• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মহররম ১৪৪১

আলোর পথযাত্রী কমরেড আহমদ রফিক

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

কমরেড আহমদ রফিককে ‘কমরেড’ বলে সম্বোধন করা আমার জন্য সবসময়ই গৌরব ও আনন্দের একটি বিষয়। এই সম্বোধনের সঙ্গে যুক্ত পরিচয়ের বাইরে তিনি একাধারে একজন কবি, প্রাবন্ধিক, রবীন্দ্র গবেষক, কলাম লেখক। কিন্তু এসব পরিচয় ছাপিয়ে তার ‘ভাষাসৈনিক’ পরিচয়টি স্বাভাবিক ও সঙ্গতভাবেই সবার হৃদয়ে আজ স্থায়ীভাবে ঠাঁই করে নিয়েছে। ‘ভাষাসৈনিক’ বিশেষণটা বাদ দিয়ে এখন তার নামটা কেমন যেন অপূর্ণ রয়ে যায়। ‘ভাষাসৈনিক’ বিশেষণ যুক্ত করে তার যে নামটা দাঁড়ায়, তার মধ্যে এক বিশেষ দ্যোতনা আছে, আছে এক সংগ্রামী প্রত্যয়।

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিকের জন্ম ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শাহবাজপুরে। সেই হিসাবে তার বয়স এখন ৯০ বছর অতিক্রম করছে। কিন্তু তিনি এতগুলো বছর শুধু জীবিতই আছেন, তা নয়। তিনি ভীষণভাবে বেঁচে আছেন। তাকে দেখে এবং তার কথা শুনে এখনও তাকে মনে হয় এক তরতাজা যুবক। জন্মের পরই তিনি দেখেছেন উত্তাল চল্লিশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ। অবিভক্ত ভারতবর্ষ, পাকিস্তান, স্বাধীন বাংলাদেশ এই তিন রূপের দেশকেই তিনি দেখেছেন। রাজনৈতিক নানা পটপরিবর্তনের অভিজ্ঞতায় সিক্ত হয়েছেন তিনি। তার জীবনের অভিজ্ঞতা দীর্ঘ, ব্যতিক্রমী। কালের সাক্ষী হয়ে আছেন তিনি।

কমরেড আহমদ রফিক ছাত্রাবস্থায়ই মার্কসবাদের প্রতি আস্থাশীল হয়ে ওঠেন। এখনও মার্কসবাদের পথ ধরে তিনি এগিয়ে চলেছেন। ’৪০-এর দশকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। স্কুলজীবনে তৎকালীন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ছাত্র ফেডারেশনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন। ভাষা-আন্দোলনের প্রথম পর্বের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা হয় ১৯৪৮ সালের মার্চে। মুন্সীগঞ্জে হরগঙ্গা কলেজে পড়ার সময় ভাষার দাবিতে তিনি মিছিল-স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করতেন। এভাবে সরাসরি যুক্ত হন ভাষা-আন্দোলনে। ’৫২-এর উত্তর পর্বের ভাষা-আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ ছিল সর্বাত্মক।

