• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭, ৭ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

কোভিড-১৯ : বৈশ্বিক মহামারী এবং বাংলাদেশ

সাকিব আনোয়ার

| ঢাকা , বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীন আনুষ্ঠানিকভাবে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণের কথা ঘোষণা করে। বাংলাদেশ করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করে গত ৮ মার্চ ২০২০। অর্থাৎ ৯ সপ্তাহ পর। এ সময়ের মধ্যে করোনা বিস্তার লাভ করেছিল আরও ১০১টি দেশে। দুই মাসেরও বেশি এই সময় ধরে আমাদের দেশে করোনা মোকাবিলার জন্য কার্যত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বাংলাদেশ সরকার এই সময়টিতে বরং ব্যস্ত ছিল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালনের অনুষ্ঠান উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে। উৎসব হিসেবে দিনটি অবশ্যই বাঙালি জাতির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবন নিশ্চয়ই তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত প্রথম ১৭ দিনে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে এবং এই সময়ের মধ্যে সরকার ঘোষিত মৃতের সংখ্যা ৩। এখন পর্যন্ত (২৪ মার্চ, ২০২০) বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩,৮২০১০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৬,৫৫৮ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন ১,০২,৪৩১ জন।

বাস্তবতা যা-ই হোক না কেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি অনুযায়ী তারা করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, এমনকি সেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর চেয়েও ভালো। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দেশে নতুন করে কিছু থার্মাল স্ক্যানার আনা হচ্ছে। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে থার্মাল স্ক্যানার আনার সিদ্ধান্ত তখন নেয়া হলো যখন সারা পৃথিবীর সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অথচ বিশ্বে করোনা সংক্রমণ শুরু হবার পর যখন কয়েক লক্ষ প্রবাসী করোনা সংক্রমিত দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে ফিরেছে তখন ঢাকা বিমানবন্দরে একটি মাত্র থার্মাল স্ক্যানার ঠিক ছিল, বাকি সব নষ্ট। আর চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিমানবন্দরে কোন ভালো থার্মাল স্ক্যানারই ছিল না। স্থলবন্দরগুলোতে দায়সারাভাবে শুধু স্বাস্থ্য ফরম পূরণের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হয়েছে। অথচ জানি না কেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বললেন, ‘করোনা প্রতিরোধে ঢাকা বিমানবন্দরের মতো ব্যবস্থা উন্নত দেশগুলোতেও নেই।’

থার্মাল স্ক্যানারে জ্বর আছে বলে প্রমাণিত হলে তাদের দ্রুত করোনা পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু যাদের জ্বর পাওয়া যাবে না, তারা সবাই করোনাভাইরাসমুক্ত এই নিশ্চয়তা নেই। কারণ শরীরে জীবাণু ঢোকার পর কেউ করোনায় আক্রান্ত নাও হতে পারে। কিংবা জীবাণু ঢোকার পর করোনায় আক্রান্ত হতে কারও ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সে কারণেই বিদেশ ফেরত প্রতিটা যাত্রীকে কোন নির্দিষ্ট স্থানে কিংবা তাদের বাড়িতে কঠোর কোয়ারেন্টাইনের মধ্যে রাখা জরুরি ছিল। এই পদক্ষেপ নেয়া দরকার ছিল যখন প্রথম করোনা চীনে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আমরা এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছি প্রায় দুই মাস পর যখন সারা পৃথিবীর বহু দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। এরপরও বিদেশফেরত সব যাত্রীকেও কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়নি। ১৬ মার্চের সংবাদপত্র থেকে জানা যায়, পূর্ববর্তী ১ সপ্তাহে ৯৪ হাজারের বেশি যাত্রী কোভিড-১৯ আক্রান্ত দেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। অথচ কোয়ারেন্টিনে আছেন মাত্র ২ হাজার ৩১৪ জন।

