• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭, ৬ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

মুজিব শতবর্ষ

মুজিব শাসন আমল : ১৯৭২

| ঢাকা , বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

image

২১ মার্চ

যানবাহনের অভাবে ত্রাণকার্য ব্যাহত

সাহায্য সামগ্রী বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেয়ার জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলে গুদামের রিলিফ মজুত থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ সীমাহীন দুঃখকষ্টের মধ্যে নিপতীত হবে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে। বস্তুত দেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইতোমধ্যেই এরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। যথাযথ যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে দেশের গ্রামাঞ্চলে খাদ্যসহ সব জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষত চাউলের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। অথচ মজুত স্টকে কোথাও গুরুতর ঘাটতি আছে বলে মনে হয় না। জানা গেছে যে নিউজিল্যান্ডের একটি ডিসি-৬ বিমান ও আন্তর্জাতিক গীর্জা পরিষদের দেয়া তিনটি ক্ষুদ্রাকায় আকাশ যান জরুরি রিলিফ পরিবহনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া আইসিআরসি দুটি হেলিকপ্টার ও দুটি বিমান সাহায্য অভিযানে তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজে ব্যবহার করেছে। বন্ধুরাষ্ট্র ভারত ওআইসিআরসি থেকে ৬৮০টি ট্রাক ও ১২টি মিনি বাস ও এ বাবদ পাওয়া গিয়াছে। সোভিয়েত ইউনিয়নও চারটি হেলিকপ্টার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রয়োজনের তুলনায় এসব যানবাহন একান্তই নগণ্য। জানা গেছে যে, এ পরিস্থিতিতে মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ সরকার একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতির জন্য মূল পরিকল্পনাটিকে তিনভাবে ভাগ করা হয়েছে। এ তিন ভাগের মধ্যে সড়ক, আকাশ এবং নদীপথের রিলিফ সামগ্রী পরিবহনের কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আরো ট্রাক, ফেরি, লঞ্চ, বিমান, স্টিমার প্রভৃতির প্রয়োজন হবে।

আকাশপথে পরিবহন : রিলিফের সাহায্য সামগ্রী পুনর্বাসনের উপকরণসমূহ পরিবহনের জন্য আটটি হেলিকপ্টার, চারটি সি-১৩০ বিমান, এবং চারটি কেরিবিয় বিমানের প্রয়োজন হবে বলে জানা গেছে।

সড়ক পথে পরিবহন : সড়ক পথে সাহায্য সামগ্রী এবং পুনর্বাসনের মালপত্র পরিবহনের জন্যে আরও পাঁচ হতে সাত টন বিশিষ্ট ১৬৫০টি ট্রাক, ৯৬০টি পিকাপ জিপ, ১২০টি মিনিবাস, ৫ হতে ১০ টন ক্ষমতা সম্পন্ন ১১টি মোবাইল ক্রেন এবং ৫ টন ক্ষমতা সম্পন্ন ২৪টি ফর্ক লিফট ক্রেনের প্রয়োজন। এছাড়া নষ্ট যানবাহনগুলো অবিলম্বে মেরামত করে কার্য উপযোগী করতে হবে।

নদীপথে পরিবহন : নদীপথে রিলিফ সামগ্রী এবং পুনর্বাসনের উপকরণসমূহ পরিবহনের জন্য ১২টি গাড়ি ও যাত্রীবাহী ফেরি, ৭৫০ অশ্বশক্তিসম্পন্ন দুটি যন্ত্র চালিত বজরা, ৫০০ অশ্বশক্তিসম্পন্ন দুটি যন্ত্রচালিত বজরা, সাতটি স্বয়ংচালিত তেলবাহী বজরা, ২৫০ টন স্বয়ং চালিত একটি মালবাহী বজরা। ১ হাজার টন ক্ষমতা সম্পন্ন ১৫টি শুষ্ক মালবাহী কোস্টার, ১৫টি স্বল্পপানিতে চলার উপযোগী মালবাহী কোস্টার এবং পানির তলদেশ হতে ১১ হাজার টন মাল উত্তোলনের সমকক্ষ দুই ইউনিট যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। এছাড়া রেলপথের সাহায্য সামগ্রী ও পুনর্বাসনের জিনিসপত্র বিভিন্ন স্থানে। পরিবহনের জন্য চারচাকা বিশিষ্ট চার হাজার ওয়াগণেরও প্রয়োজন হবে বলে পরিকল্পনার প্রস্তাব করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, পাকিস্তান হানাদারবাহিনী কর্তৃক বিধ্বস্ত হার্ডিঞ্জ ব্র্রিজ এবং ভৈরব ব্রিজও অবিলম্বে মেরামত করতে হবে।

ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থা তাঁতশিল্প উন্নয়নের জন্য ১১ কোটি টাকা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থা দেশের তাঁত শিল্পের উন্নয়ন পুনঃসক্রিয়করণ ও পুনর্বাসনের জন্য ১১ কোটি টাকার একটি ব্যাপকভিত্তিক কর্মসূচি প্রস্তুত করছে। সংস্থার সূত্রে বলা হয় যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে নির্ধারিত খুচরা মূল্য তাঁতিদের সুতা সরবরাহের জন্য থানা পর্যায়ে কেন্দ্র স্থাপন মধ্যব্যক্তি ছাড়া তাঁতিরা যাতে সরাসরি সুতা পায় সে জন্য সুতা পাস বই পদ্ধতি (রেশন কার্ডের ন্যায় প্রবর্তন) সুতার কারখানার মূল্য নির্ধারণ তদারক কমিটি গঠন এবং অনটনগ্রস্ত তাঁতিদের কো-অপারেটিভ সুবিধা দান রয়েছে। সরকার একটি হ্যান্ডলুম উন্নয়নবোর্ড গঠন বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে, যা হোক ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থা দুর্দশাগ্রস্ত তাঁতিদের মধ্যে বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে ৩০ লাখ টাকা মঞ্জুর করেছেন। এবং ১২টি কেন্দ্র থেকে এ ঋণ দেয়া হবে।

ভৈরবে ঘনঘন সশস্ত্র ডাকাতি

ভৈরব। এখানে প্রায়ই সশস্ত্র ডাকাতি হচ্ছে এবং তার ফলে ব্যবসা বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। ভৈরব বাজার ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা বাণিজ্য কেন্দ্র। এখান হতে ঢাকা, কুমিল্লা ও সিলেট জেলার মাল চালান হয়ে থাকে। গত সপ্তাহে হালকা মেশিনগান ও রাইফেল সজ্জিত একটি দুষ্কৃতদল গভীর রাতে একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্রে প্রবেশ করে এবং পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেন। এরূপ মেশিনগানসহ আর কখনও ডাকাতি করতে শোনা যায়নি। ইতিপূর্বে এ অঞ্চলে রাইফেল ও স্টেনগান লইয়ে ডাকাতি হয়েছে। অনরত এরূপ সশস্ত্র ডাকাতি হওয়ায় ব্যবসায়ীগণ খুবই নিরাপত্তার অভাব বোধ করেছে এবং তারা নিয়মিত স্থানীয় বাজারগুলোতে আসছে না। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ব্যবস্থা পুনরায় চালু হতে পারছে না। স্থানীয় জনসাধারণ মনে করেন পুলিশ মুক্তিবাহিনী ও রাজনৈতিক কর্মীগণ সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে এরূপ সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হতে বন্ধ হতে পারে।

সূত্র : দিনলিপি, বঙ্গবন্ধুর শাসন সময়, ১৯৭২