• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

‘কিশোর গ্যাং’ কালচার নির্মূল করতে হবে

| ঢাকা , শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

মাদারীপুরে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে কিশোরদের ‘গ্যাং কালচার’। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরোনোর আগেই কিশোরদের একটা অংশের বেপরোয়া আচরণ এখন মাদারীপুর শহরের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই গ্যাং কালচারের প্রভাবে মাদারীপুরে খুন হয়েছে একাধিক কিশোর যুবক। শহরের বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ৪টি গ্রুপ বর্তমানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এসব গ্রুপের সদস্য দলবদ্ধভাবে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে কিশোরীদের উত্ত্যক্ত করে থাকে। গত মঙ্গলবার সংবাদ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

জানা গেছে, এসব সদস্য ইভটিজিং মহল্লাভিত্তিক বখাটেপনা মাদক সেবন এলাকায় প্রভাব বিস্তার দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোসহ পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধে অংশ নিচ্ছে নির্দ্বিধায়। এমনকি ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে।

মাদারীপুরসহ সারা দেশে এই কিশোর গ্যাং কালচার রয়েছে এবং এরা বেপরোয়াভাবে অপরাধ করে যাচ্ছে। প্রায়ই কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধের খবর পত্রিকায় আসে। মাদক নেশায় জড়িয়ে পড়া থেকে শুরু করে চুরি ছিনতাই, ইভটিজিং এমনকি নিজেদের অভ্যন্তরীণ বা অন্য গ্যাং গ্রুপের সঙ্গে তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে খুনখারাবি থেকেও পিছপা হচ্ছে না কিশোর অপরাধীরা। আরও উদ্বেগের বিষয়, মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য ছোটখাটো অপরাধে জড়াচ্ছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ রাজনৈতিক বড় ভাইদের প্রশ্রয়। বর্তমানে গ্যাং কালচার সমস্যা ছড়িয়ে পড়েছে জেলা-উপজেলাসহ ছোট শহরগুলোতেও।

আশার কথা, বেপরোয়া গ্যাং কালচার রুখে দেয়ার কথা বলছে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহল। এ বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট সজাগ ও কঠোর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ হীন-কালচারের শেকড় উপড়ে ফেলার বিকল্প নেই। কারণ বেপরোয়া গ্যাং সদস্যরা যে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীতে পরিণত হয় তার সাম্প্রতিক উদাহরণ বরগুনা শহরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যা। তাকে কুপিয়ে হত্যাকারী নয়ন বণ্ডসহ অন্যরাও ০০৭ নামে একটি গ্যাংয়ের সদস্য।

বস্তুত পরিবার ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং সরকারের পক্ষে রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীর প্রশাসনের কঠোর উদ্যোগ ছাড়া গ্যাং কালচার রোধ করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে প্রথমেই এগিয়ে আসতে হবে পিতামাতাকে। অভিভাবকদের তীক্ষ্ম দৃষ্টিই বিপথগামিতা থেকে তাদের সন্তানদের রক্ষা করতে পারে। সন্তান কী করে, কার সঙ্গে মেশে, কোথায় সময় কাটায়- এ কয়টি বিষয় পর্যাপ্ত মনিটরিং করতে পারলেই গ্যাংয়ের মতো বাজে কালচারে সন্তানের জড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব।