• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

মুজিব শতবর্ষ

মুজিব শাসন আমল : ১৯৭২

| ঢাকা , সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০

image

২৪ মার্চ

যোগাযোগ ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে

বিধ্বস্ত বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতোমধ্যেই যথেষ্ট পরিমাণ উন্নতি হয়েছে। যোগযোগমন্ত্রী জনাব এম মনসুর আলী শুক্রবার বিকেলে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তৃতাকালে বলেন, সরকার বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নতি করার ব্যাপারে সম্পূর্ণ সচেতন।

বাংলাদেশের প্রায় জায়গায় রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে। এছাড়া ভারত সরকার প্রদত্ত দুটি কর বিমান দ্বারা ঢাকা চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা যশোর পথে অভ্যন্তরীণ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন যে, শীঘ্রই আরও জায়গায় অভ্যন্তরীণ বিমান সার্ভিস চালু করা হবে। যোগাযোগমন্ত্রী আরও বলেন যে, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা কলকাতা বিমান সার্ভিস চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক পথে বিমান সার্ভিস চালু করার জন্যে বিমান ক্রয়ের প্রচেষ্টা চলছে। জনাব এম মনসুর আলী বলেন যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ২৭৩টি এবং কালভার্টের মধ্যে ১২৯টি ব্যবহারের উপযোগী হয়েছে। এছাড়া ৬৭টি ছোট ফেরি ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন যে, জাতিসংঘের দুটি ফেরিসহ পাঁচটি ফেরি কাজ করছে। তিনি বলেন যে, ফেরির ইঞ্জিন ও বেইলী ব্রিজ ভারত এবং যুক্তরাজ্য হতে নিয়া আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় বলেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার ১৫১টি বাস ৪৬টি কোচ এবং ৩৪টি ট্রাক বিভিন্ন পথে চলাচল করছে। তিনি বলেন যে, ১৫টি স্থানে কেমন সার্ভিস চলছে। একটি প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মহোদয় বলেন যে, ঢাকা শহরের যানবাহনের সমস্যা দূর করার জন্য সরকার বিদেশ হতে বাস আমদানি এবং নষ্ট বাসগুলো মেরামত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। যোগাযোগমন্ত্রী বলেন যে, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ১৬০টি জাহাজ ডুবে গিয়েছিল। এর মধ্যে ১০টি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিগুলোর উদ্ধার কাজ চলছে। তিনি বলেন যে, নষ্ট জাহাজগুলোর মেরামত করার জন্য ভারত এবং যুক্তরাজ্য থেকে খুচরা যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে। যোগাযোগমন্ত্রী প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জলপথ, পরিবহন সংস্থা (আইডব্লিউটিসি) নামে একটি সংস্থা খুব শীঘ্রই গঠন করা হবে। তিনি বলেন যে, সংস্থার জাতিদের উন্নত মানের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করবেন। এ প্রসঙ্গে একটি প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন যে, ভবিষ্যতে কাঠ নির্মিত লঞ্চগুলো ব্যবহার করা হবে না। স্টিলের লঞ্চ ব্যবহার করা হবে। মন্ত্রী মহোদয় বলেন যে, সারা বাংলাদেশে টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। মাত্র ৯৫টি জায়গায় টেলিফোন যোগাযোগ চালু করা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রী মহোদয় বলেন যে, হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী টেলিফোন বিভাগের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতি করেছে। যোগাযোগমন্ত্রী বলেন যে, রেলওয়ে বিভাগের প্রত্যক্ষভাবে ২৯ কোটি টাকা এবং পরোক্ষভাবে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন যে, ২৮৭টি পুলের মধ্যে ইতিপূর্বে ২৬৯টি পুল মেরামত করা হয়েছে। এবং ১৭৫০ মাইলের মধ্যে মাত্র ১০০ মাইল ব্যতীত সব জায়গায় রেল চালু হয়েছে। তিনি বলেন যে, পাকিস্তানি বাহিনী এ বিভাগে উচ্চপদস্থ অফিসারসহ ১৩০০ কর্মচারী হত্যা করেছে।

মন্ত্রী মহোদয় বলেন যে, দেশে সাত হাজার ডাকঘরের মধ্যে ৬ হাজার ৯৪৮টি ডাকঘর চালু হচ্ছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে, নগদ ১২ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। এবং ৩ লাখ টাকার স্ট্যাম্প নিয়ে গেছে। মন্ত্রী মহোদয় আরও বলেন যে, এই বিভাগের তিন জন গেজেটেড অফিসারসহ ১৬০ জন কর্মচারীকে পাকিস্তানি সেনা হত্যা করেছে। মন্ত্রী মহোদয় বলেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রত্যেকটি দেশের সঙ্গে ডাক চালু হয়েছে।

সূত্র : দিনলিপি, বঙ্গবন্ধুর শাসন সময়, ১৯৭২