• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলকদ ১৪৩৯

সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ করুন

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

গত শনিবার রাতে সুন্দরবনের ভেতরে মোংলা সমুদ্রবন্দরের পশুর চ্যানেলে ৭৭৫ টন কয়লা নিয়ে একটি লাইটার জাহাজ ডুবে গেছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, কয়লা যাতে নদীতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কাজেই পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিকে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লাবাহী জাহাজডুবির ঘটনায় সুন্দরবনসহ এর আশপাশের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে। জাহাজডুবির ঘটনায় এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাহাজডুবির কারণ ও কয়লায় পরিবেশের কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে তা পর্যবেক্ষণ করে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সুন্দরবনের মাঝে প্রতি বছরই জাহাজডুবির ঘটনা ঘটছে। কখনও কয়লা, কখনও তেল, সিমেন্ট, সার নিয়ে নদীতে জাহাজ ডুবে যাচ্ছে। সুন্দরবনের ইকো-সিস্টেমের বাইরের যে কোন কিছুই এর জীববৈচিত্র্যর জন্য ক্ষতিকর। কয়লাবাহী জাহাজডুবির ফলে সুন্দরবন বা এর আশপাশের পরিবেশের কোন ক্ষতি হবে না এ ধরনের বক্তব্য অবিবেচনাপ্রসূত। কয়লা আমদানিকারক ব্যবসায়ী এ ধরনের বক্তব্য দিলে তার স্বার্থ রক্ষা হয়। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষের এ ধরনের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লার সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইডের মতো রাসায়নিক নদীর পানি ও বনের বায়ুম-লকে দূষিত করবে। বনের শ্বাসমূল উদ্ভিদ ও জলজ প্রাণীর প্রজননকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে মিথেন গ্যাস।

সুন্দরবনে কয়লা, তেলবাহী জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেই চলেছে। আমাদের আশঙ্কা, রামপালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে জাহাজডুবির ঘটনা আরও বাড়বে। সুন্দরবন ঘিরে লাল তালিকাভুক্ত অনেক শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে সরকার। এর ফলে উক্ত এলাকায় জাহাজ চলাচল বাড়বে। এতে সুন্দরবনের পরিবেশ বিপর্যস্ত হবে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের চেয়ে ভারতের অংশে এখন বাঘের সংখ্যা বেশি। এটাকে অনেকই বনের বাংলাদেশ অংশে পরিবেশ বিপর্যয়ের আলামত হিসেবে দেখছেন।

সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কোন নৌযান চলাচল করুক সেটা আমরা চাই না। দেশের বিভিন্ন আইন এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচলের সুযোগ নেই। অথচ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এসব আইন ও নিয়ম লঙ্ঘন করে বনের ভেতর দিয়ে নৌপথ চালু করেছে। আমরা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এ অন্যায় কাজের তীব্র বিরোধিতা করি। দেশে শিল্পকলকারখানার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সুন্দরবনকে ধ্বংস করে দেশের টেকসই উন্নয়ন করা যাবে না। বিষয়টা সরকারকে বুঝতে হবে। আমরা বলতে চাই, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ করার পাশাপাশি বন সংলগ্ন শিল্প-কারখানা স্থাপন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কয়লাবাহী জাহাজডুবির ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।