’৫২-এর ভাষা-আন্দোলনের সময়কালে আহমদ রফিক ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছিল বামপন্থী, প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীদের ঘাঁটি। তিনি ভাষা-আন্দোলনে মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের সংগঠিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব হলে প্রগতিশীল ছাত্রদের আড্ডা ছিল সেসব হলের ছাত্রদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। পোস্টার ও লিফলেট নিয়ে ছাত্র জনমত তৈরি করার চেষ্টা করেন। এভাবে হয়ে ওঠেন ভাষা-আন্দোলনের একজন পুরোদস্তুর সংগঠক। সব মিছিল, সমাবেশে শুধু অংশগ্রহণের মধ্যেই তিনি নিজের ভূমিকাকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। ভাষা-আন্দোলনের নানা কর্মসূচি সংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের সভাতেও তিনি উপস্থিত থেকেছেন। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভাষা-আন্দোলনের প্রায় সব সংগঠকই ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে কোনো না কোনো ভাবে সম্পৃক্ত। আর যারা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, তারাও ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি দ্বারা প্রভাবিত। ভাষা-আন্দোলনের সামনের সারির একজন সংগঠক আহমদ রফিকও ছিলেন অন্য সংগঠকদের মতো কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। ভাষা-আন্দোলনকে অগ্রসর করতে তিনি ও অন্য সংগঠকরা পার্টির ‘আন্ডারগ্রাউন্ডে’ থাকা নেতৃত্বের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলতেন। শুধু ভাষা-আন্দোলনেই নয়, ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক কঠোর নিষ্ঠার সঙ্গে ভাষা রক্ষার লড়াই চালিয়ে গেছেন। বাংলা ভাষা রক্ষার দাবিতে নেমেছেন রাজপথে। এই লড়াইয়ের পক্ষে লেখালেখি করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি রচনায় তার ভূমিকা ছিল অনন্য। তাছাড়া সশস্ত্র সংগ্রামকালে তিনি সম্মুখ সমরে না থাকলেও, বহুমাত্রিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করা, আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, মুক্তিযোদ্ধাদের অর্থনৈতিক সাহায্য করাসহ নানামাত্রিক কাজ সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

কমরেড আহমদ রফিকের তারুণ্য ও প্রথম যৌবনের দিনগুলোকে উজ্জ্বলতর করেছিল তার রাজনীতি। রাজনৈতিক কারণে তাকে আত্মগোপন করতে হয়েছিল। মার্কসবাদের প্রতি মতাদর্শিক অবস্থানের কারণে তিনি কখনই বিলাসী জীবন যাপন করেননি। আটপৌরে সাদাসিধে জীবনযাপন করেছেন সব সময়। তিনি সব সময়ই সব মানুষের সঙ্গেই সাবলীলভাবে মিশে যেতে পারেন নিজস্ব ভঙ্গিতে, দক্ষতায়।

আহমদ রফিক চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়ন শেষ করার পরও ডাক্তারিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি জড়িয়ে পড়েন সার্বক্ষণিক রাজনীতির সঙ্গে। ১৯৫৮ সালের পর সার্বক্ষণিক রাজনীতি থেকে সরে এসে সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। কিন্তু মার্কসবাদী চিন্তা থেকে একটুও সরে আসেননি। তার সেই রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা ফুটে উঠেছে তার সাহিত্যকর্মে। রাজনৈতিক মতাদর্শ মার্কসবাদকে অবলম্বন করেই তিনি এগিয়ে চলছেন।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আহমদ রফিক স্কুলজীবনেই লেখালেখি শুরু করেন। অগ্রজ এ কে এন আহমদের (সেলিম দা) উৎসাহে ৪৮ সালের দিকে মার্কসবাদী সাহিত্যচর্চা শুরু করেন তিনি। সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেন বিশ্বসাহিত্য অধ্যয়ন। তার লেখায় সমাজভাবনাই প্রাধান্য পেয়েছে। ইতিহাস, গবেষণামূলক অনেক প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি। চিকিৎসা, স্বাস্থ্য নিয়েও লেখালেখি করেছেন। তার লেখায় মার্কসবাদী চিন্তা-ভাবনা, শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে।

বাংলাদেশে রবীন্দ্র চর্চায় আহমদ রফিক অনন্য, বিরল ভূমিকা পালন করেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। সাহিত্যকর্ম ও অন্যান্য অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র পুরস্কার পেয়েছেন। কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট রবীন্দ্র গবেষণার জন্য তাকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য্য’ উপাধিতে ভূষিত করেছে।

ভাষা-আন্দোলন নিয়ে অনেকেই গবেষণা করেছেন এবং লিখেছেন। একজন সংগঠক হিসেবে ভাষাসৈনিক আহমদ রফিকও ওই আন্দোলন সম্পর্কে লিখেছেন, বর্ণনা করেছেন তার অভিজ্ঞতার কথা। তিনি ভাষা-আন্দোলনকে কাছ থেকে এবং একবারে ভেতর থেকে দেখেছেন। অনেক ঘটনাই তার চোখের সামনে ঘটেছে। তার বর্ণিত ইতিহাস অন্য লেখকদের বর্ণিত ইতিহাসের চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেক বস্তুনিষ্ঠ। তিনি তার লেখায় অন্য লেখকদের ভুলগুলো তুলে ধরেছেন। অনেক লেখকই আবেগে ভাষা-আন্দোলনের নানা ঘটনা সম্পর্কে অতিবর্ণনা দিয়েছেন। আহমদ রফিক সেসব দিক তার লেখায় তুলে ধরেছেন এবং ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধ থেকেই ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। মনগড়া ইতিহাস তিনি বর্ণনা করেননি।

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই। দেশভাগের যন্ত্রণা আমাদের প্রতিনিয়ত বিদ্ধ করে চলেছে। দেশভাগ নিয়ে বাংলাদেশে লেখালেখি, গবেষণা ও চর্চা একেবারেই সীমিত। দেশভাগ নিয়ে আহমদ রফিক একটি বই লেখেন। বইটির নাম ‘দেশভাগ : ফিরে দেখা’। এই বইয়ে তিনি দেখিয়েছেন, দেশভাগ ধর্মের ভিত্তিতে মানুষে মানুষে বিভাজন তৈরি করেছিল। তিনি মনে করেন, দেশভাগ অনিবার্য ছিল না। দেশভাগ মানবিক বিভাজন ঘটিয়েছে এবং ইতিহাসে ক্ষত রেখে গেছে। মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের নেতারা ব্রিটিশ ফর্মুলা মেনে নিয়ে মানুষের স্বাধীনতার আকাক্সক্ষাকে পদদলিত করে দেশকে নিয়ে গিয়েছিলেন বিভাজনের দিকে। এ বিষয়টি এ বইয়ে আহমদ রফিক সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। তার লেখা পড়লে তার চিন্তার গভীরতা, স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি, মার্কসবাদের প্রতি অবিচল আস্থার বিষয়টি ফুটে ওঠে।

পরম শ্রদ্ধেয় আহমদ রফিক ভাইকে ঘিরে আমার ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে চাই। ষাটের দশকে আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হই। কমরেড ইলা মিত্রের কাহিনী যখন থেকে শুনেছি ও জেনেছি, তখন থেকেই তার নামের সঙ্গে যুক্ত করে কমরেড আহমদ রফিকের নামের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। কমরেড ইলা মিত্রের ওপর পাশবিক অত্যাচারের পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে হাসপাতালে পুলিশ বেষ্টনীতে রাখা হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে পার্টিসহ বাইরের জগতের সঙ্গে কমরেড ইলা মিত্রের সংযোগের সূত্র ছিলেন কমরেড আহমদ রফিক। কমরেড ইলা মিত্রের জীবনসঙ্গী কমরেড রমেন মিত্র তখন হুলিয়া মাথায় নিয়ে আত্মগোপনে। কমরেড আহমদ রফিক চরম বিপদের ঝুঁকি নিয়ে কমরেড রমেন মিত্রকে কমরেড ইলা মিত্রের হাসপাতালের বেডের কাছে নিয়ে আসতেন। সেসব রোমাঞ্চকর ঘটনার বিবরণ শোনার ভেতর দিয়ে কমরেড আহমদ রফিক নামটির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়েছিল। তার দায়িত্ববোধ, নিষ্ঠার কথা শুনে তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু পাকিস্তান আমলে তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ আমার হয়নি।

মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে আমি ছিলাম ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তখন প্রায় সবটা সময় আমি মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে ছিলাম। ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা করার জন্য কলকাতায় গিয়ে দুই দিনের জন্য ইলাদির (কমরেড ইলা মিত্র) বাসায় উঠি। তখন ইলাদির কাছে রফিক ভাইয়ের নামটা আবার শুনি। এ রকম একজন সংগ্রামী মানুষের সঙ্গে আগে থেকে যোগাযোগ করতে পারিনি বলে তখন কিছুটা অনুশোচনা হয়। স্বাধীনতার পর তার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার প্রচন্ড আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু কয়েকবার বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা হলেও, আলাপচারিতার সুযোগ করে নিতে পারিনি।

সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপর্যয়ের পর আমরা ‘সমাজতান্ত্রিক ফোরাম’ গঠন করে লাল পতাকা মিছিলসহ সমাজতন্ত্রের পক্ষে বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করি। তিনি এ উদ্যোগে উৎসাহের সঙ্গে শামিল হন। তখন তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার উপলক্ষ তৈরি হয়। এবার এ সুযোগ আর নষ্ট হতে দিইনি। তিনি তখন বিজয়নগরে থাকতেন। তার বাসায় আমাদের অবাধ যাতায়াত ছিল। তখনকার সেসব কার্যক্রমে তিনি শুধু সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণই করেননি, তিনি নানাভাবে উৎসাহ-উদ্দীপনা-সাহস-মনোবল জুগিয়েছেন, নানা পরামর্শ দিয়েছেন। কেবল সমাজতন্ত্রে আস্থাশীল একজন মানুষ হিসেবেই নয়, রবীন্দ্র গবেষক হিসেবেও তিনি আমাদের কাছে নানা শিক্ষণীয় ও উদ্দীপক আলোচনা তুলে ধরতেন। এভাবে তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক সাবলীল ও গভীর হয়ে ওঠে।

’৫০-এর দশকের পর দীর্ঘদিন ইলাদি ঢাকায় আসেননি। ’৯০-এর দশকের পর যতদিন বেঁচে ছিলেন, কয়েকবার ঢাকায় এসেছিলেন। ঢাকায় এলে আমার বাসায় উঠতেন। আহমদ রফিকের সঙ্গে তার দেখা করার ইচ্ছেটা ছিল খুবই প্রবল ও স্বাভাবিক। ইলাদি আর রফিক ভাইয়ের আবেগঘন দেখা-সাক্ষাৎ পর্বের সঙ্গে আমি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলাম। দীর্ঘদিন পর এই দুই কমরেডের সাক্ষাৎ-পর্ব ও পারস্পরিক আলাপচারিতা আমাকে যারপরনাই উজ্জীবিত করেছিল।

কমরেড আহমদ রফিক তার বয়সের ভার সত্ত্বেও আজও মাঝে মধ্যে পার্টির (সিপিবি) কর্মসূচিতে আসেন। তরুণদের উজ্জীবিত করে বক্তৃতা করেন। পার্টির পত্রিকা ‘একতা’র জন্য মাঝে মাঝে লেখেন। তিনি সবসময় স্পষ্ট ভাষায় ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন। তিনি বক্তৃতায় তার স্বপ্নের কথা বলেন। সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কথা বলেন। রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত ‘একতা’র বিশেষ সংখ্যায় তিনি লিখেছেন। সেই লেখায় বামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন এবং বিপ্লবের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ উপলক্ষে আমরা জাতীয়ভাবে কমিটি করে নানা কর্মসূচি পালন করি। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার মধ্যেও তিনি আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করেননি। জাতীয় কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় কমিটির কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে আমাদের কাজের সম্পর্ক আরও গভীর হয়, দৃঢ় সেতুবন্ধন রচিত হয়।

কমরেড আহমদ রফিক মনে-প্রাণে একজন বিপ্লবী, একজন কমিউনিস্ট। তরুণ প্রজন্মকে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখিয়ে চলছেন তিনি। নিজের চিন্তা, কর্মতৎপরতার মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন এ দেশের বামপন্থীদের অভিভাবকদের অন্যতম। আলোর মশাল হাতে এখনও তিনি ছুটে চলেছেন। তিনি যে এক আলোর পথযাত্রী।

  • সবাই যা দেখে

    বিশ্বাসঘাতকেরা মরে না

    আব্দুল মান্নান খান

    চোখের চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ের শঙ্করনেত্রালয়ে গিয়েছিলাম। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটা ব্যবস্থাপত্র

  • মহররমের শিক্ষা ও আমাদের করণীয়

    মাহমুদ আহমদ

    মহররম হিজরি বছরের প্রথম মাস হওয়ায় এ মাসে আল্লাহতায়ালার নিকট প্রতিটি মুসলমানের