• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা নিরসন জরুরি

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

দেশের পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাজ করছে অচলাবস্থা নামের ভূতের আসর। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্দোলনে পড়াশোনা স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ বুয়েট শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেয়ার পরও সমস্যার জট খোলেনি আস্থার সংকটের কারণে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট আরও জোরদার হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে হার্ডলাইন অনুসরণের সিদ্ধান্তে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট প্রস্তুত হয়েছে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। এক মাসেরও কম সময়ে মামলার তদন্ত শেষ করেছেন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে এখনও থমকে আছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম। চলমান সেমিস্টারের ক্লাস শেষে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা তা থেকে বিরত রয়েছেন।

আবরার হত্যাকাণ্ডের পর ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি মেনে নিলেও তারা এখন তিনটি ইস্যু সামনে রেখে পরীক্ষা থেকে বিরত রয়েছেন, আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করা, সম্প্রতি দুটি হলে সংঘটিত র‌্যাগের ঘটনায় জড়িতদের প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তি নিশ্চিত ও বুয়েটে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির বিধান প্রণয়ন। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। দুই হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে কুয়েট। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি এ ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হয় দেশবাসীর ট্যাক্সের টাকায়। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে বেতন আদায় করা হয় তা দিয়ে বড়জোর ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। কিন্তু সংকট বেঁধেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতির কুশীলবদের কারণে। তাদের ভাগ্য গড়ার হিসাব-নিকাশের কারণে। এ সংকট উত্তরণে উপাচার্য পদে সত্যিকারের যোগ্যদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকরা শিক্ষার বদলে মোসাহেবিতে ব্যস্ত থাকবেন- এই নোংরা সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। ছাত্র সংগঠনের নামে কেউ যাতে পেশাদার দুর্বৃত্তদের সংগঠন গড়ে তুলতে না পারে, সে নিশ্চয়তাও জরুরি।

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অস্থিরতা কোনো শুভ লক্ষণ নয়। এভাবে দেশের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগে সেশনজট ছিল। সে অবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে শুধু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে। এখন অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই সেশনজট নেই। উপরন্তু এ সময়টি হচ্ছে নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ধরনের পরিস্থিতি একেবারেই কাম্য নয়। শিক্ষার পরিবেশ ও মান অক্ষুণœ রাখার স্বার্থেই বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখা দরকার। কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন আছে। সেই আইনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিলে অচলাবস্থা কেটে যাবে বলে আমরা মনে করি। দেশের উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলে অচলাবস্থা ও অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে না।

উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা, হানাহানি, সংঘর্ষ, প্রাণহানি, নিপীড়ন, নির্যাতন, লাঞ্ছনার ঘটনা প্রয়ই ঘটেছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পঙ্গু করার যে চক্রান্ত চলে আসছে, এসব ঘটনা যেন সে চক্রান্তকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ, হানাহানি, সহিংসতা, এমনকি যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে, যা কোনভাবে প্রত্যাশিত হতে পারে না। এসব ঘটনা শিক্ষাঙ্গনকে কালিমালিপ্ত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটছে, তাতে দেশব্যাপী প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় বয়ে গেলেও কার্যত এসব রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

উচ্চশিক্ষার ফলে একটি জাতি বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়, এ জন্য সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীলতা জাতির জন্য খুব জরুরি। কেননা দেশকে অশান্ত করার জন্য সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোকে অস্থির করার চক্রান্ত অতীতে হয়েছে এবং সে ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও কোন ষড়যন্ত্র হচ্ছে কী না সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।

আর কে চৌধুরী

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়