• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১

হস্তক্ষেপ ও চাপমুক্ত পরিবেশে পুলিশকে কাজ করতে দিলে সাফল্য নিশ্চিত

| ঢাকা , বুধবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রোববার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকা থেকে পাঠাওচালক মিলন হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত নুর উদ্দিন সুমন ওরফে নুরুজ্জামান অপুকে (৩০)গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্যে মিলনের মোটরসাইকেল ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়। মিলন হত্যায় নিজের জড়িত থাকার কথা সুমন স্বীকার করেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। গত ২৬ আগস্ট রাইড শেয়ারিং চালক মিলন মাত্র ৫০ টাকা ভাড়ার চুক্তিতে নুর উদ্দিন ওরফে সুমন নামের একজনকে তার মোটরসাইকেলে তুলেছিলেন। তাকে গুলিস্তানে পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল। তবে গন্তব্যে যাওয়ার আগেই মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিতে মিলনকে এন্টিকাটার দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে সুমন।

নিশুতি রাতে জনশূন্য সড়কে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস খুনের তদন্তে পুলিশের ত্বরিত সাফল্য সত্যিই আশাব্যঞ্জক। সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় আমরা পুলিশ প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাই। বস্তুত সদিচ্ছা থাকলে এবং কাজ করার স্বাধীনতা থাকলে দেশের পুলিশ যে এখনও সব অসাধ্য সাধন করতে পারে সেটাই প্রমাণিত হলো আরেকবার। তবে এও ঠিক যে, সবক্ষেত্রে পুলিশের ত্বরিত কিংবা বিলম্বিত সাফল্য আমরা দেখতে পাই না। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বসতভিটায় অগ্নিসংযোগের ভিডিও প্রকাশের পরও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সেখানে পুলিশের সম্পৃক্ততা কিংবা পুলিশ কর্তৃক অগ্নিসংযোগের প্রমাণ পায়নি। ঠিক তেমনি কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে শত শত সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও অগ্নিসংযোগের কিংবা অভিযুক্তের কোন তথ্য-প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। এমন অগণিত ব্যর্থতার নজির থেকে এটা সহজেই আঁচ করা যায় যে, পুলিশ যদি চায় তবে সব অপরাধ নির্মূল করতে পারে, কিন্তু তাদের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হলে কিংবা তদন্তে বাধা দেয়া হলে কিছুই পারে না।

আমরা মনে করি, এ ব্যর্থতার মূল কারণ পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন কাজে পুলিশের ব্যবহার বাহিনীর পেশাদারিত্ব ক্রমান্বয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে পুলিশের কাজে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ ও অযাচিত চাপ। পুলিশ যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখভালের দায়িত্ব নেবে তারও তো কোন উপায় নেই। ভিআইপিদের প্রটোকল ডিউটি করেই তাদের অনেক সদস্য রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা ভাবার অবকাশ কোথায়? অবশ্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের অপকৌশল শুধু বর্তমানের নয়, বহু পুরনো, ব্রিটিশ আমল থেকেই। বর্তমানে এটা এমন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে যে, অনেকেই এখন পুলিশকে ক্ষমতাসীন দলের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবেই ভাবতে শুরু করেছে।

আমরা মনে করি, দ্রুত এ পরিস্থিতির অবসান হওয়া বাঞ্ছনীয়। যুগের চাহিদা মেনেই পুলিশকে আধুনিক ও পেশাদার হতে হবে। ১৮৬১ সালের ব্রিটিশ আইন পরিবর্তনের কথা বহুবার বলা হলেও কার্যত সেটি হচ্ছে না। আমরা চাই, বর্তমান সরকার সেই আইন পরিবর্তন করে আধুনিক বাংলাদেশের জন্য মানানসই একটি যুগোপযোগী পুলিশ আইন প্রণয়ন করুক এবং এই আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রমাণিত হোক, জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সরকার সর্বোতভাবেই দায়বদ্ধ। পুলিশের গণমুখী মোটিভেশন, আধুনিকায়ন, উন্নত প্রশিক্ষণ, পেশাদারিত্ব এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অর্থাৎ দায়বদ্ধতা যেমন সময়ের দাবিÑ তেমনি পুলিশের মাধ্যমে জনগণের কাক্সিক্ষত সেবাপ্রাপ্তির নিশ্চয়তাও এখন আবশ্যকীয় শর্ত। এ শর্ত পূরণ না হলে রাষ্ট্র আধুনিক হলেও মানবিক হবে না, উন্নত হলেও সামাজিক ন্যায়বিচার বাধাপ্রাপ্ত হবে।