• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ৮ জৈষ্ঠ্য ১৪২৫, ১৬ রমজান ১৪৪০

চিরদিন তোমার আকাশ

দুই কন্যার পরীক্ষা ফল

বিলু কবীর

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

image

দুটি মেয়ে এ রচনার প্রধান প্রতিপাদ্য। আলোচ্য হিসেবে ‘প্রতিপাদ্য’, কিন্তু চরিত্র হিসেবে কুশীলব। সমস্যা আছে আমার। যেভাবে বুঝি, ঠিক সেভাবে বোঝাতে পারি না। যেভাবে অনুভব করি, ঠিক সেভাবে অনুভব করিয়ে তুলতে পারি না। মানে যে সমাজ মাঙ্গলিক বিষয়কে নিয়ে আমি প্রভাবিত, তা অন্যের মধ্যে সঞ্চারিত করতে আশানুরূপ প্রভাবক হয়ে ওঠতে পারি না। পাঠক মাত্রই আমার এই দৈন্য হাড়ে হাড়ে জানেন। কিন্তু যে বিষয় আমার মধ্যে তাড়না সৃষ্টি করে, প্রাণ জাগায়, সেই বিষয়টি পাঠকদের হৃদয়েও ঢেউয়ের তোলপাড় করুক, সেই মোহ বা প্রবল ইচ্ছেটি, আমাকে বড্ড দোলায়। অতএব, ঠিকঠাক পারি না সত্ত্বেও সেটা উপস্থাপন করতে প্রয়াস পাই। যেই প্রয়াসকে একটা পজিটিভ কন্ট্রিবিউশন ঘটানোর কসরত বলা যেতে পারে।

দুটো মেয়ের কথা বলব। ‘মেয়ে’ বা ‘নারী’ বললে ঠিক আন্দাজ করা যায় না যে, সে বয়েসের দিক দিয়ে কতটা বড় বা ছোট। সেই জন্য আমি কন্যা বা ‘দুই কন্যা’ বলতে চাই। তাহলে বেশ বোঝা যায় তারা পরিপূর্ণ বয়ঃপ্রাপ্ত নয়। আবার কন্যা শব্দটির মধ্যে একটা পিতৃপ্রেম এবং আদর-আদর ভাব থাকায় শব্দটি আমার বেশ পছন্দ। যে দুটি কন্যার কথা বলছি তারা প্রথম জন তামান্না আক্তার নূরা। সে এবার এসএসসি পাস করেছে। বলাই বাহুল্য তামান্না বাংলাদেশের মেয়ে। ‘বাংলাদেশের মেয়ে’ এই কথাটা যে বললাম, তার একটা কারণ আছে। কারণটা হলো দ্বিতীয় কন্যা যার কথা বলবো, সেই মেয়েটি ভারতীয়। তার নাম রিচা সিং। রিচা এই বছরে আইএসসি পাস করেছে। লেখাপড়ার ক্ষেত্রে তারা এরই মধ্যে এমন অনুসরণীয় নজির সৃষ্টি করেছে যে, আমার বিবেচনায় তারা শুধু পথিকই নয়, পথও। তারা শুধু পৌঁছাবেই না, অন্য অনেককেও পৌঁছে দেবে। আরম্ভ অভিনন্দন রিচা সিং, অভিনন্দন তামান্না আক্তার নূরা।

ও রকম লাখ লাখ তামান্না এবং এসএসসি, পরীক্ষা দিয়েছে এবং পাস করেছে। ও রকম রিচা সিংহ লাখে লাখে এবার আইএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এবং ভালো রেজাল্ট করেছে। তো? কি হয়েছে? এই ‘তোর জবাবটা এখানে আগেই দিয়ে রাখি, তাদের জন্য, যারা এই লেখাটি পুরোটা পড়তে পারছেন না বা পারবেন না। হ্যাঁ, উত্তরটি হলো তামান্না এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সেটা আহামরি কোনো খবর নয়, কিন্তু খবর যেটা জ্ঞাতব্য, যে কারণে মেয়েটি এ লেখার বিষয়, সেটা হলো তার শরীরে দুই হাত এবং একটি পা নেই। অর্থাৎ অবশিষ্ট একটি পা দিয়ে লিখে সে এই পরীক্ষা ফল অর্জন করেছে। আর ভারতের যে মেয়েটি রিচা সিং, সে পরিপূর্ণ সুস্থ এবং সেও পরীক্ষায় ভালো করেছে। এখন ভালো বলতে কতটা ভালো? উত্তর সোজা, খুব ভালো। এখন পরীক্ষায় কতটা ভালো করলে ‘খুউব ভালো’ হয়? তা বলাটা আজকের সমাজ বাস্তবতায় বলাটা ভার। তবে আমাদের রিচা সিং প্রত্যেকটি সাবজেক্টে গড়ে ৯৯.২৫ নম্বর পেয়েছে। রূপকথার মতো সত্য গল্প দুটি এখানেই শেষ নয়। আরও মজার এবং উৎসাহব্যঞ্জক ঘটনা রয়েছে তাদের পরীক্ষার ফল নিয়ে। এই দুই কন্যাকে আমার শুভ কামনা, কল্যাণ প্রত্যাশা এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে, যাকে বলে হার্দিক অভিনন্দন।

আগেই বলেছি তামান্নার দুই হাত নেই এবং ডান পা নেই। অর্থাৎ মেয়েটির সারা শরীরে অঙ্গ বলতে একমাত্র বাম পা। প্রকৃতিকে প্রশ্ন করব না, তুমিই যদি শ্রষ্টা-নির্মাতা, তা হলে কেন তার বেলায় বা অনেকের বেলায় এমনটি? তার বাবার নাম রওশন আলী, আর মায়ের নাম খাদিজা পারভিন শিল্পী। ঝিকরগাছা, যশোরের আলীপুরে তাদের বাড়ি। তামান্নার বয়স এখন ১৬ বছর। এই জীবনের প্রতিটি দিন তার কতটা সংগ্রামে পূর্ণ ভাবলে অবাক না হয়ে উপায় থাকে না। একমাত্র অঙ্গ বাঁ পাও দিয়ে লিখে সে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে বা ২০১৬ সালে সে জেএসসি পরীক্ষায়ও এইভাবে পরীক্ষা দিয়ে যথারীতি জিপিএ-৫ পেয়েছিল সেজন্যই শুধুু বিস্ময় নয়। একটুখানি চোখ বন্ধ করে গভীর অভিনিবেশ সহকারে বিষয়টিকে আমরা কল্পপর্যালোচনায় বা অন্তর্বিশ্লেষণে আনতে পারি যে, তামান্না জীবনের প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত পার করেছে ৫৮৪০টি দিন এবং সমান সংখ্যক রাত। একটি সকাল থেকে আরেকটি সকাল পর্যন্ত প্রতিদিন তার কত কাজ। ঘুম থেকে ওঠা, দাঁত মাজা, গোসল করা, পোশাক পাল্টানো, নাস্তা করা, পড়তে বসা, স্কুলে যাওয়া, ফেরা, খাওয়া বিশ্রাম, বিছানায় যাওয়া, ঘুমানো আবার জেগে ওঠা। এর বাইরেও আরও কত অপরিহার্য কর্তব্য তার। এর প্রতিটি ক্ষেত্রে তার একজন সহায়ক লেগেছে। তাহলে তার মাদরাসা শিক্ষক বাবা, তার গৃহিণী মা প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে এ কন্যাটির জন্য কি পরিমাণ শ্রম দিয়ে এসেছেন এবং দিয়ে চলেছেন? এটি সহজে বোঝার এবং বোঝাতে পারার বিষয়ে নয়, সে কথা অস্বীকার করবেন কে? আমরা যারা শারীরিকভাবে সম্পন্ন এবং পরিপূর্ণ সুস্থ, তারা একদিন একটুখানি কেবল ডান হাতের বদলে বাম হাত দিয়ে বা বাম হাতের ক্ষেত্রে ডান হাত দিয়ে একপাতা লেখার চেষ্টা করে দেখুন তো, সেটা কেমন ‘অসম্ভব’ এবং কী পরিমাণ কষ্টসাধ্য। তাহলে সেক্ষেত্রে আর কোনো সাপোর্টিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ না থাকা তামান্নার পক্ষে শুধু বাম পা দিয়ে লেখা অভ্যাস করে দুই-দুটো বোর্ডের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কতটা অধ্যবসায় এবং মনোশক্তির ব্যাপার?

