• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০, ৯ জিলহজ ১৪৪১, ৩১ জুলাই ২০২০

কৈশোর ও স্বাস্থ্য হজমে সমস্যা

ডা. মিনতি অধিকারী

| ঢাকা , রোববার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

হয়ত তোমার বন্ধু লটারি জিতে পার্টি দিয়েছে। দুপুরে বন্ধুর বাড়িতে চর্ব, চোষ্য, লেহ্য পেয় দিয়ে পেট পুরে খেয়ে এলে। কিন্তু বিকেলে তুমি গলায় জ্বালা অনুভব করলে। বুকে আর পেটে ও জ্বলতে শুারু করল; কিংবা উপর পেটে ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভব করলে, বুঝবে তুমি বদহজমে ভুগছ। হয়ত ধীরে ধীরে না চিবিয়ে একটু তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলেছ, বা পরিমানে একটু বেশিই খেয়েছ, অথবা এমন কিছু খেয়েছ যা তোমার শরীরে সয় না; যেমন এক টুকরো পনির কিংবা পেয়াজ মেশানো শশা টমেটোর সালাদ। তাছাড়া মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম, ধূম পান, গ্যাসট্রিক আলসার ও বদহজমের অন্যতম কারন।

বদহজমের উপসর্গসমূহ:

আহারের পরে বুকে বা পেটে ব্যথা বা জ্বালা অনুভব করা। অনেক সময় ব্যথা এত তীব্র হতে পারে যে একে হার্ট এটাক বলে ভয় পেতে পারো। অবশ্য যে কোন সময়েই এ ব্যথা অনুভব হতে পারে।

বমি ভাব বা বমি হওয়া। মুখে টক বা তিতা স্বাদ লাগা, গলা বেয়ে মুখে জল উঠে আসা, ঢেঁকুর তোলা।

গ্যাস জমে পেট ফুলে ওঠা, পেট ফাঁপা।

ক্ষুধা মন্দা।

কারণ:

পেট অতিরিক্ত ভরে খাবার খাওয়া, অনিয়মিত ভাবে খাওয়া, দীর্ঘক্ষণ পেট খালি রাখার পর খাবার গ্রহণ। ২. মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা। ৩. এলকোহল পান, ধূমপান, এসপিরিন জাতীয় ঔষধ সেবন। ৪. জীবানু সংক্রমণের ফলে পাকস্থলীর ঝিলিতে প্রদাহ। গ্যাস্ট্রিক আলসার। ৫. পাকস্থলী থেকে হজমী রস বা অম্ল গলনালীতে উঠে আসার ফলে গলনালীর প্রদাহ ৬. অন্ত্র, পিত্তথলী, বা অগ্নাশয়ের অসুখ।

কারণের ওপর নির্ভর করে হজমের গণ্ডগোল ক্ষণস্থায়ী, অনিয়মিত হতে পারে, আবার য়িমিত ও দীর্ঘস্থায়ী ও হতে পারে।

বদহজম এড়াতে কি করবে:

