• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ৬ মাঘ ১৪২৭, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

স্বাধীন কমিশনগুলোর স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে

| ঢাকা , রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

একাধিক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তাদের দফতর বা সংস্থার অধীনে সংশ্লিষ্ট কমিশনকেও যুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল একটি জাতীয় দৈনিক বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশের অধিক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে অধীনস্ত অধিদফতরের পরিদফতর বা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমিশনের নামও জুড়ে দেয়া হয়েছে। যেমন আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মন্ত্রণালয়ের সংস্থার তালিকায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের নাম উঠেছে। মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতর বা সংস্থার তালিকায় স্বাধীন কমিশনের নাম রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্বাধীন কমিশন কীভাবে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত হয় সেটা আমাদেরও প্রশ্ন। কমিশন গঠন করাই হয় মন্ত্রী-আমলাদের প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করার লক্ষ্যে। স্বাধীন কমিশন তাদের মতো করে বিভিন্ন সময় সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে বা বিধি অনুযায়ী পক্ষেপ নেবে। কিন্তু দেশে গঠিত বিভিন্ন কমিশন আদৌ স্বাধীনভাবে কাজ করছে কিনা সেটা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কমিশনগুলোকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বা অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সেই বিতর্ক আরও বাড়বে বৈ কমবে না। ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে যে, স্বাধীন কমিশনকে মন্ত্রণালয়গুলো অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বা আরেকটি দফতর হিসেবে গণ্য করছে কিনা। আমরা আশা করব, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবে। অভিযোগ রয়েছে, কোন কোন মন্ত্রণালয় স্বাধীন কমিশনের ওপর প্রচ্ছন্ন কর্তৃত্ব করতে চায়।

কমিশনগুলোতে সাবেক আমলাদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এর ফলে কমিশনের ওপর মন্ত্রণালয়ের প্রচ্ছন্ন কর্তৃত্ব করার সুযোগ ঘটেছে বলে অনেকে মনে করেন। কমিশনে সাবেক আমলাদের নিয়োগ দেয়ায় অনেক ক্ষেত্রে কর্তৃত্ব করারও প্রয়োজন পড়ে না। কমিশনের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা স্বভাবজাতভাবেই সরকারের বিপক্ষে কোন অবস্থান নেন না। সরকারকে তুষ্ট রাখতেই তারা ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে জনস্বার্থ রক্ষার যে উদ্দেশ্য নিয়ে একেকটি কমিশন গঠন করা হয়েছে তা ব্যাহত হচ্ছে। কমিশনের কর্তাব্যক্তিরা আইন অনুযায়ী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন না। সাধারণ মানুষের মধ্যেও কমিশনের কাজে আস্থা পরিলক্ষিত হয় না। কমিশনের শীর্ষ পদে সাবেক আমলাদের নিয়োগ দেয়ায় সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কমিশনগুলো যদি স্বাধীনভাবে কাজটা না করতে পারে বা করতে দেয়া হয়Ñ তাহলে জনগণের টাকা খরচ করে এগুলো রাখার দরকার কী। মন্ত্রণালয়ের বিভাগ বা দফতর থাকলেই তো যথেষ্ট। বিভাগ বা দফতরের বিবেচনায় স্বাধীন কমিশন কী ভূমিকা রাখছে সেটা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। কোন কোন কমিশন জনস্বার্থে কাজ করলে তাকে নানানভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

আমরা স্বাধীন কমিশনকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাই। শুধু কাগজে-কলমে স্বাধীন হলে চলবে না, সরকারকে বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কাজে ও আচরণে কমিশনের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে হবে। স্বাধীন কমিশনেরও দায়িত্ব রয়েছে। আইন বা সংবিধান সংশ্লিষ্ট কমিশনকে যে ক্ষমতা দিয়েছে তা জনস্বার্থে আইনি সীমার মধ্য থেকে ব্যবহার করতে হবে। কমিশনকে অবকাশ যাপন কেন্দ্রে পরিণত করলে চলবে না।