করিয়া জনাব। সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় সরকারের পরিচালন ভার গ্রহণের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত মুসলিম লীগ দল দেশের শাসন ক্ষমতা পরিচালনা করে। এই সময় মরহুম লিয়াকত আলী খান, খাজা নাজিমুদ্দীন, বগুড়ার মোহাম্মদ আলী, চৌধুরী মোহাম্মদ আলী কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনা করিয়াছেন এবং জনাব সোহরাওয়ার্দীর পরেও মুসলিম লীগ নেতা জনাব আই আই, চুন্দ্রীগড় কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রীর আসন গ্রহণ করিয়াছেন। কিন্তু ইহাদের সকলের আমলেই পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বিমাতাসুলভ ব্যবহার করা হইয়াছে। তাহাদের ৮ বৎসর কালীন শাসনামলে পূর্ব পাকিস্তানকে মাত্র ১৪৮ কোটি টাকা দেয়া হয়। পক্ষান্তরে জনাব সোহরাওয়ার্দীর মাত্র ১৩ মাস কালীন শাসনকালে পূর্ব পাকিস্তানকে ২১১ কোটি টাকা দেয়া হইয়াছে। এই ঘটনা হইতেই পূর্ব পাকিস্তানবাসীরা কেন জনাব সোহরাওয়ার্দীকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পাইতে চায়, তাহার কারণ বোঝা যাইবে। কারণ একমাত্র জনাব সোহরাওয়ার্দীই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতি সুবিচার করিতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, মুসলিম লীগের দীর্ঘ ৮ বৎসর স্থায়ী শাসনকালে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ১০০০ কোটি টাকা খরচ করা হইলেও আলোচ্য সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য মাত্র ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হইয়াছে। ফলে, লীগ শাহীতে প্রাচুর্যের দেশ পূর্ব পাকিস্তান দারিদ্র্য ও বেকারির লীলা ভূমিতে পরিণত হইয়াছে। ইহাদেরই শাসনের ফলে অভাব-অনটন পূর্ব পাকিস্তানবাসীদের নিত্যসঙ্গী হইয়া দাঁড়াইয়াছে। তাহাদের কু-শাসন এবং অসামঞ্জস্য সম্পদ বণ্টনের ফলেই পূর্ব পাকিস্তানের আজ এই দশা। তিনি আরও বলেন, পূর্ব পাকিস্তান কৃষির দেশ। এখানকার শতকরা ৯৫ জন লোক কৃষির দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ পশ্চিম পাকিস্তানের কৃষি উন্নয়নের জন্য ১৯৮ কোটি টাকা ব্যয় করিয়াছেন এবং ১০ লক্ষ লোক অধিষ্ঠিত করাচীতে ৪০০টি শিল্প প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন। পক্ষান্তরে গোটা পূর্ব পাকিস্তানে একশতের বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়িয়া তোলা হয় নাই।

বক্তৃতা প্রসঙ্গে জনাব খালেক ও জনাব মসিহুর রহমান, জনাব সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন এবং মুসলিম লীগ ও আওয়ামী লীগ শাসনের তুলনা করেন।

আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান জনাব জিল্লুর রহমান যুবকদিগকে দলে দলে আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীতে যোগ দিতে বলেন। নেতৃবৃন্দ অদ্য মাগুরা যাত্রা করিবেন।

দৈনিক ইত্তেফাক: ১০ আগস্ট ১৯৫৮