* প্রতি দিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ কর * একবারে বেশি না খেয়ে পুরো দিনের খাবার কে ৬ ভাগে ভাগ করে প্রতি বারে অল্প অল্প করে খাবার খাও * তাড়াহুড়া করে না খেয়ে আস্তে ধীরে খাও * উপাদেয় বলে বেশি খেয়ে ফেলবে না * যে সকল খাবার সয় না তা এড়িয়ে চল * খাদ্যবস্তু ভালো করে চিবিয়ে খাবে, পাচক রস নিঃসরনে সহায়তা করবে * মাথাব্যথা বা সর্দি জ্বর হলে এসপিরিন না খেয়ে প্যারাসিটামল খাবে * ক্ষুধা পেলেই কেবল খাবে, নিছক সময় কাটাবার জন্য বা শখের বশে খাবে না * শাকসবজি, মাছ ভাত খাবার সঙ্গে সঙ্গে ফল, ফলের রস বা মিষ্টিদ্রব্য খাবে না, ২০-৩০ মিনিট আগে বা ৩ ঘণ্টা পরে খাবে * প্রতিদিন অন্তত ৮ গাস জল খাও, জল হজমে সহায়তা করে * রাতের খাবার ঘুমুতে যাবার অন্তত দু ঘণ্টা আগে খাবে, যেন পাকস্থলি খাদ্যদ্রব্য হজমের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় * বিছানা থেকে মাথা ৬-৮ ইঞ্চি উপরে রেখে শোবে যেন পাকস্থলির পাচক রস গড়িয়ে উপরে না আসতে পারে, পাচক রস গড়িয়ে উপরে আসলে হজমে ব্যাঘাত ঘটে * শরীরের ওজন সঠিক মাত্রায় বজায় রাখ। * অতিরিক্ত চা, কফি, এলকোহল ও চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চল। তেলে ভাজা ও মসলাদার খাবার পরিহার কর। টক জাতীয় ফল বেশি মাত্রায় খাবে না। * আহারের পরে শারীরিক বা মানসিক কাজ করবে না। কাজ করতে যাবার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে খাবার খাবে। * রিলাক্স কর, মনকে চাপমুক্ত রাখ। * নিয়মিত বিকেলে বা সন্ধ্যায় এক ঘণ্টা হাট

** বদহজম হার্টের ব্যথা এনজাইনা বা হার্ট এটাক বলে ভ্রম হতে পারে। কারণ উভয় ক্ষেত্রেই বুকে এবং উপর পেটে ব্যথা অনুভব হয়। তবে হার্টের ব্যথা শারীরিক পরিশ্রমের পর বেড়ে যায় এবং বিশ্রাম নিলে কমে যায়। হার্ট এটাকের ব্যথা তখনই বুঝবে যদি বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যথা অনুভব হয়, ব্যথা বাম বা ডান বাহুতে কিংবা উভয় বাহুতে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিপদ তখনই দেখা দেয় যদি কেউ তার হার্টের ব্যথা কে বদহজম বলে ভুল করে।

সাধারণত হজমের গন্ডগোল মাঝে মধ্যে দু একবার দেখা দেয়, যেমন খুব বেশি ঝাল মসলাদার খাবার খেলে পর। কিন্তু স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও যদি হজমের গণ্ডগোল দেখা দেয় তবে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হবে। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবে যদি:

* বমি হয় এবং বমির সঙ্গে রক্ত যায় * অকারণে ওজন হ্রাস হয় * দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষুধামন্দায় ভোগো * ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট অনুভব হয় * অকারণে শরীর ঘামে ভিজে যায় * কিছুতেই পেটের ব্যথা কমছে না বরং ধীরে ধীরে বেড়েই চলছে * কালো পায়খানা হয় * প্রতি দিন বা প্রতি সপ্তাহে বুকজ্বলায় ভোগো * হজমের গণ্ডগোল একাধারে দুই সপ্তাহের বেশি চলতে থাকে, এন্টাসিড খেলে ও যায় না, তোমার কাজে, বিশ্রামে ও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। * বুকের বা পেটের ব্যথা খুব তীব্র হয় * পারিবারিকভাবে গ্যাস্ট্রিক আলসারের ইতিহাস থাকে

জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবে যদি: ** বমি হয় এবং বমির সঙ্গে তাজা রক্ত যায় বা রক্তের রং কফি রং হয় **তীব্র দীর্ঘস্থায়ী বুকে ব্যথা অনুভব কর ** কালো পায়খানা হয় ** অতি দ্রুত ওজন হ্রাস হয় ** ঘন ঘন বমি হয় ** খাবার গিলতে অসুবিধা হয় ** জন্ডিস দেখা দেয় ** ব্যথা পিঠের দিকে যায়

চিকিৎসক পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় করবেন এবং যথাযথ চিকিৎসা দেবেন।