• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৩ সফর ১৪৪২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

মুজিব শতবর্ষ

মুজিব শাসন আমল : ১৯৭২

| ঢাকা , বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০

image

২৫ মার্চ

যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে সাহায্য দ্রব্য প্রেরণের অসুবিধা

রংপুর। সুষ্ঠু সড়ক যোগাযোগের অভাবে জেলার সুদূর গ্রামাঞ্চলে রিলিফ সামগ্রী বিতরণের কাজ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে কুড়িগ্রাম মহুকুমায় বিভিন্ন এলাকায় রিলিফ দ্রব্য পৌঁছানোর জেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষে অতীব কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ মহকুমার অধিকাংশ এখন পর্যন্ত জেলা সদর দপ্তরে পড়ে আছে।

প্রকাশ, খানসেনারা পিছু হঠে যাওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ সেতু তিস্তার পুলটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিসাধন করায় রংপুর হেড কোয়াটারের সঙ্গে কুড়িগ্রাম মহকুমার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া জেলায় অন্যান্য এলাকার রিলিফ সামগ্রীর সুষ্ঠু বিধিবণ্টন ব্যবস্থার অভাবে শত শত উদ্বাস্তু চরম সংকটের মধ্য দিয়ে দিনযাপন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

২৬ মার্চ

আজ স্বাধীনতার রক্তকমল ফোটার দিন

বিচার চালান আজ রক্ত কোমল কোটার দিন- আজ বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা বার্ষিকী। সাড়ে সাত কোটি মহেশেষ ত্যাগ ও অকৃপণ রক্ত দানের প্রত্যক্ষ ফসলের দিন। তাই শত বেদনা লক্ষ বিয়োগের মধ্যেও জনতা আজ বিমল আনন্দে উদ্বেল। এ আনন্দ আনুষ্ঠানিক উৎসবের নিপুণ হাসির ছটানয়; এ আনন্দ দীপ্ত কঠোর। প্রতিজ্ঞার বলিষ্ঠ হুংকার। এ আনন্দ নতুন পৃথিবী গড়ার।

অগ্নিঝরা সংগ্রামে এক শীত পেরিয়ে এসেছে আনন্দের এ মহালয়। লাখো মায়ের শূন্য কোলে এসেছে এ মহালয়। বেদনার সলতে দিয়ে জ্বালা স্বাধীনতার এ অনির্বাণ শিখাতো নিভতে পারে না। বাংলার মানুষ আজ নতুন করে সে আগুনে অবগাহন করবে। আত্মসমালোচনার কষ্টিপাথরে নিজের কাজ কর্মের যথার্ততা যাচাই করে দেখবে। আজ নতুন করে শপথ নিবে অস্ত্রে লড়াইয়ের বেদিমূলে শুরু হবে কাস্তে-কোদাল-হাতুড়ির নই। মুক্তি সংগ্রাম হবে শোষণহীন। নয়া সমাজ গড়ার সংগ্রাম। এই দিনটিকে পালন করা জন্য বাংলাদেশ সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল- ছাত্র, শ্রমিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নানাবিদ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

স্বাধীনতার লক্ষ্য সুখী ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গঠন- বঙ্গবন্ধু

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ রচনা করাই আমাদের লক্ষ্য। কাজেই আজ আমাদের দেশ পুনর্গঠনের সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে। স্বাধীনতা দিবসে জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের রক্ত ও মায়ের অশ্রু ধারার বড় যে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি আজ সেই স্বাধীনতার প্রথম বার্ষিকী। বঙ্গবন্ধু বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতার জন্য যারা রক্ত দিয়েছে আজ আমি তাদের স্মরণ করছি। তিনি বলেন, বঞ্চিত ও নির্যাতিত গণমানুষের জন্যই আজকে স্বাধীনতা দিবস। এই উপলক্ষে আমি আজ (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনযোগে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেব।

বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কায়েম হবে- বঙ্গবন্ধু

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বৈজ্ঞানিক সমাজতান্ত্রিক, অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গতকাল প্রথম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে সকল ব্যাংক, বীমা, চটকল, বয়নশিল্প, চিনিশিল্প প্রভৃতি রাষ্ট্রয়াত্ত করার কথা ঘোষণা করেছেন। রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এ ঐতিহাসিক নীতিনির্ধারণী ভাষণে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। বিদেশি ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিগুলো অবশ্য এ সিদ্ধান্ত থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে যুগপৎ তার ভাষণ প্রচার করা হয়। ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রচনার জন্য শোষণ ও অবিচার মুক্ত একটি সমাজ আমরা কায়েম করতে চায়। এই লক্ষ সামনে রেখে সরকার নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রয়াত্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ব্যাংক (বিদেশি ব্যাংক ছাড়া) বীমা- জীবন ও সাধারণ উভয়ই (বিদেশি কোম্পানি ছাড়া) চটকল, সুতা ও বয়নশীল্প, চিনিকল, অভ্যন্তরীণ উপকূলীয় পরিবহনের অধিকাংশ, ১৫ লাখ টাকার বেশি স্থায়ী সম্পত্তি সম্পন্ন সকল পরিত্যক্ত প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ বিমান, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। শেষোক্ত দুইটি সংস্থা সরকারি উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যকে রাষ্ট্রায়াত্ত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বঙ্গবন্ধু আপাততঃ গুরুত্বপূর্ণ আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য ট্রেডিং করপোরেশনের ওপর ন্যস্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তার নীতিনির্ধারণী ভাষণে বলেন যে, সরকার শীঘ্রই সরকারি প্রশাসন ঢেলেই সাজাবেন। এই জন্যে তিনি দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত সকল পেশাগত প্রতিভাধর ব্যক্তিদের এসব প্রতিষ্ঠার পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, স্বাধীনতার ফল অবশ্যই সকলকে ভোগ করতে হবে সমানভাবে। শিল্প ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের অংশীদারিত্বের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, সরকার এ ব্যাপারে নীতি নির্ধারণ করছেন। এ নীতি শ্রমিকদের শ্রমের ফসল ও পরিচালনায় অংশ গ্রহণের সুযোগ দেবে। বঙ্গবন্ধু বলেন, এই বলিষ্ট পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার সুসম্পূর্ণ রূপে মেহনতি শ্রেণির দায়িত্ববোধের ওপর নির্ভর করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আশা করেন যে, শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে যে চিরন্তন বিরোধ ছিল এই নীতির ফলে তার অবসান ঘটবে। বঙ্গবন্ধু জানান যে, সরকারি নীতি আলোচনা এবং সরাসরি তার শিল্প এলাকায় প্রসারণ ও শ্রমিকদের তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য শীঘ্রই তিনি শ্রমিক প্রতিনিধিদের সম্মেলন ডাকবেন।

সূত্র : দিনলিপি, বঙ্গবন্ধুর শাসন সময়, ১৯৭২