এদিকে যেসব মানুষকে বাড়িতে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছিল তারা সেটা না করে চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন অনেক খবর মিডিয়ায় এসেছে। কয়েকটি পত্রিকার অনুসন্ধানে দেখা গেছে কোন এলাকায় কয়জন কোয়ারেন্টিন থাকার কথা এবং তারা কী করছে- এই ব্যাপারে কোন তথ্য এবং মনিটরিং স্থানীয় প্রশাসনের দিক থেকে নেই। বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টিনে থাকাকে সরকার কতটা হেলাফেলা করছে তার প্রমাণ পাওয়া যায় সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের ঘটনায়। এই ভদ্রলোক লন্ডন থেকে ফিরে সরাসরি মুজিবশতবর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। এই বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে আমরা গণজমায়েত নিষিদ্ধের মধ্যেই মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর আতশবাজি উৎসব, মহাসমারোহে একজন সিভিল সার্জনের মেয়ের বিয়ে, এমনকি জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনের মহাযজ্ঞ অবলোকন করলাম।

করোনার বিশেষায়িত চিকিৎসা এমনকি পরীক্ষা শুধু ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরে করা যায়। সারা দেশের থানা-জেলা পর্যায় দূরেই থাকুক, বিভাগীয় শহরেও নেই এই ব্যবস্থা। আবার কেউ চাইলেই আইইডিসিআর এ গিয়ে করোনার পরীক্ষা করতে পারে না। তাকে সেই প্রতিষ্ঠানের হটলাইন নাম্বারে কথা বলে জানাতে হয়। সেই হটলাইন নাম্বারগুলোতে ফোন করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও সেখানে সংযোগ পাওয়া যায় না। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা মাদ্রাসা শিক্ষক এবং মিরপুরের দুজনের সংক্রমণ এবং মৃত্যুবরণের যে বর্ণনা মৃতের পরিবার এবং গণমাধ্যমের বরাতে পাওয়া গেছে তাতে আইইডিসিআরের করোনা পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং হটলাইনে যোগাযোগের সক্ষমতা প্রশ্নাতীতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এমনকি এই মহাদুর্যোগের সময়ও এদের একজনের উচ্চপর্যায়ের তদবিরেই করোনা পরীক্ষার সুযোগ মিলেছিল বলে জানা গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস গত ১৬ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সব দেশের প্রতি আমাদের খুব সাধারণ একটি বার্তা, তা হলো- পরীক্ষা, পরীক্ষা, পরীক্ষা। সব দেশেরই উচিত সন্দেহজনক সব রোগীকে পরীক্ষা করা। চোখ বন্ধ করে থাকলে দেশগুলো এই মহামারীর সঙ্গে লড়াই করতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষা ছাড়া সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা যাবে না, সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙা যাবে না।’ অথচ আমাদের দেশে করোনা পরীক্ষার কিট নেই বললেই চলে। গত ১৫ দিনে বিদেশ থেকে এসেছে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। পরীক্ষা হয়েছে মাত্র ৪৬৯ জনের। এর মধ্যে কোয়ারেন্টিনে আছে মাত্র ১৭ হাজার। বাকিদের মধ্যে কতজন যে কোরিয়ার পেশেন্ট ৩১, তা আমাদের সবারই অজানা। অথচ ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ পাকিস্তানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে করোনা পরীক্ষা করা যায় ৫০টির বেশি হাসপাতালে। পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশের প্রতিটি জেলা সদর থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য রক্তের স্যাম্পল নেয়া হচ্ছে।

কয়েকদিন আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজে কানাডাফেরত এক মেয়ের করোনা হয়েছে সন্দেহে হাসপাতালের নার্সরা তার চিকিৎসা দেয়া থেকে বিরত থাকে। শেষ পর্যন্ত মেয়েটি মারা যায়। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ ডাক্তারদের জন্য পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট না থাকা। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আরও চারজন ডাক্তারকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী না থাকার কারণে করোনা রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার পর আইসোলেশনে যেতে হয়েছে। ব্যক্তিগত পরিচয় থাকায় গত ২২ মার্চ সন্ধ্যায় জানতে পারলাম মিরপুরে মারা যাওয়া রোগীকে সেবা দেয়া ডা. পলাশ কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন। তাকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডা. পলাশের ভাগ্যে কি ঘটবে, তা সময়ের হাতে ছেড়ে দেয়া ছাড়া আর বিশেষ কিছু করার নেই।

