• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

সেতু নির্মাণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১

সুনামগঞ্জে একটি সেতু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়েছে। জেলার পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। গত রোববার রাতে নির্মাণাধীন সেতুটির পাঁচটি গার্ডার ধসে পড়ে।

ভাগ্য ভালো যে, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ত্রুটিপূর্ণ সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এতে অন্তত মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। সেতুটি যদি কোনমতে টিকে থাকত আর নির্মাণ শেষ হওয়ার পর তার ওপর দিয়ে যদি পথচারী ও যানবাহন চলাচল শুরু করত তখন এমন পরিস্থিতি হলে অনেক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। সেতু ভেঙে পড়ায় এ যাত্রায় জনগণের জানমাল রক্ষা পেলেও তাদের কষ্টার্জিত অর্থ রক্ষা পায়নি। সরকারি যে বরাদ্দে নির্মাণকাজ চলছিল তার পুরোটাই জলে গেল।

এ ঘটনায় ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বিষয়টিকে স্রেফ দুর্ঘটনা বলেছে। দুর্ঘটনার কথা বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হয়ত দায় এড়ানোর সুযোগ খুঁজতে পারে। কিন্তু কোনরকম তদন্ত ছাড়া সরকারি সংস্থা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কীভাবে একই কথা বলে সেটা স্পষ্ট নয়।

জনগণের অর্থ জলাঞ্জলি দেয়ার প্রবণতা এর আগেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই সিলেট জৈন্তাপুরের চিকারখাল সেতুতে ফাটল দেখা গেছে। নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কুরমাই খালের সেতুটি ধসে গেছে। কেন এসব নতুন সেতু ভেঙে পড়ছে- সেটা জানা দরকার।

কাদের ডিজাইনে সেতু তৈরি হচ্ছে, নির্মাণকাজে কোন উপকরণ ব্যবহৃত হচ্ছে, কেন ত্রুটি থাকছে- এসব খতিয়ে দেখা দরকার। এক্ষেত্রে কারও অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা করেই সেতু নির্মাণ করতে হবে। নির্মাণকাজে সমন্বয়হীনতা দূর করতে হবে। স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।