• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮ মহররম ১৪৪২, ০৯ আশ্বিন ১৪২৭

সড়ক পরিবহন আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ জনস্বার্থবিরোধী, মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থে

| ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯

সড়ক পরিবহন আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আইন পরিবর্তনের লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় একটি প্রস্তাব তৈরি করছে। এ নিয়ে গত সোমবার একটি জাতীয় দৈনিক বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা উক্ত আইনের বেশ কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন এনে সাজা কমানো এবং অপরাধকে জামিনযোগ্য করার দাবি তুলেছেন। এসব দাবিতে তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। তিন মন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি তাদের দাবি খতিয়ে দেখছে বলে জানা যায়। আইনমন্ত্রী বলেছেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের যে কোন দাবি করার অধিকার আছে। তবে যুক্তিগত দাবিই বিবেচনা করা হবে।

দেশে সড়ক পরিবহন আইন নমনীয় করার দাবি যেমন রয়েছে, আইনকে কঠোর করার দাবিও তেমন রয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সড়ক পরিবহন আইন নমনীয় করার দাবি করছে। এ গোষ্ঠীর দাবির ধরনই এমন যে, দেশে আদৌ কোন আইন না থাকলেই তারা খুশি। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য তারা শিক্ষাগত সনদ দিতে রাজি নয়, প্রশিক্ষণ নিতে রাজি নয়, এমনকি ড্রাইভিং টেস্টও তারা দিতে চায় না। তারা গরু-ছাগল চিনে গাড়ি চালাতে চায়। তারা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা বা জেব্রা ক্রসিংয়ে থাকা মানুষের ওপর গাড়ি উঠিয়ে হত্যা করেও পার পেতে চায়। তাদের দাবির যৌক্তিকতা বোঝার জন্য কোন গবেষণা সেল খোলা নিষ্প্র্রোয়জন। তারপরও সরকার কেন একটি গঠন করেছে সেটা মানুষ বোঝে। কার্যক্রমে মনে হয়, সড়কে শৃঙ্খলা আনার প্রশ্নে তারা সাধারণ মানুষের কাছে নয় বরং একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কাছে দায়বদ্ধ।

সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবি যৌক্তিক কিনা সেটা সরকার গবেষণা করে দেখতেই পারে। প্রশ্ন হচ্ছে, সড়ক পরিবহন আইনটি ঝুলিয়ে রাখার এখতিয়ার তারা কোথায় পেয়েছে। জাতীয় সংসদে আইন পাস হয়েছে, আইনের গেজেট হয়েছে। এরপর সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে আইনের প্রয়োগ ঘটানো। সেটা না করে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবি পূরণের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইন সবার জন্য সমান। বিশেষ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য আইনের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করা চলে না। কিন্তু সড়ক পরিবহন খাতে আমরা এর উল্টোটা ঘটতে দেখছি।

আমরা বলতে চাই, আইনকে তার স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিতে হবে। আইন পরিবর্তনের প্রশ্নে সরকারকে বিশেষ কোন গোষ্ঠীর কাছে নতি স্বীকার করলে চলবে না। সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। পরিবহন খাতে নৈরাজ্য দূর করে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে সরকারকে কঠোর হতে হবে। কোন চক্রের কাছে আত্মসমর্পণ করলে সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হবে না। আমরা আশা করব, সরকার এমন কোন হটকারী সিদ্ধান্ত নেবে না যার ফলে সড়ক পরিবহন খাতের মাফিয়াদের রাজস্ব প্রতিষ্ঠা পাবে।

  • ডুবে যাচ্ছে শেয়ারবাজার

    শেয়ারবাজারে আরেকটি সম্ভাব্য ধসের শঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। শুধু বিনিয়োগকারীরাই নয়,