করোনার এ সময়টাতে সারা পৃথিবীতে ডাক্তাররা এই ভাইরাসের রোগীদের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিতে আছেন সবচেয়ে বেশি। তাই তাদের পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট থাকা খুবই জরুরি। এতদিন পরেও সেসবের ব্যবস্থা না থাকা ডাক্তার এবং চিকিৎসাসেবা দানকারী অন্যান্য কর্মীদের ঝুঁকি যেমন বাড়াচ্ছে তেমনি তাদের মাধ্যমে এই রোগ আরও বেশি পরিমাণে ছড়িয়ে পড়ার পথ তৈরি করছে। পিপিই না থাকার প্রতিবাদে ইতোমধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এবং খুলনা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন; সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) সরবরাহ না করায় রোগী ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতদিন পরে এসে দেশে আইসোলেশন ইউনিট, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিশেষায়িত আইসোলেটেড আইসিইউ ইউনিট করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

হাসপাতালগুলো এখন জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট থাকলে কাউকে ভর্তি করছে না। অথচ দেশের বয়স্ক রোগীদের একটা বড় অংশ ব্যাকটেরিয়া কিংবা অন্য কোন ভাইরাস ঘটিত নিউমোনিয়া কিংবা অ্যালার্জির কারণেও চরম শ্বাসকষ্টে ভুগতে পারেন। এসব রোগীকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়াটা খুবই জরুরি। করোনার ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করতে পারায় এই রোগীদের অনেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতলে ভর্তি হতে না পেরে মারা গেছেন।

কিন্তু বরাবরের মতোই এবারও আমাদের দেশের কর্তা ব্যক্তিবর্গ কথার ফুলঝুরিতে পিছিয়ে নেই। আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনে চীনের মতো হাসপাতাল বানানো হবে।’ আমরা সন্দিহান এটা ভেবে যে, কতজন আক্রান্ত হলে বা ঠিক কতজনকে করোনায় মৃত ঘোষণা করা হলে এই প্রয়োজন অনুভূত হবে। তিনি আরও বলেছিলেন, করোনা মোকাবিলার জন্য যত অর্থ প্রয়োজন তা সরকার দেবে। অথচ গণমাধ্যমের কল্যাণে ক’দিন আগে মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জে. মোর্শেদ রশীদ এবং উপ-পরিচালক ডা. মো. বেলায়েত হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে আমরা দেখেছি সম্পদের স্বল্পতার কারণে সেখানে সেবাদানকারীদের মাস্ক পর্যন্ত সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। একই পরিস্থিতি বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী কদিন আগে যখন বললেন, ‘করোনা নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা-ইতালির চেয়েও বেশি সফল বাংলাদেশ’ - তখন এক ধরনের প্রশান্তি কাজ করেছিল জনগণের মনে। কিন্তু দু’দিন পরেই সংবাদ সম্মেলনে যখন তিনি বেশিরভাগ প্রশ্নের ‘জানেন না বা জানা নেই’ বলে উত্তর দিলেন তখন প্রশ্ন জাগল যে মন্ত্রী মহোদয় কোন উপাত্তের ভিত্তিতে আমাদের আশার বাণী শুনিয়েছিলেন। আমরা তখনও আশ্বস্ত হয়েছিলাম যখন তিনি বলেছিলেন, ‘করোনাভাইরাস মারাত্মক নয়, ছোঁয়াচে’ বা তার সহকর্মী মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘করোনা মারাত্মক রোগ নয়, এটা সর্দি-জ্বরের মতো’। কিন্তু কেন জানি না পরিস্থিতি সে রকম কথা বলছে না। মনে হচ্ছে ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন একটা সময় আসছে। জানি না দেশের কজন নাগরিক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কথায়- ‘আমরা করোনার চেয়ে বেশি শক্তিশালী’ কিংবা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বা নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকতে করোনা দেশের, দেশের মানুষের কোন ক্ষতি করতে পারবে না,- বলে বিশ্বাস করেন। তবে আমরা বিশ্বাস করতে চাই, আশ্বস্ত হতে চাই যে করোনাভাইরাস আমাদের দেশে মহামারী আকার ধারণ করবে না, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

[লেখক : এক্টিভিস্ট, কলামিস্ট]

mnsaqeeb@gmail.com

  • করোনা এবং বেহুঁশ মানুষ!

    মীর আবদুল আলীম

    আমরা সতর্ক নই বললেই চলে। জনসমাগম সবখানেই হচ্ছে। নির্বাচনও হচ্ছে। হাটবাজার পুরোদমে

  • মুজিব শতবর্ষ

    মুজিব শাসন আমল : ১৯৭২

    ২১ মার্চ যানবাহনের অভাবে ত্রাণকার্য ব্যাহত সাহায্য সামগ্রী বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেয়ার