২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর যশোর শহরের একটি হাসপাতালে জন্ম হয় এই অদ্ভুত দুঃখজনক দেহবৈকল্যের শিশু তামান্নার। তাকে নিয়ে কুসংস্কারাচ্ছন্ন চলতি সমাজে অনেক প্রতিকূলতা পাড়ি দিতে হয় কন্যাটির মা-বাবাকে। মায়ের কাছে প্রথম অক্ষর শেখে তামান্না,- স্বরেঅ-স্বরে-আ! শারীরিক কারণেই দূরের ভালো স্কুলে ভর্তি করা সম্ভব ছিল না। বাসার কাছে একটা স্কুলে ভর্তি করা হয় তাকে। কন্যা তো নয়, যেন একদলা মাংস, তার মধ্যে প্রাণ আছে, মেধা আছে, চাহনি আছে, স্বপ্ন আছে। আর আছে অনন্ত-অসংখ্য জীবন বেদনা। মা মেয়েটিকে স্কুলের ক্লাসে বসিয়ে দিয়ে বাইরে অবস্থান করেন। টানাটানির সংসার, বাবাকে নিয়ম ধরে মাদরাসায় শিক্ষকতা করতে যেতে হয়। দুখিনী মা খাদিজা পারভিন শুধু কন্যার ১০০ ভাগ পরিচর্যাই করেন না, শুধু অক্ষর শিক্ষাই দেন না। মা বলে কথা সেই মা মেয়েকে শেখান কীভাবে পায়ের আঙুলে খড়িমাটি ধরে লিখতে হয়। কিভাবে পা-কে হাত বানিয়ে নরম কাপড় দিয়ে শ্লেট মুছতে হয়। তারপর পায়ের আঙুলের ফাঁকে কীভাবে ভালোবেসে কমলকে আটকে ধরে অক্ষর, শব্দ বাক্য, প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। ভাবুন তো মায়ের কষ্টটা, তিনি তার মেয়েকে শেখাচ্ছেন এইভাবে, আম্মু এই ভাবে পায়ের আঙুল দিয়ে বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতে হয়। মা যখন শেখান, তখন তাকেও তো তার পা দিয়েই করে দেখাতে হয়। এই কষ্ট বোঝা বা বোঝানোর নয়। এ শুধুই অনুভবের গৌরব। স্বপ্নের বেদনা। মেয়েটি তামান্না, সে ধীরে ধীরে বড় হয়। পায়ের আঙুলে চিরুনি ধরে চুল আঁচড়াতে শেখে, চামচ দিয়ে ভাত খেতে শেখে। আহা তার কি একদিনও সাধ হয়েছিল-পায়ের আঙুলে ধরে ঠোঁটে লিপস্টিক লাগাই, কানে দুল পড়ি। অন্য মেয়েদের হাত ভর্তি রেশমি চুড়ি দেখে কি কোনো ভাবের উদয় হয়েছিল তার ব্যথাতুর বুকে। সে নিজে পায়ে কখনো কাজল আঁকতে চেয়েছিল চোখে, কপালে গুঁজতে চেয়েছিল টিপ। কখনো কি তার সাধ জেগেছিল বাবার পাতে ভাত বেড়ে দিতে। মাকে সংসারের কাজে সাহায্য করতে। দাঁড়াতে, হাঁটতে? নানা বিষয়ে তাড়িত-মথিত হয়ে কত দীর্ঘশ্বাসই না গোপন করেছেন, করে চলেছেন তার মা-বাবা। যেখানে পা না থাকলে বা পায়ে পঙ্গুত্ব থাকলে মানুষ হুইল চেয়ার ব্যবহার করে, সেখানে তামান্না তার হুইল চেয়ার চালায় নেজেরই একমাত্র পায়ে ঠেলে। এই করে মেয়েটি শুধু যে দু-দুবার পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে, তা-ই নয় সে (বরাবর মেধা তালিকাকে স্পর্শ করেছে এবং যথারীতি বৃত্তিও পেয়েছে।

