• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৮ি জিলহজ ১৪৪১, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু

| ঢাকা , শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২০

কালাকানুন প্রবর্তনে সর্বত্র বিস্ময় ও তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার

আগামী শুক্রবার প্রদেশব্যাপী প্রতিবাদ দিবস ঘোষণা পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুরের আহ্বান

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

প্রাদেশিক গভর্নর কর্তৃক অর্ডিন্যান্স জারি করিয়া প্রদেশে সর্বজনধিকৃত নিবর্তনমূলক আটক আইন প্রবর্তন করার ফলে রাজধানীর সকল মহলে যুগপৎ বিস্ময় ও ক্ষোভের সঞ্চার হইয়াছে।

এই অগণতান্ত্রিক কালাকানুনের তীব্র নিন্দা করিয়া প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান আগামী শুক্রবার (১ আগস্ট) প্রদেশব্যাপী প্রতিবাদ দিবস পালনের আহ্বান জানাইয়াছেন।

এই প্রসঙ্গে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, অবিলম্বে ১৯৩ ধারা প্রত্যাহারপূর্বক পার্লামেন্টারি সরকার প্রতিষ্ঠার অনুকূল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাদেশিক গভর্নর কর্তৃক অকস্মাৎ নিবর্তনমূলক আটক অর্ডিন্যান্স জারি আমাদিগকে অত্যন্ত বিস্মিত করিয়াছে। তথাকথিত জননিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স ইত্যাদি সম্পর্কে পূর্ব পাকিস্তানবাসীদের অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা রহিয়াছে। স্বার্থসংশ্লিষ্ট শ্রেণীর লোকেরাই রাষ্ট্রীয় স্বার্থের অজুহাতে উক্ত রূপ আইন ও অর্ডিন্যান্সসমূহ প্রবর্তন করিত।

শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, উক্ত ধরনের একটি কেন্দ্রীয় সরকারের আইন বর্তমানে প্রচলিত রহিয়াছে। তাহার উপরেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে পূর্ব পাকিস্তানে নিবর্তনমূলক আটক অর্ডিন্যান্স প্রবর্তন করার কোন অর্থ আমি বুঝিয়া উঠিতে পারি না। মনে হয়, করাচীর চক্রান্তকারীরা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের নির্বাচিত সংখ্যাগুরু প্রতিনিধিদের অভিমত উপেক্ষাপূর্বক প্রদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাসমূহ গলা টিপিয়া হত্যা করার উদ্দেশ্যে ১৯৩ ধারা জারি করিয়াও ক্ষান্ত হয় নাই; প্রেসিডেন্ট শাসিত পূর্ব পাকিস্তানিদের গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার লইয়া ছিনিমিনি খেলিতে নূতনভাবে সক্রিয় হইয়া উঠিয়াছেন। কর্তৃপক্ষের নিকট আমি কি এই প্রশ্ন করিতে পারি যে, অতীতে পূর্ব পাকিস্তানে যখন নিরাপত্তা আইন বা নিবর্তনমূলক আটক অর্ডিন্যান্স ইত্যাদি ছিল না, তখন দেশের কি ক্ষতি সাধিত হইয়াছে।

শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, জনগণ এই ধারণা করিতে বাধ্য যে, বিশেষ কোন উদ্দেশ্য লইয়াই উপরোক্তরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে এবং আমি এই ব্যবস্থা গ্রহণকে নিন্দা না করিয়া পারি না। মুসলিম লীগের আমলে উক্তরূপ ব্যবস্থাসমূহের ব্যবহারের কুফল এখনও আমাদের মনে জাগিয়া আছে। তিনি বলেন, আগামী ১লা আগস্ট তারিখে জনসভা অনুষ্ঠান, প্রস্তাব পাস ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে নিবর্তনমূলক আটক অর্ডিন্যান্স বিরোধী দিবস প্রতিপালনের জন্য আমি প্রদেশের সমস্ত আওয়ামী লীগ ইউনিটসমূহের প্রতি আবেদন জানাইতেছি।

দৈনিক মিল্লাত : ২৭ জুলাই ১৯৫৮