এই রকম তামান্নার প্রতি সমাজের সহযোগী সহস্র হাত প্রসারিত হওয়াটা ইতোমধ্যেও উচিত ছিল। সেটা হলেই আমি অন্তত আল্পুত হতাম যে, সমাজ সুন্দর, পৃথিবী মাতৃময়। আমরা বোধ হয় ভাবতেই পারছি না যে, তামান্না ইতোমধ্যে আমাদের সমাজকে কতটাই উপকার করে ফেলেছি। সে শিখিয়েছে হতাস না হতে, হতোদ্যম না হতে। সে শিখিয়েই অসম্ভব মনে হলেও চেষ্টার মাধ্যমে তাকে সম্ভব করা যায় বা সম্ভবের কাছাকাছি আনা যায়। তামান্না এরই মধ্যে আমাদের লাখো বাবা-মা-শিক্ষার্থীকে শিখিয়েছে যে পরীক্ষার ফল ভালো করাটাই জীবনের প্রধানতম লক্ষ্য নয়, এজন্য আত্মহত্যার ঘটনাকে কমিয়ে আনতে তামান্না এক আলোকবর্তিকা হয়ে অলক্ষ্যে-পরোক্ষে যে কাজটি করবে, মাহাত্ম্যের দিক দিয়ে তার পরিমাপ করা সহজ কথা নয়। তামান্না তোমাকে সালাম করছি আমি। তোমার কল্যাণ হোক।

যারা এই লেখাটার এই পর্যন্ত পড়েছেন, তারা এখন ভারাক্রান্ত। কিন্তু তার ভেতর দিয়েও কি তামান্না আমাদের বুকের মধ্যে এক বিস্ময়কর শক্তিকে সঞ্চারিত করতে পারেনি? এবার বলবো রিচা সিংয়ের কথা। তার ব্যাপারটাও লেখাপড়া নিয়েই তবে এবার আমাদের মনটা হালকা হয়ে যাবে। আনন্দ অনুভব আমাদের আপ্লুত করবে আশা করি। রিচা এবার আইএসসি পরীক্ষায় প্রতি সাবজেক্টে গড়ে ৯৯.২৫ নম্বর পেয়ে পাস করেছে। তাকে অভিনন্দন। বাপরে! ৯৯.২৫ শতাংশ মানে কী? ১০০ মধ্যে পায়নি মাত্র .৭৫ নম্বর রিচা তোমাকেও আমি সালাম জানাই। তোমার মঙ্গল হোক। কীভাবে সম্ভব এত নম্বর পাওয়া। পাঠকের জন্য আরও আনন্দিত এবং বিস্মিত হবার বিষয় রয়েছে এই যে বল্লাম-রিচা ৯৯.২৫ শতাংশ নম্বর পেয়েছে, এতেও কিন্তু সে একেবারে ফার্স্ট হতে পারেনি। মেধাক্রমের তালিকায় তার স্থান চতুর্থ। তাহলে তার আগে যে আরও তিনজন রয়েছে, ফার্স্ট সেকেন্ড এবং থার্ড তারা কত নম্বর পেয়েছে। ভাবতে বসে সত্যি আমার চক্ষু ছানাবড়া।

এই মেয়েটি যে সারা ভারতে এই পরীক্ষায় ৪র্থ স্থান দখল করতে সক্ষম হয়েছে, তো সেজন্য কী করা? তাকে একটা পুরস্কার তো দেয়া যেতে পারে, যা তাকে এবং অন্যদেরও ভালো রেজাল্ট করার বিষয়ে উৎসাহ জোগাবে। ঘটনাটা বেশ অবাক হবার মতোই শুধু নয়, বেশ মজার এবং উপভোগও বটে। জিডি বিরলা সেন্টার যার এডুকেশনের এই ছাত্রিটিকে পরীক্ষায় এতো ভালো রেজাল্টের পুরস্কার হিসাবে একদিনের জন্য ডেপুটি কমিশনারের পদ দেয়া হয়েছে। কলকাতার পুলিশ এই আনন্দযজ্ঞ এবং উৎসাহব্যঞ্জক কাজটি করেছে। ফলে ৮ মে ২০১৯ তারিখে রিচা সিং হয়েছিল এক দিনের ডিসি। ফলে ওইদিন পুরো দক্ষতার সঙ্গে কলকাতা পুলিশের (দক্ষিণ-পূর্ব বিভাগ) ডেপুটি কমিশনের দায়িত্ব পালন করেন রিচা সিং। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি বেশ দক্ষতা এবং মজা করেছেন। আর সেটাই শুধু কলকাতা পুলিশের জন্য স্মরণীয় নয়, আশ্চর্য এবং মহা এই যে, দেশটির তার সমগ্র ইতিহাসে এ প্রথম একজন কন্যা ডিসিকে পেল, যার বয়স মাত্র ১৭ বছর। লেখাপড়ায় ভালো করার এ পুরস্কারপ্রাপ্তিযোগ পৃথিবীর সব দেশের শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে তাতে সন্দেহ কী। পুলিশের ক্ষমতা বলে কথা। ডিসি সাহেব কি কান্ড করলেন সেইটে বেশ বলার মতো। বড় বড় পুলিশ অফিসাররা রিচা বালিকাকে স্বাগত এবং অভিনন্দন জানালেন। ফুলের তোড়া দিলেন, স্যালুট টুকলেন এবং স্যার স্যার করলেন। কিন্তু রিচা সিং ভড়কে যাবার পাত্রী নন। ক্ষমতা তো তার হাতে। মজা হচ্ছে রিচা বাচ্চা মানুষ। সে বাইরে সাধারণত বাবার সঙ্গে যেতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তো ‘সে’ তো এখন ‘তিনি’। সেই তিনি এখন যাবেন দুটো পুলিশ স্টেশন ভিজিট করতে। কার সঙ্গে যাই কার সঙ্গে যাই? এখানেও তার প্রথম পছন্দ বাবা। এবং বাবাকে রীতিরকম হুকুম-বাবা বেচারার আর কী করা, ডিসির হুকুম মানেন না, তাহলে তার ঘাড়ে কয়টা মাথা। ঘটনা হচ্ছে রিচা সিংয়ের বাবাও একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি একটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি। মানে রিচা সিং আজ বাবার তুলনায় অনেক ওপর র‌্যাংকের অফিসার। অতএব স্যারের পরিদর্শনে সফরসঙ্গী হলেন তিনি। বালিকা ডিসি দুটি পুলিশ স্টেশন পরিদর্শন করলেন। শহরের সিসি ক্যামেরাগুলো ঠিকঠাক আছে কি না- তাও পরীক্ষা করলেন ডিসি সাহেব। কী আনন্দ যেমন মেয়ের তেমনই বাবার। তবে শেষ একটা ক্ষমতা দেখালেন বটে পিচ্ছি অফিসারটি একদিনের বাদশা রিচা ডিসির চেয়ারে বসে ওসি বাবাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিলেনÑ ‘আপনি এক্ষুণি বাসায় চলে যান, এই বেলা আপনাকে আর অফিস করতে হবে না।’ সামান্য ওসি সাহেব, কি আর করা। অত বড় সুপিরিয়রের নির্দেশ বলে কথা। অতএব, তিনি খটাস করে একটা স্যালুট ঠুকে সুরসুর করে বাসায় ফেরার পথ ধরলেন। আর অফিস করতে হবে না।’

একদিনের চাকরি শেষে আজ সাঁজে রিচা সিং যখন বাসায় ফিরবেন, তখন খুব মজা হবে। ভালো লেখাপড়া করা একটা পিচ্ছি মেয়ের কারণে তাদের টানাটানির পরিবারটি আজ এই সুখের স্পর্শ পেয়েছে। মজাটা হবে এই চাকরি-স্মৃতি নিয়ে যখন তাদের পরিজনরা স্মৃতিচারণ করবেন। পুলিশ স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে আজ সারাদিন বাবা রিচা সিংকে, ‘স্যার স্যার’ করেছেন, আর স্যার কন্যাটি ঊর্ধ্বতন এক্সিকিউটিভের গাম্ভীর্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। আরও মজা হবে, সন্ধ্যায় যখন ওসি, বাবার সঙ্গে ডিসি কন্যা রিচার দেখা হবে, তখন বাবা ঠিকই তার সরকারি পদে বহাল আছেন, কিন্তু রিচা তখন ফেয়ারওয়েল নিয়ে ফিরেছে, কিন্তু সেটা রিটায়ারমেন্ট বা অবসর নয়।

(তথ্য নির্দেশ : সংবাদ, ৭.৫.২০১৯ এবং ১০.৫.২০১৯)।

১৩/৫/২০১৯

[লেখক : কবি গবেষক]